বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প-"স্বর্ণলতা"
লেখকঃ ডাকনাম অভি-খাঁন।
.
--দোস্ত ঐ যে দেখ, তোর মহারানী এলিজা
বেদ আসছে!
--দেখ ছোটন, ওকে নিয়ে যদি আর একটা
আজেবাঁজে মন্তব্য করিস তাহলে কিন্তু খুব
খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম!!
--যা সালা, এখনো প্রেমের প্রস্তাবই
দিতে পারিস'নি, তাতেই এতো দরদ!!
.
অভি একটু নরম গলায় বলল--
--তাতে কি, আমি তো ওকে ভালবাসি
তাইনা!!
--ভালবাসি! সামনে গিয়ে কোনদিন
বলেছিস?? সেরকম সাহস তোর হবে
কোনদিন??
.
কথাটা বলেই ছোটন সহ সকল বন্ধুরা
হাঁসিতে চারিদিক মুখরিত করে দিলো।
--এই সবাই দাঁত কেঁলিয়ে হাঁসছিস কেন?
আমি কি তোদের মতো গাধা নাকি যে,
কারো পিছনে পিছনে ঘুরবো, আর love u, love
u বলে দৌড়বো। আরে উল্লুক'রা ভালবাসি
বলাটা বেশী জরুরী না, বুঝানোটা বেশী
জরুরী, বুঝলি!!
.
কথাটা শুনে সকল বন্ধুরা একদম স্তব্দ হয়ে
গেল। এই বোকা অভির মুখে এসব কথা শুনা, আর
ভূতের মুখে রামের কথা শুনার মতোই
আশ্চর্য।
.
উদয় একটু বিস্মিত গলায় বলল--
--কিরে অভি তুই এসব কথা কবে শিখলি?
.
অভি চুপ!!
.
আরেক বন্ধু হঠাৎ করে গেয়ে উঠলো --
--কেউ প্রেম করে, কেউ প্রেমে পরে, আমার
হয়েছে কোনটা? জানেনা এই মনটা!!
.
অভিকে একটু বিভোর দেখতে পেয়ে উদয় বলল--
--অভি, তুই কি এখানে আছিস?
--নারে দোস্ত, আমি হারিয়ে গেছি!!
--হারিয়ে গেছিস মানে! কোথায় হারিয়ে
গেছিস?
--সায়মার চুলে!!
.
কথাটা শুনে সবাই সায়মার চুলের দিকে
তাকিয়ে আছে। অর্ধ মিনিট হয়ে গেছে
কিন্তু কেউ সায়মার চুল থেকে চোখ
ফেরাচ্ছে না। সবাই চুপ! উদয় আস্তে আস্তে
বলল--
--এ কি রে.. চুলতো নয় এ যেন "স্বর্ণলতা"।
.
অভি এদিক ওদিক তাকিয়ে খেয়াল করলো
সবাই সায়মার চুলের দিকে তাকিয়ে
আছে। ব্যাপারটা অভির একটুও পছন্দ হলো না।
ঠাস! করে অভি উদয়ের পিঠে একটা থাপ্পর
মারলো। থাপ্পরের শব্দেই সবার ভাবনার
ঘোড় কেঁটে গেল।
.
অভি বলল--
--ঐ তোদের কি লজ্জা শরম কিছুই নেই?
এভাবে একটা মেয়ের দিকে সবাই হ্যা করে
তাকিয়ে আছিস, আসে পাশের লোকজন
দেখলে কি বলবে?
--যা বাবা! আমরা কি আর দেখেছিলাম
নাকি, তুইই তো দেখালি।
--দেখছিস, দেখেছিস, ভুল করেও কোন
চিন্তা ভাবনা কারো মাথায় যেন না
চাপে। একদম এখানেই থেমে যা!!
.
ক্লাসের ঘন্টা পরেছে, সায়মা অভির
আনুমানিক ১০ ফুট দূর দিয়ে যাচ্ছে। অভিকে
একটু ক্রস করার পরেই সায়মা মাথাটা ৯০
ডিগ্রী এঙ্গেল করে বাঁকা চোঁখে অভির
দিকে তাকালো। অভি ততক্ষনে আকাশে
মিশে গেছে। ইতিমধ্যে অভির মনে গেয়ে
উঠেছে--
"তুই কবে যেএএএ বুঝবি বল,
পাগল মনের উথালপাতাল,
হলো বানজারা বানজারা, হলো বানজারা
বানজারা, হলো বানজারা বানজারা,
এ মন"
.
