বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দোলা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে।পুরাতন কথাই ভাবছিল।শুভর বিয়ে হয়েছে আজ নিয়ে দুবছর।ঘটনাটি ওকে অনেক বদলে দিয়েছে।এরপর থেকে কেন যেন ছেলেদের সহ্য করতে পারত না।কিছুদিন পর খেয়াল করল পরিবার ছাড়া কোন মানুষকেই সহ্য করতে পারছে না।কেমন যেন হয়ে গেছে।একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে এখন।
-কিরে তুই এখনও তৈরি হসনি?
মায়ের আওয়াজ শুনে ঘুরল দোলা,
-তৈরি হওয়ার কি আছে?যে পছন্দ করবে সাজগোজ ছাড়াই করবে।আমাকে প্লিজ শুধু শুধু প্রেশার দিও না।ভাল লাগেনা এগুলো।
-শাড়ি পরতে বলেছিলাম,পরিস নি ভাল কথা।একটু মেকাপ তো করতে পারিস।তাও যদি না করিস একটা টিপ পর অন্তত কপালে।
বলে দোলাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে প্রায় জোর করেই একটা টিপ পরিয়ে দিলেন।
-একটু পরেই ছেলেপক্ষ আসবে।যা জিগ্যেস করবে তার বাইরে কিছু বলার দরকার নেই।জানিসই তো তোর বাবা এমনিতেই অনেক টেনশনে আছেন।একটু বুঝিস ব্যাপারটা।
দোলার মা বেরিয়ে যেতে যেতে চিন্তা করছেন মেয়েটার মধ্যে কি সমস্যা কে জানে।খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতে এলেও মেয়ের সাথে কথা বলার পর কেউ আর রাজী হয়না।দোলা ভাবছে আসুক ছেলেপক্ষ।বিয়ে সে করবে না।কিছুতেই করবে না।নিজের মানুষদেরই আজকাল অসহ্য লাগে,নতুন পরিবারে বাইরের মানুষের সাথে গিয়ে কিভাবে থাকবে?
-
-
ছেলে আর ছেলের মা এসেছেন।ছেলে হা করে দোলার দিকে তাকিয়ে আছে।আজব!ছেলেটার মধ্যে লজ্জা জিনিসটা একদমই নেই মনে হচ্ছে।তাকে তার পড়াশুনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন করলেন মহিলা।প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হতেই ছেলে বলে উঠল ,
-আমি উনার সাথে আলাদা একটু কথা বলতে চাই।
দোলাও এটাই চাইছিল।কিন্তু দোলার বাবা মা চাইছিলেন না।এইভাবে কথা বলতে গিয়েই আগের ছেলেগুলো পিছিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন না করা উচিত হবে না।উনারা রাজি হলেন। বারান্দায় চেয়ার পেতে দুজনকে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে।
-
-
ছেলের নাম আকাশ।দেখতে সুদর্শন।দোলা আড়চোখে ছেলেটাকে দেখছে আর ভাবছে ছেলেটা একটু বেহায়া ক্যাটাগরীর।পরিবারের সাথে মেয়ে দেখতে এসে অন্য ছেলেরা লজ্জায় মাথা তুলে না আর এই ছেলে নিজেই গলা উচু করে মেয়ের সাথে একা কথা বলতে চাইল।ভাল, যা ইচ্ছা বলুক সেও ডায়লগ রেডি করে রেখেছে।এগুলোই ভাবছিল তখন আকাশ বলে উঠল,
-কি সমস্যা আপনার?
-মানে?
-এই যে কখন থেকে দেখছি মুখটা বাংলার পাঁচের মত করে রেখেছেন।
-না তেমন কিছু না।আসলে আমার ব্যাপারে কিছু কথা আপনার জানা প্রয়োজন যেহেতু বিয়ের কথা হচ্ছে।আসলে আমি ড্রাগ এডিক্টেড।আর সিগারেট ছাড়া তো আমার একদিনও চলে না।বাবা মা ব্যাপারটা জানেন না ।প্লিজ উনাদের বলবেন না।আর এটা জানার পরও যদি আমাকে আপনি বিয়ে করতে চান তাহলে আমার আপত্তি নেই।পুরোটাই আপনার উপর।
-কয়টা ছেকা খেয়েছেন?
দোলা এরকম প্রতিক্রিয়া আশা করেনি।অন্য ছেলেগুলো এই কথা শুনার পর স্যরি বলে কোনমতে প্রান নিয়ে পালিয়েছে।কিন্তু এই ছেলের হাবভাবে মনে হচ্ছে না এরকম কিছু করবে।যাই হোক দোলা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
-১টা রিলেশন ছিল।ভেঙ্গেছে দুই বছর হল।
-১টা খেয়েই এই দশা?তা ছেকা দিল কেন ছেলে?আপনি তো যথেষ্ঠ সুন্দরী।প্লে বয় ছিল নাকি?
