বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৮

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না) "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------- পর্ব ৮ " বেশ কফি পরে খেয়ো, কি জানতে এসেছ শুনি?" মার্সিয়া প্রশ্ন করল। ক্যারেন সিরিয়াস গলায় জিজ্ঞেস করল, " মার্সিয়া, তুমি এসপেনে কতদিন আছ?" " এই শহরের জন্মলগ্ন থেকেই আছি।" " তাহলে তো তুমি আমায় এসপেনের সব খবরই দিতে পারবে।" " নিশ্চয়, তবে এই গ্রাম সম্পর্কে বলার মতো কিছুই নেই।" " কয়েকটা ব্যাপারে আসলে আমার খুব খটকা লেগেছে। এই গ্রামে কেউ পশুপাখি পোষে না? আমি এখানে আসা ইস্তক একটা কুকুর বেড়াল তো দূরের কথা, একটা পাখির খাঁচা পর্যন্ত দেখিনি। কেন?" " তুমি ঠিকই বলছ ক্যারেন", মার্সিয়া বলতে লাগল, " এই গ্রামের কেউ এখনো আমার কাছে পশু পাখির খাবার কেনার জন্য আসেনি। তবে ব্যবসার জন্য অনেকে গরু-মোষ-ছাগল পোষে কেউ কেউ। মুরগীও দু একটা বাড়িতে রয়েছে। কিন্তু সত্যিই তুমি যেটা আজ আমায় বললে, এই ব্যাপারটা তো এতদিন আমার মাথায় আসেনি!" মার্সিয়া যেন কিছু না জানার মতো করেই বলল। ক্যারেন বলল, " আমার আর একটা প্রশ্ন, আচ্ছা, এখানকার জঙ্গলে খটাস, বনবেড়াল, হায়েনা, শেয়াল বা সাপটাপ আছে?" মার্সিয়া জবাব দিল, " হরিণ দু একটা আসে। দু এক প্রজাতির বাঁদর আছে, তবে সংখ্যায় কমে গেছে। সজারু আর খরগোশ আছে। একটু দূরে পাহাড়ে আছে রেটল ক্লেক, তবে ওরা লোকালয়ে আসে না, শুকনো আবহাওয়ায় থাকতে পছন্দ করে। কয়েকটা শেয়াল ছিল, তবে এখন আর নেই। পরিত্যক্ত বাড়িতে সাপও আছে দু একটা, তবে খাবারের জন্য ওদের লোকালয়ে ঢোকার দরকার পড়ে না। মাঝে মাঝে জিপসিরা এসে সাপ ধরে নিয়ে যায়।" " জিপসিরা কখন আসে?" " গরমের সময়। সাপ ছাড়াও মধুও সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।" " সাধু সন্ন্যাসীরা আসে এখানে?" " না, কখনো আসতে দেখিনি", মার্সিয়া জোর দিয়ে বলল। " খটাস বা বনবেড়াল নেই?" ক্যারেনের মুখে চিন্তার ছাপ। " না, আছে বলে শুনিনি কখনো। কেন? খটাস বা বনবেড়াল দিয়ে কি করবে?" " কিছু না। তবে আমাদের একটা কুকুর ছিল, হারিয়ে গেছে কুকুরটা। আমার ধারণা, কোনও বন্য জন্তু ওকে মেরে ফেলেছে। কোনও নেকড়ে জাতীয় জন্তুই ওকে মেরেছে। কয়েকদিন ধরে রোজ রাতে আমি নেকড়ের ডাকও শুনছি।" " না ক্যারেন, আমাদের আশেপাশে কোনও নেকড়ে আছে বলে কখনো শুনিনি।" ক্যারেন বুঝল, মার্সিয়া গ্রামের আশেপাশের খুব একটা খবর রাখে না। মার্সিয়া এবার বলল, " এবার কফি করে আনি? নাকি