বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বপ্নের ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arman hossain (০ পয়েন্ট)

X ------------------------- স্বপ্নের ভালবাসা ------------------------- আরমান হোসেন ------------------------- -- হ্যালো, কে? -- কেমন আছেন আপনি? -- হুম ভাল আছি। কিন্তু আপনি কে? আপনাকে তো চিনতে পারলাম না। -- আমাকে আপনি চিনবেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। -- আমি আপনাকে চিনিনা, কিন্তু আপনি আমাকে চিনেন কিভাবে? -- কিভাবে চিনি সেটা আপাতত না জানলেও চলবে। তা এখন কি করছেন? -- না জানলেও চলবে মানে? আচ্ছা আপনি বলুনতো আপনি কে? আপনার নাম কি আর আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়? -- ওরে বাবা, একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করলে উত্তর দিবো কিভাবে? -- আচ্ছা ঠিক আছে আগে আপনার নাম বলুন। -- আমার নাম মোঃ সুমন। -- আপনি আমার মোবাইল নাম্বার পেলেন কোথায়? -- এই কথাটা না বললে হতো না? -- ( কিছুটা রেগে গিয়ে) আজব তো। তাড়াতাড়ি বলুন বলছি। -- আচ্ছা আচ্ছা বলছি। এত রাগ করবেন না। তার আগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। -- (অবাক কন্ঠে) ক্ষমা চাচ্ছেন কেন? -- কারন আপনার নাম্বারটা অন্যায় উপায়ে সংগ্রহ করেছি। -- অন্যায় উপায়? কি অন্যায় উপায়? -- ( ইতস্তত ভাবে) আসলে মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে আপনার ফোন নাম্বার নিয়েছিলাম। -- (রেগে গিয়ে) কি? এত বড় সাহস আপনার? আপনি আমার নাম্বার চুরি করেছেন দোকান থেকে? আপনাকে সামনে পেলে একেবারে জুতিয়ে ঠিক করে দিতাম। ফোন রাখুন এখনি। আর কখনে যদি ফোন দেন তাহলে আপনার খবর অাছে। আপনার নামে পুলিশে অভিযোগ করবো। -- আহা এতো রেগে যাচ্ছেন কেন? আমি আসলে...............! কথাটা শেষ করতে পারলো সুমন। তার আগেই ফোনটা কেটে দিলো মেহজাবিন। ইশ যে কারনে ফোনটা দিয়েছিল সুমন সেই কথাটাই বলা হলোনা। মেহজাবিন যেভাবে রেগে গিয়েছিল তাতে সুমনের মনে হয়েছিল তাকে বুঝি মেহজাবিন ফোনের মধ্যেই খেয়ে ফেলবে। নাহ, আসলেই এভাবে চুরি করে নাম্বারটা নেয়া উচিত হয়নি। আর নিলেও তা মেহজাবিনকে বলার দরকার ছিলোনা। অন্য কিছু একটা বানিয়ে বলে দিলেও চলতো। কিন্তু সুমনের এই একটা সমস্যা। সে খুব সহজে মিথ্যা কথা বলতে পারেনা। তাইতো নাম্বারের ব্যাপারটা বলে দিলো মেহজাবিনকে। এখন নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে সুমনের। আসলে অন্য কোন ব্যাক্তির ফোন নাম্বার এভাবে নেওয়াটা অন্যায়। এটা সুমন জানে। কিন্তু কি করবে সে? প্রথম যেদিন সে মেহজাবিনকে দেখে সেদিনই সুমনের মনে ঘন্টা বেজে উঠেছিল। তাই সে মেহজাবিনের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। সরাসরি কথা বলার সাহস তার নেই। তাই অন্য কোন উপায় না পেয়ে সে এই অন্যায় কাজটা করেছে। কিন্তু এখন সে দেখছে এটা হিতে বিপরীত হয়ে গেলো। পরিচয় হওয়া তো দুরের কথা, এখন তো মনে হয় আর কথাই বলা যাবে না তার সাথে। যে রাগ মেয়েটার। রাতে আবারো মেহজাবিনকে ফোন দিল সুমন। খুব ভয়ে ভয়ে ছিল সুমন। এই বুঝি ফোন ধরেই গালাগালি শুরু করলে মেহজাবিন। -- হ্যালো, কে বলছেন? -- এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন আমাকে? -- কি? আপনি আবারো ফোন দিয়েছেন আমাকে? আপনার এত বড় সাহস? -- আহা এত রেগে