বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৯

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না) "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ----------------------- পর্ব ৯ ক্রিস উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল। একজন মহিলা দাঁড়িয়ে, খুব লম্বা চেহারা, পাতলা ঠোঁট, হাঁটুর নীচ পর্যন্ত পরা স্কার্ট, বয়কাট চুল, চোখে সরু ফ্রেমের চশমা, একহাতে ব্রিফকেস আর অন্য হাতে ধরা কয়েকটা ভারী বই। হাসিমুখে মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, " এই বাড়িতে কি মিসেস ক্যারেন হ্যালোরান থাকেন?" ব্যক্তিত্বপূর্ণ চেহারার সঙ্গে মানিয়ে গেছে কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। ক্যারেন এসে দাঁড়াল ক্রিসের পাশে। বলল, " আমিই ক্যারেন হ্যালোরান।" " প্লিজড টু মিট ইউ। আমার নাম শেরিল থমাস। হ্যামিল্টনে থাকি। ওখানকার লাইব্রেরিয়ান আপনার জন্য এই বইগুলো পাঠিয়েছেন। " " কি বই?" ক্রিস জানতে চাইল। " আমি দুপুরে মার্সিয়ার দোকান থেকে হ্যামিল্টনের লাইব্রেরিতে ফোন করে কয়েকটা বইয়ের অর্ডার দিয়েছিলাম", ক্যারেন জবাব দিল। শেরিল বলল, " এসপেনের লোকদের পড়া উচিত বইগুলো। কিন্তু তারা কোনওদিন পড়তে চায়নি। আপনি আজ পড়তে চাইলেন। তাই আপনাকে দেখার খুব লোভ হলো। লাইব্রেরিয়ানকে বললাম, আপনার বইগুলো আমি পৌঁছে দিতে চাই।" " এতটা কষ্ট স্বীকার করে বইগুলো এখানে এসে পৌঁছে দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। " " আরে, না, না, ধন্যবাদের কি আছে!", শেরিল বলল, " এই সুযোগে আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে গেল। আমি হ্যামিল্টনের একটা স্কুলে ইংরেজি পড়াই। একঘেয়ে লাগে। মাঝেমাঝে লাইব্রেরিতে যাই। নতুন কারোর সঙ্গে আলাপ হলে খুশী হই।" কথা থামিয়ে শেরিল একবার ক্যারেনের দিকে আর একবার ক্রিসের দিকে তাকাল। বলল, " আশা করি আমার আগমনে আপনারা বিরক্ত হন নি। সাদাসিধে মানুষ আমি। বললে চলে যাই। কিছু মনে করবেন না।" লজ্জা পেল ক্যারেন। ভদ্রমহিলাকে আরও আগে বসান উচিত ছিল। বলল, " কি যে বলেন? আসুন, ভেতরে আসুন। কফি চলবে না ড্রিংকস?" " ওয়াইন আছে?" শেরিল জানতে চাইল। " বার্গান্ডি আছে" , ক্যারেনের উত্তর এল। " আপত্তি নেই, ওতেই চলবে", বলতে বলতে শেরিল চারটে মোটা মোটা বই টেবিলের ওপর রাখল। বইগুলো উলটে পালটে দেখল ক্রিস। হাসতে হাসতে বলল, " ব্যাপার কি ক্যারি? বাঘ-নেকড়ের বই দিয়ে তুমি কি করবে?" উত্তর না দিয়ে কিচেনে চলে গেল ক্যারেন। কিচেন থেকেই চেঁচিয়ে বলল, " তুমি বার্গান্ডি খাবে, ক্রিস?" " না, এখন খাবো না", ক্রিস বলল, " শরীরটা কেমন ম্যাজম্যাজ করছে। আমি বরং বাইরে থেকে একটু জগিং করে