বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকালে নাস্তার টেবিলে দোলা আকাশের আগেই চলে এসেছে।ক্ষিদে পেয়েছে খুব।এসেই দেখে আকাশের মা নাস্তা রেডি করছেন টেবিলে।দোলাকে দেখেই হাসলেন,
-এসো মা।খেতে বসো।আকাশ কোথায়?
-উনি আসছেন।আমার ক্ষিদে পেয়েছে তাই আগে চলে এসেছি।
শ্বাশুরি ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন,
-ক্ষিদে পেলে তুমি খাওয়া শুরু কর।রূম্পা তোর ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আয় যা।
রূম্পা উঠতে যাচ্ছিল তখনই আকাশ এল।মাথায় ব্যান্ডেজ।ছেলের এই অবস্থা দেখে মা দৌড়ে গেলেন,
-মাথায় কি হয়েছে তোর?ব্যথা পেলি কিভাবে?
আকাশ একবার দোলার দিকে তাকিয়ে বসতে বসতে বলল,
-কিছু না।বিছানায় একা ঘুমিয়ে অভ্যাস।অন্যপাশ ফিরতে গিয়ে ধুম করে নিচে পড়ে গেছি।টেবিলের কোনায় লেগে কেটে গেছে কপাল।
মায়ের মুখ কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল।ছেলের কপালে হাত দিয়ে বললেন,
- ঠিকমত পরিষ্কার করে মলম লাগিয়েছিস?দেখি,দেখতে দে আমায়।
আকাশ মায়ের হাত তার গলায় পেঁচিয়ে ধরে বলল,
-হুম মলম লাগিয়েছি।ঔষুধ খেয়েছি।এখন ক্ষিদে পেয়েছে নাস্তা খাব।তারাতারি দাও।
মা সবাইকে প্লেটে খাবার দিয়ে আকাশকে নিজের হাতেই খাইয়ে দিতে লাগলেন।এর মাঝেই রূম্পা বলে উঠল,
-এত বড় ছেলেকে হাতে তুলে খাইয়ে দিতে হয়?
-ছেলেটা ব্যথা পেয়েছে সেই নিয়ে তোর চিন্তা নেই আছিস খুনসুটি নিয়ে।তারাতারি খাবার শেষ করে কলেজের জন্য রেডি হ যা।
দোলার এইগুলো খুব বিরক্ত লাগছিল।আসলেই তো ,এত বড় ছেলেকে নিয়ে এত আহ্লাদ করতে হয়!আর এভাবে সবার সাথে একসাথে বসে খেতে আনকম্ফর্টেবল লাগছে দোলার।বাসায় নিজের মত যখন ইচ্ছা একা খেয়ে অভ্যাস।এর মাঝেই আকাশের খাওয়া শেষ হয়ে গেল।দোলারও ভাল লাগছে না সেও উঠতে যাচ্ছিল।তখনই আকাশের মা বললেন,
-বৌমা তুমি তো কিছুই খাওনি।মাংসের ভুনা টা নাও।এটা খেয়ে ওঠ।
-আমার খাওয়া হয়ে গেছে।আর খাবো না।
-খাওয়া শেষ না করে উঠতে পারবে না, বসো।
দোলার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল,
-আমি আর খেতে পারব না।
আকাশের মা প্লেটে রুটি আর মাংসের ঝোল নিয়ে নিজেই দোলার মুখে জোর করে পুরে দিলেন।আকাশ পাশের রুম থেকে সব শুনছিল।মনে মনে ভাবছিল মাকে আটকানো দরকার। দোলার সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা হয়ে গেছে তার।মায়ের সাথে যেকোন ধরনের খারাপ ব্যবহার করে ফেলতে পারে।ও আসতে আসতেই মা দোলার মুখে খাবার পুরে দিয়ে বলতে শুরু করলেন,
-আগে দুইটা বাচ্চা ছিল এখন আরেকটা যুক্ত হয়েছে।নিজের খেয়াল রাখা নিয়ে কারোও কোন চিন্তা নেই।সব চিন্তা মায়ের।
বলেই হাসলেন।আকাশ অবাক হয়ে লক্ষ করল দোলাও বিরক্ত হচ্ছে না তৃপ্তি নিয়েই খাচ্ছে। দোলা বলল,
-তরকারি টা আসলেই ভাল হয়েছে।না খেলে মিস করতাম।
বলেই আবার হা করল।দৃশ্য টা কেন যেন ভাল লাগল আকাশের ।খেয়াল করল ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি আপনা থেকেই চলে এসেছে।
দোলা রুমে ঢুকেই দেখে আকাশ অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছে।সে বলল,
-আমার কিছু জিনিস লাগবে।এনে দিতে হবে।
-আপনার তো দেখি লাজ লজ্জার বালাই খুবই কম।গতকাল এত বড় কাহিনী করেও স্যরি বলার নাম নেই।আমার কাছে আবার জিনিস চাইতে এসেছেন ।
-দেখুন আপনার ভুল ছিল শাস্তি পেয়েছেন।এখন আমার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এনে দিবেন কিনা বলুন নাহলে বাসায় ফোন করে চাইব।
আকাশ ভাবল এই নিয়ে ঝামেলা করা উচিত হবেনা।যা চায় এনে দিয়ে একে শান্ত রাখা উচিত।
-ঠিক আছে যা লাগবে লিখে দিন।আর বাসায় দয়া করে একটু ভদ্র হয়ে থাকবেন।এসে যেন না শুনি মায়ের সাথে কোন কাহিনী করেছেন।মাথায় থাকবে?
