বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নবম শ্রেণীর একটি মেয়েকে পড়াই আমি। স্টুডেন্ট আমার বরই স্যার ভক্ত। কিন্তু সমস্যা হলো তার পিচ্ছি ওয়ানে পড়ুয়া ভাইকে নিয়ে। নাম তার মাহিন। প্রথম প্রথম তার কার্যকালাপ অনেক বিরক্তিকর লাগতো। রেগে যেতাম আমি। পরে ভাবলাম রেগে গিয়ে লাভ নাই।
সে এগুলো করবেই তাই মিউচ্যুয়ালে আসলাম। কয়েকদিন আগের একটা ঘটনা বলি :
আমি তার বোন মৌটুসীকে টেবিলে পড়াচ্ছি সে কতো গুলো পুরোনো ছবির এ্যালবাম নিয়ে খাটে বসে আছে। সে একটার পর একটা ছবি দেখছে আর বিবরণ দিচ্ছে নিজে নিজেই। ছবি গুলো ফ্যামিলি ফটো বিভিন্ন বিয়ের প্রোগামে তোলা। তাদের বাবা মার বিয়ের প্রোগামের ছবিও আছে সেখানে। এক পর্যায়ে মাহিন একটা ছবি দেখিয়ে আমাকে বললো : " দেখো ভাইয়া, এটা আপুর ছোটবেলার ছবি। হাফপ্যাণ্ট পরে আছে। " এই কথা বলে সে খিল খিল করে হাসতে লাগলো। আমার স্টুডেন্ট তাকে ধমক দিয়ে থামাইয়ে দিলো। আমি আড়চোখে ঐ পিকটা দেখে পড়াতে মন বসালাম। একটু পর আরেকটি ছবি দেখিয়ে মাহিন বললো : " দেখো ভাইয়া, এটা তন্বী আপু। কলেজে পড়ে। কি সুন্দর সাজুগুজু করছে। "
আমি আবার আড়চোখে ছবিটা দেখার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি স্টুডেন্ট আমার দিকে টাইট দৃষ্টিতে তাকাইয়াছে। যাইহোক ওর তন্বী আপুকে দেখে আবার পড়াতে শুরু করলাম। খানিকক্ষণ পর মাহিন আবার বললো : " ওম্মা মৌটুসি আপুকে তো অনেক সুন্দর লাগতেছে এই ছবিতে। ভাইয়া দেখো আপু আবার শাড়ীও পরছে। "
আমি ছবির দিকে তাকানোর আগে একটু মৌটুসীর দিকে তাকালাম। দেখি সে অন্যদিকে তাকিয়ে হেব্বী ভাবুক মুডে আছে। তারপর পিকটা দেখলাম সত্যিই শাড়িতে তাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো।
কিছুক্ষন পর মাহিন আবার বললো : " ভাইয়া এবারতো একজন বউ সাইজ্জা বসে আছে তোমার জন্য ছবিতে। দেখো দেখো ভাইয়া। আর তুমি বিয়া কইরা ফেলাও ওরে! "
আমি আড়চোখে ছবির দিকে তাকিয়ে পুরাই " থ " খেয়ে গেলাম। এই ছবি টা ওর আম্মুর বিয়ের ছবি! বিয়ের শাড়ী পরে বসে আছে ছবিতে! অতপর আমার স্টুডেন্টের চেল্লাচিল্লতে সে রুম থেকে ভাগছে।
এর সপ্তাহখানেক পরের একটা ঘটনা বলি। আমার স্টুডেন্টের চাচাতো ভাই ( Class six এ পড়ে) সে নাকি ওর ক্লাসের সিক্সে পড়ুয়া মেয়েকে পছন্দ করে! সারাক্ষণ ক্লাসে কোচিংএ ঐ মেয়ের দিকে চেয়ে থাকে! বুঝেন ঠেলা! এই কথা শুনে আমি পুরাই টাসকি! হাসুম না কান্দুম! আবার ঐ পিচ্চি মেয়ে বলছে নাকি তার ভাইয়ের চোখ গেলে দিবে যদি আরেকবার তার দিকে তাকায়! আমি এই কথা শুনে হাসতেছি!
এমন সময় ঐ পিচ্চি মাহিন রুমে in করলো। সে হাসতে হাসতে আমাদের কাছে এসে বললো : " আপু, তোমরা কি নিয়ে হাসাহাসি করছো? ও বুঝছি তোমরা প্রেম করছো?
স্টুডেন্টের ধমক খেয়ে সে চুপ করে খাটে গিয়ে বসলো। পড়ানো শেষ প্রায় এসে পরবো এমন সময় সে আমাদের কাছাকাছি এসে মুচকি হেসে বললো : " একটা কথা বলবো ভাইয়া? "
আমি - " বলো! "
মাহিন - " তোমরা বিয়ে কইরা লাও তখন আপুকে বেশী বেশী পড়াতে পারবা। "
ওর কথা শুনে আমার স্টুডেন্টকে চেচাইয়া ওর আম্মুকে ডাকতেছে " আম্মু আম্মু, মাহিনকে এখান থেকে নিয়ে যাও!
ওর আম্মু রুমে এসে বলে : " কেন সে কি করে? "
মৌটুসী - " কিসব বলতেছে দেখো! নিয়া যাও ওরে! "
স্টুডেন্টের মা - " এই তুই কি বলছোছ মাহিন? "
ভাগ্গিস মাহিন কিছু না বলেই রুম থেকে ভাগছে! মাহিনের মুখ যে সদর ঘাটের স্টিমারে হর্ন! তার মুখে এসব কথা অনায়াসে বার হয়! সেটাতো স্টুডেন্টের মাও ভালো করেই জানে! আবার আমাদের সামনে জিগ্যাসা করলো! যদি সে সেই হর্ন বাজিয়ে দিতো
আবার!
লিখা : শুভ্র গেছে তেঁতুল বনে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now