বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না) "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------- পর্ব ৭ টাইগারকে ডাকাডাকির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল ক্রিসের। হাঁফাতে হাঁফাতে বেডরুমে এসে ক্যারেন ক্রিসকে জানাল, " টাইগারকে পাওয়া যাচ্ছে না। গত রাতে বেড়িয়ে ও আর ফেরে নি।" ক্রিসের বিরক্তি তখনো যায়নি। বলল, " যাবে আর কোথায়? দেখো, হয়ত আশেপাশে কোনও গরম জায়গা পেয়ে ঘুমিয়ে আছে।" " কি যে বলো, ঘুমোলে দরজার বাইরেই ঘুমোত," ক্যারেনের গলায় উদ্বেগ। " দেখছি", বলে ক্রিস শিস দিতে দিতে বাইরে বেরিয়ে গেল। টাইগারের নাম ধরে বেশ কয়েকবার ডাকল। সাড়া না পেয়ে সে কম্পাউন্ডে নামল এবার। গাছের শিশিরে ভিজে গেল তার নাইট গাউন। কম্পাউন্ডেও নেই টাইগার। ক্রিস ভাবতে লাগল, " গেল কোথায় টাইগার?" " পেলে না?" ক্যারেনের গলায় উদ্বেগ। " না। কম্পাউন্ডেও নেই।" " গ্যারেজে লুকিয়ে থাকতে পারে।" " গ্যারেজে তো তালা মারা। ভেতরে ঢুকবে কি করে? অসম্ভব! " " তবে গেল কোথায়? হাওয়ায় মিলিয়ে গেল?" কথাগুলো ক্যারেন এমনভাবে বলল, যেন টাইগার হারিয়ে যাবার জন্য ক্রিসই দায়ী। ঝাঁঝাল জবাব এল ক্রিসের কাছ থেকে, " তো টাইগারকে বের করে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলে কেন? খুলে রাখলেই পারতে।" ক্যারেন সংবরণ করল নিজেকে। বলল, " ঠিক আছে, ভুল হয়ে গেছে। কেউ হয়ত ওকে ভুলিয়ে নিয়ে গেছে। চল, গ্রামের দিকে গিয়ে ওর খোঁজ করি।" ক্রিস রাজি হলো। নাস্তা সেরে বেরোবে ওরা। টাইগার ফেরার আশায় দরজা খুলে রাখল ক্যারেন। বারবার জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতে লাগল। নাস্তা সারতে বসে ক্রিস বলল, " যাবে আর কোথায়? আশেপাশেই কোথাও আছে। খিদে পেলে ঠিক চলে আসবে।" টাইগারের জন্য সে-ও বেশ চিন্তায় পড়ে গেছে। কি হল কুকুরটার! নাস্তা সেরে পাণ্ডুলিপি নিয়ে বসল ক্রিস। কাজ শেষ করতে করতে একটু বেলা হয়ে গেল তার। ক্যারেন তখনো জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে। একটা কুকুরও নেই এই গ্রামে! গাড়িতে উঠে ক্যারেন বলল, " টাইগার কোথাও জখম হয়ে পড়ে নেই তো? আমাদের একবার বাড়ির আঙিনাটা খুঁজে দেখলে হত না?" দুজনে তন্নতন্ন করে খুঁজল আঙিনাটা। কিন্তু কোথাও টাইগার নেই। ক্যারেন বলল, " রাতে বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে আমাদের রিজেন্ট পার্কের বাড়িতে চলে যায় নি তো টাইগার?" হাসল ক্রিস, বলল, " অত দূর কেন যাবে ও?" তারপর একটু ভেবে বলল, " আচ্ছা ক্যারি, আমি যদি রাতে বাড়ি না ফিরি, তুমি কি এমনিই হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াবে আমায়?" " তোমার সবেতেই ফাজলামো "! রাগত স্বরে বলল ক্যারেন, " গাড়ির বুটটা একবার খুলে দেখবে?" গম্ভীর হয়ে গেল ক্রিসের মুখটা। বাড়াবাড়ি। তবু