চা খাবে?" " কফিই আনো।" " ঠিক আছে। তুমি বোস। আমি যাব আর আসব।" " আচ্ছা, মার্সিয়া, এখানে লাইব্রেরী আছে?" " এসপেনে নেই, তবে হ্যামিল্টনে আছে। ওখানে ফোন করে বইয়ের অর্ডার দিলে ওরা তোমার বাড়ি ক্যাজুরিনায় এসে বই দিয়ে যাবে। ওদের আউটডোর সার্ভিস ভাল।" " তোমার এখান থেকে ফোন করা যাবে?" " হ্যাঁ। তুমি ফোন করো। আমি কফি নিয়ে আসছি।" অত:পর ক্যারেন হ্যামিল্টনে লাইব্রেরীয়ানকে ফোন করে কথাবার্তা বলে নেকড়ে সম্পর্কে কিছু বই চাইল। লাইব্রেরীয়ান জানাল, তাদের কাছে নেকড়ে আর বুনো জন্তু সম্পর্কে বইয়ের ভালো কালেকশন আছে। আপনি অর্ডার দিলে আমরা যতগুলো পারি বই অলিভার্স স্টোরে বা আপনার বাড়ি ক্যাজুরিনায় পাঠিয়ে দেব।" ক্যারেন লাইব্রেরিয়ানকে ফোনেই ধন্যবাদ দিল। লাইব্রেরিয়ান বলল, " ধন্যবাদ দেবার দরকার নেই। আমি তো সারাদিন বসেই থাকি। যাক তবু একটা কাজ পেলাম।" মার্সিয়ার দোকানে আরও ঘন্টাখানেক গল্প করে, কফি খেয়ে ক্যাজুরিনায় ফিরল ক্যারেন। ক্যাজুরিনায় এসে দেখে, ক্রিস হ্যালোরান কাজ থেকে বাড়ি ফিরেছে কিছুক্ষণ আগেই। এত তাড়াতাড়ি ক্রিস ফিরবে ভাবতে পারেনি ক্যারেন। ক্রিসকে দেখে খুশী হয়ে উঠল ও। নেকড়ের ডাক অনুসন্ধানের কাজটা শুরু করে ফেলেছে ও। ক্রিস ওকে খুশী করার জন্য আর একটা খবর এনেছে। ক্যারেনের ধর্ষণকারী জো থম্পসন জেলের মধ্যে খুন হয়ে গেছে। সংবাদপত্রটাও দেখাল ক্রিস ক্যারেনকে। ছোট্ট শিরোণামের এক সংবাদ। ক্যারেনের ওপর পাশবিক অত্যাচার করার দায়ে এক পুরনো শত্রুর সঙ্গে হাজতবাস করছিল জো থম্পসন। পুরনো ঝগড়ার জেরে মাথায় লোহার রডের বাড়ি মেরে জো কে শেষ করে দিয়েছে ওর পুরনো সেই শত্রু। খবরটা পড়ে খুশী হল ক্যারেন। যদি এই কাজটা ও নিজ হাতে করতে পারত! আজ থেকে আর রাতে নেকড়ের ডাক শুনে ভয় পাবে না ও। আর মনে হবে না, জো হামলা করতে আসছে ওর ওপর। আজ রাতে ক্রিসের সঙ্গে মিলনের সময় যদি নেকড়ে ডাকে তো ডাকুক, কিন্তু আজ রাতে ও পরীক্ষা দেবার জন্য তৈরি ও। ক্যারেন বলল, " এই সুখবরটা দেওয়ার জন্য তোমায় আমার স্কচ খাওয়ানো উচিত।" ক্রিস বলল, " আপাতত স্কচের তেষ্টা নেই আমার। অন্যভাবে পুষিয়ে নিও। আপাতত কফি বানাও। ব্ল্যাক ক্রিম ভাসিয়ে।" ক্রিসের গালে চুমু খেয়ে ক্যারেন কিচেনে ঢুকল। ক্যারেনের খুশী হওয়ার কারণটা বুঝতে পারছে ক্রিস। ওদের কফি শেষ হতেই এমন সময় ডোরবেল বাজল। ক্রিস ক্যারেনের দিকে তাকিয়ে ঈশারায় জানতে চাইল, " কে!" ঠোঁট ওল্টাল ক্যারেন। কে জানে! (চলবে) -----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now