বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:- ক্যান্ডেল লাইট ডিনার ,
ধ্রুব আলোক (ছদ্ম নামী লেখক)
-----
রাতে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আমি আর আমার বন্ধু রিপন , কথায় কথায় রিপন বলল- আজকে নাকি সে তার স্ত্রী মুক্তা কে নিয়ে বাইরে যাবে ডিনার করতে , ক্যান্ডেল লাইট ডিনার । রিপনের জন্য এটা প্রথম না , এর আগেও মুক্তাকে নিয়ে বাইরে ডিনার করতে অনেকবার গিয়েছিলো ।
--
মুক্তার সাথে তার বিয়ে হয়েছে এখন এক বছর । এই এক বছরে সে মুক্তাকে নিয়ে কয়েকবার বাইরে ডিনার করতে বের হয়েছে । আর এদিকে প্রিয়ার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে এখন প্রায় দুই
বছর ।এই দুই বছরে আমি তাকে একদিনও বাইরে কোথাও নিয়ে যাইনি । কোনদিন তাকে বলা হইনি ,চলো আজকে আমরা বাইরে থেকে ডিনার করে আসি । প্রিয়া সারাদিন সংসারে কত কাজই না করে । মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে যদি বাইরে ডিনার করতে যাই তাহলে ব্যাপারটা খারাপ হয় না । কিন্তু আমি তাকে কখনোই নিয়ে যায়নি । এসব ভাবতে ভাবতেই
নিজের অজান্তেই হঠাৎ করে কেমন জানি আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল ।
***
আমি ভাবলাম আজকে রাতে প্রিয়া কে নিয়ে বাইরে ডিনার করতে বের হবো । রিপন আমাকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে যায় ।
আমিও বাসায় চলে আসলাম । বাসায় এসেই দেখি প্রিয়া রান্না করার প্রস্তুতি নিচ্ছে । আমি প্রিয়ার কাছে গিয়ে বললাম ,আজকে বাসায় রান্না করা দরকার নেই । আজকে আমরা বাইরে ডিনার করতে যাব ।
আমার কথা শেষ হতেই প্রিয়া তার ওরনা কোমরে পেঁচিয়ে গিট্টু দিলো , মনে হচ্ছে আমার সাথে এখন লড়াই করবে ।
তারপর সে রেগে গিয়ে বলে -
- বাইরে ডিনার করতে কেন যাবে ? ( প্রিয়া )
= এমনি ভাবলাম বাইরে থেকে খেয়ে আসলে ভালো হবে ।
- আচ্ছা আমার হাতের রান্না এখন আর ভাল লাগে না , আমি ভালো রান্না করতে পারি না এজন্য ।
= আরে কি বলছো এসব , তোমার হাতের রান্নার তুলনা হয় না । তুমি অনেক ভালো রান্না করতে পারো ।
- তাই যদি সত্যি হয় তাহলে আমার হাতের রান্না না খেয়ে বাইরের খাবার খেতে ইচ্ছে হলো কেন ।
= না ইয়ে মানে , আসলে অনেকেই দেখি তারা তাদের স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে ডিনার করতে যায় । তাই ভাবলাম তোমাকে নিয়ে বের হওয়ার জন্য ।
- ও আচ্ছা যাতে সবাইকে বলতে পারো যে আমি অন্য মেয়েদের মত বাইরে ডিনার করতে পাগল বাইরে বের হতে পাগল এজন্যই আমাকে বাইরে ডিনার করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।
= আল্লাহ তুমি আমারে উঠাইয়া নেও, নয়তো দড়ি ফালাও আমি দড়ি বেয়ে বেয়ে উঠে যাই । আরে আমি ভাবছিলাম বিয়ের পর এখন পর্যন্ত তোমাকে কখনো বাইরে নিয়ে যায়নি ,হয়তো তোমার খারাপ লাগে বা খারাপ লাগতেও পারে । তাই ভাবলাম আজকে বাইরে থেকে ডিনার করে আসি , তোমাকে একটু বাইরে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি ।
- আমি কি তোমাকে কখনো বলছি আমাকে বাইরে নিয়ে ডিনার করাতে । তাহলে কি করে তুমি ভাবলে আমাকে বাইরে নিয়ে যাওনি বলে আমার খারাপ লাগে ।
= না ইয়ে মানে ।
