বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুষ্টু মন্ত্রী যে এখন নতুন বাদশা হয়েছে সে তার মেয়ের জন্য উপভোগ্য আবহাওয়াময় একটা গ্রামে চমৎকার একটা বাড়ি বানালো। মেয়েটা সুন্দরী ঠিকই কিন্তু মনটা বাবার মতোই কুৎসিত এবং শয়তানিতে পূর্ণ ছিল। মেয়ের বাড়ির পাশেই একটা দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। একদিন শিরযাদ একাকি ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে গিয়ে পৌঁছলো ওই কেল্লার কাছে। ভীষণ ক্ষুধার্ত,পিপাসার্ত হয়ে পড়েছিল সে। হঠাৎ আকাশের দিকে নজর পড়তেই দেখলো একটা পাখি উড়ছে। শিরযাদ তার ধনুকের ছিলায় একটা তীর লাগালো এবং ছুঁড়ে মারতেই পাখিটা আছড়ে পড়লো নয়া বাদশার মেয়ের বাড়ির উঠোনে। শিরযাদ সামনে এগিয়ে গিয়ে মোটা দড়ি দিয়ে তৈরি করা মইটাকে দুর্গের প্রাচীরের উপর ছুঁড়ে মারলো এবং সেই মই বেয়ে উপরে উঠতেই দেখলো ঝুলবারান্দার সামনে সুন্দরী এক মেয়ে বসে আছে।
ওই মেয়ে শিরযাদকে দেখেই হুড়মুড় করে পালিয়ে গেল। ঘরের দরোজা খুলে ভেতরে গিয়ে তাড়াতাড়ি তার বাবার কাছে একজন দূতকে পাঠিয়ে দিল। বলে পাঠালো বিন্দুমাত্র দেরি না করে যেন ছুটে আসে তার কাছে। শিরযাদ ওই মুহূর্তে খাবার খাচ্ছিল। হঠাৎ জানালা দিয়ে বাইরে চোখ মেলতেই দেখতে পেল এক সমুদ্র লয়-লশকর এগিয়ে আসছে তার দিকে। সে হুট করেই বুঝতে পেল যে এটা ওই মেয়েটারই ষড়যন্ত্র। শিরযাদ মেয়েটার কাছে গিয়ে তাকে তলোয়ারের এক ঘায়ে মেরে ফেলল। এরপর দেয়াল টপকে বাইরে চলে গেল। ঘোড়ায় চড়ে হাতে তলোয়ার নিয়ে ধাওয়া করলো বাদশার সেনাদলকে। শিরযাদ একা তলোয়ার চালালো। কিন্তু বাদশার বাহিনীতে এতো বেশি সেনা ছিল যে কোনোভাবেই শেষ হচ্ছিল না। বাদশার সেনারা একসময় শিরযাদকে ঘিরে ফেলল। রণবীর অত্যন্ত নৈপুণ্যের সঙ্গে লড়াই করলো। যতক্ষণ তার দেহে শক্তি ছিল ততক্ষণ লড়লো।
একটা সময় নিস্তেজ হয়ে প্রায় মরণাপন্ন হয়ে পড়লো। এবার তো বাদশার সেনারা তাকে মেরেই ফেলবে। হঠাৎ করে দূর থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেল শিরযাদ: হে ভাইপো আমার! ভয় পেও না! আমি এসে গেছি।
শিরযাদ চাচার কণ্ঠ শুনতে পেয়ে সাহস পেল। এবার সেই সাহসের ওপর ভর করে আবারও বাদশার সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। এমন যুদ্ধ সংঘটিত হলো যে সেইদিন পর্যন্ত এই বিশ্ব ওরকম যুদ্ধ চোখে দেখে নি কোনোদিন। বাদশার অসংখ্য সেনা নিহত যেমন হয়েছে তেমনি আহতও হয়েছে প্রচুর। আবার আটকও হয়েছে দলে দলে। অবশেষে শিরযাদ তার চাচাসহ বন্দি সিপাহিদের নিয়ে শহরে হামলা চালিয়ে জালেম বাদশাহকে হত্যা করলো এবং পুরো শহর দখল করে নিলো। শিরযাদ তার চাচাকে বাদশাহি দিয়ে নিজে প্রাসাদে গিয়ে নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে শুরু করলো।
নতুন বাদশার মানে শিরযাদের চাচার দুই ছেলেসন্তান ছিল। তবু শিরযাদকে বাদশা নিজের দুই ছেলের চেয়েও বেশি ভালোবাসত। এটা বাদশার নিজের সন্তানদের ভালো লাগতো না। তারা যখন এই কাণ্ড টের পেল শিরযাদের ব্যাপারে তাদের চোখে হিংসার লেলিহান আগুন জ্বলে উঠলো। বাদশা যখন তার ছেলেদের মনের অবস্থা বুঝতে পেল তখন শিরযাদসহ তাদের সবাইকে নিজের কাছে ডেকে এনে বললো: তোমরা তিনজনই আমার সন্তান। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি সাহসী এবং নির্ভীক তাকেই আমি বেশি ভালোবাসি। বলতে পারো তোমাদের মধ্যে কে বেশি সাহসী?
তিন ছেলেই নিজেকে বেশি সাহসী বলে চীৎকার করে উঠলো। এ অবস্থা দেখে বাদশাহ বললো: তোমরা তো দেখছি সবাই নিজেকে সাহসী বীর বলে দাবি করছো। ঠিক আছে! তোমাদের সাথে আমার একটা শর্ত আছে। তোমাদের মধ্যে যে সবার আগে এমন কোনো স্থান থেকে এমন একটা জিনিস নিয়ে আসতে পারবে যে স্থানে আমার ঘোড়ার পা পড়ে নি এবং যে জিনিসটি এর আগে আমি দেখি নি, সে হবে সাহসী বীর।#
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now