বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সা’দ আল আসওয়াদ আল সুলুমি ( রাঃ) এর ত্যাগস্বীকারের ঘটনা--------------

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরনিকট একজন অতি সাধারণ সাদামাটা একজন লোক কিছুপ্রশ্ন নিয়ে উপস্থিত হলেন, তিনি সা’দ আল আসওয়াদ আলসুলুমি নামে পরিচিত, তিনি জানতে চাইলেন, “হেআল্লাহর রাসূল, আমিও কি জান্নাতে প্রবেশ করতেপারব?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউত্তর করলেন, “অবশ্যই! অবশ্যই তুমিও জান্নাতে প্রবেশকরতে পারবে যদি তুমি একজন বিশ্বাসী হয়ে থাক”। সা’দঅবাক হয়ে বললেন, “কিন্তু আমি! আমি তো বিশ্বাসীদেরমাঝেও অতি সাধারণ নগণ্য একজন মানুষ !” নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে সা’দঅন্যান্য বিশ্বাসীদের জন্যে যা পুরষ্কার রয়েছে তোমারজন্যেও অনুরুপ রয়েছে,”“তাহলে কেন কেউই তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়েদিতে রাজি হয়না?”, সা’দ জানতে চাইলেন। উল্লেখ্য,তিনি এতই সাধারণ একজন লোক ছিলেন যে, সামাজিকতথাকথিত মান মর্যাদাহীনতার কথা তুলে কেউই তাদেরমেয়েকে তাঁর সাথে বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেইবন আল-ওয়াহাব এর নিকট যাওয়ার উপদেশ দিলেন, তিনিছিলেন মদীনার সম্ভ্রান্ত নেতাদের একজন যিনি ইসলামগ্রহণ করেছিলেন, এবং তাঁর কন্যা সৌন্দর্যের কারণেঅন্যান্য নারীদের চেয়ে বিশিষ্ট ও সুপরিচিত ছিলেন।নবীজী সা’দ কে এই উপদেশ দিলেন যে তিনি যেন ইবনআল-ওয়াহাব এর নিকট গিয়ে বলেন যে, আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে এইপ্রস্তাব এসেছে যে, ইবন আল-ওয়াহাব যেন সা’দ এর সাথেতাঁর কন্যার বিয়ে দেন।সা’দ তাঁর নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইবন আল ওয়াহাবএর বাড়িতে হাজির হলেন, তিনি খুশি এবং উত্তেজনায়যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলেন। যিনি কিনা মদীনারঅতি সাধারণ একজন নগণ্য মানুষ তিনি বিয়ে করবেনএকজন সম্ভ্রান্ত নেতার সুন্দরী কন্যাকে! তিনি দরজারকড়া নেড়ে ইবন আল ওয়াহাবকে বললেন, আল্লাহর রাসূলআপনার নিকট আমাকে প্রেরণ করেছেন, আর তিনিঅনুরোধ করেছেন আপনি যেন আমার সাথে আপনারকন্যার বিয়ে দেন।ইবন আল ওয়াহাব সবিস্ময়ে বলে উঠলেন, “তুমি ! তোমারকাছে আমার মেয়ে ! তুমি কি আমার মেয়ের সম্পর্কেকিছুই জাননা ! সে তার সৌন্দর্যের জন্যে বিখ্যাত” এবংতিনি উপদেশ দিলেন সা’দ যেন বাড়ি চলে যায়।যখন সা’দ ভগ্ন মনে হাঁটতে শুরু করলেন, তারপূর্বে ইবন আলওয়াহাব এর কন্যা তাদের এই কথোপকথন শুনে ফেলেন,তিনি বলেন,“ও আব্বা, থামুন, থামুন ! এটা আল্লাহররাসূলের পক্ষ থেকে অনুরোধ। আমরা যদি আল্লাহর রাসূলএর অনুরোধ প্রত্যাখান করি তাহলে আমাদের অবস্থানকোথায় হবে? আমাদের অবস্থান কোথায় হবে যদি আমরাআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরসচেতনতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই? আমি বলছি আমরাকোথায় থাকব, আমরা এখানেই থাকব আজ আমরাযেখানে আছি !” এবং তিনি সা’দ কে বললেন, “আল্লাহররাসূলের নিকট যান, তাঁকে বলুন আমি আপনাকে বিয়েকরতে রাজি আছি”।