বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
সালেহা
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাহিদা (০ পয়েন্ট)
X
দাইয়্যুস!!
:
আজ রিকশা করে যাত্রী নিয়ে যাবার সময়
কোনো এক মাহফিলের মাইকে সেলিম মিঞা
শুনলো দাইয়্যুস ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। সে
লেখা পড়া করেনি এমন বাক্য জিবনেও শুনে নাই।
দাইয়্যুস কাকে বলে??জানার ইচ্ছা থাকলেও
যাত্রীর তাড়ায় আর উপায় হয়ে উঠলো না। তার
মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী
ছাত্রী। সেলিম মিঞা মেয়েকে কখনই কষ্ট কি
বুজতে দেইনি।
কেউ তাকে দেখে কখনই ধরতে পারবে না
সে একজন রিকশা আলার মেয়ে। রাতে বাড়ি ফিরে
সেলিম মিঞা মেয়ের পড়ার টেবিলের কাছে
গিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
-"মারে পড়া-লেখা কেমন চলতাছে তোর??"
-"ভালো!" বলেই সে আবার বইয়ে
মনোযোগ দিলো।
সেলিম মিঞা মুখে লজ্জার হাসি নিয়ে বলল,
-"মা একটা কথা কমু তুই আবার আমারে লজ্জা দিয়া কবি না
তো বাবা কিছুই জানে না??"
মেয়ে বিরুক্তির সুরে,
-"বলো বাবা!!"
-"দাইয়্যুস কারে কয়রে মা??"
মেয়ে প্রশ্নটা শুনে অট্টহাসি দিয়ে বলল,
-"নিশ্চয়ই আজ কোনো হুজুরের পাল্লায় পড়ছিলা
তাইনা বাবা??শুনো তাহলে( মেয়ের হাসি এখনো
থামেনি, হাসতে হাসতেই বলল,) দাইয়্যুস সেই
পুরুষকে বলে যিনি জীবিত থাকতে তার স্ত্রী-
কন্যা বেপর্দায় চলাফেরা করে!বুঝলে? এবার তুমি
যাও তো আমি পড়বো!"
বাবা চলে গেলেন ঠিকই। কিন্তু সেদিন সারা রাত বাবা
তার জিবনের পাওয়া-না পাওয়ার হিসাবটা মিলানোর চেষ্টা
করেছেন। একবার নয়, দুইবার নয়, বহু বার, তবে
জিবনের হিসাবটা গরমিলই রয়ে গেলো, কিছুতেই
মিললো না। আজ হঠাৎ তিনি তার বুকের বাম পাশটায়
ব্যথা অনুভব করছেন। মনে হচ্ছে বুকের
উপরে পাথর চাপা পড়ে আছে।তিনি অনুভব করলেন
তার চোখ থেকে কিছু গড়িয়ে পড়ছে, চোখে
হাত দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিলেন। এটা বুকের
ভেতরে ওঠা সেই ঝড়ের কয়েকটা ফোঁটা জল
মাত্র।সারা রাত জেগেই কাটিয়ে দিলেন।
ফজরের আগে উঠেই আজ রিকশাটা নিয়ে
বেরলেন। নামাজ আদায় করে সকাল আটটার
মধ্যেই বাড়ি ফিরলেন!! মুখে খুশির হাসি। ঐ দিকে
মেয়ে ক্যাম্পাসে যাবার জন্য তৈরী।
-"কোথাও যাইতাছত বুজি মা??"
-"হ্যা, বাবা ক্যাম্পাসে যাচ্ছি।"
-"এই ল মা! আজ থেইকা তুই বোরকা পইড়া বাইর
হবি।" বলে বাবা বোরকা আর হিজাবটা মেয়ের
হাতে দিলো। মেয়ে বোরকা-হেজাবটা কিছুক্ষন
আড়চোঁখে দেখে তাচ্ছিল্যের সাথে বলল,
-"আমাকে জুকার সাজানোর শখ তোমার হলেও
আমার জুকার সাজার কোনো ইচ্ছে নেই।"
বাবা অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলেও মেয়ে
কিছুতেই বুঝতে চাইলো না। অবশেষে বাবা
অসহায়ের মত হয়ে বলল,
-"মারে আমার দাইয়্যুস হোওনের হাত থেইকা
বাঁচারে মা!!"