আসি। মাফ করবেন মিস থমাস। আপনারা কথা বলুন। " ক্রিস হ্যালোরানের দিকে তাকাল শেরিল। হাসিমুখে বলল, " ঠিক আছে মিঃ হ্যালোরান, আপনি না হয় একটু জগিং করে আসুন।" ক্যারেনের মনে হল ক্রিস বাইরে গিয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। দু হাতে বারগান্ডির দুটো গ্লাস নিয়ে টেবিলে এসে বসল ক্যারেন। দুজনের আলাপ জমে উঠল দ্রুত। শেরিল বুদ্ধিমতী, সুরসিক। পড়াশোনাও করেছেন যেমনি অনেক, তেমনি অনেক কিছুর খোঁজখবরও রাখেন। দ্বিতীয় গ্লাস শেষ হবার পরই তারা পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেল। সন্মোধনের ভাষা নেমে এল 'তুমি' তে। শেরিল জানতে চাইল, " নেকড়ে সন্মন্ধে তোমার এত আগ্রহের কারণ কি?" ক্যারেন বলল, " শুনে হাসবে না তো?" " বলই না।" ক্যারেন তখন খুলে বলল সব। রাতের সেই হাউলিং, টাইগারের নিখোঁজ হওয়া, তার সন্দেহ, ইদানীং ক্রিসের কিছু অদ্ভুত আচরণ, এমনকি শেরিলের অনুমানের কথাও বাদ দিল না। " এখানে তাহলে একটা নেকড়ে আছে বলে তুমি মনে করছ?" শেরিল জানতে চাইল। " জানি না সত্যি কিনা, অন্তত হাউলিং শুনে সেরকমই মনে হয়েছে। কারণ আমার ধারণা, কোনও খটাস বা বনবেড়াল হত্যা করেনি টাইগারকে। কোনও নেকড়ের হাতেই মারা গেছে টাইগার।" " এখানে একটা নেকড়ে আছে এ কথা কেউ বিশ্বাস করতে চাইছে না।" "হ্যাঁ", হতাশ গলায় শেরিলের কথায় সায় দিল ক্যারেন। "এসো দেখি বইগুলো পড়া যাক।" দুজনে বইগুলো উলটে পালটে দেখল। জানা গেল, নেকড়ে আছে কয়েক রকমের। এখানকার বনে দু ধরনের নেকড়ে থাকতে পারে-- গ্রে উলফ বা টিম্বার উলফ। বিজ্ঞানীদের ভাষায় ক্যানিস লিউপাস। আমেরিকায় যতরকম নেকড়ে আছে, তাদের মধ্যে এগুলোই সবথেকে বড়। লম্বায় এরা পাঁচফুট হয়, লেজ হয় আঠার ইঞ্চি। এরা দলবেঁধে শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। তখন এরা নিজেদের চেয়ে আকারে অনেক বড় জন্তুকেও মেরে ফেলতে পারে। আমেরিকার মিসিগান, মিনেসোটা আর উইসকনসিনের অরণ্য ছাড়া আর কোথাও নেকড়ে দেখা যায় না। তাহলে এসপেনে কি নেকড়ে নেই! অথচ কদিন ধরে নেকড়ের হাউলিংই তো শুনছে ক্যারেন! শেরিলের বয়স ঊনচল্লিশ। বিয়ে করেনি। পড়াশোনা, ফুল আর ক্যাকটাস নিয়েই থাকে। মার্গ সঙ্গীত শোনে। নান ছিল একসময়। ভাল লাগেনি। ছেড়ে দিয়েছে। শেরিল হ্যামিল্টনে আছে এগারো বছর। স্থানীয় ইতিহাস তার কন্ঠস্থ। ঔপনিবেশিক আমলের বাড়ির ধ্বংসাবশেষগুলোও ঘুরে দেখেছে। রেড ইন্ডিয়ানদের সম্পর্কেও অনেক খবরাখবর রাখে সে। শেরিল নিজেও খুব আগ্রহী এসপেন সম্পর্কে। তার মতে, এই গ্রামটা যেন আমেরিকার বাইরে। এখানকার সংস্কৃতি অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা, একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত। শেরিলই জানাল, এসপেনে