ক্যারেনের হাতে বুটের চাবিটা দিয়ে দিল। গাড়ির বুট খুলে ক্যারেন দেখল, ভেতরটা শূন্য। টাইগার নেই। এরপর ওরা গাড়িতে করে রওনা দিল গ্রামের দিকে। আস্তে আস্তেই চলেছে গাড়ি। একটা তেমাথার কাছে এসে ব্রেক কষল ক্রিস। বলল, " এবার কোন দিকে যাবে?" জনমানবহীন রাস্তাঘাট। এতটা বেলা হয়েছে, তবু কোনও লোকজনের দেখা নেই। খাঁ খাঁ বিরাণ। যেন রাতারাতি গ্রামের সব লোক গ্রাম ফাঁকা করে দিয়ে চলে গেছে। ক্যারেন বলল, " আচ্ছা, সেই শেরিফের সাথে একবার কথা বললে হয় না? টেবর ইভান্স না কি যেন নাম?" প্রায় বলার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল টেবর ইভান্সকে। সামনের রাস্তাটা দিয়ে এদিকেই এগিয়ে আসছে। ক্রিস গাড়ির ইঞ্জিন থামিয়ে নেমে দাঁড়াল। ক্যারেনও নেমে দাঁড়াল রাস্তায়। ক্যারেনকে দেখে হ্যাটের কোনায় দু আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে অভিবাদন জানাল। বলল, " কি খবর আপনাদের? কদিন দেখিনি! কোথাও গিয়েছিলেন নাকি?" ক্রিস বলল, " খবর ভালোই। তবে একটা ঝামেলায় পড়েছি।" শেরিফ প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল। ক্যারেন জানাল, " গত রাতে কুকুরটাকে ঘরে নিতে ভুলে গিয়েছি। এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না।" এবার ক্রিস বলল, " আমরা ভাবলাম, রাতে যদি কারোর বাড়ি ঢুকে গিয়ে থাকে, আপনাকে কেউ এসে জানিয়েছে কিনা...." শেরিফ বলল, " না তো। এসপেনে পশু পাখি পোষে হাতে গোণা কয়েকজন। যদি কারোর বাড়ি ঢুকে পড়ত আপনাদের কুকুর, তাহলে নিশ্চয় কেউ এসে জানাত। ঠিক আছে, কেউ এসে খবর দিলে আমি নিশ্চয় জানাব আপনাদের। আমিও নজর রাখব।" " থ্যাংকস, আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব আমরা।" ক্যারেন বলল। " এটা তো আমার কর্তব্য!" ক্যারেন আবার অভিবাদন জানিয়ে একটু এগিয়ে যেতে গেছে, ক্যারেন ওকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা, মিঃ ইভান্স, এখানে কি কোনও বড় জন্তু টন্তু আছে? নেকড়ে বা ভাল্লুক? যারা কুকুরটার ক্ষতি করতে পারে?" " নেকড়ে বা ভাল্লুক! কি যে বলেন? এখন তো শীতকাল। ভাল্লুক বেরোবার প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, দশ-বিশ মাইলের মধ্যে এই দুটো প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা সন্দেহ।" " কিন্তু, শেরিফ, আমি প্রত্যেকদিন রাতে একটা বুনো জন্তুর ডাক শুনছি। অনেকটা নেকড়ের ডাকের মত। হাউলিং। গা ছমছম করে ওঠে।" " না মিসেস হ্যালোরান। এখানকার বনে নেকড়ে নেই। আর হাউলিং? আমরা তো কোনওদিন নেকড়ের ডাক শুনিনি। এখানকার বনে খটাস, বনবেড়াল, শজারু আছে। খটাস বা বনবেড়াল আপনাদের কুকুরকে ধরতে পারবে? আপনাদের কুকুর কত বড় ছিল?" " আইরিশ সেটার, ছোট সাইজের কুকুর, দাঁড়ান ছবি দেখাচ্ছি", বলতে বলতে ক্যারেন হ্যান্ডব্যাগ খুলে টাইগারের একটা ছবি বের করে শেরিফকে