-"বাবা তুমি এখনো ওই খানেই পড়ে আছো come
on বাবা!!" এই বলে বোরটাকে বিছানায় ফেলে
বেরিয়ে গেলো।
বাবা বোরকাটাকে বুকে জড়িয়ে শিশুর মতো
অঝড়ে কাঁদতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন,
-"এইডা আমার ধর্মের জ্ঞান না থাকার ফল!"
ওদিকে মেয়ে আজ ক্যাম্পাসের বাস মিস করে
বলছে, "আজ বাবার জন্যই বাসটা মিস করে ফেলছি।
বাবার যে কি সব আজকাল মাথায় ভর করে?" তাই বাধ্য
হয়েই পাবলিক বাসে উঠে সে। বাসটা কিছু দূরে
যাবার পরই জ্যামে পড়ে গেলো!
সালেহা লক্ষ্য করলো তার ওপাশের সিটে একজন
পর্দানশীল মেয়ে ও একজন পুরুষ বসে আছে!
সে মনে মনে ভাবছে, "মেয়েটা কিভাবে
বসে আছে এসব পড়ে এই অসহ্য গরমে আমার
তো দেখেই খুব গরম লাগছে! বাবা আমায় আবার
এসব পড়তে বলে। আজব!"
সালেহা শুনতে পেলো পুরুষটি পর্দানশীল
মেয়েটিকে বলছে, - “মামণি! তোমার খুব কষ্ট
হচ্ছে মুখ থেকে হেজাবটা একটু তুলে দাও
তাহলে ভালো লাগবে।”
মেয়েটি বলল, ”না বাবা, আলহামদুলিল্লাহ। আমাক কষ্ট
হচ্ছে না।” বাবা মেয়ের কথায় তুষ্ট হলেন না।
তিনি নিজেই হাত দিয়ে মেয়ের হিজাবটা তুলতে
যাচ্ছিলেন। অমনি মেয়ে কান্না জুড়ে দিলো।
এসব দেখে সালেহা অবাক হলো সে আরো
বেশি অবাক হলো মেয়েটির বাবাকে বলা কথা
গুলো শুনে। আট বছরের মেয়েটি তার বাবার
পকেট থেকে একটা দেশলাই নিয়ে বাবার হাতে
দিয়ে বলল,
- “বাবা তুমি একটা কাঠি জ্বালিয়ে আমার একটা আঙুল
পুড়ে দাও, এবং আরেকটা কাঠি দিয়ে তোমার একটা
আঙুল পুড়ে ফেলো।”
মেয়ের কথা শুনে বাবা বলল,-”মা এটা সম্ভব নয়
আমি এটা কিছুতে ইচ্ছাকৃত ভাবে করতে পারবো
না।”
তখন মেয়ে কেঁদে দিয়ে বলল, “নিজের
মেয়ের সামান্য একটা আঙুল পুড়তে বাবা তুমি
দেখতে পারবে না। তাহলে বাবা তুমি দুনিয়ার ৭০ গুন
বেশি জাহান্নামের আগুনে আমায় জ্বলতে
দেখলে কিভাবে সহ্য করবে?? আর যখন
তোমাকেও সেই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে
তাই বা কি করে সহ্য করবে?? আচ্ছা বাবা তুমি আমার
ক্ষনস্থায়ী জিবন টাকে গুছাতে গিয়ে নিজের
জিবনটা শেষ করে দিয়েছো, তাহলে আমি কি
তোমার চিরস্থায়ী জিবনের সুখের জন্য এইটুকু
ত্যাগ করতে পারি না বাবা? আমি কিভাবে বেপর্দায়
চলে তোমার এত কষ্টের প্রতিদান হিসেবে
তোমাকে আল্লাহর নিকট দাইয়্যুস হিসেবে
আখ্যায়িত করতে পারি বাবা?? পিতা-মাতা সন্তানের
কাছে জান্নাতের দরজা স্বরূপ। আমি কিভাবে সেই
পিতা-মাতার জান্নাতে প্রবেশ ের পথে বাঁধা হতে
পারি বাবা? যেই আমার জন্য দুনিয়ার সব কষ্ট সহ্য
করে নিলে সেই আমি কিভাবে পারি বলো বাবা,
তোমার জন্য জাহান্নামের রাস্তা হতে?”