উদয় বলল--
--চল চল সবাই ক্লাসে চল,
.
অভির হাতটা ধরে উঠে দাঁড়ালো উদয়। স্যার
ক্লাস নিচ্ছে, সায়মার ব্রেঞ্চের অপর
পাশের বেঞ্চটাতেই অভি বসেছে। অভি অপলক
ভাবে সায়মার দিকে তাকিয়ে আছে।
একটা কিছু ভেবেই হইতো ক্ষণিক ক্ষণিক
বাদে সায়মা ও অভির দিকে তাকাচ্ছে। অভি
এভাবেই সায়মার প্রতি দুর্বল হতে থাকে।
আর সায়মারও বোঝার বাকি থাকেনা অভি
তাকেই ভালবাসে। ভালবাসি কথাটা
বলার জন্য অভি অনেকটা ব্যস্ত হলেও, সে কথা
আর বলা হয়ে উঠেনা। অভি প্রত্যেক দিনই
বাসা থেকে বের হয় সায়মা-কে আজ তার
ভালবাসার কথাটা জানাবে বলে।
কিভাবে বলবে তার জন্য অভি একা একাই
রুমের মাঝে ড্রেসিং টেবিলটার সামনে
গিয়ে অনেক বার রি'আরসেল করে। সবকিছু
ঠিকঠাকই থাকে কিন্তু অভি যখনই সায়মার
সামনে যায় সব কিছু ভুলে যায়। অভি তখন
আস্তে করে সায়মা-কে পাশ কেঁটে চলে
যায়। এভাবেই বেশ কয়েক মাস চলে যায়।
কিন্তু আর কিছুই বলা হয়ে উঠেনা। দেখতে
দেখতে ১৪ ফেব্রুয়ারি, এই ভালবাসা দিবসে
ভালবাসার মানুষটি-কে ভালবাসি না
বললেই যেন নয়। খুব সকাল থেকেই অভি
নিজেকে পরিপাটি করে নিচ্ছে। প্রথমে
গন্তব্য ফুলের দোকান তারপর কলেজ। বেশ
কয়েক ঘন্টা যাবৎ অভি কলেজের ক্যাম্পাসে
বসে আছে। কিন্তু সায়মার কোন দেখা
নেই। বাম হাতে ভড় করে অভি উঠে দাঁড়াতেই
সায়মা-কে দেখতে পেলো অভি। কিন্তু
সায়মার সাথে তো ওর অনেক বান্ধবী,
এখন কি করবে অভি এই ভেবেই ব্যাকুল। বুকের
সর্বচ্চ সাহস একত্রিত করে পিছন থেকে অভি
সায়মা কে ডাক দিলো--
--এই সায়মা,
.
সায়মা ঘুরে তাকিয়ে বলল--
--আমাকে ডাঁকছো?
--কেন তোমাদের মাঝে কি আরো কেউ
সায়মা আছে নাকি?
.
সায়মা অভির দিকে এগিয়ে আসলো।
--কি বলবে বলো?
.
অভি পিছন থেকে লাল গোলাপটি সায়মার
সামনে ধরলো। সায়মা গোলাপটি দেখে
কিছু না বলেই পিছন দিকে হাটা শুরু
করলো।
--আরে যাচ্ছো কোথায়? কিছু বলেতো যাও?
--দেখ অভি, তুমি কিন্তু ইদানীং বড্ড
জ্বালাচ্ছো, আজ আবার ফুল নিয়ে সামনে
এসে দাঁড়িয়েছ, এর মানেটা কি?
--আমি তোমায় ভালবাসি,
.
সায়মা অন্যদিকে তাকিয়ে বলল--
--আমিতো তোমায় ভালবাসি না!
.
