বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যামবর্ণা স্বরোণিকা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পরশুদিন বাড়ি ফিরেছি গ্রাম থেকে। মানুষ গ্রাম থেকে শহরে যায় কাজের তাগিদে, আর আমি কি না শহর ছেড়ে গ্রামে গেছি! বাড়ি আসলে ভালো লাগেনা! শহরের বাতাস যেন বিষ আমার জন্য! তাও আসতে হলো, দাদার বিয়ে হবে, না আসলে মায়ের কান্না দেখতে হবে, সেটা সহ্য হবে না! দাদার বিয়েতে মহেশ দা কে দেখলাম, অনেকদিন পর...অনেকবছর পর! অনেকটা শুকনা লাগছিলো, ভাবলাম জিজ্ঞেস করি "বৌদির রান্না ভালো না, না কি?" আবার ভাবলাম কি দরকার জিজ্ঞেস করার! নিরুপা বৌদি সুন্দরি মেয়ে, রান্নাও বেশ স্বাদেরই হবে! সুন্দর মানুষের সবই সুন্দর হয়! তাদের রুপ যেন গুণের সমানুপাত! এক কোণে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিলাম, ভাবনা কাটলো কাকিমার কথায়... "কিরে স্বর্ণ বাড়ি এসেছিস, আমার কাছে যাসনি কেন!?" বললাম জার্নি করে এসে শরীর টা ভালো ছিল না কাকিমা, তাই যাওয়া হয়নি... মনে মনে ভাবলাম, একসময় নিজেই মা কে বলেছিলেন "বউদি, কিছু মনে করোনা, স্বর্ণ কে আমাদের বাড়ি যেতে মানা করো। বুঝোই তো, জোয়ান ছেলে বাড়ি আছে এমন বাড়িতে মেয়ে যাওয়া আসা করলে লোকে মন্দ কথা বলে!" কথা টা মনে পরে হাসি পেলো বড্ড! কাকিমা বললো, "স্বর্ণ এখন তো ব্যস্ত আছিস, সময় করে একটু আমার কাছে আসিস তো মা! দু'টো কথা বলার আছে তোকে!" দাদার বিয়ে, নতুন বউদির আগমন, পরিবারের মাঝে, বিয়ের কাজকর্মের ভীরে ফিরে যাওয়ার দিন কিভাবে চলে আসলো টেরই পেলাম না! যাওয়ার দিন সকালে মনে হলো কাকিমা ডেকেছিলো! ও বাড়ি যেতে মন টানে না। আগের কথা মনে চলে আসে! ছোটবেলায় দাদা, আমি, মহেশ দা, মহেশ দার বোন মিরা সকলে একসাথে কত খেলেছি! স্কুলে গেছি। স্কুলের ছুটিতে একসাথে ঘুরতে গেছি! স্কুল ছেড়ে দাদা আর মহেশ দা কলেজে গেলো, তবুও আমাদের চারজনের বাচ্চামি চলছিলো তখনো! আমি খুব গল্পের বই পড়তাম, মহেশদাও একই শখের শৌখিন ছিল। তাই মাঝেমধ্যে বই বদল করেও পড়তাম... একবার বই নিতে গেলাম, মহেশদা ওর বুকশেলফ থেকে বই বের করতে করতে বলল "স্বর্ণ তুই এখানেই থেকে যা! বার বার বই নিতে আসতে হবেনা! এখানে থাকবি, সারাদিন বই পড়বি!" আমি বললাম, "তোমার ঘরে থাকবো কেন!? লোকে মন্দ বলবে না!?" মহেশদা বলেছিলো, "বউ করে আনলেও কি লোকে মন্দ বলবে?" ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলাম, বই না নিয়েই ছুটে চলে এসেছিলাম! সেদিন থেকেই শুরু হলো হৃদয়ের ঝড়, নিঃশ্বাস ভারী হউয়া, কল্পনাবিলাস! পড়া, খাওয়া, ঘুম সবেতেই মহেশদার খেয়াল আসতে লাগলো! তার সাথে চলতে থাকলো মহেশদার বই এর মাঝে চিঠি দেয়া! আমি অবশ্য কখনো উত্তর দিতাম না, বই নিয়ে আসতাম, চিঠি টা রেখে আবার ফেরত দিয়ে আসতাম, যেন কিছুই দেখিনি কিছুই বুঝিনি! কাকিমা টের পেয়েছিলো...এবং এতেই ঘটে গেলো বিপত্তি! কাকিমা মা কে বলল আমি যেন ও বাড়ি না যাই! ওদিকে মহেশ দা কে পাঠিয়ে দেয়া হলো বিলেতে! বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো, সাথে বন্ধ হলো আমাদের যোগাযোগ! এরই মাঝে কেটে গেলো ক'বছর... একদিন কলেজ থেকে বের হয়ে দেখি মহেশদা দাঁড়িয়ে আছে, হাতে রবীঠাকুরের একটা বই সাথে ক'টা রজনীগন্ধা ফুল! কাছে এসে কুশলাদি জিজ্ঞেস না করেই বলে বসলো, "বিয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছি, এবার বউ করেই নিয়ে যাবো!" আমার কিছু বলার