বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি............ পর্ব(২)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X দোলা আর আকাশের বিয়েটা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।একটু পরেই মেয়ে শ্বশুড়বাড়ি যাবে।দোলার মা অনেক টেনশনে আছেন মেয়েকে নিয়ে।ওখানে গিয়ে কি করে কে জানে?যে রাগ মেয়ের!!!উনি মেয়েকে বোঝানোর জন্য বলতে শুরু করলেন , -মা আমার শোন।ওখানে গিয়ে চুপচাপ থাকার চেস্টা করবি।শ্বাশুড়ী যদি কড়া কিছু বলে তবুও মুখে মুখে উত্তর দিস না।আকাশের সা্থে ভালভাবে থাকিস।ওর সাথেও ঝগড়া করিস না।একটু মানিয়ে চলার চেস্টা করিস লক্ষী মা আমার। এগুলো বলেই মেয়ের কপালে একটা চুমু খেলেন।দোলা বিরক্ত হয়ে বলল, -দূরে থাক তো।এইসব কথা শুনার ইচ্ছে নেই আমার।একটা পাগলের গলায় তো ঝুলিয়েই দিয়েছ।বাকিটা আমার টা আমি বুঝব।তোমাদের ভাবতে হবে না। মেয়েকে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন তখনই আকাশের বোন রূম্পা রুমে ঢুকল -আন্টি যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।সবাই অপেক্ষা করছে। এখন আর সময় নেই বুঝানোর।আল্লাহ ভরসা।সূরা পড়ে তিন বার মেয়েকে ফু দিয়ে দিলেন। আকাশ রুমে ঢুকে দেখে দোলা ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে।পাগড়ি মাথা থেকে নামাতে নামাতে বলল, -তারপর বলুন কেমন লাগছে প্রথমবার বিয়ে করে? দোলার মন চাইছে ল্যাপটপ টা ছেলের মাথায় ভাংতে।তার জন্য এটা অসম্ভব কিছু না।রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দিন দিন হারিয়ে ফেলছে সে।এইত সেদিন কাজের মেয়ে তার মনের মত করে নুডুলস রান্না করতে পারেনি।নুডুলসের কাচের বাটি কাজের মেয়ের মাথায় ছুড়ে মারল।রক্তারক্তি অবস্থা।বাবা টাকা পয়সা দিয়ে ঐ মেয়ের মুখ বন্ধ করেছিলেন কোনমতে।সে চেস্টা করছিল জিনিসটা নিয়ন্ত্রনে আনতে।এই ছেলেকে কতদিন সহ্য করতে পারবে কে জানে।নিজেকে শান্ত রেখে কোনমতে সে বলল, -আপনি সব জানার পরেও আমাকে বিয়ে কেন করলেন? -দেখুন মায়ের ঘ্যানঘ্যান বন্ধ করার জন্য আমার একটা বউ দরকার ছিল।আপনাকে না করলে অন্য কারও সাথে হলেও ধরে বিয়ে দিয়ে দিত মা।কিন্তু আমি বিয়ে শাদী চাই না।আপনার পরিবারকে দেখে বুঝলাম উনারাও উঠে পরে লেগেছেন আপনার বিয়ে দেওয়ার জন্য।এদিকে আপনিও বিয়ে করতে চান না।আপনার সিভি তে দেখেছি আপনি ফার্স্ট ইয়ারের পর পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছেন।সো অশিক্ষিত একটা মেয়ে আর কতদিনই বা বাবা মায়ের ঘাড়ে বসে খেতে পারত?আপনার অনিচ্ছা সত্বেও কারও না কারও গলায় ঝুলতে হত।বুঝলাম আমরা একজন আরেকজনের জন্য পারফেক্ট।আপনি আপনার মত থাকবেন।আমিও আমার মত থাকব।আর আমাদের মাঝে অন্য কোন সম্পর্কও থাকবে না। নো বাইন্ডিংস।ওকে? রাগে কাঁপছে দোলা।এই ছেলে কি বলছে এইসব? -বিয়েটা কে কি খেলা মনে করেছেন আপনি? এভাবে শুধু নিজের স্বার্থ দেখে আমার জীবনটা নস্ট করে দেওয়ার সাহস হল কিভাবে আপনার? -দেখুন এসব বলে লাভ নেই।এখন বিয়ে হয়ে গেছে।এইসব ব্যাপারে আর প্রশ্ন করবেন না।যান ঘুমান। একদিক দিয়ে এই ছেলে তার উপকারই করেছে।তার বাবা মাকে চিন্তামুক্ত করেছে।দোলার রাগটা কেন যেন একটু শান্ত হল।তবুও তাকে অশিক্ষিত বলেছে এই ব্যাপারটা একটু গায়ে লাগছে।যাই হোক এই ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে বলল , -হুম বুঝলাম।আজকে নাহয় ঘুমাতে বলছেন কাল যে আমার সাথে উলটা পালটা কিছু করতে চাইবেন না তার কি গ্যারান্টি আছে? -ওই জায়গাটা অন্য একজনের জন্য অনেক আগে থেকেই বরাদ্দ করা।ওখানে আপনার কোন জায়গা নেই।ঐ স্বপ্ন দেখে লাভ নেই কিন্তু বলেই হাসতে লাগল আকাশ। -ও তাই!তা সেই অন্য একজনকে বিয়ে করলেন না কেন তাহলে?