বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
'সে' (খুশির সংবাদ)
°°°°° °°°°° °°°°° °°°°° °°°° °°°°°
এর মধ্যে আমাদের বিয়ের তিন বছর হয়ে গিয়েছে। আমি এখন ভালো একটা জব করি। আমাদের সংসার সুখেই কাটছে। অবন্তী মেয়েটা সত্যিই পাগলি টাইপের। তবে ওর অসধারন একটা গুন আছে, তা হচ্ছে সবাইকে খুব বেশিই আপন করে নেয়া। এসব ভাবতে ভাবতেই অফিসে পৌছালাম। আমার রুম পাচঁ তলায়। একদিকে কাচের দেয়াল। পুরো শহরটা যেন দেখা যায়। তবে কাচের দেয়ালের পাশ ঘেসেই রয়েছে একটা কৃষ্ণচুড়া গাছ। বসন্তের দিনে যখন কৃষ্ণচুড়া ফুল ফুটে তখন অসাধারন লাগে। আর প্রতিদিন দুইটা শালিক পাখি এসে গাছটির একটা ডালে বসে। প্রতিদিনের মতও আজও তার ব্যৃতিক্রম নয়। আজও এসেছে। পাখি দুটা প্রতিদিন আমার সাথে কথা বলে। কিচির মিচির ডাকেই বুঝে নেই আমি কি বলতে চায় তারা। অনেক রোমান্টিক পাখি দুটা। একে অন্যকে আদর করে দেয়। এর ভিতর দুপুর গরিয়ে বিকাল। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো,ফোনের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম অবন্তীর ফোন। তারাতারি রিসিভ করলাম।
- হ্যালো।
- কোথায় তুমি?
- অফিসে, কেন?
- বাসায় আসো। ঘুরতে যাবো।
- মন খারাপ নাকি আমার বউটার?
- আরে না! মন চাচ্ছে আজ দুজনে ঘুরতে যাব।
- আচ্ছা আসছি।
তাকিয়ে দেখলাম পাখি দুটাও আজ যেন একটু বেশিই আনন্দিত,রোমান্টিক।
বের হলাম অফিস থেকে।
সোজা বাসায়।
.
বাসায় গিয়ে দেখলাম অবন্তী আগে থেকেই রেডি যেন প্লান করা সবকিছু। তবে আজকে অবন্তীকে অন্যরকম লাগছে। হাতে নানা রংয়ের কাচের চুড়ি,পরনে নীল শাড়ি,খোপায় ফুল মব মিলিয়ে অসাধারন। আর পাশেই বোন বসে মুখ চেপে হাসঁছে আমায় দেখে। আমি বুঝলাম রহস্য আছে।
- কি ব্যাপার অবন্তী। হঠাৎ ঘুরতে যাবে?
আমি যেন কথাটা বলে মহাভারত অসুদ্ধ করেছি। এমন ভাবে তাকালো অবন্তী। রাগে বললো,
- যাবোনা যাও।
আমি বুঝলাম রাগ করেছে। রাগ ভাঙ্গানোর জন্য বললাম,
- আরো না গেলে আমি কি অফিস থেকে এমনিতে এসেছি নাকি। এখন তো যেতেই হবে।
- যাও রেডি হয়ে এসো।
- আচ্ছা।
বোনের পাশে গিয়ে বোনের কানে কানে বললাম,
- কিরে তোর ভাবির কি হয়েছে?
- মেয়ে হয়েছে।
বলেই হাসিঁ দিলো। আমি অবাক হইনি কারন জানি বোন ফাজলামো করছে বরাবরের মতন। আমি বললাম,
- ফাজলামো করিস না,বল কি হয়েছে?
- আরে আমি জানিনা। তুই ভাবিকে জিঞ্জেস করে দেখ।
- তোর ভাবি আমায় মাইর দিবে। দেখিস না রাগো টকবগ করে ফুটছে।
কথাটা যেন অবন্তীর কানেও গেল। তবে আমি শুনানোর জন্যই একটু জোরে বলেছি।
- কি বললে তুমি?
- কই না কই কিছুনা তো। যাই রেডি হয়ে আসি।
যেতে যেতে দেখলাম দুজনে মুখ চেপে হাসঁছে। আমারও বুঝতে বাকি রইলো না কিছু ব্যাপার অব্যশই আছে। যা আমার থেকে লুকানো হচ্ছে।
.
হাটঁছি দুজনে। পার্কের ভিতর। অবন্তীর ছোট্ট হাত দুটো আমার হাতের মুঠোর ভিতর। ছোট্ট বলেছি কারন আমার হাতের থেকে ছোট্ট। হঠাৎ অবন্তী বললো,
- দেখ কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে?
- হুম! খুব সুন্দর।
- চলো না ফুচকা খাই।
- ফুচকার দোকান এখন পাবে কোথায়?