দেখাল। " না, খটাস বা বনবেড়াল এটাকে নিতে পারবে না। তবে ক্ষুধার্ত একসঙ্গে অনেকে মিলে চেপে ধরলে কি হবে বলা যায় না।" " না, মিঃ ইভান্স, আমি রোজ রাতে যে ডাক শুনি তা খটাস বা বনবেড়ালের নয়, নেকড়ের হাউলিং। ক্রিস, তুমিও তো শুনেছ, তোমার কি মনে হয়?" ক্রিস বলল, " কিছু মনে হয় না। প্যাঁচার ডাকও হতে পারে।" শেরিফ যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। বলল," হ্যাঁ, প্যাঁচার ডাকও হতে পারে। রাতে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্যাঁচার ডাক অনেকে নেকড়ের ডাক মনে করেন। শহুরে মানুষের পক্ষে ধরা কঠিন। শকুন কাঁদলেও অনেক সময় ওরম শুনতে লাগে।" ক্যারেন জোর দিয়ে বলল, " কিন্তু আমি নেকড়ের হাউলিংই শুনেছি। " এরপর আর বেশী কিছু না বলে ক্যারেন গাড়িতে গিয়ে উঠল। ক্রিস তখনো গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে। শেরিফ টেবর ইভান্স ওর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, " আপনাদের কুকুরের খোঁজ করব আমি। তবে মনে হয় ওটাকে আর পাওয়া যাবে না। আপনার মিসেস বনবেড়ালের ডাকই শুনেছেন। ওগুলো ভীষণ হিংস্র। শহুরে একটা কুকুরকে কামড়ে ছিঁড়ে টুকরো করতে ওদের বেশী সময় লাগে না।" শেরিফ কথাগুলো আস্তে আস্তে বললেও তা ক্যারেনের কানে পৌঁছে গেল। ক্রিস গাড়িতে উঠতে ক্যারেন বলল, " তুমি আর শেরিফ যাই বলো, আমার মনে হয় না এটা খটাস বা বনবেড়ালের কাজ।" রাতে কফি-ডিনার তেমন জমল না। ক্লান্তি আর অবসাদে ঘুমিয়েই পড়ল ক্যারেন। ক্রিসও কোনওমতে ডিনার সেরে টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে বিছানায় শুয়ে একটা উপন্যাস পড়তে লাগল। একসময় তার ঘুম এসে গেল। বাতি নিভিয়ে লেপের তলায় আরাম করে শুয়ে পড়ল ক্রিস। ঠিক সেই সময়ই বাইরে থেকে সেই অজানা পশুটির কাতর ডাক ভেসে এল। পরপর তিনবার ডাকটা শুনল ক্রিস। তবে ঘুম ভাঙল না ক্যারেনের। কি ধরনের পশু এটা? ক্রিস ভাবল। ক্যারেনের মতো ক্রিসেরও মনে হল, পশুটা বুঝি ওকেই ডাকছে! আর ডাকটাও আসছে যেন বাড়ির খুব কাছ থেকে। ক্রিসের মনে হল, পশুটা যেন বাড়ির কম্পাউন্ড থেকে ডাকছে। আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে উঠল ক্রিস। জানলা খুলে বাইরে টর্চের আলো ফেলে এদিকওদিক দেখল। কিছু দেখতে পেল না। জানলাটা বন্ধ করে আবার এসে শুয়ে পড়ল। জানলা খোলা, ঠান্ডা ঢুকে গেছে ভেতরে। ক্রিস উঠে গিয়ে ফায়ারপ্লেসের আগুনটা উস্কে দিয়ে আবার বিছানায় এসে শুল। ততক্ষণে ঘুম ভেঙে গেছে ক্যারেনের। ঘুমজড়ান গলায় বলল, " কে? ক্রিস? উঠেছিলে কেন? কিছু শুনেছ?" " কিছু না ডার্লিং! ফায়ারপ্লেসের আগুনটা উস্কে দিতে উঠেছিলাম। ঘুমিয়ে পড়ো। " শুয়ে শুয়ে ক্রিস বাইরে থেকে ভেসে আসা পশুর ডাকটা নিয়ে ভাবতে লাগল। খটাস, বনবেড়াল, প্যাঁচা বা শকুনের ডাক এটা নয়, কোনও ভয়ঙ্কর হিংস্র জন্তুরই ডাক। তাহলে