বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.লেখক,,,,,তুহিন
মোবাইল টিপতে টিপতে কখন যে চোখে ঘুম চলে আসে টেরও পায়নি শ্রাবন।হঠাৎ করে কেন যেন তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।তাকিয়ে দেখে ঘড়িতে ১২:১০।
মনে মনে ভাবে সে,
আয়হায়,আজতো আমি শেষ।
দূর, কেমনে যে ঘুমিয়ে গেলাম।
আজ আমার কপালে দুঃখ আছে।
.
এসব ভাবতে ভাবতেই অনিন্দিতাকে কল দেয় সে।
২ বার রিসিভ না হওয়ার পর ৩য়বারের সময় কল রিসিভ হয়।
রিসিভ হওয়ার সাথে সাথেই ওপাশ থেকে।
কুওা,বিলাই,শয়তান,জানোয়ার আমাকে কখনো ফোন দিবিনা তুই।তোর সাথে আমার কোন কথা নাই।ভূলেও কল দিবি না আমাকে। (কাঁদো কাঁদো কন্ঠে)
বলেই কলটা কেটে দেয় অনিন্দিতা।
এদিকে শ্রাবন বোকার মত হাবা হয়ে বসে থাকে কিছুই বলতে পারছে না সে।কিইবা বলবে সে।
দোষ তো তারই।
যদি সে ঘুমিয়ে না পড়ত তাহলে আজ এমন হত না।আসলে আজ অনিন্দিতার জন্মদিন।আর অনিন্দিতা বলেছিল সবার আগে যেন শ্রাবন তাকে উইস করে।কিন্তু বিপদ যখন আসে সবদিক দিয়ে আসে।
এতরাত পর্যন্ত শ্রাবন জেগেছিল ঠিক ১২:০১ বাজার সাথে সাথেই অনিন্দিতাকে উইস করবে বলে।কিন্তু বিধি বাম।সে ঘুমিয়ে পড়ে।আর ফলশ্রতিতে উপরের পরিণতি।
.
এরপর অনেকবার কল করলেও অনিন্দিতার মোবাইল বন্ধ পায় শ্রাবন।এখন নিজের উপর নিজেরই রাগ উঠছে তার।ইচ্ছে হচ্ছে নিজেকে কিছু একটা করে ফেলতে।আবার ওদিকে টেনশনও হচ্ছে।
মেয়েটা ফোন বন্ধ করে রেখেছে।
চিন্তা হচ্ছে শ্রাবনের।কতরকম আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসছে তার।
.
শ্রাবন আর অনিন্দিতা দুজন দুজনকে ভালোবাসে।শ্রাবন অনার্স ৩য় বর্ষে এবং অনিন্দিতা ১ম বর্ষে পড়ে।বয়সে শ্রাবন বড় হলেও অনিন্দিতার যখন রাগ উঠে তখন যা মুখে আসে শ্রাবনকে তাই বলে।কোন হুস থাকে না।কিন্তু রাগ ফুরোলেই সব শেষ।
দুজন দুজনকে পাগলের মত ভালোবাসে।
তাদের এ ভালোবাসার সম্পর্কে ও কিন্তু বেশি দিনের নয়।মাত্র ৬ মাস।কিন্তু এর মধ্যেই দুজন দুজনকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে।দুজনার মধ্যে কত আন্ডারস্ট্যান্ডিং। তাইতো তাদের খুনশুনিগুলো ঝগড়াতে রুপ নিয়ে আবার ভালোবাসায় এসে শান্ত হয়।
.
অনিন্দিতার রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক।কারন, রিলেশনের পর এই প্রথমই শ্রাবন অনিন্দিতার জন্মদিন পাল করছে।আর সেই শ্রাবনই সবার প্রথমে উইস করতে পারল না।
সারারাত শ্রাবন শুয়ে বসে কাটয়ে দিল।টেনশন ও অস্থিরতায় তার ঘুম আসছে না।কখন সকাল হবে,সে শুধু সে অপেক্ষায় আছে।
.
ভোর হতেই শ্রাবন ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দৌড়াতে দৌড়াতে সে অনিন্দিতাদের বাসার সামনে হাজির হল।এখনসে অনিন্দিতাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে।অনিন্দিতাকে ফোন দিল।কিন্তু ফোনটা এখনও নট রিচেবল বলছে।
এবার শ্রাবনের সত্যিই ভয় হল।
সে বিল্ডিংয়ের পাইপ বেয়ে অনেক কষ্ট করে অনিন্দিতার রুমের জানালায় গিয়ে টোকা মারল।
কিছুক্ষণ টোকা মারার পর অনিন্দিতা জানালা খুলল।
শ্রাবনকে দেখে তো সে পুরাই অবাক।কিছুই বলতে পারছে না সে।
এদিকে তো শ্রাবন শুধু স্যরি স্যরি বলেই যাচ্ছে।
কিন্তু অনিন্দিতা এতটাই ষবাক হয়েছে ্যে তার কানে এসব কথা পৌঁছাচ্ছে না।
পরে শ্রাবনের এক ধাক্কায় সে বাস্তবে ফিরে এল।
.
