বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পর্ব (৯)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X নেক্সট উইক থেকে দোলার ক্লাস শুরু।ভর্তির ঝামেলা মিটে গেছে।দোলা খুবই আগ্রহ নিয়ে বইপত্র গুলো দেখছে।শ্বাশুড়িকেও দেখাচ্ছে।আকাশের মা খুবই খুশি দোলার পড়াশুনার প্রতি এত আগ্রহ দেখে।রুম্পা বিরক্ত হচ্ছিল।সে একটু খোঁচা দেয়ার জন্য বলেই ফেলল, -ভাবী তুমি আমার থেকে কত বড়।আর মাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হলে!!!সামনের বছর আমিও ফার্স্ট ইয়ারে থাকব।এক কাজ করতে আমার সাথেই ভর্তি হতে। বলেই হিহি করে হাসতে শুরু করল।এই কথা শুনে দোলার মুখটা অন্ধকার হয়ে গেল।শ্বাশুড়ি রুম্পাকে ঝাড়ি দিতে যাচ্ছিলেন তখনই দোলা বলল, -ঠিকই বলেছ রুম্পা।তোমার ভাইয়াকেও তাই বলেছিলাম যে ননদ ভাবী একসাথে ভর্তি হব।কিন্তু সে বলল তুমি অনেক ভাল ছাত্রী। তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন সবার ।তুমি নিজের যোগ্যতায় পাবলিক কোন ভার্সিটিতে এডমিট হও তাই চান উনি।আমার এখন সেই সুযোগ আর যোগ্যতা কোনটাই নেই তাই বুড়ি হয়ে প্রাইভেটে ভর্তি হচ্ছি। কথাটা বলেই রুম্পার চিবুকে হাত দিয়ে একটু হেসে উঠে গেল ওখান থেকে দোলা।রুম্পা হা করে চেয়ে রইল।দোলা এতটা ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিতে পারবে ভাবেনি।আজকাল দোলা কেমন যেন বদলে যাচ্ছে।দোলা যেতে যেতে চিন্তা করছে রূম্পা যত কিছুই বলুক সে রাগবে না সহজে।বাসার বাকি মানুষগুলো তাকে অনেক ভালবাসা দিয়েছে।সেও তো অনেক বেয়াদবি করেছে কিন্তু আকাশ আর মা সব মেনে নিয়ে ওকে ওর ভুলগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে।রুম্পার ক্ষেত্রেও সে সেটাই করবে। - - - রুম্পার কথা ভাবতে ভাবতেই রুমে ঢুকল দোলা ।দেখে আকাশ অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছে।সেদিন জড়িয়ে ধরার পর আকাশ আর সেকথা তুলেনি কখনও।দোলাও কিছু বলেনি।বুঝতে পেরেছে যে আকাশ সে বিষয়ে আর কথা বলতে চায়না।ভুলটা তারই ছিল।আকাশকে পেতে হলে ওকে সময় দিতে হবে আর তার জন্য রাগ আর আবেগ দুটোই নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। আকাশ দোলাকে দেখেই বলল, -এই যে ম্যাডাম নেক্সট উইক থেকে ক্লাস।নতুন কিছু জামা কাপড় কেনা উচিত আপনার।শুভর দুঃখে তো মনে হচ্ছে গত দুবছরে কোন কেনাকাটাই করেননি। না চাইতেও রুম্পার কথাটা গায়ে লেগেছে।দোলা মন খারাপ করে বলল, -বুড়ো বয়সে ভার্সিটিতে এডমিট হয়েছি তার জন্য আবার কেনাকাটা? আকাশ বুঝতে পারল দোলার মন ভাল নেই।সে বলল, -মাত্র দু বছর পিছিয়েছেন আপনি।দুবছরে কেউ বুড়ি হয়ে যায়না।বেশি বেশি কোর্স নিলে ৩বছরের মাঝেই গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে যাবে।প্রাইভেট ভার্সিটির এটাই সুবিধা।শুধু শুধু এসব ভেবে প্রেশার নেবেন না প্লিজ। দোলা কিছু বলল না।আকাশ বুঝল এসব কথায় দোলার মনের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।দোলা বিছানায় বসে ছিল।আকাশ এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে দোলার সামনে বসে বলল, -একটা কথা বলব? -হুম বলুন -প্রাইভেট ভার্সিটির ছেলেগুলো খুব ফ্লার্টি হয়।আর ক্যারেক্টারও তেমন ভাল হয় না।আপনার যা রূপ সৌন্দর্য্য আমার খুব ভয় করছে জানেন?ভাবছি একটা বডিগার্ড পাঠাব আপনার সাথে প্রতিদিন।একটা মাত্র বউ আমার এটাও যদি চুরি হয়ে যায় আমার কি হবে? দোলা রাগ করতে গিয়েও করতে পারল না আকাশের সাথে হোহো করে হেসে ফেলল।দোলাকে হাসলে খুব সুন্দর দেখায়।আগে কখনও খেয়াল করে দেখেনি আকাশ।এই প্রথম খেয়াল করল।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।