অভি কথাটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। অভি স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সায়মার চোখ,হাত,পাঁ সমস্ত শরীর বলছে ভালবাসি আর সায়মা মুখে এই কথাটা বলে দিলো! আসলেই তাই, সায়মা বিশ্বাস করে যেটা খুব সহজেই পাওয়া যায়, সেটা ঠিক সে ভাবেই হারিয়ে যায়। অভি-কে ভালবাসি না কথাটা বলা অনেক কঠিন ছিলো। তবে সেটা অভি-কে ভালো করো পাবার আশায়ই বলেছিলো। সায়মা বুঝে যে তাকে ভালবাসে সে ৫ দিন পরেও বাসবে ৫ বছর পরেও বাসবে। সায়মা চলে যাচ্ছে, অভি খুব ভালো করে সায়মার চলে যাওয়াটা দর্শন করছে। অভি সরাসরি বাসায় চলে আসলো। সায়মা ও সেদিন আর কোথাও যায়নি। অভির বিল্ডিং টার দুইটি বিল্ডিং পরেই সায়মাদের ফ্লাট। অভি ও আরো তিন জন মিলে এই ফ্লাটটিতে ভাড়া থাকে। ছাঁদে উঠলেই একজন আরেক জন-কে দেখতে পায়। এরপর থেকে সায়মা-কে অভি যতবার দেখে ততবারই অভির মনে হয় কষ্টের তীর তার হৃদয় টাকে ভেদ করে যাচ্ছে। অভি তাই সিদ্ধান্ত নেয় সে দেশের বাড়ি চলে যাবে। ম্যাচের সবাই-কে বলে দেয় নতুন কোন রুমমেট ঠিক করতে। অভির চলে যাবার কথা শুনে সবাই কেমন যেন শান্ত হয়ে যায়। অভি সবকিছু গুছিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। উদয় যখন কলেজে যাবে বলে বের হচ্ছে। তখন অভি উদয়ের হাতে একটা হলুদ খাম দিয়ে সায়মা- কে দিতে বলে। উদয় বের হবার ঘন্টা ক্ষণেক পর অভি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উদয় কলেজে প্রবেশ করেই সায়মার সামনে গিয়ে--বলল
--অভি ওর দেশের বাড়ি চলে যাচ্ছে। আর, যাবার আগে এই চিঠিটা আমার হাতে দিয়ে তোমায় দিতে বলেছে। . সায়মা চিঠিটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলো
--কি ভেবেছ, তোমায় পায়নি বলে বাঁচবো না! নষ্ট হয়ে যাবে! হা! হা! হা! অনেক জ্বালিয়েছি তোমায়,তার জন্য আমায় ক্ষমা করো। আসলে আমার নিজের প্রতি যে বিশ্বাসটা ছিলো, সেটাই তুমি ভুল প্রমাণিত করেছ। বড্ড বেশী ভালবেসে ছিলাম তোমায়, বেশী কাছে চেয়েছিলাম বলেই হয়তো, আজ আমায় দূরে চলে যেতে হচ্ছে। সত্যি বলছি তোমায় ছাড়া ঠিকি বেঁচে থাকবো, কিন্তু জানিনা সময়টা কিভাবে চলবে, দূর পাহাড়ের ঝর্নার মতো, নাকি শান্ত জলের পানির মতো,ভালো থেকে সায়মা,সুখে থেকো। . চিঠিটা পড়তে পড়তেই সায়মা দু-চোখ জলে ভাসিয়ে ফেলেছে। উদয়ের কাছে অভির মোবাইল নাম্বারটা চাইলো। উদয় বলতে লাগলো আর সায়মা তার কাপা হাত দিয়ে নাম্বার উঠাতে লাগলো।
.
--হ্যালো অভি,
.
অভি সায়মার ভয়েস শুনে স্তব্দ হয়ে গেছে।
.
--প্লিজ কথা বলো?
--বলো শুনছি?
--তুমি এখন কোথায় আছো?
--চলে যাচ্ছি,
--প্লিজ তুমি যাবেনা!
--আমি তোমাকে একদমই বিরক্ত করতে চাই না,ভালো থেকে সায়মা।
--চলে গেলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে!
--কেন খারাপ হবে?
-- আমিও তোমায় ভালবাসি, আর হ্যা আমার গোলাপটা কিন্তু চায়ইইই। .
.
১ম পর্ব......
(পরবর্তি পর্ব পাবার জন্য কমেন্ট করে এক্টিভ থাকু)
ভালো লেখক এবং পাঠ্যক উভয়কে ফ্রেন্ড লিষ্টের নেওয়ার অনুরোধ রইল,ধন্যবাদ সাবাইকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now