- বাইরে যাওয়ার কোনো দরকার নেই , আমি এখন রান্না ঘরে যাবো , যা রান্না হবে তাই চুপচাপ খাবে ।
= আচ্ছা ঠিক আছে বাইরে যাওয়া ক্যান্সেল
এবার খুশি ।
- হ্যাঁ খুশি , আচ্ছা আজকে বলো তুমি কি খাবে, তুমি যা খেতে চাইবে তাই রান্না করবো । আজকে তোমার পছন্দের মত রান্না হবে ।
= ভাত আর আলু ভর্তা ।
- হা হা হা , আমি তোমাকে তোমার পছন্দের খাবারের জন্য বললাম , ভাবছিলাম মাছ মাংস বিরানি এসব কিছু চাইবে ।
আর তুমি কিনা আলু ভর্তা আর ভাত খেতে চাও ।
= সত্যি বলছি , মাছ মাংস খেতে ইচ্ছে করে না আজকে কেমন যেন আলু ভর্তা আর ভাত খেতে ইচ্ছে করে ,আর হ্যাঁ সাথে একটু ঘি ।
- জো হুকুম মহারাজ ।
এ বলে হাসতে হাসতে রান্না ঘরে চলে যায় প্রিয়া।
***
প্রিয়া রান্না ঘরে চলে গেলে আমি বসে বসে টিভি দেখতে লাগলাম । প্রায় ৪০ মিনিট পর
সে এসে আমার পিছনে দাঁড়ায় ।
তারপর সে বলে খাবার রেডি খেতে আসো ।
আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকি । তার পরনে সেলোয়ার কামিজ ছিল কিন্তু সে এখন শাড়ি পরে এসেছে । বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া সে কখনো শাড়ি পড়ে না । অনেকদিন পর তাকে শাড়ি পড়তে দেখলাম ।
অপূর্ব সুন্দর লাগছে তাকে ।
আমি তার কাছে গিয়ে তার হাতটা ধরে বললাম তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে ।
সে বলে - এতদিন তাহলে আমাকে সুন্দর লাগত না ।
আমি বললাম - আরে তা বলি নাই, বলছি আজকে তোমাকে আরো বেশী সুন্দর লাগছে । মনে হচ্ছে স্বর্গীয় কোন পরী আকাশ থেকে নেমে এসেছে ।
আমার কথা শুনেই সে লজ্জা পেয়ে বলল -
যাও কি বলছো এসব ।
এই বলে সে চলে যেতে চাইল । আমি তার হাতটা ধরে টেনে আমার কাছে নিয়ে আসি । তারপর তার কপালে একটা চাঁদ এঁকে দিয়ে আমার বুকে তাকে জড়িয়ে ধরি ।
সেই লজ্জায় কথা খুঁজে পাচ্ছে না কি বলবে ।
তারপর সে বলল- ভাত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে ।
এই বলে জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল আমার কাছ থেকে । তারপর সে খাওয়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল ।
***
এরপরে আমরা দুজনে খাওয়ার জন্য টেবিলে গেলাম । আমি টেবিলে গিয়ে বসলেই ।
সে রুমের লাইট বন্ধ করে দেয় । তারপর দুইটা মোমবাতি জ্বালিয়ে টেবিলের উপর রাখে । আমার মুখোমুখি বসে প্রিয়া ,দুজনের সামনে দুটো প্লেটে সুন্দর করে গরম ভাত, আলুভর্তা, আস্ত কাচামরিচ আর পেয়াজের টুকরো সাজানো। মাঝখানে একটা ঘিয়ের বৈয়াম । টেবিলের দুপাশে দুটো মোমবাতি জ্বলছে। গরম ভাতের ধুয়ো উড়ছে। মোমবাতির আলোয়
প্রিয়াকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে ।
মন উথাল-পাথাল করা স্বর্গীয় পরিবেশ।
দুজনে দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে ।
চোখের পলকও পরছে না । আমি মুচকি হেসে মনে মনে বললাম ।রোমান্টিক ডিনার বা
ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের এর জন্য বাইরে যেতে হয় না । ইচ্ছে করলে ঘরের মধ্যে সবচেয়ে রোমান্টিক ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করা যায় ।
লাইফ ইজ সো রোমান্টিক !!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now