মেয়ের কথা শুনে বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আমার ভুল হয়ে গেছেরে মা। আমি বাবা
হিসেবে গর্বিত তোর মত মেয়ে পেয়ে।
মারে তুই আমার জান্নাতের একটা টুকরা! আল্লাহর
কাছে হাজার শুকরিয়া এই নিয়ামত দান করার জন্য!!" বাবা
মেয়েকে বুকে জড়িয়ে অঝরে কাঁদতে
লাগলেন, মেয়েও বাবার বুকে মাথা রেখে
কাঁদতে ছিলো!
এ দৃশ্য সালেহাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে
দেয়। সে ভাবে, তার বাবা তার জন্য নিজের জিবনটা
শেষ করে দিলো। কোনো দিন নিজের
সুখের কথা ভাবেনি। আজ যখন বাবা দাইয়্যুস হওয়া
থেকে বাঁচতে আমার হাতে বোরকা আর হিজাব
তুলে দিলো, আমি তা তাচ্ছিল্যের সাথে ফেলে
দিলাম! আমার বাবার গাঁ থেকে ঝড়া প্রতিটা ফোঁটা
ঘামের প্রতিদান আমি অবহেলাই দিলাম। আমি কিনা
আমার দুঃখী বাবার জান্নাতে যাবার পথের বাঁধা!
নিজের মনকে প্রশ্ন করতে করতে সে
বুকের মধ্য অসহ্য ব্যথা অনুভব করলো। সে বাস
থেকে নেমে বাড়ির দিকে ফিরে গেলো।
অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করে ফেলছিলো আর
বাবার বুকে মাথা রেখে দু'ফোঁটা চোখের পানি
ফেলে ভেতরটাকে হালকা করার আকাংখায় সে
ব্যকুল হয়ে উঠল। কিন্তু আজ রাস্তা যেনো
অনেক দীর্ঘ হয়ে শেষ হচ্ছে না।অপেক্ষার
অবসান ঘটিয়ে সালেহা বাড়িতে প্রবেশ করেই এক
শূন্যতা অনুভব করলো। তবে কি বাবা কাজে
বেড়িয়ে গেলো? ঘর়ে প্রবেশ করে
দেখলো বাবা শুয়ে আছে অশ্রুসিক্ত চোখে।
-"বাবা...বাব-বাবা...বাবা.....!" কিন্তু বাবা সাড়া দিচ্ছে না!
-"বাবা!" গায়ে হাত নাড়া দিয়ে দেখলো বাবা
বোরকাটা বুকে জড়িয়ে আছেন।
হালকা ধাক্কাতে বাবার হাতটা বুকের থেকে পড়ে
গেলো.....!!
-"বাবা... বাবা... বাবা....!! " বুক ফাঁটা আর্তনাদে আকাশ ভারি
হয়ে গেলো কিন্তু সাড়া দেবার মত কেউ নাই।
মেয়ের দেয়া আঘাতটা সইতে না পেরেই
বুকের ব্যথাটা বেড়ে গিয়ে একা ঘর়েই মারা
গেছেন। বাবার চোখের কোণের জমে থাকা
পানিই বলে দিচ্ছে কতটা কষ্ট নিয়ে পৃথিবী
ছেড়েছে।
শত আক্ষেপ আর অপরাধবোধ ক্ষত-বিক্ষত করে
ফেলছে মেয়েকে। অনুশোচনার আগুনে
সে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
-"বাবা....তুমি আমার পৃথিবীটাকে সাজাতে নিজের
কথা কখনই ভাবোনি...। প্রতিদানে পেয়েছো
অবজ্ঞা আর অবহেলা....। আমি সেই মেয়ে যে
কিনা আমার বাবার জান্নাতের পথের কাঁটা স্বরূপ! বাবা
কথা দিলাম, আজকের পর থেকে নিজেকে এমন
ভাবে শুধরে ফেলব ো যেনো পৃথিবী
আমায় না চিনে।"
সত্যি সে পাল্টে গেলো, আলহামদুলিল্লাহ!!
হেদায়েতের বুঝ সে খুজে পেলো...........
