বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সামায়রা ঘুমোচ্ছে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সামায়রা ঘুমোচ্ছে,প্রশান্তির ঘুম।কুয়াশা সামায়রার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে আস্তে করে উঠতে চাইতেই দেখল সামায়রার হাতের মধ্যে ওর শাড়ির আঁচল বাধা। একহাত দিয়ে কুয়াশার শাড়ি ধরে রেখেছে আর অন্য হাত দিয়ে রোদের টি-শার্ট মেয়েটা পারেও বটে!!!! কুয়াশা শাড়ি থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে রোদকে ডাকল তারপর ইশারা দিয়ে হাত আস্তে করে ছাড়িয়ে নিতে বলল।এমনিতেই সেহরিতে যেন সময় কম থাকে তার ওপর এখন সামায়রা ঘুম থেকে উঠলে সারা ঘর দৌড়াবে।তার পেছন পেছন আবার মা-বাবা দুজনকে ই দৌড়াতে হবে।এই জন্য সামায়রা যাতে না জাগে তাই এত সতর্কতা কিন্তু মেয়েটা কার সেইদিকেও তো লক্ষ্য রাখতে হবে।এত সতর্কতা অবলম্বন করেও লাভ হয়নি।সামায়রা ঠিকই উঠে গেছে আর উঠেই দৌড় শুরু আপাতত কুয়াশার চোখ রাঙানো দেখে দৌড় কিছুটা কমেছে তবে তা বেশিক্ষণ নয় কুয়াশা ভাত বাড়ছে আর রোদ সাহায্য করছে আর রাজকুমারী এ ঘর ও ঘর ছুটোছুটি করছেন।কুয়াশা আর রোদ হাসছে। সামায়রার মত অদ্ভুত কান্ড কারখানা কুয়াশাও করত। কুয়াশা ছিল তার আম্মু-আব্বুর একমাত্র মেয়ে।একমাত্র মেয়ে তাই আদর দিয়ে দিয়ে বাঁদর করেছেন। কুয়াশা তার আম্মু-আব্বুর "চোখের মনি" ছিল।সে যা বলত তাই হত।কিন্তু শেষবার আর এমনটা হয় নি।সে রোদের হতে চেয়েছিল কিন্তু মা-বাবা রাজী না থাকায় তাতে সম্মতি মিলে নি। তারপর যেন জোর করেই অন্যত্র বিয়ে ঠিক করা হয়।কুয়াশা গায়ে হলুদের দিনে পার্লার থেকে এসে রাতের বেলা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বিধিবাম!!! তার বাবার জন্য তা আর সম্ভব হয় নি তাকে একপ্রকার আটকে রেখে বিয়ে দেওয়া হয়।সে আর নড়চড় করে নি।অবাধ্য বালিকার মত চুপচাপ বিয়ের পিড়িতে বসেছে সমস্যা শুরু হয় বিয়ের রাত থেকে।কুয়াশার স্বামী (!!!) যখন তার কাছে আসতে চায় ঠিক তখনই সে অন্যরকম আচরণ করা শুরু করে।হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই ভাঙছে। বেচারা খানিকটা ভয় পেয়ে কুয়াশার কাছে না এসে আর সোফায় গিয়ে সকালে এর একটা দিক হবে ভেবে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকল পরদিন সকালে সব ঠিক।কুয়াশা কোমড়ে কাপড় গুজে রুম গোছাচ্ছে,রাতের ভাঙা গ্লাসের টুকরো সাবধানে হাতে নিয়ে ঝুড়িতে ফেলছে, রান্না করছে,ঘরদোর পরিষ্কার করছে।সব একদম স্বাভাবিক কে বলবে এই মেয়ে গতকাল রাতে এত্ত কাহিনী করছে!!! কুয়াশার স্বামী কুয়াশার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল দ্বিতীয় দিন রাতেও একি কাহিনী।এইবার বরঞ্চ নিশানা সঠিক জায়গায় লেগেছে।পানির জগের কোণা লেগে কুয়াশার স্বামীর কপালের বেশ খানিকটা জায়গা কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগল সে খানিকটা গোঙানির মত করে মাটিতে পড়ে গেল।কুয়াশা বিছানাতে বসে বসেই রাত কাটিয়ে দিল সকাল বেলা তার স্বামীকে বিছানায় নিয়ে কেটে যাওয়া জায়গায় মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। তাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে চা নিয়ে এসে একপাশে রাখল কুয়াশার স্বামী তারপর থেকে আর কুয়াশার পাশেও যায় নি।কিন্তু রাতের বেলা তারপরেও তার রুম থেকে গ্লাস অথবা পানির জগ অথবা ফুলদানী ভাঙার শব্দ আসত।একটা সময় এসব যেন নিত্যদিনকার ঘটনা হয়ে গিয়েছিল কুয়াশার স্বামীও একজন মানুষ।আর মানুষের পক্ষে আরেকজন মানুষ কর্তৃক অমানুষের মত আচরণ সহ্য হয় না আর যদিও হয় তবে তা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।সেই সময় পেরুলে সে এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চায় কুয়াশার স্বামী কুয়াশার মা-বাবা কে ডেকে এনে বলে দিল, "প্লীজ আপনাদের এই সাইকো মেয়েকে নিয়ে যান।