-তুমি এখানে? তাও আবার এখন? (অনিন্দিতা)
-হুম।কাল তোমায় উইস করতে দেরি করে ফেলেছিলাম।তাই তুমি আমার সাথে কথা না বলে ফোনটা বন্ধ করে দিলে।আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল।তাই ভোর হতেই চলে এসেছি।
আই স্যরি।এক্সট্রেমলি স্যরি।আর কখনো হবে না এমন।প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। (শ্রাবন)
- তোমার উপর রাগ হয়েছে খুব।তাই মোবাইল বন্ধ করে রেখেছি।তাই বলে তুমি এখানে চলে আসবে?তাও আবার এত ভোরে? (অনিন্দিতা)
.
- তোমার সাথে কথা বলতে পারছিলাম না।আমি খুব চিন্তায় ছিলাম।তুমি আমার সব।তোমাকে ছাড়া আমি এক মূহুর্তও থাকতে পারব না।ল্লিজ আমায় ছেড়ে যেওনা। ( শ্রাবন)
- তোমার ছেড়ে যাব কে বলল? (অনিন্দিতা)
- তুমিই তো বললে তোমাকে আর ফোন না দিতে।তোমার সাথে কথা না বলতে। (শ্রাবন) মন খারাপ করে
- আরে বুদ্ধু, আমিতো ওটা রাগ করে বলেছি।এাটও বুঝ না।আর তুমি এজন্য এখানে চলে এলে?
তুমি একটা পাগল।( মুচকি হেসে)
আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।আমি শুধু তোমার। শুধু তোমার। (অনিন্দিতা)
-সত্যি তো? আর কখনো এমন করবে না তো? (শ্রাবন)
- নারে বাবা সত্যি।এখন যাও এখান থেকে।কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে। (অনিন্দিতা)
- এত ভোরে কে দেখবে।আরেকটু থাকি না।তোমার সাথে কাল রাত কথা হয় নাই।যেন কতদিন কথা হয়নাই। (শ্রাবন)
এখনো সেই পাইপ ধরেই অর্ধঝুলন্ত অবস্থায়।
- না। এখন যাও।কিছুক্ষণ পর তো দেখা হবেই।যাও এখন। (অনিন্দিতা)
- আচ্ছা।
ইসসসস.. যেটার জন্য আসছি সেটা দিতেই তো ভূলে গেছি।কি গাধা আমি। (শ্রাবন)
- কি? (অনিন্দিতা)
- HAPPY BIRTHDAY....
HAPPY BITHDAY Janu.... (শ্রাবন)
- থ্যাংক ইউ। (অনিন্দিতা) মুচকি হেসে।
- আরো একটা আছে। (শ্রাবন)
- আবার কি? (অনিন্দিতা)
- I LOVE YOU....???????????? (শ্রাবন)
- I LOVE U TOO...???????????? (অনিন্দিতা) হাসতে হাসতে।
এবার তো যাও।
- ঠিকাছে।তাহলে ১০ টায় দেখা হবে।
ইন্টারনেস্নাল পার্কের নেচেরাল সিটির জায়গায়। (শ্রাবন)
- আচ্ছা।ঠিকাছে। (অনিন্দিতা)
বলেই সেই মন ভোলানো হাসিটা দিল। যেটা দেখে শ্রাবন তার প্রেমে পড়েছিল।
.
এরপর শ্রাবন বাড়ি এসে আবার চুপিচুপি তার রুমে ঢুকে।সকালে নাস্তা খেয়ে বের হয় ৯ টায় তার সেই অনিন্দিতার সাথে দেখা করার জন্য।
.
এভাবেই কাটতে থাকে তাদের ভালোবাসার দিনগুলো।আর স্মরণীয় হয়ে থাকে সেই জন্মদিনটি।যা "শ্রাবনের অনিন্দিতার" ।
.
নতুনভাবে বাঁচবে তুমি
বাঁচবে বহুদিন,
তাইতো তোমায় জানাই আজ
" শুভজন্মদিন"
[বি:দ্র] ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now