কি ক্যারেনের সন্দেহ সঠিক? কোনও নেকড়ে এইভাবে ডাকছে? হয়ত কোনও বন থেকে দলছুট হয়ে এসেছে ওটা! ক্রিসের আরও একটু খটকা লাগল। ওর মনে হল, নেকড়েটা যেন ওকেই ডাকছিল। অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল ডাকটায়। আর একটু হলেই ও দরজা খুলে হয়ত বেরিয়েই যেত। বিষয়টা নিয়ে ভাবতে ভাবতে ও ঘুমিয়েই পড়ল। পরদিন একটু দেরীতে ওদের দুজনের ঘুম ভাঙল। নাস্তার টেবিলে ক্রিসকে বেশ খুশী খুশী মনে হল। ক্যারেন বলল, " জানো ক্রিস, কাল রাতে আমার খুব ভাল ঘুম হয়েছে। তবে একটা খারাপ স্বপ্নও দেখেছি।" " কি স্বপ্ন? ঘরে বাঘ ঢুকেছে?" " অনেকটা সেরকমই। দেখি, একটা উঁচু পাহাড়ের ওপর মস্ত গোল চাঁদ উঠেছে। আর সেই পাহাড়ের চূড়োয় বসে চাঁদের দিকে মুখ তুলে প্রকাণ্ড একটা নেকড়ে আঁউ আঁউ করে ডাকছে। তাতেই ঘুমটা ভেঙে গেল। যা ভয় হচ্ছিল।" ক্রিস বুঝল, গত রাতের ঐ নেকড়েটার ডাকের পরপরই ক্যারেনের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। মুখে কিছু না বলে একটু দম নিয়ে বলল, " তোমার কাজ তো শুধু স্বপ্ন দেখা। ওসব স্বপ্ন টপ্ন বাদ দাও। নেকড়ে হোক, সিংহ হোক, ডাকতে দাও। আমাদের কি?" " কিছু না । কিন্তু আমাদের টাইগারকে ঐ পশুটাই মেরেছে। আমি শিওর। " " কি হয়েছে তাতে? আমি তোমায় এর চেয়েও ভাল একটা কুকুর এনে দেব। আর একবার লস এঞ্জেলেস যেতে হবে। পান্ডুলিপিটা নিয়ে রাইটারের সাথে কথা বলার আছে।" " আজই যাবে?" " হ্যাঁ। কাজ ফেলে রেখে লাভ আছে? তোমার কোনও অসুবিধে হবে না তো?" " অসুবিধের কি আছে? আমি তো আর বিছানায় পড়ে নেই।" " রাগ করলে? কিন্তু এটাই তো আমার পেশা। পরের মন জুগিয়ে চলতে হয়।" ক্যারেনের কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করল ক্রিস। বলল, " আজ যাই। এরপর সাতদিন আর ওমুখো হব না। কথা দিলাম।" ব্যাগ গুছিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল ক্রিস হ্যালোরান। ওর যাত্রাপথের দিকে চেয়ে রইল ক্যারেন। বেচারা অনেক চেষ্টা করছে ওর জন্য। কিন্তু ওর দূর্ভাগ্য। কিছুতেই ক্রিসকে খুশী করতে পারছে না ও। ঘরে ফিরে খুব কান্না পেল ক্যারেনের। বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল। অনেকক্ষণ পর উঠল বিছানা থেকে। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই চমকে উঠল। এ কি বিশ্রী চেহারা হয়েছে তার! এরকম কাকতাড়ুয়ার মতো চেহারা দেখেই কি ক্রিস তাড়াতাড়ি কাজের ছুতোয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল! কিচেনে গিয়ে বড় একমগ দুধ বানাল ক্যারেন। তারপর সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে দুধের মগ হাতে ছাদে উঠে গেল। ঘন্টাখানেক রৌদ্রস্নান করে, ট্যানিং সেরে ঘরে এল। এরপর ভাল করে বাথটাবে স্নান সেরে জামাকাপড় পড়ে, চুল শুকিয়ে অনেকটা যেন আরামবোধ করল ক্যারেন। ক্রিসের লেখা টাইপ করল, নিজে যে হোটেলে