বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজি

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান kamran (০ পয়েন্ট)

X ঘুম থেকে জেগে আয়নার সামনে গিয়ে নিজের সুন্দর মুখ টা দেখা সাজির পুরনো অভ্যাস।কিন্তু অপারেশন হওয়ার কারনে বেশ কিছু দিন সে আয়নার সামনে যায় নি।সাজি বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা।তার বাড়ি বাংলাদেশে।কিন্তু মা বাবা মারা যাওয়ার পর মামা তাকে ভিয়েতনাম নিয়ে আসে আর তাই সে থাকে মামা মামির কাছে ভিয়েতনামেই।সেখানে অসহায় মহিলা কুংফু রিপোর্ট নামক এক মহিলা সেবা সংঘের সাথে কাজ করে সে।অষ্টাদশী সাজি দেখতে খুব সুন্দর যে কেও দেখলেই প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাবে।ছিম ছাম এই তরুণী কিছুদিন আগে ভিয়েত নামের নাম করা খুনি জকিকে কে বা কারা খুব নিশংস ভাবে খুন করেছে শুনে সে ছুটে যাচ্ছিল রিপোর্ট করতে কারন এই জকি ছিল নারী লোভি এক পশু।সব ধরনের খারাপ কাজ সে করত তার মানুষ মারা ছিল নেশা আর তাদের কে সে মারত নিজের হাতে না না রকম অত্যাচার করে এরপর গলা টিপে মারত।এই রকম করে সে খুব আনন্দ পেত।কিন্তু কে বা কারা তাকেই মেরে দেই আর তার রিপোর্ট করতে যাচ্ছিল সাজি যাওয়ার পথে দেখে যে একটা বাচ্চা মেয়ে রাস্তা পার হতে যাচ্ছে আর অন্য দিক থেকে একটা গাড়ি আসছে তাই সে বাচ্চা মেয়েটিকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির সাথে একসিডেন্ট করে আর নিজের হাত দুটি কাটা পড়ে এটা দেখে জ্ঞান হারায় সে। এরপর জ্ঞান ফিরার পর সে দেখে যে সে হসপিটালে আর তার হাত আছে।কিন্তু কেমন নিশপ্রান সেই হাত।দেখতে ছেলেদের হাতের মতন।কেমন বড় বড় হাত দুটি। যা তার শরিরের সাথে একদম মানায় নি।নার্স কে জিজ্ঞেস করে সে জানতে পারে তাকে উদ্ধার করে যখন এখানে আনা হয় তখন তার হাত দুটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়।কিন্তু কোনো মেয়ে হাত না পাওয়ার কারনে সেদিনই মারা যাওয়া কুখ্যাত খুনি জকির হাত কেটে তাকে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।আর তা ছাড়া তখম কারও হাত পাওয়া যাচ্ছিল না কিন্তু তখনি অপারেশন করা নাহলে আর সে হাত পেত না।পরে জুরে দিলেও সে ওই হাত দিয়ে কিছু করতে পারত না।হাত থাকলে ও সে হাতে ক্ষমতা থাকত না আর তাই অন্য কোনো উপায় না থাকায় জকির হাত কেটে তার হাতে স্থাপন করা হয়েছে। তার মত নিষ্ঠাবতি এক নারীর এখন একটা খুনির হাত এটা ভেবেই পুরু শরির রি রি করে উঠে ঘেন্নায়।কিন্তু কি করবে সে এটাইই বাস্তবতা।তাই সে মেনে নেয় এটা। আর সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।এরপর থেকেই শুরু হয় ঘটনা। রোজজ রাতে হাত দুটি অস্বাভাবিক রকমের থান্ডা হয়ে যেত। যেন মরা মানুষের হাত।আর তার হাতের উপর কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ থাকত না।হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই ঘটতে থাকে ঘটনা। যেদিন জকি মারা গেছিল সেদিন ছিল শনি বার।এরপরের শনি বারে বিখ্যাত ব্যবসায়ী মি.মুচুওয়াং এর লাশ পাওয়া গেল তারই ঘরে।অহ সে কি ভয়ানক ভাবে মারা হয়েছে উনাকে,চোখ দুটি উলটানো বিশ্ময় লেগে আছে সাড়া মুখে।যেন অবিশ্বাস্য কিছু দেখেছে সে।রিপোর্ট বানানোর জন্য সাজিকে কল দেয় সংঘ হেড।কল আশায় ঘুম ভাঙে তার।কিন্তু সে এত বেলা অব্দি কখনোই ঘুমায় না।সে ফোন টা রিসিভ করে আর শুনতে পায় যে মি. মুচুওয়াং মারা গেছে,আর তাকে এটা নিয়ে রিপোর্ট করতে হবে।তাই সে তড়িঘড়ি করে নেমে রেডি হতে আয়নার সামনে যায়। গিয়েই অবাক হয় সে।তার হাত দুটি রক্তে মাখানো যেন সে কাওকে মেরেছে নিজের হাতে।