বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পর্ব (৫)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X রান্নাঘরে দোলা খুব মনযোগ দিয়ে শ্বাশুড়ির রান্না করা দেখছে।সে শ্বাশুড়িকে বলেছে রান্না পারেনা যদিও ওর মা বিয়ের আগে তরিঘড়ি করে শেখানোর চেস্টা করছিল ।আজ পড়তে পড়তে বোর হচ্ছিল।বাইরে এসে দেখে শ্বাশুড়ি রান্না করছেন।নিজেই এগিয়ে এসে বলল, -মা আমি রান্না পারিনা।আমাকে শেখাবেন? ভেবেছিলশ্বাশুড়ি এই কথা শুনে বিরক্ত হবেন।কিন্তু না।আকাশের মা প্রচন্ড খুশি হলেন।তিনি খুব উৎসাহের সাথে শেখাচ্ছেন।দোলাও খুব আগ্রহ নিয়ে শেখার চেস্টা করছে,যদিও বেশিরভাগ কথাই মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।রান্না শেষে শ্বাশুড়ী বললেন, -সব হয়ত বুঝতে পারোনি।ধৈর্য্য হারিয়ো না।আর কিছুদিন পরই দেখবে পাকা রাঁধুনি হয়ে গেছ। বলে দোলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।রুম্পা সব দেখছিল।দোলা চলে যাওয়ার পর মাকে বলল, -তুমি ভাবিকে খুব বেশি প্রশ্রয় দিচ্ছ।এত অকর্মা বউ জীবনে দেখিনি।তার উপরে কি ভাব উনার!!!এসেই ভাঙ্গাভাঙ্গি শুরু করে দিয়েছেন।তুমিও কিছু বলছ না।একদম ঠিক হচ্ছে না এগুলো।তোমার একটু কঠোর হওয়া উচিত। -নিজের ভাবি সম্পর্কে এভাবে বলে কেউ?দোলা তোর বড়।আর কখনও যেন এরকম কথা না শুনি।যা পড়তে বস গিয়ে এখন। বলে মা চলে গেলেন।রাগে রুম্পার শরীরটা জ্বলে যাচ্ছে।দুদিন আগে আসা একটা মেয়েকে এত ভালবাসা দিচ্ছে এটা ভাল লাগছেনা রুম্পার।মেয়ে হিসেবে মায়ের আদরটা সবসময় সেই পেয়ে এসেছে।কিন্তু এখন বাইরের একটা মেয়ে সেখানে ভাগ বসাচ্ছে।কিন্তু কিছু করার নেই।দোলার উপর রাগ হচ্ছে খুব। - - আকাশ অফিসের কাজ করছিল টেবিলে বসে।দোলা ল্যাপটপে মুভি দেখছে।কাজে একদমই মনযোগ দিতে পারছে না আকাশ।দোলা ফুল ভলিউম দিয়ে রেখেছে।শেষে বিরক্ত হয়ে বলল, -আপনি দয়া করে হেডফোন লাগিয়ে যাই দেখছেন দেখুন।আমার সমস্যা হচ্ছে। -হেডফোনে আমার সমস্যা হয়।স্যরি।এভাবেই দেখতে হবে। -হেডফোনে সমস্যা হলে বন্ধ করুন এখন এটা । -মুভিটার অনেকটা দেখে ফেলেছি।এখন শেষ না করে উঠতে পারব না।অপেক্ষা করুন। -দেখুন আমি জরুরী কাজ করছি।আমার সমস্যা হচ্ছে।বন্ধ করুন নাহলে কিন্তু ল্যাপটপ আজ ভেঙ্গে ফেলব -কি বললেন? -জী।প্রথমদিন আপনার রাগ দেখিয়েছিলেন।আমার টা দেখানোর সুযোগ হয়নি।আজ বাড়াবাড়ি করলে সত্যিই আপনার ল্যাপটপটা ভেঙ্গে ফেলে দিব। -আপনার সাহস কত বড় আমাকে ল্যাপটপ ভাঙ্গার হুমকি দিচ্ছেন?সাহস থাকলে ভেঙ্গে দেখান।আমি যা দেখছি এভাবেই দেখব। বলেই দোলা ভলিউম আরও বাড়িয়ে দিল।আকাশ আর রাগ ধরে রাখতে পারল না।এমনিতেই কাজ নিয়ে টেনশনে আছে।।অফিসে বসের সাথে রীতিমত কথা কাটাকাটি হয়েছে আজ।বাসায় এসেও শান্তি নেই।