যাচ্ছেন কেন? আমার কথাটা শুনুন আগে। -- আপনার কথা আমি শুনবো কোন কারনে? যে লোক আমার নাম্বার চুরি করে আমাকে ফোন দেয় তার কথা আমি কেন শুনবো? -- এই কারনেই আপনাকে ফোন করেছি এখন। আসলে আমি দুঃখিত। আমি জানি কাজটা করা আমার উচিত হয়নি, কিন্তু নাম্বার চুরি করা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলোনা আমার হাতে। -- উপায়? কিসের উপায়? আপনি কেন আমার নাম্বার চুরি করে আমাকে ফোন দিয়েছেন? -- আসলে আপনাকে একটা কথা বলার ছিল। কিন্তু এখন আর কথাটা বলা উচিত হবে কিনা তাই ভাবছি। -- কি কথা বলবেন? আমাকে ভালবাসেন, আমাকে ছাড়া বাঁচবেন না। এগুলোই তো বলবেন নাকি? আপনাদের মত বখাটে ছেলেদের মুখে এগুলো ছাড়া আর কিছুই আসেনা। -- উহু, আপনি ভুল বুঝছেন। আমি আপনাকে এসব বলার জন্য ফোন দেইনি। অন্য আরেকটা কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু থাক আর বলতে চাচ্ছি না। -- কি কথা বলবেন আমাকে? আর আপনার কি মনে হয় যে একজন অপরিচিত, বখাটে ছেলে আমাকে ফোনে প্রেম প্রস্তাব দিবে আর আমি তা শুনবো? -- নাহ, আপনি তো সুবিধার মেয়ে না। আপনি কি বিশ্ব সুন্দরী নাকি যে অাপনাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ছেলেরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে? কি মনে করেন নিজেকে? আর কাকে বখাটে বলছেন আপনি? শুনুন যে কথাটা বলতে চাইছিলাম তাতে আর বলতে দিলেন না। থাক আর বলতে চাই না। যদি পারেন আমাকে মাফ করে দিন। -- শুনুন, আপনাদের মত...............! এবার রাগ করে সুমনই ফোনটা কেটে দিল। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে সুমনের। এই মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই অনেক ভালবেসে ফেলেছে সে। এমন নয় যে মেহজাবিনের রূপ দেখে প্রেমে পড়েছে সে। মেহজাবিনের চেহারায় একটা মায়া মায়া ভাব আছে, আর এর কারনেই মেহজাবিন কে এত ভালবেসেছে সুমন। কিন্তু মেয়েটা এত রাগী তা কি জানতো সুমন? এখন মনে হচ্ছে আজীবন এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে ভালবেসেই দিন কাটাতে হবে তার। পরদিন রাত তখন ১০ টার একটু কম। সুমন তার ঘরে খালি গায়ে শুয়ে আছে। মশার কামড়ে তার ঘুম আসছে না। মশারি টানানোর পরও কিভাবে যেন কয়েকটা মশা ভিতরে ঢুকে গেছে। এখন সেগুলোই তাকে জ্বালাচ্ছে। এমন সময় তার মোবাইলে একটা ফোন এলো।। অপরিচিত নাম্বার। সুমন ফোন ধরলো, -- হ্যালো স্লামালাইকুম। -- ( একটু পরে) কেমন আছেন? -- জী ভাল। কিন্তু আপনি কে? -- আমাকে চিনতে পারছেন না? যার নাম্বার চুরি করে ফোন দেন এখন তাকেই চিনতে পারছেন না? সুমন পুরোপুরি অবাক। মেহজাবিন তাকে ফোন দিয়েছে! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না সুমন। হঠাৎই খেয়াল করলো সুমন যে তার গলা কাঁপছে। কথা বলতে পারবে কিনা সন্দেহ। তারপরও যথা সম্ভব স্বাভাবিক গলায় সে উত্তর দিলো, -- ও আপনি? ওই নাম্বার চুরির ঘটনায় আমি দুঃখিত। তারপরও কেন ওই কথা বলছেন? তা ফোন দিয়েছেন কেন? আবারো ধমকা ধমকি করার ইচ্ছে অাছে নাকি? -- হ্যা ইচ্ছা তে আছেই। তা যদি আপনি সুযোগ দেন। আমি ফোন দিয়েছি আপনার সেই না বলা কথাটা শোনার জন্য। যা আপনি বলতে গিয়েও বলতে পারেননি। তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন। -- কোন কথা? আমি তো ভুলে গেছি কথাটা। -- ভুলে গেছেন? আমারতো মনে হয়না যে আপনি ভুলে গেছেন। -- হ্যা সত্যি সত্যি ভুলে গেছি। -- ও