সা’দ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে গেলেন এবং তিনি ছিলেন আনন্দে বিভোর !নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরবিয়ের মোহরানা ঠিক করলেন ৪০০ দিরহাম। একথা শুনেসা’দ অবাক হয়ে বলেন, “৪০০ দিরহাম ! হে আল্লাহর রাসূল,আমি নিজের চোখে কখনও ৪০০ দিরহাম দেখিনি !”রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেনির্দেশ দিলেন তিনি যেন আলী, আব্দুর রহমান ইবন আউফএবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর নিকট যান এবংপ্রত্যেককে ২০০ দিরহাম করে দিতে বলেন। তাঁরাপ্রত্যেকে ২০০ দিরহামের আরও বেশি করে দিলেন।নিজের স্ত্রীর নিকট যাওয়ার পূর্বে তিনি একটিবাজারের নিকট থামলেন, তিনি ভাবলেন তাঁর স্ত্রীরজন্যে কিছু উপহার কিনে নিয়ে যাবেন। বাজারেঅবস্থান কালেই তিনি শুনলেন, জিহাদের জন্যে আহবানকরা হচ্ছে এবং অস্ত্রসহ তৈরি হবার জন্য আহবান করাহচ্ছে। সা’দ যেখানে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলেনএবং আকাশের দিকে মাথা ঊঁচু করে বললেন, “হেআল্লাহ ! আমি এই দিরহামগুলোর বিনিময়ে এমন কিছুকিনব যা আপনাকে সন্তুষ্ট করবে”। তিনি একটি তরবারীকিনলেন, একটি ঘোড়া কিনলেন এবং আল্লাহর রাসূলেরচোখ এড়ানোর জন্যে নিজের মুখমণ্ডল একটি কাপড়েঢেকে নিলেন। কারণ তিনি জানতেন, যদি আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখেফেলেন তাহলে তিনি তাঁকে বাড়ি ফেরত পাঠাবেনকারণ তিনি মাত্রই বিয়ে করেছেন , তিনি সদ্য বিবাহিত।সাহাবীরা বলাবলি শুরু করলেন, “কে এই লোক, মুখ ঢেকেঘোড়া ছুটিয়ে জিহাদের জন্য আসছে”? আলিরাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব করলেন, “ ছাড় তাকে, সেজিহাদের জন্যে আসছে”। সা’দ সাহসিকতার সাথেবীরদর্পে ঘোড়া ছুটিয়ে ময়দানে মিশে গেলেন, এবং একপর্যায়ে তাঁর ঘোড়া আহত হয়ে পড়ে গেল, তিনি মাটিতেপড়ে গেলেন, এবারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গাঢ় চামড়ার রং দেখে তাঁকে চিনেফেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্নকরলেন, “হে সা’দ, এটা কি তুমি?” সাদ বলেন, “হেআল্লাহর রাসূল, আমার পিতা মাতার জান আপনার জন্যকুরবান হোক, এটা সাদ”।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হে সাদ,তোমার জন্যে জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরষ্কার নেই”একথা শুনে সাদ লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠলেন এবং দৌড়েযুদ্ধের ময়দানে হারিয়ে গেলেন। একটু পর শোনা গেল,লোকেরা বলছে সাদ আহত হয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম দৌড়ে গেলেন সাদকে দেখারজন্যে। তিনি খুঁজতে লাগলেন, তিনি যুদ্ধাহত সাদেরমাথা নিজের কোলে রাখলেন, প্রিয় নবীজীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চোখের অশ্রুসাদের মুখমণ্ডলে পড়তে লাগল, নবীজী কাঁদতে শুরুকরলেন। একটু পর তিনি হাসতে শুরু করলেন, এরপর তিনিতাকালেন।