এই কথাটা শুনে দোলা একটূ রেগে গেল।
-হুম ছিল কিন্তু আমার সাথে প্লে করতে চায়নি।আমাকে ঠিকই ভালবাসতো। আগের গার্লফ্রেন্ড জোর করে কেইস করে বিয়ে করেছে।
-কিছু না করলে কি জোর করে বিয়ে করা যায় নাকি?ছেলে নিশ্চয়ই ঐ মেয়ের সাথে টুয়েন্টি টুয়েন্টি খেলতে গিয়েছিল।ধরা খেয়ে বিয়ে করতে হয়েছে।
বলেই হাসতে লাগল।
দোলার সহ্য হচ্ছে না এই কথাগুলো।একটা চড় লাগাতে ইচ্ছে করছে ছেলেটাকে। কিন্তু নিজেকে সামলে নিল।
-দেখুন আমার প্রাক্তন প্রেমিক সম্পর্কে আপনার কিছু না জানলেও চলবে।যতটুকু বলার ছিল বলে দিয়েছি আপনাকে।এখন বিয়ে করবেন কিনা ভেবে দেখুন।আমি আপনার সাথে আর একটা কথাও বাড়াতে চাই না।চলুন।
বলে দোলা বারান্দা থেকে বের হয়ে গেল।আকাশও পিছু পিছু চলে এল বারান্দা থেকে।
-
-
ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে।দোলার বাবা জিগ্যেস করলেন,
-দোলাকে কেমন লেগেছে বাবা?
আকাশ খুব উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,
-খুবই ভাল লেগেছে।আপনারা রাজি থাকলে আজই এনগেজমেন্ট করে ফেলতে চাই
দোলার বাবা মা থতমত খেয়ে গেলেন।অন্য ছেলেগুলো কথা বলে এসেই সালাম করে কেটে পরেছে আর এই ছেলে একবার কথা বলেই এত পাগল হয়ে গেল?দোলার বাবা এবার একটু টেনশনে পড়ে গেলেন।ছেলের মাঝে কোন সমস্যা নেই তো আবার?দোলার মা স্বামীকে আলাদা ডেকে নিয়ে বললেন,
-কি ভাবছ এত?
-ভাবছি ছেলের মাঝে কোন সমস্যা আছে কিনা।একবার কথা বলেই রাজি হয়ে গেল!!!!
-কি সমস্যা থাকবে আবার?ছেলে বাইরে থেকে পড়াশুনা করে এসেছে।ভাল চাকরি করছে।আর কি চাই?আর মেয়েটা দিন দিন এবনরমাল হয়ে যাচ্ছে।তারাতারি বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত।নাহলে এই মেয়েকে নিয়ে টেনশন করতে করতে খুব শিঘ্রই আমি মরে যাব।
দোলার মা ঠিকই বলছে।মেয়েটা খুব বেশিই চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে দিনদিন।সারাদিন রুমের মধ্যে একা বসে থাকে। নিজের বোনগুলোকে পর্যন্ত নিজের ধারে কাছে সহ্য করতে পারে না।চুপচাপ থাকলেও রাগ যদি উঠে যায় তাহলে সব চুরমার করে দেয়।দিন দিন মেয়েটা একেবারেই কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছে। নাহ রাজি হয়েই যাওয়া উচিত।দোলার বাবা বললেন,
-তুমি ঠিকই বলেছ।এই প্রস্তাবে না করার কোন কারন নেই।আমি কথা বলছি।
-
-
দোলা ড্রয়িং রুমে বসে আছে।সামনে আকাশ আর তার মা। দোলা হা করে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।তার সম্পর্কে এত বাজে বাজে কথা শুনার পরেও এই ছেলে ওকে বিয়ে করতে চাইছে।কি করবে বুঝতে পারছে না।এখন বাবাই শেষ ভরসা।বাবার মুখ দেখে মনে হল খুব একটা রাজি না।দেখা যাক উনি এসে কি বলে।এর মধ্যেই দোলার বাবা মা রুমে ঢুকলেন।আকাশের মাকে জিগ্যেস করলেন,
-আমাদের কোন আপত্তি নেই।আপনার কি মতামত?
আকাশের মাও ঘোরের মাঝেই ছিলেন।ছেলেকে একরকম কান ধরেই নিয়ে এসেছিলেন মেয়ে দেখাতে।কোনমতেই বিয়ে করতে চাইছিল না।আগে অনেকবার এরকম করেছে।মেয়ের সাথে আলাদা কথা বলতে গিয়ে কি বলেছে কে জানে।মেয়েরাই পিছিয়ে গিয়েছে।কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হল।মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই পছন্দ করেছে আকাশ।অবশ্যই মেয়ের মাঝে কোন গুণ দেখেছে।উনি খুশিই হলেন।বললেন,
-আমার কোন আপত্তি নেই।দোলাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।আপনাদের আপত্তি না থাকলে এনগেজমেন্টটা করে ফেলতে চাই।
এর মাঝেই আকাশ বলে উঠল,
-মা আংটি তো আনা হয়নি।উনার আঙ্গুলের মাপ দাও আমি এখনই নিয়ে আসছি।
আকাশের মা অবাক হয়ে ছেলেকে দেখছেন।ছেলেটার মাথায় কোন সমস্যা হয়ে যায়নি তো।এত পাগল
কেন হয়ে গেছে কে জানে।এদিকে দোলা অসহায় চোখে ওর বাবার দিকে তাকাল।বাবা সেদিকে নজর দেননি।উনি আকাশকে বললেন,
-ঠিক আছে নিয়ে এসো।মাপ দিয়ে দিচ্ছি।
(চলবে)
এই পর্বের কমেন্টে নেক্সট পর্বের লিঙ্ক দিয়ে দেওয়া হবে পরবর্তীতে।ধন্যবাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now