চাকরী করে, সেখানকার জন্যও একটা চিঠি টাইপ করল। তারপর রান্নাবান্না সেরে দুপুরের দিকে একটা নিউজপেপার নিয়ে বাইরে একটা ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে দিল। ধীরেধীরে ঘুম এসে গেল তার। ঘুম যখন ভাঙল তখন বিকেল হয়নি ভাল করে। খুব চা খেতে ইচ্ছে করল ক্যারেনের। এক মগ চা বানিয়ে এনে খেতে লাগল বাইরে বসে। এইসময় পাশে ক্রিস থাকলে খুব ভাল হত। চা খেয়ে সে বাইরে যাবার জন্য তৈরি হতে লাগল। স্বামীর পোশাকটা পড়ল, তার ওপর একটা জ্যাকেট চড়াল। পায়ে মোকাসিন, গালে সামান্য ক্রিম মেখে, হ্যান্ডব্যাগে কিছু খুচরো ডলার নিয়ে বেরিয়ে পড়ল ক্যারেন। নেকড়ের রহস্যটা তাকে ভেদ করতেই হবে। রাস্তায় বেরিয়ে আজ কয়েকজন লোকজন দেখতে পেল ক্যারেন। পাশের শহরে কি একটা মেলা বসেছে, সেখানেই যাচ্ছে তারা। আগে জানলে সেও যেতে পারত। কিন্তু আশ্চর্য! রাস্তায় যে কজন লোক দেখা গেল, তাদের কারোর মুখে হাসি নেই। সবাই যেন এক একেকজন রামগড়ুড়ের ছানা। গম্ভীর হয়ে পথ চলছে। এই গ্রামে একমাত্র হাসি মুখের মানুষ হচ্ছেন মার্সিয়া। যেতে যেতে লিন্ডা কক্সের দোকানটা পেরিয়ে গেল ক্যারেন। দোকানের দরজা বন্ধ। শো উইন্ডোর পর্দা ফেলা। মেয়েটা দোকান খোলেই বা কখন? বেচাকেনাই বা কখন ওর দোকানে হয়? মেয়েটা দোকানের পেছনে থাকে। বিকিকিনি কি ওখানেই হয়? হাসল মনে মনে ক্যারেন। না, লিন্ডার দোকানে কোনো কাজ নেই ওর। ও যাচ্ছে, মার্সিয়ার অলিভার্স স্টোরে। একটা হাসিমুখ দেখার আগ্রহই ওকে মার্সিয়ার দোকানে নিয়ে এল। কাউন্টারে বসে হিসেবের খাতা দেখছিল মার্সিয়া। ক্যারেনকে দেখে হাসিমুখে উঠে স্বাগত জানাল। কাউন্টারের কাঠ সামান্য উঁচু করে ওকে ভেতরে ডাকল। " কি ক্যারেন? এতদিন যে আমাদের ভুলে গিয়েছিলে! কোথাও গিয়েছিলে নাকি?" " না ভাই, কোথাও যাইনি। কোনও কিছু কেনাকাটার দরকার ছিল না বলেই...." মার্সিয়া বলল" শুধু কেনাকাটার জন্যেই কি আসতে হবে? দু দন্ড বসে গল্প করার জন্যও তো আসতে পার? তা একা এসেছ, না ক্রিসও এসেছে?" ক্যারেন বলল, " না, ক্রিস লস এঞ্জেলেস গেছে কাজে।" " আচ্ছা, তা, তাস টাস খেলবে?" " না, তাস খেলার মুড আমার নেই এখন। একটা খবর জানতে এসেছি তোমার কাছে।" " বেশ। বল, কি জানতে চাও? কফি আনি? কফি খেতে খেতে তোমার কথা শুনব?" " ঠিক আছে। তবে এখন নয়, পরে খাব।" বলে ক্যারেন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখল, উলটোদিকের টেবিলে মার্সিয়ার স্বামী উইলিয়াম অলিভার বসে আছেন। চোখে সাদা ফ্রেমের চশমা। কোন দিকে তাকিয়ে আছে বোঝা যাচ্ছে না। মনে হল, লোকটা ওর দিকে তাকিয়ে একবার হাসার চেষ্টা করল। ক্যারেনও হাসল সামান্য। প্রথম দিনও লোকটাকে দেখে ওর অস্বস্তি হয়েছিল, আজও হচ্ছে। কেন কে জানে! ( চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৭

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now