দোলার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।এটা কেমন কথা ?এমন ভাবে বলছে যেন সে কিভাবে মানুষের সাথে কথা বলতে হয় তাও জানে না।তবুও নিজেকে সংবরন করে বলল,
-চিন্তা করো না লক্ষিটী মাথায় থাকবে।
রাগে শরীরটা জ্বলে গেল আকাশের।
-এই ধরনের ঢং করার দরকার নেই।যা লাগবে তারাতারি লিখে দিন ।দেরি হচ্ছে আমার।
দোলা বিকালবেলা ড্রয়িংরুমে টিভির সামনে বসে কাজের মেয়ে ফাহিমা কে বলল চা দিতে।কাজের মেয়ে হাসিমুখে চা বানিয়ে এনে দিল।চা মুখে দিয়েই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
-এত পাতলা করে কেউ চা বানায়।এটা চা না শরবত কিছুই বুঝতে পারছি না।
কাপ ফাহিমার হাতে দিয়ে বলল,
-যা আবার বানিয়ে নিয়ে আয়।এবার যেন ঠিকঠাক হয়
ফাহিমা আবার একটা হাসি দিয়ে চা বানাতে চলে গেল।একটু পরেই চা নিয়ে এল আবার।এবারের টা মুখে দিয়ে রাগ আর সামলাতে পারল না দোলা। চিৎকার দিয়ে বলল,
-এক কাপ চাও ঠিক মত বানাতে পারিস না?এত তিতা চা মানুষ খেতে পারে?
বলেই কাপ টা ঢিল মেরে ফেলে দিল।ফাহিমা ভয়ে কাঁপতে লাগল।চিৎকার শুনে আকাশের মা আর বোন দৌড়ে এল। দোলা সামনে তাকিয়ে দেখে শ্বাশুরি আর ননদ হতভম্ব চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
আকাশের মা নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,
-কি হয়েছে বউমা?
দোলার রাগ তখনও কমেনি।সে বলল,
-এক কাপ চা বানিয়ে খাওয়াতে বললাম পারল না।দু বার বানাতে পাঠালাম তবুও ঠিকমত বানাতে পারল না।তাই রেগে গেছি।আর রাগ উঠলে কিছু না ভাঙলে রাগ কমে না আমার।
-এখন রাগ কমেছে?
-না।
উনি টেবিল থেকে ট্রেতে করে কিছু কাঁচের গ্লাস নিয়ে এলেন,
-এই নাও ভাঙো। রাগ না কমা পর্যন্ত ভাঙতে থাক।এগুলো ভাঙ্গা হলে লাগলে আরও গ্লাস আছে।
হাসিমুখে গ্লাসগুলো দোলার দিকে এগিয়ে দিলেন মহিলা।দোলা একেবারেই বোকা হয়ে গেল। অবাক চোখে তাকিয়ে রইল মহিলার দিকে।নিজের অজান্তেই রাগটা মাথা থেকে পায়ে নেমে গেল একদম।আকাশের মা দুটো ছেলেমেয়েকে একহাতেই বড় করেছেন।মেয়েটার জন্মের পরপরই স্বামী মারা গেলেন।এত বছরে ছেলে মেয়েকে নিয়ন্ত্রন করার কৌশলটা খুব ভালভাবেই রপ্ত করে ফেলেছেন।কিছু কিছু পরিস্থিতি শাসন দিয়ে নয় ভালবাসা দিয়ে নিয়ন্ত্রনে আনতে হয়।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now