সে খুব অবাক হল কিন্তু সময় না থাকায় পরে ভাববে বলে ফ্রেশ হয়ে স্পটে চলে গেল।গিয়ে দেখে বাজে ভাবে মারা যাওয়া মুচুওয়ানের লাশ আর অবাক হয়ে দেখে যে তাকে গলা টিপে মারা হয়েছে গলায় পাচ আঙুলের ছাপ বসে আছে।সবার অগোচরে লাশের গলায় হাত বসায় সে আর দেখে যে তার হাতের সাথে হুবুহু মিলে যাচ্ছে সে ছাপ,এটা দেখে সে খুব ভয় পায়,কিন্তু কোনো কুল কিনারা পায় না যেঁ কে তাকে এইভাবে মারল,ভাবতে ভাবতে সে বাড়ি ফিরে যায় আর ভাবতে থাকে যেঁ কেন তার হাতে রক্ত ছিল।আর মুচুওয়ানের গলাতে হাতের দাগ কেন ছিল জকি তো মারা গেছে তবে আবার কে সেই একি রকম করে খুন করছে,কিন্তু কোনো যুক্তি ই সে দাড় করাতে পারল না।প্যারানরমাল ব্যাপারে সে কোনদিনিই বিশ্বাস করে না।তাই ব্যাপার টা সে পাত্তা দিল না।বাকি সাত দিন আবার সব স্বাভাবিক ছিল।কিন্তজ যেই শনিবার আসল সেই সাজির হাত শক্ত আর থান্ডা হতে লাগল।সে আবার তার হাতের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।পর দিন সকালে আবার কলের শব্দে তার ঘুম ভাঙল আর সে শুনল যে মি.ধ্যাংকুস চিশতী মারা গেছে।যে কিনা মুচুওয়াং এর বন্ধু ছিল উনাকেও মুচুওয়াং এর মতন নিশংস ভাবে মারা হয়েছে।এটা শুনে সাজি ভয় পেয়ে গেল আর উঠেই তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে গেল।গিয়ে দেখল আগের দিনের মতনি তার হাতে রক্ত লেগে আছে।সে ভয়ে ভয়ে ধ্যাংকুস এর বাড়ি গেল আর গিয়ে দেখল তারও চোখ উলটানো আর চোখে লেগে আছে বিস্ময়।গলায় হাতের ছাপ। সে এইবারও মিলিয়ে দেখল যে তার হাতের সাথে মিলে যাচ্ছে সে ছাপ।এই বার সে খুব ভয় পেল।আর সিওর হল যে প্রতি শনিবার রাতে এই অভিশপ্ত জকির হাত ই একের পর এক মানুষ খুন করতে বের হয়।অপরাধবোধে ভুগতে থাকে সে আর ভাবে যে এই অভিশপ্ত হাত আবার কারো খুন করবে পরের শনিবারে।তার আগেই একে থামাতে হবে।কিন্তু কি করবে সে??? একবার ভাবল যে সে নিজেকে শেষ করে দিবে কিন্তু সে যখন আগুন জ্বালিয়ে দিতে চাইল নিজের চার পাশে সে তার হাত দিয়ে কিছুতেই আগুন জালাতে পারল না উলটা আগুন নিভাতে কাজ করল হাত দুটি যেন এ গুলি সাজি নই অন্য কারো হাত। সে পানিতে ঝাপ দিতে গেল আর দিলও কিন্তু সেই হাত তাকে সাঁতরে পাড়ে নিয়ে আসতে বাধ্য করল,এরপর সে ট্রেনের নিচে পড়তে গেল কিন্তু সেই হাত তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনল।এই দিকে দিন গুলি কেটে যাচ্ছিল। বুধবার রাতে সে ঠিক করল কাওকে এটা বললে কেও বিশ্বাস করবে না যে জকি ফিরে এসেছে।তাই সে ঠিক করল ভিয়েতনামের প্রধান প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞ ওয়ামি খুসুর কাছে যাবে।সে পর দিনই ওয়ামির কাছে গেল।আর গিয়ে ওয়ামি কে তার ধারনা ও যা যা ঘটেছে সব খুলে বলল,শুনে বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করল ওয়ামি আর বলল দেখ সাজি তুমার কথা যদি সত্যি হয় তবে জকির আত্না ফিরে এসছে আর সে প্রতি শনি বার তুমার উপর ভর করে আর একজন করে খুন করে কিন্তু সে সব মানুষ থাকতে শুধু মি. মুচুওয়াং আর তার বন্ধু দের মারছে কিন্তু সে কেন এমন করছে তা আমাদের জানতে হবে আর তাই এক্ষুনি তার আত্নাকে এখানে আনতে হবে এই যাদু গোললক দ্বারা বলে একটা গোলক দেখালেন সাজিকে।তার পর তিনি সাজিকে ভয় পেতে মানা করলেন আর কিসব মন্ত্র পরে গোলকে ফুঁ দিলেন এরপর আসতে আসতে তিন বার বললেন জকি এস,কিছুক্ষণ বাদে ঘরে যেন ঝড় উঠল সব আলো নিবে গেল আর গোলকে ভেসে উঠল ভয়ানক এক মুখ,সারা মুখে আঘাতের চিনহ,তাজা রক্ত ঝরে পরছে সাড়া শরির থেকে, আশ্চর্য তার হাত দুটি কাটা, চোখ দুটি উলটান।সে গজরাতে গজরাতে বলল ওয়ামি আমায় কেন স্মরন করেছিস।বল নাকি তোরো মরার শখ হয়েছে।