বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" সামিয়াদের পাখিরছানা "
লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ
সামিয়া এবং জ্যোতি দুই বোন। দুজনের মধ্যে খুব ভাব। সামিয়ার বয়স ৪ বছর। জ্যোতির সামিয়ার থেকে ৬ বছরের বড়। বলতো বন্ধুরা জ্যোতির বয়স কত হবে? জ্যোতি ভুতের গল্প শুনতে ভালবাসে তাই লাবনীর কাছ থেকে গল্পের বই এনে সারাদিন গল্প পড়ে, কিন্তু সামিয়ার ভুতের গল্প খুব ভয় লাগে তাই দাদীর কাছ থেকে রুপকথার রাজারানীর গল্প শোনে। সামিয়া শুভর সাথে মাঝেমধ্যে ওদের স্কুলে যায় কিন্তু শুভ আজকাল খুব দুষ্টু হয়েছে, তাই সামিয়াকে ভয় দেখিয়ে স্কুলে নিতে চায় না। শুভ যখন পড়তে বসে সামিয়া তখন পাশে গিয়ে বসে বসে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে ছবি দেখে খুব মজা পায়। সামিয়া বিড়ালকে খুব ভয় পায়, তাই বইয়ে বিড়ালের ছবি থাকলে এড়িয়ে চলে, কিন্তু শুভ দুষ্টামি করে বিড়ালের ছবি দেখিয়ে সামিয়াকে ভয় দেখায়। ইদানিং সামিয়া শুভর কাছ থেকে একটা ছড়া শিখেছে তাই গড় গড় কন্ঠে সবসময় বলে বেড়ায়, "হাত্তি মাটি টিম, তায়া মাতে পায়ে ডিম, তায়া হাত্তি মাটি ডিম। "
সামিয়ার আব্বু সামিয়ার আগ্রহ দেখে একটা আদর্শলিপি বই কিনে এনে দিয়েছে, সকাল সন্ধ্যায় জ্যোতি আপুর কাছে গিয়ে সুর করে অ, আ পড়ে। কিন্তু পড়ার সময় দুই বোনের বনিবনা পড়ে না, তাই মাঝে মাঝে দুই বোনের হাতাহাতি শুরু হয় এবং খামচা খামচি দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটে। সামিয়া মায়ের কাছে গিয়ে কিংবা রাসেল ভাইয়ার কাছে গিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কেদে কেদে নালিশ করে। রাসেল ভাইয়ার সাথে সামিয়ার খুব বনিবনা। সারাদিন ভাইয়ার কাছে কাছে থাকে। সুর করে করে অ, আ পড়ে শোনায়। রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে ভাইয়ার কাছ থেকে রুপকথার রাজা রানী আর শেয়ালের গল্প শোনে। সেদিন তো রাজা এবং টুনটুনির গল্প শুনে হেসে কুটিকুটি। সবসময় বলে, "ভাইয়া ওই গয়পো তা আবায় বল না। "
শীত চলে এসেছে। সারা সকাল কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে। প্রচন্ড শীত শুরু হয়ে গেছে। সন্ধ্যা হলেই ছেলে বুড়ো গুটিসুটি মেরে লেপের নিচে গিয়ে বসে থাকে। সামিয়া সন্ধ্যা হলেই দাদীর কাছে নয়তো রাসেল ভাইয়ার কাছে গিয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প শোনে এবং ছড়া শেখে। হাড় কাপানো শীতে সকালে কেউ উঠতে চায় না, কিন্তু সামিয়ার চোখে ঘুম নেই। ফজরের আযানের পর পরেই ঘুম ভেঙে যায়, এত সকাল সকাল মা উঠতে দিতে চায় না, তাই লুকিয়ে লুকিয়ে উঠে রাসেল ভাইয়াদের গাছ থেকে শিউলী ফুল কুড়িয়ে ভাইয়াকে ডেকে তোলে। সেদিন তো শখ করে মালা গাথতে গিয়ে হাতে সুই ফুটিয়ে ফেলেছিল, তারপর সে কি কান্না। সকালে আপুদের সাথে খড় কাগজ পুড়িয়ে আগুন পোহায়।বড়রা নানারকম গল্প করে সামিয়া এসব গল্পের অর্থ বোঝেনা শুধু মুখ পানে চেয়ে থাকে।
শীতকে উপলক্ষ করে গ্রামের প্রতিটা ঘরে ঘরে শীতের পিঠার ঘুমধাম চলছে। সেদিন সন্ধ্যায় শুভদের কি যেন পিঠা বানাচ্ছিল। সামিয়াকে দুইটা খেতে দিয়েছিল, খেতে কি দারুন মজা। বাড়িতে এসে মায়ের কাছে এসে ওই পিঠা বানিয়ে দেওয়ার আবদার করে কিন্তু পিঠার নাম বলতে পারে না, শুধু বলতে পারে চাউলের গুড়ার ভিতরে পাটালি দিয়ে ঢেকে রাখলে পিঠা থেকে ধোঁয়া বের হয়। সামিয়া গদ গদ করে বলে, "দানো মা খাইতি কি দায়ুন মদা "। মা সামিয়ার কথা শুনে শুধু হাসে আর বলে, "আচ্ছা কাল বানিয়ে দেব খেও তখন। "