আগেই ও চলে গেলো! বিকেলবেলা বাড়িতে কাকিমা এলো। খুব করে অপমান করলো! মা কে বলল "আমার এত বড় সর্বনাশ টা কেন করলে গো বউদি? নিজের ঘরের আপদ টা আমার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে না দিলে হতো না বুঝি!? রুপের তো কিচ্ছুই নেই, দূগগা জানে কি দিয়ে জাদু করেচে আমার সহজসরল ছেলেটাকে! বলি কি, আমার ছেলের চেহারা দেখেচিস? আর তোর দেখেচিস? হাড়ির কালি হয়ে রাজপুত্তুর পেতে চাস!?" সেদিন মা একটা কথাও বলেনি! আমিও চুপচাপ শুনেছি! রাত্রিবেলা মহেশদা এসে হাজির! সে মায়ের সাথে যেদ করে এসেছে, আজই আমাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে! আমি সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললাম, "কলেজের সামনে বলতাম, চলে এলে না শুনেই! আমার তো বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই তুমি বিলেত যাওয়ার পরপরেই, জানো না বুঝি?" কিছুক্ষণ নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে থেকে ও চলে গেলো! আমি দরজায় খিল দিলাম...পরদিন ভোরে চলে গেলাম গ্রামে মাসির বাড়ি! এসব মনে হয়ে আর যেতে ইচ্ছে করলো না কাকিমার সাথে দেখা করতে! নিজের ব্যাগ গুছাচ্ছি এমন সময় কাকিমা নিজেই এলো... "কিরে স্বর্ণ, দেখা করতে বলেছিলুম না?" আমি চুপচাপ নিজের কাজ করতে থাকি! উনি এসে হাত ধরে আমাকে বসিয়ে দেন, বলতে থাকেন "ওই সময়ে যা করেছি সব ভুল করেছি রে মা! রুপবতীর সাথে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলাম জোর করে, ভেবেছিলাম বউ পেয়ে তোকে ভুলে যাবে! ও পারেনি রে তোকে ভুলতে! বউকে সুখী রাখার চেষ্টা অবশ্য করেছে, কিন্তু বউ বিলেতে থাকতে চায়! আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিতে চায়, আমি না কি আপদ! আমার জন্যে না কি মহেশ বিলেত যেতে পারেনা! বউ চলে গেছে কমাস আগে, তালাকের কাগজ পাঠিয়েছে!" আমি বললাম, "এসব আমাকে বলছেন কেন কাকিমা!?" কাকিমা এবার কাঁদতে শুরু করলেন! বললেন, "তোর গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা দিয়েছিলেম, তোর রুপ যে তোর আদর্শে, তোর ব্যবহারে, তোর মনেতে! এসব বুঝিনি রে মা! আমাকে ক্ষমা করে দে লক্ষী ক্ষমা করে দে তোর বুড়ি কাকিমা কে!" "আমি ওসব কিচ্ছু মনে রাখিনি কাকিমা", সত্যি বলছি! "তাহলে তুই আর গ্রামে যাসনে, তুই আমার বাড়ি চল! আমার মহেশের বউ হয়ে চল! আমার ছেলেটাকে আরেকবার হাসতে শিখিয়ে দে রে মা, ছেলেটা আমার হাসতে ভুলে গেছে!" দরজায় দেখি মা, বাবা, দাদা বউদি সবাই দাঁড়িয়ে, আমার উত্তরের অপেক্ষা করছে... একবার ভাবলাম বলি, "সেদিনের অপমান ভুলে আপনাকে ক্ষমা করতে পারবো না! বিয়ে করতেও পারবো না আপনার ছেলেকে!" কিন্তু পারলাম না, আমার মন আর মনের মাঝে সযত্নে রাখা মহেশদার জন্য ভালবাসার জন্যে পারলাম না ফিরিয়ে দিতে! রাজি হলাম বিয়েতে.... বিয়ে হলো খুব সাধারণ ভাবে... ফুলশয্যার রাতে ও এলো, আবারো হাতে বই ও একগুচ্ছ রজনীগন্ধা নিয়ে.... বই এগিয়ে দিতেই আমি বললাম, "এখন তো ঘরেই আছি তাও বই দিচ্ছো কেন মহেশ দা?" সে হেসে ফেললো, বললো "আমি এখনো তোর মহেশ দা হই?" লজ্জা পেয়ে গেলাম। হাত এগিয়ে বই টা নিলাম... পাতা উল্টাতেই দেখি চিঠি, ঠিক যেমন আগে পেতাম... তাতে লেখা, "কখনো হয়নি বলা ,ভালবাসি তোকে শ্যামবর্ণা স্বরোণিকা!"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যামবর্ণা স্বরোণিকা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now