বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পদচারণ করার সময় হোচট খেয়ে থমকে দাঁড়ানোর অভ্যাস টা
আজ আমায় সেথায় দাড় করিয়েছে, যেখানে আমি আর আমার
সেই মানুষ টি কল্পনার রঙ্গিন সময় কাটিয়েছি। জায়গাটা বেশিরভাগ
মানুষ এর অপছন্দনীয় হলেও আমাদের কাছে ছিলো অতি
পছন্দনীয়। বর্ণনা দেয়ার কিছুই নেই, নদীর পাড় ঘেঁষে পড়ে
থাকা গাছের গুডি, যার উপর বসে নদীতে বহমান স্রোতধারায়
ঝিকমিক করতে থাকা সুর্যের আলো আবলোকন করা যায়।
সন্ধ্যাটা ভাঁড়ি হলে স্রোতধারার শব্দের সাথে জোনাকির
আওয়াজ আর আকাশে গোল বৃত্যের মৃদু আলো মন ছুঁয়ে
যায়।
সেদিন ছিলো তোমার জন্মদিন, অনেক বিনয়ী করে
বলেছিলে দিনটা জেন তোমার জন্যই বরাদ্দ থাকে। যদিও আমি
আমার সব কাজ সেদিন এর আগেই গুছিয়ে ছিলাম। ভোরের সুর্য
লাল থেকে সোনালী রঙ এ পৌঁছানোর আগেই অপরোপ
সাজে অপেক্ষারত অবস্থায় এখানে দাঁড়িয়ে দুচোখ মেলে
শুধু আমায় খুঁজছিলে।
আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি সময় এর কাটা পঞ্চান্ন মিনিট সরে
গিয়েছে। অবশেষে তোমার কাছে পোঁছাতে আরো
পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় বেশি লেগে গেলো। তোমার নিকট দৌড়ে
গিয়ে সরি বলাতে আমাকে পাগল বলে ডেকেছিলে।
বলেছিলে,
আরে পাগল, তুমি সময় মত এসেছ। আমি হয়ত একটু বেশিই আগে
চলে এসেছি।
উনিশ তম জন্মদিনে, তোমার জন্য গুনে গুনে উনিশ টা তোমার
প্রিয় সাদা গোলাপ নিয়ে গিয়েছিলাম। হাটু গেড়ে বসে তোমার
হাতে সোপে দিয়েছি, কিন্তু নির্বাক হয়ে। কেন জেন
তোমায় ভালোবাসি বলা হতোনা। আর এই নীরবতা তুমি কখনোই
অপছন্দ করনি। সব কিছুতেই তুমি ভালোবাসা খুঁজে নিয়েছ।
হাতটি ধরে তপ্ত রোদে হাটছিলে। ঝলসানো রোদ জেন
ভালোবাসার ছোয়া দিচ্ছিলো। অনুভুতি টা ছিলো শুধুই ভালোবাসার।
হঠাত আইসক্রিম এর বায়নায় চলতি পথ এর অবসান হলো। দুটো
আইসক্রিম এনে একটি তোমার হাতে দিতেই বন্ধুর ফোনে
কেটে গেলো চার মিনিট ছাপ্পান্ন সেকেন্ড। কথা সেরে
দেখি তুমি আইসক্রিম হাতে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছ। জিজ্ঞেস
করাতে মাথা নিচু করায় বুঝতে পারলাম আমি আগে না খেলে তুমি
খাবেনা।
সল্পক্ষণ পরেই সূর্যটা মাথার উপর এসে দুপুর এর জানান দিলো।
তোমার পছন্দের তেহেরী খেয়ে রিক্সায় উঠলাম। আস্তে
আস্তে চলমান রিক্সায় মৃদু বাতাস আর ক্রিংক্রিং বেল এর শব্দ সেই
সময় টাকে আরো মধুর করে তুলেছিলো।
আমার মনে আছে, হাতটা তুমি এক মুহুর্তের জন্যও ছাড়নি। অনেক
বেশি ভালোবাসা ছিলো তোমার স্পর্শে।
একদিন দুষ্টামি করে বলেছিলাম, পানিতে টলমল করতে থাকা লাল
চোখ আমার ভালো লাগে। তাই তুমি সেদিন অনেক ঝাল দিয়ে
ফুচকা খেয়ে পানি পান না করে আমার ভালো লাগাকে স্বায়
দিয়েছিলে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ছোট্ট একটি কেক আর তার
উপর মোম জ্বালিয়ে আমরা এই গাছের গুড়ির উপর বসে ছিলাম।
কেকটা কেটে তখন ও তুমি আমাকেই আগে খাইয়্যে দিয়ে
ছিলে।
হাতটা শক্ত করে ধরে কাঁধে মাথা রেখে বলেছিলে,
অই দূর আকাশে তারার সঙ্গী হলেও আমি তোমায়
ভালোবাসবো।
নীরব_______?
হুম_________
আমি তোমাকে পরিপূর্ণ ভালোবাসা দিতে পারিনি তাই না..?
_______________
উত্তর না দিয়ে আমি হেসেছিলাম,
এসব কিছু মনে আছে তোমার...?
__________________________
:
:
:
আজ আমি কোন উত্তর পেলাম না। জনমানবহীন চার পাশে শুধু
নদীর স্রোতধারা আর জোনাকির শব্দ শোনা যায়।
এই একই যায়গায় বিশ টি গোলাপ নিয়ে একাই বসে ছিলাম, আর আজ
ছেচল্লিশ টি গোলাপ নিয়ে একাই বসে আছি। সাথে আছে
কেক আর একটু ভিন্নতা। কেক এর উপর সব সময় লিখা থাকতো
"শুভ জন্মদিন নীলা" আর আজ লিখা "আমি তোমাকে অনেক
ভালোবাসি নীলা"।
আজও মুখে বলা হলনা। হয়ত এই অভিমান বুকে চেপে হাজারো
তারার সঙ্গী হলে তুমি। একটু খোজার চেষ্টা করতেই
মেঘের আড়ালে মুখ লুকালে।
মেঘের কান্না দেখে জ্বলন্ত মোম অভিমান করে
আন্ধকারে ছেয়ে দিলো চারপাশ। আকাশের জলে আমার
চোখের জল তুচ্ছ হয়ে গেলো।আজ আমি তোমার আগে
খেতে পারবো না। আমায় ক্ষমা করে দিও।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now