ছেকা দিয়েছে নাকি? এবার আকাশ চুপ হয়ে গেল।তারপর বলল, - আর কক্ষনো যাতে এই নিয়ে কোন কথা না শুনি।সাবধান। দোলা বুঝল ব্যাপারটা সিরিয়াস।তাই আর কথা বাড়াল না।চুপচাপ শুতে গেল।ল্যাপটপ টা বন্ধ করে মাত্র শুয়েছে এর মাঝেই গীটার বের করল আকাশ।একটা গানের সুর তোলার চেস্টা করছে।গানটা তমার ফেভারিট ছিল।গীটার টা গিফট করেই অনেক বলেছিল গানটা তুলে শুনাতে কিন্তু তখন তুলেনি।এখন তুলছে কিন্তু আর শুনাতে পারবে না।বাজাতে বাজাতে এগুলোই ভাবছিল আকাশ তখনই দোলার চিৎকার শুনল, -এই শব্দ এখনই বন্ধ করুন।আমার সহ্য হচ্ছে না। সেই সবে পাত্তা না দিয়ে আকাশ বাজাতেই লাগল।টেবিল থেকে একটা ফুলদানি হাতে নিয়ে দোলা আবার চেঁচিয়ে উঠল। -বন্ধ করুন বলছি নাহলে এই ফুলদানিটা আপনার মাথায় ভাংব।একদম মজা করছি না আমি। -আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন।আমার গান টা তোলা হলে আমি রেখে দিব গীটার। বলেই আকাশ আবার বাজাতে শুরু করল।রাগ আর ধরে রাখতে পারল না দোলা সোজা উঠে গিয়ে ফুলদানি দিয়ে সজোরে আকাশের কপালে আঘাত করল।আকাশ চিৎকার করে মাথা চেপে ধরল।কপালে অনেকটা কেটে গেছে।রক্তও বেরুচ্ছে।ও হতভম্ব হয়ে গেল।কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, -আপনি কি পাগল!!!কি করলেন এটা? -আমার রাগ সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই ছিল না।আশা করি এখন হয়েছে।আরেকবার থেকে আমাকে রাগানোর আগে ভেবে নেবেন। এর মাঝেই দরজায় শব্দ হল।আকাশ ভেবে পাচ্ছিল না কি করবে। আকাশ রুমাল দিয়ে কপাল চেপে ধরে বলল, -আমি ওয়াশরুমে যাচ্ছি।যেই এসেছে আপনি ব্যাপারটা সামলান। দোলা দরজা খুলেই দেখে আকাশের মা আর বোন চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে। -বউমা আওয়াজ পেলাম।মনে হল কেউ চিৎকার দিল।তাই দৌড়ে এলাম।কিছু কি হয়েছে? আকাশের মায়ের প্রশ্নে কি উত্তর দিবে বুঝতে পারছিল না দোলা।এর মাঝেই আকাশের বোন রুমের ভেতরে উঁকি দিয়ে বলল, -ভাইয়া কোথায় ভাবী? আকাশ ওয়াশরুম থেকে চেঁচিয়ে বলল, -আমি ওয়াশরুমে।সাবান চোখে যাওয়ায় চিৎকার দিয়েছিলাম আর তোমরা দৌড়ে চলে এলে। মা এবার একটু স্বস্তি পেলেন।উনি বললেন, -এত রাতে ডাকা উচিত হয়নি আমার বউমা।তোমরা শুয়ে পড়। বলেই দোলার চিবুকে হাত দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন।কিন্তু আকাশের বোনের ব্যাপারটাতে ঘাপলা আছে মনে হচ্ছিল।তাই আবার উকি দিতে গেল।শ্বাশুরি কড়া চোখে তাকিয়ে একরকম টেনেই নিয়ে গেলেন রুম্পাকে। দোলা শুয়ে আছে।আকাশ কপালে ফার্স্ট এইড করে ওর পাশেই অন্য পাশ ফিরে শুয়েছে। মাঝখানে অনেকটা দূরত্ব।আকাশ আর কথা বলেনি দোলার সাথে। দোলা ভাবছে শুভর কথা।অনেক স্বপ্ন দেখেছিল শুভকে নিয়ে।ছোট্ট একটা সংসার হবে।খুব বেশি টাকা থাকতে হত না,অল্পতেই ম্যানেজ করে নিত।ঠিক যেন টুনাটুনির সংসার।এইটুকূই তো চাওয়া ছিল।অবশ্য সেই স্বপ্ন অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে।আচ্ছা শুভ ওকে রাগালেও কি এভাবে শুভকে আঘাত করতে পারত?নাহ তখন সে এরকম ছিল না।কিন্তু এখন আর কিছুই আগের মত নেই।সে বদলে গেছে।হয়ত শুভও গেছে।হঠাত ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশকে দেখল।অন্যপাশ ফিরে শুয়েছে।হয়ত ঘুমিয়ে গেছে।নিজের প্রতি রাগ হচ্ছে খুব।কেন নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা?এর জন্য অনেক মানুষ এখন পর্যন্ত কস্ট পেয়েছে।দিন দিন কি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে সে?অন্যপাশ ফিরে শুয়ে থাকা মানুষটার জন্য কেন যেন খারাপ লাগছে একটু। (চলবে) A


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাস্তি............ পর্ব(২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now