দোলার সাথে চোখাচোখি হতেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।। উঠে দাঁড়িয়ে দোলার হাত ধরে টেনে তুলল। -আমার টাই টা বেঁধে দিন তো।আজ কেন যেন ঠিকমত বাঁধতে পারছি না। দোলার কিছুদিন যাবত কেন যেন খুব ইচ্ছে করছিল আকাশের টাই বেঁধে দিতে।সে তো মনে মনে ভাবছিল।আকাশ কি বুঝে গেল কোনভাবে?যাই হোক সে খুশিমনেই আকাশের টাই বাঁধতে লাগল।দোলার মুখটা আকাশের খুব কাছাকাছি আছে।দোলা খেয়াল করছে না কিন্তু আকাশ একমনে দোলাকে দেখছে।আকাশের খুব ইচ্ছে করছে সেদিনের মত দোলার গালে হাত রাখতে।কিন্তু সামলে নিল নিজেকে।হতে পারে এটা সাময়িক আবেগ।একদম নিশ্চিত না হয়ে দোলার কাছাকাছি যাবেনা সে।এসব ভেবে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল আকাশ।টাই বাঁধা শেষে দোলা দেখল রোবটের মত অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে আকাশ। -আপনার কি ঘাড়ে কিছু হয়েছে?মানে বেঁকে গেছে? -মানে? -যেভাবে ঘাড় বেঁকিয়ে রেখেছিলেন মনে হচ্ছিল ঘাড় ভেঙ্গে গেছে। বলেই হাসতে শুরু করল দোলা।মেয়েটার এই হাসি ভয়ঙ্করভাবে টানছে আকাশকে।এটা ভালবাসা নাকি নিতান্তই একটা আকর্ষণ বুঝতে পারছে না সে।কথা না বাড়িয়ে দ্রুত অফিসের জন্য বেরিয়ে পড়ল আকাশ। - - - বাসায় ফিরে আকাশ দেখে দোলা ল্যাপটপ নিয়ে রান্নাঘরে রান্না করছে।ল্যাপটপ নিয়ে রান্নাঘরে আছে এটা অস্বাভাবিক কিছু না কিন্তু রান্না করছে এটা অস্বাভাবিক।আকাশ সোফায় ব্যাগ রেখে রান্নাঘরে ঢুকল।বাসায় আজ কেউ নেই।রুম্পা কলেজে আর মায়ের ফাহিমাকে নিয়ে কোথায় যেন যাওয়ার কথা ছিল। -আপনি রান্নাঘরে কি করছেন?খালি বাসায় রান্না করে আগুন লাগিয়ে মরবেন। -আমি এতটা আনাড়ি না।আপনার পছন্দের খাবার রান্না করছি ইউটিঊবে টিঊটরিয়াল দেখে।মা রান্না করে রেখে যেতে পারেননি।তাড়া ছিল তাই।বলেছিলেন বাইরে গিয়ে খেয়ে নিতে।কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে করছিল রান্না করতে।যাই হোক যান আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।রান্না হতে একটু টাইম লাগবে। আকাশ অনেক ক্লান্ত কিন্তু দোলাকে একা রান্নাঘরে রেখে যেতে ভরসা পাচ্ছে না।মনে হচ্ছে যেকোন এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে ফেলতে পারে।্সে বলল, -আমার স্বপ্ন ছিল বিয়ের পর বউয়ের সাথে একদিন একসাথে রান্না করব।আজ স্বপ্ন পূরণের দিন।ফ্রেশ পরে হউয়া যাবে। - - - আকাশ দোলাকে রান্নায় সাহায্য করছে।সাহায্য করছে বললে ভুল হবে টিউটোরিয়াল দেখে সব নিজেই করছে।দোলাকে চান্সই দিচ্ছে না কিছু করার।দোলার রাগ লাগছিল খুব, -আচ্ছা আমাকে কি কিছুই করতে দিবেন না আপনি? -আপনি এক কাজ করুন তরকারিটা নাড়া দিন একটু। দোলা নাড়তে যাবে তখনই আবার দোলার হাত থেকে খুন্তিটা নিয়ে বলল, -নাড়তে গিয়ে ছিটা পড়লে হাত পুড়ে যেতে পারে। বলে নিজেই তরকারিটা নেড়ে দিল।দোলা বলল, -দিন আমি পেঁয়াজ কাটব।আপনি অনেক কিছু করেছেন। -আরে না।আপনি পারবেন না।চোখ জ্বলবে।আপনি বরং ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসুন। -মোটেও না।আমি এখান থেকে নড়ছি না। -ঠিক আছে তাহলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন।কথা বলবেন না এত। বলে আকাশ পেঁয়াজ কাটায় মনযোগ দিল।পেঁয়াজের ঝালে আকাশের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।গরমে ঘেমে কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ছে।দোলার খুব খারাপ লাগছে কিন্তু সে জানে আকাশ তার কথা শুনবে না।সে তার ওড়না দিয়ে আকাশের কপালের ঘাম মুছে দিয়ে বলল, -আপনি এত ভাল কেন বলবেন? আকাশ কিছু বলার আগেই সাত পাঁচ না ভেবে দোলা আকাশের কপালে চুমু খেল একটা। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাস্তি পর্ব (৯)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now