- ওই যে
হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে দিল অবন্তী। দেখলাম আমাদের মত আরো অনেক কাপল এসেছে সেখানে। ঠিক বুঝা যাচ্ছেনা সব স্বামী-স্ত্রী না কিছু বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডও আছে। তবে অত বু্ঝে কাজ নেই আমার। দোকানদারক বললাম,
- মামা দুপ্লেট ফুচকা দিনতো।
- আচ্ছা।
- একটায় ঝাল বেশি দিবেন।
অবন্তী বলে উঠলো,
- এই মামা না। কোন ঝাল হবেনা। অল্প দিবেন একদম বেশি না।
মেয়েটাকে পাগলি শুধু শুধু বলিনা। খুব খেয়াল রাখে আমার। অহেতুক বাড়তি কিছু খেতে দেয়না। আর ঝাল তো একদমই না।
দুজনে ফুচকা খাচ্ছি। দোকানেও কাপেলদের ভিড় যেন বাড়ছে। কারন আশেপাশে কোন চটপটি বা ফুচকার দোকান দেখা যাচ্ছে না। তাই সবার ভিড় এখানে। মেয়েদের আবার ফুচকা দেখলে জিবে পানি চলে আসে।
আমি দেখতেছি অবন্তীকে আজ কি সুন্দর লাগছে ওকে। নানা রকমের চুড়ি,নীল রংয়ের শাড়ি সবকিছুই বেশ মানিয়েছে।
হঠাৎ অবন্তী বলে উঠলো,
- অনিক?
ফুচকা খেতে খেতেই বললাম।
- হুম বলো।
- একটা খুশির খবর আছে। কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতাছি না।
এবার খাওয়া রেখে মাথা তুলে অবন্তীর দিক তাকালাম। দেখলাম অবন্তীর গাল,নাক সব লাল হয়ে গেছে লজ্জায়।
- কি বলো!
- তুমি...
অনেক আগ্রহ নিয়ে বললাম,
- আরে বলো না? আমি কি?
তারপর অবন্তী ওর মুখটা আমার কানের কাছে নিয়ে এসে ফিসফিস করে একশ্বাসে বলে উঠলো,
- তুমি বাবা হতে চলেছো!
আমি চিৎকার দিয়ে বললাম,
- কি?
- হুম সত্যি! আরে আস্তে সবাই দেখছে তো।
আমি যেন চাঁদ হাতে পাওয়ার মত খুশি হলাম। ফুচকার প্লেট রেখে অবন্তীকে সেখানে বসেই জড়িয়ে ধরলাম। আর কপালে একটা চুমু একে দিলাম! অবন্তী খুব লজ্জা পাচ্ছে। আর লজ্জা লুকানোর জন্য আবার বুকে একটু জায়গা খুজছে। লজ্জা পাবারই কথা সবার সামনে বসে জড়িয়ে ধরা কম কথা না তো। সবাই আমাদের দেখছে আর হাঁসছে। তবে আমার লজ্জা করছে না আমার বউকে আমি জড়িয়ে ধরেছি তাতে লজ্জার তো কিছু নেই।
কেউ বলে উঠলো,
- কি হয়েছে চিৎকার দিলেন যে?
খুশির সংবাদ আবার আমি লুকাতে পারিনা। তাই বলে ফেললাম,
- আমি বাবা হতে চলেছি।
দেখলাম অবন্তী এবার একটু বেশিই লজ্জা পাচ্ছে। সবাই আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলছে 'কংগ্রাজুলেশন'। আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম।
দুজনে হাঁটছি। অবন্তীকে কাছে টেনে বললাম,
- আমি অনেক অনেক খুশি পাগলি।
- হুম! জানি।
তবে তোমাকে ধন্যবাদ এমন একটা খুশির সংবাদ এভাবে সারপ্রাইজ হিসেবে দেওয়ার জন্য। তা ও এমন রোমান্টিক ভাবে।
- হি হি হি!
আচ্ছা তোমরা কি আমার কাছে এটাই লুকিয়েছিলে আর হাসঁছিলে বাসায় বসে।
- হুম!
ও তার মানে তুমি,বোন বাসার সবাই জানে তাই না।
- হ্যাঁ।
দুজনে আবার হাটা শুরু করলাম। অবন্তীকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে হাটছি। দুজনেই হাসঁছি।
- অবন্তী?
- বলো?
- আমাদের ছেলে হলে নাম রাখবো 'অভি' আর মেয়ে হলে 'অর্থি' কেমন।
- আচ্ছা।
দুজনেই হেসেঁ ফেললাম। এ যে খুশির হাসিঁ আনন্দের হাসিঁ। জীবনের সবথেকে খুশির একটা মুহুর্তের হাসিঁ।
- ভালোবাসি পাগলি।
- ভালোবাসি তোমায় পাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now