আচ্ছা। তাহল থাক আর বলতে হবেনা। আচ্ছা মিঃ সুমন, আপনি কোথায় থাকেন বলুনতো? -- আমি থাকি পৃথীবিতে। -- ( হালকা রাগী সুরে) ও আচ্ছা তাই? আমিতো ভেবেছি আপনি বুঝি পৃথীবিতে থাকেন না। কোথায় কোন এলাকায় থাকেন তা বলুন। -- ইয়ে মানে আমি...... -- এতো আমতা আমতা করছেন কেন? কোথায় থাকেন বলতে কি লজ্জা লাগে? -- না লজ্জা লাগেনা। আমি আপনাদের বাড়ীর আশেপাশেই থাকি? -- হুম। কি করেন আপনি? -- পড়ালেখা করি আর একটা পার্টটাইম জব করি। -- আচ্ছা ঠিক আছে। কাল আমার সাথে দেখা করেন। -- দেখা করতে হবে? মানে বলছিলাম কি, দেখা করার কি কোন দরকার আছে? -- অবশ্যই দরকার আছে। আমাকে যে ভালবাসে তার সাথে দেখা তো করতেই হবে? -- ভালবাসা! মানে আমি কি আপনাকে বলেছি নাকি যে আমি আপনাকে ভালবাসি? -- বলেননি, কিন্তু বুঝে নিয়েছি। বিনা কারনে তো আর আমাকে ফোন দেননি। -- নাহ তা দেইনি। -- তাহলে ফোন দেওয়ার কারনটা বলে ফেলুন। তাহলে দেখা করার ব্যাপারটা আপাতত বন্ধ রাখতে পারি। -- কারনটা হচ্ছে ( উত্তেজিত কন্ঠে) আমি তোমাকে ভালবাসি। যেদিন প্রথম তোমাকে দেখেছি সেদিন থেকেই তোমাকে ভালবেসেছি। তাই তোমার নাম্বার চুরি করেছিলাম। -- দেখলেন? আমি কি ঠিক ধরেছিলাম না? তাহলে কাল দেখা করেন আমার সাথে। আমি একটা নীল শাড়ি পরবো আর আপনি একটা কালো শার্ট পরে আসবেন। আমি বিকাল ৪টায় রমনার বটমূলে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো। -- (ইতস্তত ভাবে) যদি না আসি? -- মেরে ঠ্যাং ভেঙ্গে দেব তোমার। কালো শার্ট পরে যদি সময় মত না আসো তাহলে তোমার বাসায় চলে আসবো। -- আমাদের বাসা কোথায় জানো নাকি? -- জানি নাকি না জানি তা না আসলেই বুঝবে। ফোন রাখছি। ভালো থেকো। সুমনের মাথাটা এলোমেলো হয়ে গেছে। মেহজাবিন তো সাংঘাতিক মেয়ে! ও যে সুমনের বাসার ঠিকানা বের করে ফেলেছে এ ব্যাপারে সুমন নিশ্চিত। আবার কাল দেখা করার কথাও বলেছে। সুমন এখন কি করবে? ফোনে মেহজাবিনের সাথে কথা বলতেই সুমনের গলা কাঁপে। তাহলে সামনাসামনি কথা বলবে কিভাবে? নাহ, সুমনের মাথা কাজ করছে না। এদিকে মশাও কামড়াচ্ছে। পরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলো সুমন। রাতে টেনশনে তার ঘুম হয়নি। কোনমতে নাস্তা করেই সে বেরিয়ে পড়লো ঘর থেকে। তাকে আজ কালো শার্ট পরে মেহজাবিনের সাথে দেখা করতে হবে। কিন্তু তার কোন কালো শার্ট নেই। তাই এখন একটা শার্ট কিনতে হবে তাকে। শার্ট কিনে বাড়ী ফিরে এলো সুমন। বিকেল যতই এগিয়ে আসছে ততই তার বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা লাফালাফি করছে। এর কারনে দুপুরের খাবারটাও ঠিকমত খেতে পারলো না সে। খাওয়া শেষ করেই সে তার ঘরে চলে এলো। নতুন কেনা শার্টটা গায়ে দিল। সুমন কখনো মুখে প্রশাধনী ব্যবহার করেনা। কিন্তু আজ সে ব্যবহার করলো। চুল কি স্পাইক করবে নাকি সাধারনত যেভাবে থাকে সেভাবেই রাখবে এ নিয়ে কিছুক্ষন দোনামনা করে তারপর স্পাইক করার সিদ্ধান্ত নিলো। ঘড়িতে তখন ৩টা ১৫ মিনিট। ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো সুমন। তারপর একটা রিকশা নিয়ে সোজা চলে গেলো রমনা পার্কে। রিকশা থেকে নামার পরেই সে বুঝতে পারলো তার হৃদকম্পন বেড়ে গেছে। তার বুকের ভেতর তখন ঝড় উঠেছে। যে মেয়েটিকে সে ভালবাসে, যার নাম্বার চুরি করে তাকে ফোন দিয়েছে তার সাথে আজকে দেখা করবে সে। সামনা সামনি কথা বলবে। একথা ভাবতেই সুমন কেঁপে উঠছে। তার মধ্যে একটা পালাই পালাই ভাবের উদয় হয়েছে। এই বুঝি সে ঝেড়ে দৌড় মারলো। সুমনের মাথাটা আজ গুলিয়ে গেছে। কিছুতেই সে বটমুল খুঁজে পাচ্ছে না। অথচ এখানে তার নিত্য যাতায়াত। অনেক কষ্টে সুমন খুঁজে পেলো রমনার বটমুল। একটু কাছাকাছি আসতেই সুমন দেখতে পেলো নীল শাড়ি পরা একজন অতিরুপবতী নারী দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মোটেই মেহজাবিন বলে মনে হলোনা। তাহলে কি মেহজাবিন তাকে মিথ্যা বলেছে? কিন্তু তাহলে কে নীলশাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে? আজতে মেহজাবিনের নীলশাড়ি পরে আসার কথা। একটু চিন্তা করে সুমন আরো কাছে এগিয়ে গেল। সুমন এখন মেহজাবিনের মুখমুখি দাঁড়িয়ে আছে। সুমন হা করে মেহজাবিনকে দেখছে। এত সুন্দর কোন মানুষ হতে পারে? এ যেন কোন পরী এসে দাঁড়িয়ে আছে। সুমনের কোন দিকে খেয়াল নেই। সে দেখছে মেহজাবিনকে। -- এই যে মিঃ সুমন। মশা মাছি তো সব ঢুকে গেল মুখের ভিতর। মুখটা বন্ধ করো। মেহজাবিনের কথায় সম্বিৎ ফিরে পেল সুমন। সে এবার নিচের দিকে চোখ নামিয়ে নিল। কেমন যেন লজ্জা লাগছে তার কাছে। -- কি ব্যাপার নিজের দিকে তাকিয়ে কি খুঁজছো তুমি? এবারো সুমন উত্তর দিতে পারলো না সুমন। তার মুখের কথা হারিয়ে গেছে আজ। যাকে প্রথম দেখায় ভালবেসে ফেলেছিল সে আজ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এ যেন কোন স্বপ্ন, কোন এক স্বর্গীয় স্বপ্ন। কথা বললেই হয়তো স্বপ্নটা ভেংগে যাবে। -- কি ব্যাপার কথা বলছো না কেনো? এভাবে পাথরের মুর্তির মত দাঁড়িয়ে না থেকে চলো কোথাও বসি। এবারো সুমন নিশ্চুপ। শুধু ঘাড় নেড়ে শায় দিলো সে। তারপর তারা দুজনে একটা বেঞ্চ দেখে তাতে বসে পড়লো। -- এইযে সুমন সাহেব, সেই কখন থেকে আমি কথা বলছি। কিন্তু তুমি কোন কথা বলছো না কেন? এবার সুমন কথা বললো। -- কথা বলতে লজ্জা লাগছে আমার। -- ওরে বাবা! লজ্জা লাগছে? তা সুমন সাহেবের লজ্জা লাগার কারনটা জানতে পারি? -- কারনটা আমি নিজেও জানিনা। -- আচ্ছা আমাকে আজ কেমন লাগছে বলতো। -- ( না দেখেই) খুব ভাল লাগছে। -- আচ্ছা তুমি কাল রাতে বলেছিলে আমাকে ভালোবাসো। এখন কি আবার সেই কথাটা বলবে একটু? সরাসরি শুনতে ইচ্ছে করছে। -- বলতো তো পারি। কিন্তু লজ্জা লাগছে। -- এই এতো লজ্জা লজ্জা করো কেন? তাড়াতাড়ি বলে ফেলো। সুমনের গলা কাঁপছে। ফোনে ভালবাসি বলাটা যতটা সহজ সরাসরি বলাটা ততটাই কঠিন। সুমনের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। -- কি ব্যাপার বলছো না কেনো? -- আমি তোমাকে ভালবাসি। জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। -- সারাজীবন কি পারবে আমায় ভালবাসতে? -- হ্যা পারবো। -- পারবে সারাজীবন আমাকে আগলে রাখতে? -- পারবো। -- তাহলে আমার হাতটা ধরে শপথ করো কখনো এই হাত ছাড়বে না। সুমন মেহজাবিনের হাতটা ধরলো। সুমনের হাত কাঁপছে। এই হাত তার ভালবাসার হাত। এই হাত তার স্বপ্নের হাত। হঠাৎ সুমন মেহজাবিনকে জড়িয়ে ধরলো। আর তখনই সুমন কোলবালিস সহ খাট থেকে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো। দূর ছাই! এত সুন্দর একটা স্বপ্ন এভাবে ভেংগে গেলো? স্বপ্নের শেষটা দেখা হলোনা সুমনের। তবে এই স্বপ্নটাই হয়তো বাস্তবায়ন করবে সুমন। কারন মেহজাবিন যে তার স্বপ্নের ভালবাসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্বপ্নের ভালবাসা
→ স্বপ্নের আঁকা ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now