মাঝেমাঝে সব ব্যাখ্যাতীত ঘটনা ঘটে। মাঝেমাঝে নিখোঁজ হয়ে যায় লোক। তারপর তাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না। কি যেন একটা আছে এই গ্রামে! তা না হলে বড় বড় এইসব বাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে কেন লোকে? লোকগুলো আর কোনওদিনও ফিরে আসেনি। ধীরেধীরে পরিত্যক্ত হয়েছে এখানকার বাড়িগুলো। স্থানীয় যারা ছিল তারাও আর বাড়িগুলোর দখল নিতে আসেনি। শেরিলের কাছে গোটা ব্যাপারটাই কেমন রহস্যময় মনে হয়। এইসব রহস্য সমাধানেরই চেষ্টা করছে শেরিল। ক্যারেন অবাক হয়ে শুনতে লাগল এসপেনের রহস্যময় কাহিনী। শেরিল বলল, " আমার বিশ্বাস এখানে শয়তান আছে। কিংবা বন্দী হয়ে আছে কোনও অতৃপ্ত প্রেতাত্মা, যার কারণে এখান থেকে একের পর এক লোক গায়েব হয়ে গেছে রহস্যজনকভাবে। নান ছিলাম আমি। ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানলে শয়তানের অস্তিত্বও মানতে হবে। " তার মানে তুমি বলতে চাও, আমি প্রতি রাতে শয়তানের কান্ন শুনছি?" ক্যারেন জানতে চাইল। " শয়তান নয় ক্যারেন," চশমাটা মুছতে মুছতে শেরিল বলল, " আমার ধারণা এখানে একটা ওয়্যারউলফ আছে।" " ওয়্যারউলফ! বলো কি! ঠাট্টা করছ?" চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞেস করল ক্যারেন। " মোটেই না।" বেশ জোর দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল ক্যারেন। " তুমি কি লাইকানথ্রাপির কথা বলছ"? " না, লাইকানথ্রাপি তো একধরনের মানসিক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভাবে, ওরা নেকড়ে হয়ে গেছে। তখন এরা নেকড়ের মতো আচরণ করে, লাফ ঝাঁপ দেয়, কাঁচা মাংস খায়। কিন্তু ওয়্যারউলফ হল অন্য জিনিস। এরা সাধারণত মানুষ কিন্তু বিশেষ একটা সময়, কিছু সময়ের জন্য পুরোপুরি নেকড়ে হয়ে যায়। সত্যিকারের নেকড়ে। " " কিসব আজগুবি কথা বলছ তুমি?", ক্যারেন হেসে বলল, " মানুষ কখনো নেকড়ে হয়ে যেতে পারে?" " ওটাই তো মুশকিল! ", শেরিল নিজের গাম্ভীর্য ধরে রেখেই বলল, " প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে কিছু শুনলেই আমাদের কাছে তা আজগুবি মনে হয়। শোন, শয়তানের চ্যালারাই ওয়্যারউলফ হয়। হঠাৎ করে কেউ ওয়্যারউলফ হয়ে যায় না। মধ্যযুগে দরিদ্র, সাধারণ মানুষ ক্রীতদাসের মতো জীবন যাপন করত। তখন ওয়্যারউলফের সংখ্যাও বেশী ছিল। দারিদ্রের যন্ত্রণা সইতে না পেরে মানুষ তার আত্মাকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়ে ওয়্যারউলফ হয়ে যেত।" " কিন্তু সে তো মধ্যযুগের কথা। তাই বলে এই যুগে?" " হ্যাঁ, এখন অবশ্য ওয়্যারউলফের সংখ্যা কমে গেছে", শেরিল বলতে লাগল, " তবে ওরা আছে। একটা ওয়্যারউলফ যখন একটা মানুষকে আক্রমণ করে কামড় বসায়, তখন