❒ এ অবাক করা ঘটনার সময়ে সেখানে একজন সাহাবাছিলেন, যার নাম ছিল আবু লুবাবা, তিনি বলেন, “ইয়ারাসুলুল্লাহ! আমি আজ আপনাকে এমন এক অবস্থায়দেখলাম যা আমি আগে কখনো দেখিনি, প্রথমে আপনিকাঁদলেন, এরপর হাসলেন এরপর আপনি দৃষ্টি ফিরিয়েনিলেন”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবলেন, “আমি কাঁদলাম কারণ আমার প্রিয় একজন সাহাবীমৃত্যু বরণ করল, আমি দেখলাম সে আমার জন্যে কতটুকুভালোবাসা সঞ্চিত করে রেখেছিল, আমি দেখলাম তাঁরত্যাগ। কিন্তু যখন আমি দেখলাম আল্লাহর নিকট হতে তাঁরজন্যে কি অপেক্ষা করছে, সে হ’দ এ পৌঁছে গেছে”। আবুলুবাবা বলেন, “হ’দ কি?” ।“এটা জান্নাতের এমন একটিঝর্ণা যেখান থেকে কেউ পান করলে আর কখনো তৃষ্ণার্তহবে না”, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউত্তর করলেন, “এটা মধুর চেয়েও মিষ্টি আর দুধের চেয়েওসাদা, আর আমি যখন দেখলাম আল্লাহর নিকট তাঁরমর্যাদা কিরূপ, আমি হাসতে শুরু করলাম। এরপর আমি আরওদেখলাম জান্নাতে তাঁর জন্যে অপেক্ষমাণ স্ত্রীগণসাগ্রহে দৌড়ে ছুটে আসছে, যখন তাঁদের পায়েরগোঁড়ালি আমার নজরে আসল, তখন আমি দৃষ্টি ফিরিয়েনিলাম”।এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসাহাবাদের নিকট আসলেন এবং সাদের তরবারী এবংঘোড়া নিয়ে আসতে আদেশ করলেন। তিনি এগুলো সাদেরস্ত্রীকে উপহার দিলেন এবং জানিয়ে দিলেন এগুলোতোমার উত্তরাধিকার। এবং আরও জানালেন, আল্লাহজান্নাতে সাদকে যে স্ত্রীদের সাহচর্য দান করেছেনতাঁরা আরও অনেক বেশি সুন্দরী। সা’দ আল আসওয়াদ আল সুলুমি ( রাঃ) এর ত্যাগস্বীকারের ঘটনা-------------------------------------------------------------আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরনিকট একজন অতি সাধারণ সাদামাটা একজন লোক কিছুপ্রশ্ন নিয়ে উপস্থিত হলেন, তিনি সা’দ আল আসওয়াদ আলসুলুমি নামে পরিচিত, তিনি জানতে চাইলেন, “হেআল্লাহর রাসূল, আমিও কি জান্নাতে প্রবেশ করতেপারব?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউত্তর করলেন, “অবশ্যই! অবশ্যই তুমিও জান্নাতে প্রবেশকরতে পারবে যদি তুমি একজন বিশ্বাসী হয়ে থাক”। সা’দঅবাক হয়ে বললেন, “কিন্তু আমি! আমি তো বিশ্বাসীদেরমাঝেও অতি সাধারণ নগণ্য একজন মানুষ !” নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে সা’দঅন্যান্য বিশ্বাসীদের জন্যে যা পুরষ্কার রয়েছে তোমারজন্যেও অনুরুপ রয়েছে,”“তাহলে কেন কেউই তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়েদিতে রাজি হয়না?”, সা’দ জানতে চাইলেন। উল্লেখ্য,তিনি এতই সাধারণ একজন লোক ছিলেন যে, সামাজিকতথাকথিত মান মর্যাদাহীনতার কথা তুলে কেউই তাদেরমেয়েকে তাঁর সাথে বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেইবন আল-ওয়াহাব এর নিকট যাওয়ার উপদেশ দিলেন, তিনিছিলেন মদীনার সম্ভ্রান্ত নেতাদের একজন যিনি ইসলামগ্রহণ করেছিলেন, এবং তাঁর কন্যা সৌন্দর্যের কারণেঅন্যান্য নারীদের চেয়ে বিশিষ্ট ও সুপরিচিত ছিলেন।