ওয়ামি বলল না জকি তুমি তো মরে গেছিলে খুব রহস্যজনক ভাবে তবে তুমি ফিরে কি করে আসলে আর মুচুওয়াং ও তার বন্ধুদের কেন মারছ, বিশ্রী দাত গুলি বের করে ভয়ানক অট্টহাসি দিল জকির আত্না আর বলল আমি মরে গেছি ঠিক কিন্তু আমাকে মারা হয়েছে আর টাকা নিয়ে গোলমাল থাকায় আমাকে বাড়ি তে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে মুচুওয়াং আর তার বন্ধু চার জন।তারা ব্যবসায় করার পাশাপাশি চোরাকারবার করে কিন্তু যাতে কেও না জানতে পারে সেই জন্য আমার সাহায্য নিত তারা। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তাদের সাথে টাকা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল আমার তাই টাকা দিবে বলে আমাকে বাড়ি আসার নিমন্ত্রণ করে আর আমি যেতেই আমাকে ধরে মেরে ফেলে।সেই সময় আমি চিৎকার করে বলেছিলাম যে আমি ফিরে আসব আর তোদের বেইমানীর শাস্তি দিব।আমার মরার পর আমার হাত দুটি ওই মেয়ের হাতে স্থাপন করা হয়,আর এই জন্য আমি প্রতি শনিবার ওর দেহ নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ওদের একজন কে খুন করে আসি।আর এই শনিবারেও আসব বলে হাসতে হাসতে মিলিয়ে যায় সে।ভয়ে জ্ঞান হারায় সে।জ্ঞান ফিরলে দেখে সে ওয়ামির ঘরে শুয়ে আছে।সে ওয়ামিকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পরে,আর বলে জকির আত্নার হাত থেকে তাকে আর মুচুওয়াং এর ফ্রেন্ড দের বাচাতে। মুচকি হেসে ওয়ামি তার কানে কানে কিসব বলে আর সেটা শুনে খুশি মনে বাড়ি ফিরে যায় সাজি।আর অপেক্ষা করতে থাকে শনিবারের।অবশেষএ এল শনিবার।সেদিনও সাজির হাত দুটি অসম্ভব রকম থান্দা হয়ে গেল আর সে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলল।ঠিক রাত ২ টাই সাজি বিছানা থেকে উঠে পরল আর গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে নিজেই চালাতে লাগল।আর পৌছে গেল মুচুওয়াং এর আর এক বন্ধু সুশুক্রের বাড়ি। তাকে ফলো করতে করতে তার পিছন পিছন ওয়ামিও সেখানে গেল।আর গিয়ে দেখল,জকি সুশুক্রে কে ঘুম থেকে জাগালো আর তারপর বলল বলেছিলাম না যে আমি ফিরে আসব এখন নিজের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হ,বলেই সে সাজির মধ্যেই তার আগের রুপে ফিরে এল।সেই গায়ে কাটা দেওয়া রুপ দেখে ভয়ে জমে গেল সুশুক্রে,সে কাকুতি মিনতি শুরু করে দিল তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু জকি তা শুনল না সে ভয়ানক ভাবে হাসতে হাসতে এগিয়ে গেল সুশুক্রের কাছে গিয়েই সে তার গলা টা হাত দিয়ে চেপে ধরল তখনি ওয়ামি পিছন থেকে এসে ঘ্যাচ করে কাচি দিয়ে হাত দুটি কেটে দেয়।সাথে সাথে তিব্র শব্দ করে কেদে উঠে জকির আত্না।মাটি তে পরে যাওয়া হাত গুলি তে আগুন জলে উঠে আর সারা বাড়ি তে ঝড় শুরু হয়।আত্না টা গজরাতে থাকে আর বলে কাজ টা ঠিক করলি না ওয়ামি আমি আবার ফিরব ফিরে আসব আমার অসমাপ্ত প্রতিশোধ নিতে।আর তখন তোকেও ছাড়ব না,বলেই একটা ধোয়া সাজির শরির ছেড়ে আকাশের দিকে উঠে গেল।সাথে সাথে ঝর থেমে গেল,আর সাজি অজ্ঞান হয়ে মাটি তে পরে গেল।তাকে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেল,আর পিছনে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল সুশুক্রে।পরদিন থেকে শহরের বুকে খুনাখুনি বন্ধ হল ভিয়েতনামে,আর কেও মারা যেত না আত্নার হাতে।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - রিভিউ
→ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২
→ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এবং অবিশ্বাসিদের জবাব
→ সাজিদের হাতি
→ সাজি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now