রোজ এইসব ঘ্যানর ঘ্যানর। সে সোজা উঠে গিয়ে ল্যাপটপ টা ছুড়ে ফেলে দিল।তারপর আবার টেবিলে বসে কাজে মনযোগ দিল। আকাশের মাথা প্রচন্ড গরম ছিল।হঠাত দোলার কান্না শুনে ফিরে তাকাল।দোলাকে আজকের আগে কখনও কাঁদতে দেখেনি ।বিয়ের পর শ্বশুড় বাড়ি আসার সময় নাকি সব মেয়েরা কান্না করে।দোলা একবারও কাঁদেনি।ল্যাপটপটা ভাঙ্গায় হয়ত একটু বেশিই কস্ট পেয়েছে।তাই এভাবে কাঁদছে ।খারাপ লাগছে খুব কিন্তু এই সিচুয়েশন কিভাবে হ্যান্ডেল করবে বুঝতে পারছে না আকাশ।ও দোলার দিকে একবারও না তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। - - দোলার খুব কস্ট হচ্ছে।গত দুবছর যাবত ল্যাপটপ টা তার বন্ধুর মত পাশে থেকেছে বলা যায়।কারও সাথে কথা বলতে ভাল লাগত না।ল্যাপটপ নিয়ে গুতাগুতি করেই সময় টা কাটিয়ে দিত।আর এখানেও নতুন জায়গায় ল্যাপটপটা থাকাতে শ্বাস নিতে পারছিল।আজ সেটাও ভেঙ্গে ফেলল আকাশ।আকাশের উপর খুব রাগ হচ্ছে দোলার।ওর খুব পছন্দের কিছু না ভাংলে রাগ কমবে না এখন।আকাশ কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে?ভেবে বের করতে খুব বেশি সময় লাগলো না দোলার। আলমিরার দিকে এগিয়ে গেল ও। - - আকাশ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।হাতে একটা নতুন ল্যাপটপ।ও কাজটা ঠিক করেনি।দোলাকে স্যরি বলতে হবে বাসায় গিয়েই।এগুলোই ভাবতে ভাবতে বাসায় ঢুকল আকাশ।ঢুকে যা দেখল তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না।মেঝেতে তার গীটারটা দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে আছে।এটা তমা অনেক কস্টে টাকা জমিয়ে তাকে কিনে দিয়েছিল।সবচেয়ে বড় কথা তমার শেষ স্মৃতি বলতে এটাই ছিল তার কাছে।দোলা ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই দেখে আকাশ এসেছে।তার দিকেই তাকিয়ে আছে।আগেও রাগ করে্ছে আকাশ কিন্তু আকাশের এই দৃষ্টি কখনও দেখেনি সে।ভয়ে কেমন যেন বুকটা কেঁপে উঠল দোলার। - - ছেলের চিৎকার শুনে মা দৌড়ে এলেন।এসে মেঝেতে ভাঙ্গা গীটার দেখে কি হয়েছে সেটা বুঝার আর বাকি রইল না উনার। আকাশ চিৎকার করে দোলাকে বলছে, -এক্ষুনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যান।আর কখনও যেন এই বাড়িতে আপনাকে না দেখি। দোলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশ আবার চিৎকার দিয়ে বলল, -যান বলছি মা ছেলের রুদ্রমূর্তি দেখে বুঝতে পারলেন যেকোন সময় দোলার উপর হাত উঠে যেতে পারে আকাশের।তিনি তাড়াতাড়ি দোলাকে বললেন, -বৌমা তুমি এক্ষুনি আমার রুমে যাও। দোলা ভয়ে কাঁপছিল ।আকাশের এই রুপ আগে কখনও দেখেনি সে।।ও বের হয়ে গেল রুম থেকে।দোলা যাওয়ার পরেই গীটারটা মেঝে থেকে তুলে চেয়ারে বসল আকাশ।ঠায় বসে আছে।মা বুঝলেন ছেলের মনের অবস্থা। -জানি গীটারটা তমা দিয়েছিল।কস্ট পাস না বাবা।দোলা হয়ত বুঝতে............ -মা আমি একটু একা থাকতে চাই।যাও তুমি। মা ছেলের কাঁধে একবার হাত রেখে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। - - -দোলা মায়ের বিছানায় চুপচাপ বসে ছিল।মা রুমে ঢুকতেই নড়ে চড়ে বসল একটূ। -আমি সকাল হলেই চলে যাব। মা কথাটা শুনে অবাক হলেন একটু, -চলে যাবে মানে? -উনিই তো বললেন চলে যেতে -দেখ বউমা।ও রেগে আছে।রাগের মাথায় মানুষ অনেক কিছুই বলে।এসব মনে নিতে নেই।আর সবচেয়ে বড় কথা আকাশ অনেক কস্ট পেয়েছে। -একটা গীটারের জন্য এত কস্ট পাওয়ার কি আছে?উনিও তো আমার ল্যাপটপ ভেঙ্গে ফেলেছেন। মা দোলার পাশে এসে বসলেন। -গীটারটা তমা উপহার দিয়েছিল ওকে।ওদের মাঝে তখন একটা সম্পর্ক ছিল।মেয়েটা মারা গেছে।এটা তার একটা স্মৃতি ছিল তাই গীটারটা ওর কাছে এতটা স্পেশাল।তুমি আকাশের ব্যবহারে কস্ট নিও না মা।আমার ছেলেকে আমি চিনি।ওর রাগ কমলেই ও তার ভুল বুঝতে পারবে। দোলার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মা আবার বললেন, -লক্ষী মা আমার ওর রাগ কমা পর্যন্ত একটু ধৈর্য্য ধর। দোলা কি বলবে বুঝতে পারছে না।অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে সে আজ।চোখে আপনা থেকেই পানি চলে এল। - - মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমানোর চেস্টা করছে দোলা।কিছুতেই ঘুম আসছে না।আকাশ কি করছে কে জানে।বেচারা কস্ট পেয়েছে অনেক।মাফ চাইতে ইচ্ছে করছে এখনই।কিন্তু গেলে যদি আকাশ আবার রেগে যায়?শুয়ে শুয়ে এসবই অনেকক্ষন ধরে ভাবছে সে।শেষে উঠে বসল।নাহ এভাবে রাত কাটানো যাবেনা।আকাশ ঝাড়লেও মাফ চাইবে সে আজ। - - দোলা দরজায় দাঁড়িয়ে ভাবছে ভিতরে যাবে কিনা।শেষে সাহস করে ঢুকেই গেল।আকাশ জানালার পাশে চেয়ার নিয়ে বসে ছিল।দরজায় শব্দ শুনে ঘুরে তাকালো।দোলা দাঁড়িয়ে আছে দরজায়।দোলার ভয় করছিল খুব।তবুও সাহস যুগিয়ে বলতে যাবে তখনই আকাশ বলল, -স্যরি।রেগে গিয়েছিলাম তখন।আপনার সাথে ওরকম ব্যবহার করা উচিত হয়নি আমার। তারপর টেবিল থেকে নতুন ল্যাপটপটা নিয়ে দোলার দিকে এগিয়ে দিল, -নিন এটা আপনার জন্য এনেছিলাম।পুরাতন টা যদি খুব প্রিয় হয়ে থাকে ওটাও সারানোর ব্যবস্থা করব।আপাতত এটা ব্যবহার করুন। তারপর শুতে চলে গেল আকাশ।দোলার অনেক কান্না পাচ্ছে।মাফ চাওয়ারও মুখ নেই তার।সে আকাশের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, -আমি যদি আপনাকে একটা নতুন গীটার এনে দেই আপনি কি নেবেন? আকাশ খুব শান্ত গলায় বলল, -গীটার আমি চাইলেই কিনতে পারি।ওটা স্পেশাল ছিল।আপনার এনে দিতে হবে না।ওটা যেহেতু নেই এখন আর আমি গীটার বাজাব না।শুয়ে পরুন।অনেক রাত হয়েছে। বলেই আকাশ অন্য পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাস্তি পর্ব (৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now