সামিয়া বিকেলে রাসেল ভাইয়াদের বাড়িতে খেলতে গিয়েছিল, সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখে মা সাদা সাদা ধোয়া বেরোনো সেই পিঠা বানিয়েছে। জ্যোতি আপু মায়ের পাশে বসে বসে সেই পিঠা খাচ্ছে। সামিয়া মায়ের উপর খুব অভিমান করলো, মা সেই কখন থেকে পিঠা বানাচ্ছে আর আপু খেয়ে ফেললো কিন্তু মা তবুও ডাকেনি। তারপর সামিয়ার সে কি অভিমান।মা সামিয়ার কথাগুলো শুনে শুধু হাসে।
রাসেল ভাই কোথা থেকে যেন একটা পাখির ছানা পেয়েছে, দেখতে খুব সুন্দর। সামিয়া পাখিটার নাম জানে না।ভাইয়া বলেছে এটার নাম ঘুঘু পাখি। সামিয়া সবসময় পাখিটির আশেপাশে ঘুরঘুর করে, আর ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করে এই পাখি ডিম পাড়ে কিনা। ভাইয়া বলেছে বড় হলে ডিম পাড়ে। সামিয়ার ডিম খেতে খুব ভাল লাগে। প্রতিদিন মা সামিয়া এবং আপুর জন্য ডিম সেদ্ধ করে দেয়। সামিয়া ভাইয়ার কাছে পাখিটা নেওয়ার জন্য আবদার করে, কিন্তু ভাইয়া বলেছে পাখিদের ছানা বাড়িতে এনে পুষতে হয় না, পুষলে নাকি ছানার মা কান্না করে, ভাইয়া তাই ছানাটাকে ছানার মায়ের কাছে রেখে আসবে। কথাটা শুনে সামিয়া খুব কান্না জুড়ে দেয়, ছানাটা নেবেই। কিন্তু ভাইয়া দিতে চাচ্ছে না। সামিয়া খুব কান্নাকাটি করে, ভাইয়ার সাথে কোন কথা বলতে চায় না।
একদিন বিকালে দেখে তাদের বারান্দার কোনে একটা পাখির খাঁচা ঝুলানো, ভিতরে সেই ছানাটা। ছানাটার বোধহয় শীত লেগেছে তাই খাঁচার এক কোনে জড়সড় হয়ে বসে আছে। ছানাটা দেখে খুব খুশি লাগছে, তখন কান্নাকাটি করেছিল বলে বোধহয় ভাইয়া পাখিটা এখানে রেখে গেছে। সামিয়া পাখিটিকে খাওয়ানো জন্য জ্যোতি আপুকে খুজতে গেল।
সামিয়ার সারাদিন কাটে খাঁচাটার পাশে ঘুরাঘুরি করতে করতে। জ্যোতি আপু পাখিটির নাম দিয়েছে " ময়ুর "।আপু বলেছে ময়ুর পাখি দেখতে নাকি খুব সুন্দর। সামিয়া কোনদিন ময়ুর দেখেনি আপু বলেছে ওদের বইতে নাকি ময়ুরের ছবি আছে। রাসেল ভাইয়া বলেছে ঘুঘু নাকি ধান এবং সরিষার দানা খেতে ভালোবাসে। ঘুঘুর খাবার খুজতে সামিয়া আপুর পিছু পিছু ঘোরে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে খাচার কাছে যায় এবং সন্ধ্যায় ছানাটাকে খাইয়ে দাইয়ে ঘুমাতে যায়।
একদিন বিকেল বেলা সামিয়া শুভদের বাড়িতে খেলতে গিয়েছিল, বাড়ি ফিরে দেখে খাঁচাটার দরজা খোলা ভিতরে কোন পাখি নেই। সামিয়া কাদোঁ কাদোঁ হয়ে মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো তাদের ময়ুর কই। মা কোলে তুলে নিয়ে আদর করতে করতে বলে, কাঁদে না মা, তোমার ময়ুর খাঁচার দরজা ভেঙে উড়ে চলে গেছে। কিন্তু সেদিন রাসেল ভাইয়া বলেছিল ঘুঘু বড় না হলে উড়তে পারে না, সামিয়া বুঝতে পারছে না পাখিটা কিভাবে উড়ে গেল।
সামিয়া এখন আর আগের মত শুভদের বাড়ি খেলতে যায় না। খাঁচাটার পাশে মন খারাপ করে বসে থাকে। মাঝে মাঝে রাসেল ভাইয়া নদীর তীরে বেড়াতে নিয়ে যায় এবং বলে, "মন খারাপ করে না আপু, তোমাকে খুব সুন্দর দেখে একটা সত্যি সত্যি ময়ুর পাখি এনে দেব "।
সামিয়া প্রতিদিন ভাবে ভাইয়া কবে ময়ুর পাখি এনে দেবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now