বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-স্যার ফাইলটার কাজটা আজো সম্পূর্ন করতে পারিনি।আর দুইটা দিন সময় দিন প্লিজ।
--তোমার মত দায়িত্বহীন কর্মকর্তা এই অফিসে দরকার নেই।দুই দিনে যে ফাইলটা তৈরি করা যায় সেই ফাইলটার জন্য তোমাকে আট দিন সময় দিয়েছি।আর পসিবল না!যাও অন্য কোথাও চাকরি খোঁজ।
আমি এক কথার মানুষ অরুন ভালো করেই জানে।যা বলি তাই করি।ছেলেটা কিছু না বলেই অফিস থেকে ছলে গেল।খেয়াল করলাম ওর চোখজোড়া বেশ লাল।কতগুলো রাত না ঘুমালে যেমন হয়।অফিসের সিনিয়ার অফিসার হিসেবে আমাকে সবাই রেসপেক্ট করে।যদিও মাঝেমাঝেই অকারনেও সহকারিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি।এটা আমার একটা সমস্যা।রেগে গেলে ব্যলেন্স ঠিক রাখতে পারিনা।
অফিস শেষ করে বের হলাম।অরুন তখনো বসে আছে অফিস থেকে একটু দূরে চায়ের দোকানটাতে।আমার গাড়ির সামনে হাত নেড়ে থামানোর ইঙ্গিত করছে।গাড়িটা থামাতেই কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল "স্যার আমাকে আর একটা সুযোগ দিন প্লিজ।আর ভুল হবে না"।আমি বেশ ভাব নিয়েই বলেছিলাম এটা অফিস নয়।কথাটা বলেই ফুলস্পীডে গাড়ি চালিয়ে ছলে গেলাম।
পরদিন অফিসে ঢুকতেই ছেলেটি দরজায় দাড়িয়ে।তখন বলেছিলাম "যাও সুযোগ দিলাম।তবে এটাই তোমার শেষ সুযোগ"।অরুন আবেগ ধরে রাখতে না পেরে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করতে চাইলো।দুহাত দিয়ে ওকে বাঁধা দিলাম।কেন যেন এই প্রথম একটা ছেলের জন্য আমার মনের ভিতর মায়া নামক শব্দটা বাসা বেধেছে।
দুদিন পেরিয়ে আজ তিনদিন।না ফাইল দূরে থাক,অরুন নিজেই অফিসে আসছে না।ছেলেটা বড্ড বেয়াদব দেখছি!ওকে এবার বিনা নোটিশেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিলাম।কেন যেন বুকের ডান পাশটা বেশ মুছড়ে উঠলো ওকে বরখাস্ত করার কথাটা ভাবতেই! ছেলেটার হয়তো বড় কোন সমস্যা চলছে।ভাবলাম একবার নিজেই ইনভেস্টিগেশান করবো।
ছোটখাট দোচালা ঘরটায় দরজাটা ভিতর থেকে আটকানো।নক করতেই অরুন খুলে দিল।আমাকে দেখেই ছেলেটি ছমকে উঠলো।কিছু বলতে ছেয়েও বলতে পারছে না।ওর চেহারায় নির্ঘুম রাত কাটানোর স্পষ্ট ছাপ!ছেলেটাকে বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে।ততক্ষনেও ও আমাকে ভিতরে যেতে বলছে না।তবুও ভিতরে প্রবেশ করলাম।অরুন আমার পিছুপিছু ঢুকলো।
বেশ পরিপাটি ঘরটাতে একটা মাত্র বিছানা।যেখানে একজন বৃদ্ধ কাতরাচ্ছেন।কাছে গিয়ে দেখলাম সমস্ত শরীরটা এক ধরনের প্লাষ্টিক দ্বারা ঢেকে রাখা।কিছু একটা দুর্ঘন্ধ টের পাচ্ছিলাম ততক্ষনে।অরুনকে প্রশ্ন করলাম "তোমার মায়ের কি সমস্যা?" ওর অসহায়সূলভ উত্তর "শরিরের এক তৃতীয়াংশ পঁচে গেছে উনার।আমারতো অনেক টাকা নেই উনাকে উচ্ছ চিকিৎসা করানোর।তাই সরকারি হাসপাতালের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে রেখে আমি নিজেই সেবা করছি"।
একজন জীবিত মানুষের দেহ পঁচনটা কতটা কষ্টের।আর তার সেবা যত্নকারিকে কতটা কষ্ট করতে হয় আমি অনুমান করতেও আমার কষ্ট হচ্ছিল।একজন মায়ের জন্য ছেলের এমন কাজে আমি অবাক হয়ে গেলাম।
অরুনকে বললাম "যতদিন সময় দরকার তুমি তোমার মায়ের সেবা কর।পাঁচ বছর পরে গেলেও আমার অফিস তোমার জন্য উন্মুক্ত।মাসশেষে বেতনটা তুলে এনো"।অরুন আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো।ওর মা কিছু যেন বলতে চাচ্ছেন।কিন্তু সে শক্তিটা পাচ্ছেন না।আমি পারিনি বেশি সময় সহ্য করতে ওর মায়ের কষ্টটা।সেদিনের জন্য বিদায় হলাম।
বাসায় ফেরার পর একটি মুহূর্তের জন্যও ওই মায়ের কষ্টটা ভুলতে পারিনি।সারাজীবন নিজের ইচ্ছেমতই জীবনটা কাটিয়েছি।অফিসেও সবার বস।আমার কথা মতই সবাই উঠবস করে।জীবনের প্রকৃত মিনিংটা আমার একেবারেই অজানা।অন্তত এই মায়ের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করে একটা ভালো কাজ করবো।
তিনদিন পর।আজ মনটা বের ফুরফুরে আমার। অরুনের মায়ের চিকিৎসা করানোর সম্পূর্ন টাকাটা হাতে এলো।অফিস শেষে যাবো ওর মাকে দেখতে।আর অরুনকে খবরটা জানাবো।ছেলেটা নিশ্চয়ই আবারও পাগলামী করবে।আমার পা ছুঁয়ে সালাম করতে চাইবে।
ভাবনার মাঝেই অরুন আমার চোখের সামনে দাড়িয়ে।এতটা বিমর্ষ ওকে আগে কখনো দেখিনি।অসহায়ের মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি চেয়ার থেকে উঠে ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম "তোমার মা সুস্থ হবেন।আল্লাহ উনাকে সুস্থ করবেন।তুমি মোটেও চিন্তা করোনা"।
অরুন আমার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইল।আস্তে করে বলছে "স্যার আমার বেতন থেকে অগ্রিম এক হাজার টাকা দিতে পারবেন।খুব উপকার হত"।
কৌতুহলি হলে বললাম "কি করবে?"
মাথাটা নিচে নামিয়ে বলছে "মায়ের জন্য দাফনের কাপড় কিনবো স্যার"।
[] লিখাঃ Mostafa Kamal Riad []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now