সেই ভিক্টিম মানুষটিও ওয়্যারউলফ হয়ে যায়। অনেকটা ভ্যাম্পায়ার বা ড্রাকুলার মতো। সাধারণত ওয়্যারউলফ মানুষকে আক্রমণ করে মেরেই ফেলে। তাই ওদের সংখ্যা কম এখন। " " আমার মাথা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে", ক্যারেন বলল, " তুমি কি আর একটু ওয়াইন নেবে?" " না, আজ আর না", শেরিল চশমাটা চোখ থেকে খুলে মুছতে মুছতে বলল। ক্যারেন কিচেনে গিয়ে নিজের গ্লাসে আর একটু বার্গান্ডি ঢেলে নিয়ে এল। বলল, " তোমার কথাগুলো ভাবছি, শেরিল। কিন্তু মানুষের ইচ্ছেমত নেকড়ে হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কিছুতেই মেলাতে পারছি না।" শেরিল বলল, " আমাদেরও প্রাচীন অনেক বিশ্বাস ভেঙে গেছে। অনেক অসম্ভব আজকাল সম্ভব হচ্ছে। ল্যাবরেটরিতে সোনা তৈরির বিষয়টি এখন হাস্যকর। কারণ সোনা তৈরির জন্য যে একটা বিশেষ কাঁচামালের দরকার, সেটা আর এখন পাওয়া যায় না। অথচ আগে পাওয়া যেত। আর এখন পাওয়া গেলেও সাধারণ সোনার থেকে তার দাম অনেক বেশী। আমাদের এখন বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয় যে ল্যাবরেটরিতে সোনা তৈরি করা সম্ভব। অথচ আগে এটাই সম্ভব ছিল।" " তা ঠিক", মাথা দুলিয়ে সায় দিল ক্যারেন। শেরিল বলতে লাগল, " আমরা এখন বিশ্বাস করি, মানুষ চাঁদে নেমেছে। সৌরমন্ডলের সীমানা অতিক্রম করে চলে গেছে মানুষের তৈরি নভোযান। বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। একজন ক্রিস হ্যালোরানের অঙ্গ সংযোজন হচ্ছে আর একজন ক্রিস হ্যালোরানের দেহে। অথচ একশ বছর আগে এসবই মানুষের কাছে গাঁজাখুরি ছিল।" " কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার এই টেহাচাপি পাহাড়ের উপত্যকার এই গ্রামে ওয়্যারউলফ এল কোথা থেকে?", ক্যারেন না জিজ্ঞেস করে পারল না। " হয়ত এই গ্রামেই আছে ওয়্যারউলফ", জবাব দিল শেরিল, " এক বা একাধিক। এসপেনের এই গ্রাম রহস্যে মোড়া। গত ষাট বছরে বহু লোক এখানে রহস্যময় ভাবে মারা গেছে। গুমও হয়েছে বহু। এসপেন সম্পর্কে আমার কাছে বই আছে, খবরের কাগজের ক্লিপিংও আছে কিছু। তোমায় পরে দেখাব।" হঠাৎ সিধে হলো ক্যারেন। বলল, " না, শেরিল, এসব বিষয় নিয়ে আর আলোচনা নয়। আমি এসব বিশ্বাস করি না। ওয়্যারউলফ বা শয়তান নিয়ে কোনও আলোচনা আমি করতে চাই না।" শেরিল বলল, " ঠিক আছে ক্যারেন। তুমি তোমার বিশ্বাস নিয়ে থাকো। আমার বিশ্বাস আমার কাছে। তবে এটা জেনে রেখো, এসপেনে একটা ওয়্যারউলফ অবশ্যই আছে।" " আচ্ছা, ঠিক আছে, এখন কফি খাবে?" স্যান্ডুইচ আর কফি খেল দুজনে। খাওয়া শেষে শেরিল উঠে দাঁড়িয়ে বলল, " এখন চলি। সন্ধে হয়ে গেছে। এখন আমায় হ্যামিল্টন ফিরতে হবে।" ( ক্রমশ) -------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now