আজও শত প্রাপ্তির মাঝেও সে কোনো একটা
অপূরনীয় শুন্যতা বোধ করে, বুকের ভিতরে
ব্যথা অনুভব করে। বাবাকে তাচ্ছিল্য করার সেই
ব্যথা, বাবার বুকে মাথা রেখে একটু কাঁদার আক্ষেপ,
তার বিবেকের তাড়নার আগুনে সে জ্বলছে...।
মৃত্যু ব্যতিত এ আগুন যেনো নিভবার নয়............
..........!!
…"দাইয়্যুস জান্নাতে প্রবেশ করবে না। দাইয়্যুস ঐ
ব্যক্তি যে নিজে পর্দা করে না এবং তার
অধিনস্তদের পর্দা করায় না।” (বুখারি শরীফ)
-----------------------------------
# গল্পের_শিক্ষাঃ
১) মেয়ে হতে পারে বাবা-মায়ের জন্য জান্নাত বা
জাহান্নামের রাস্তা।বোন তুমি তোমার বাবা মায়ের
জন্য কি হতে চাও?
২) বোন তুমি তোমার বাবা মায়ের প্রতিদান
কিভাবে দিতে চাও জান্নাতের দিকে এগিয়ে নাকি
জাহান্নামের পথে নিয়ে গিয়ে?
৩) দুনিয়ার সামান্য আগুনে দগ্ধ ভাবে নিজের মা-
বাবাকে দেখার সাহস তোমার নাই। তাহলে ৭০ গুন
বেশি জ্বালাময় জাহান্নামের অগ্নি সাগরে
নিজেকে ও বাবা মাকে দেখার সাহস তুমি রাখো কি
করে বোন??
৪) বোন তুমি যতটা বেপর্দা হচ্ছো তোমার বাবা
ঠিক ততটাই দাইয়্যুস হচ্ছে। তুমি তা যেনেও
বেপর্দায় চলো। তবে কি তুমি তোমার বাবাকে
জাহান্নামে দেখতে চাও??
৫) বড় একটা যান্ত্রিক বাস তোমায় দশ মিনিট বহন
করে দশটা টাকা বিনিময় নেয়। কিন্তু বোন
তোমার রক্তে-মাংসে গড়া বাবা সারা জিবন তোমায়
বহন করেও তো কোনো বিনিময় নেননি
তাকে তুমি প্রতিদানে জাহান্নামে নিতে চাও?
৬) বোন হাজারো বাবা আছে যারা জানেন না
দাইয়্যুস মানে কি? কিন্তু বোন তুমি তো জানো,
না জানলেও আজ তো জানলে। এর পরেও কি
নিজেকে এবং নিজের বাবা কে জাহান্নামের ভংকর
আজাব থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে না?
"যে ভুল করে সে মানুষ, যে ভুলের উপর স্থির
থাকে সে শয়তান।
আর যে ভুল করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়
সে মুমিন। (আল-হাদিস)
“বান্দা যখন অপরাধ স্বীকার করে এবং তাওবা করে
তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।” (সহীহ
বুখারী)
বোন! তুমি আগে কি ছিলে সেইটা বড় কথা নয়,
তুমি আজ কি আছো এবং আগামীতে কি থাকবে
সেটাই মূল বিষয়! বোন! মৃত্যু তো এখনো
আসেনি তার মানে সময় এখনো আছে।
ফিরে এসো বোন আল্লাহ তা'আলার জন্য,
আল্লাহ তা'আলার দিকে।
এবং উছিলা হিসেবে নিজেকে এবং তোমার বাবা-
মাকে বাঁচাও জাহান্নামের ভয়ংকর আজাব থেকে!
# বিঃ দ্রঃ- বো ন যদি তুমি চাও তুমি তোমার বাবা-মাকে
নিয়ে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামেই থাকবে
তবেই বেপর্দায় চলো। আর না চাইলে আজই
আল্লাহর নিকট খাস দিলে তাওবা করে পরিপূর্ন পর্দা
করার নিয়াত ও চেষ্টা করো বোন।
বোন! তুমি ভুলে যেও না তুমি মুসলিম।আজ
থেকেই আল্লাহর নাম নিয়ে তুমি পর্দা শুরু করে
দাও বোন। ইনশা আল্লাহ তুমি পারবে বোন।
কপি এবং ফরোয়ার্ড করে সবাইকে পড়ার সুযোগ
করে দিন।
(সংগৃহিত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now