আমি তাকে আর সহ্য করতে পারছিনা। দীর্ঘ ৬ মাস অপেক্ষা করেছি কিন্তু কিছুই পাল্টাচ্ছে না।বরঞ্চ দিন দিন যেন আপনার মেয়ের পাগলামি বেড়েছে।আমি সাজেস্ট করব আপনারা ওকে ভালো একটা সাইক্রিয়াটিস্ট দেখিয়ে কোথাও রেখে আসুন" কুয়াশার বাবা কপট রাগে কুয়াশার স্বামীকে বলেন, "আমাদের মেয়ে আমরা কি করব না করব তা আমাদের ব্যাপার।আপনার সাজেশন আপনার বালিশের কাপড়ের ভাজে রাখুন,সময়ে অসময়ে কাজে লাগবে।" তারা কুয়াশাকে সেইখান থেকে নিয়ে আসলেন। কুয়াশা আবার আগের মত হওয়ার চেষ্টা করল।তার প্রাণোচ্ছল হাসি যেন আবার ফিরে আসল।কিন্তু উপরে বসে যিনি তার ইশারা দ্বারা দুনিয়া চালাচ্ছিলেন তিনি চাচ্ছিলেন না কুয়াশা সুখী হোক আবারো মাস খানেক পরে হঠাৎ এক খবর আসল রোদ বিয়ে করেছে।কুয়াশার সমস্ত পৃথিবী যেন এক নিমিষেই কেও ভেঙে গুড়িয়ে দিল ছোটবেলায় কারো সাথে ঝগড়া হলে যেমন জেদ করে খেলনা ভেঙে দেয় ঠিক ওইভাবে তারপর থেকে কুয়াশা আবার আগের মত ব্যবহার শুরু করে দেয়।ঘরের জিনিস ছোড়াছুঁড়ি না করলে যেন তার আর সহ্য হচ্ছে না।এমনকি যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই মারার চেষ্টা করছে কুয়াশার মা-বাবা তাকে সাইক্রিয়াটিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলেন।সাইক্রিয়াটিস্ট কোনো রোগ না পেয়ে তাকে কয়েকদিন উনার এইখানে রাখার জন্য বললেন।কুয়াশার মা-বাবা তাকে এইখানে রেখে গেছেন বেশ কয়েকদিন।প্রতিনিয়ত খোঁজ নিচ্ছেন,আশা করছেন একটা ভালো খবরের কিন্তু যে সুস্থ হয়েও অসুস্থ হওয়ার ভান করে তাকে সুস্থ করার মত শক্তি অথবা বুদ্ধি কারো নেই। একসময় ছাড়া পায় সে। বাড়ি যায় বাসায় এসে সে আর আগের মত স্বাভাবিক থাকতে পারে নি তবে আগের মত অশান্তি ও সৃষ্টি করে নি। চুপচাপ ঘরের এককোণায় পড়ে থাকত।তারপর থেকে প্রতিবার কিছু খাওয়ার আগে কেমন সাদাটে একটা পাউডার দেয় খাবারে।একদিন পেটে ব্যথায় কাতর হয়ে থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করল।তারপর জানা গেল তার "থেলিয়াম" হয়েছে।যা মানুষকে একবারে না মেরে বরঞ্চ ধাপে ধাপে মারে। আস্তে আস্তে পুরো শরীরকে নষ্ট করে শরীরের সব পঁচিয়ে গলিয়ে তারপর মৃত্যু ঘটায়। কুয়াশার আর কি সে শরীরে বাঁধিয়েছে "থেলিয়াম" নামক অসুখ।ধীরে ধীরে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে মরতে চায় সে।তার ভালবাসার শাস্তি পেতে চায় নার্সের ডাকে হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেল কুয়াশা। কল্পনা থেকে বাস্তবের জগতে আসল সে। সামায়রা, রোদ কে নিয়ে এইসব কল্পনা করতে ভালোই লাগে তার।রোদ বলেছিল তার মেয়ের নাম সামায়রা হবে আর ছেলে হলে রিহান।আর বোকা মেয়েটা তাতে মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়েছিল মেয়েটা তার দায়িত্বরত নার্সকে অতিরিক্ত কিছু টাকা দেয় শুধু তাকে প্রতিবেলা খাবারের আগে সেই সাদাটে পাউডার টা খাবারে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। যতদিন পর্যন্ত মৃত্যু হচ্ছে না,নিষ্পাপ ভালবাসার ফলস্বরূপ একগুচ্ছ অবহেলা আর ধোঁকা উপহার পাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এইসব কল্পনা করে মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছে আর রোদ নামক স্বার্থপর বেঁচে আছে নির্লজ্জের মত।স্ত্রী,সংসার নিয়ে সে বরঞ্চ খুশি।নিয়মিত বউকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাচ্ছে,ক্যান্ডল লাইট ডিনার করছে।এককালে কুয়াশা নামক কেও ছিল তা ভুলতে তার হয়তবা ন্যানো সেকেন্ড সময় ও লাগে নি অথচ কি অদ্ভুত মেয়েটা শুধু একটা সুন্দর সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল।স্বপ্নগুলো আজ শুকিয়ে যাওয়া পাতার মত ঝরে পড়ছে.................. ~উর্মি মোনিম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সামায়রা ঘুমোচ্ছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now