নবীজী সা’দ কে এই উপদেশ দিলেন যে তিনি যেন ইবনআল-ওয়াহাব এর নিকট গিয়ে বলেন যে, আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে এইপ্রস্তাব এসেছে যে, ইবন আল-ওয়াহাব যেন সা’দ এর সাথেতাঁর কন্যার বিয়ে দেন।সা’দ তাঁর নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইবন আল ওয়াহাবএর বাড়িতে হাজির হলেন, তিনি খুশি এবং উত্তেজনায়যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলেন। যিনি কিনা মদীনারঅতি সাধারণ একজন নগণ্য মানুষ তিনি বিয়ে করবেনএকজন সম্ভ্রান্ত নেতার সুন্দরী কন্যাকে! তিনি দরজারকড়া নেড়ে ইবন আল ওয়াহাবকে বললেন, আল্লাহর রাসূলআপনার নিকট আমাকে প্রেরণ করেছেন, আর তিনিঅনুরোধ করেছেন আপনি যেন আমার সাথে আপনারকন্যার বিয়ে দেন।ইবন আল ওয়াহাব সবিস্ময়ে বলে উঠলেন, “তুমি ! তোমারকাছে আমার মেয়ে ! তুমি কি আমার মেয়ের সম্পর্কেকিছুই জাননা ! সে তার সৌন্দর্যের জন্যে বিখ্যাত” এবংতিনি উপদেশ দিলেন সা’দ যেন বাড়ি চলে যায়।যখন সা’দ ভগ্ন মনে হাঁটতে শুরু করলেন, তারপূর্বে ইবন আলওয়াহাব এর কন্যা তাদের এই কথোপকথন শুনে ফেলেন,তিনি বলেন,“ও আব্বা, থামুন, থামুন ! এটা আল্লাহররাসূলের পক্ষ থেকে অনুরোধ। আমরা যদি আল্লাহর রাসূলএর অনুরোধ প্রত্যাখান করি তাহলে আমাদের অবস্থানকোথায় হবে? আমাদের অবস্থান কোথায় হবে যদি আমরাআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরসচেতনতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই? আমি বলছি আমরাকোথায় থাকব, আমরা এখানেই থাকব আজ আমরাযেখানে আছি !” এবং তিনি সা’দ কে বললেন, “আল্লাহররাসূলের নিকট যান, তাঁকে বলুন আমি আপনাকে বিয়েকরতে রাজি আছি”।সা’দ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে গেলেন এবং তিনি ছিলেন আনন্দে বিভোর !নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরবিয়ের মোহরানা ঠিক করলেন ৪০০ দিরহাম। একথা শুনেসা’দ অবাক হয়ে বলেন, “৪০০ দিরহাম ! হে আল্লাহর রাসূল,আমি নিজের চোখে কখনও ৪০০ দিরহাম দেখিনি !”রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেনির্দেশ দিলেন তিনি যেন আলী, আব্দুর রহমান ইবন আউফএবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর নিকট যান এবংপ্রত্যেককে ২০০ দিরহাম করে দিতে বলেন। তাঁরাপ্রত্যেকে ২০০ দিরহামের আরও বেশি করে দিলেন।নিজের স্ত্রীর নিকট যাওয়ার পূর্বে তিনি একটিবাজারের নিকট থামলেন, তিনি ভাবলেন তাঁর স্ত্রীরজন্যে কিছু উপহার কিনে নিয়ে যাবেন। বাজারেঅবস্থান কালেই তিনি শুনলেন, জিহাদের জন্যে আহবানকরা হচ্ছে এবং অস্ত্রসহ তৈরি হবার জন্য আহবান করাহচ্ছে। সা’দ যেখানে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলেনএবং আকাশের দিকে মাথা ঊঁচু করে বললেন, “হেআল্লাহ ! আমি এই দিরহামগুলোর বিনিময়ে এমন কিছুকিনব যা আপনাকে সন্তুষ্ট করবে”। তিনি একটি তরবারীকিনলেন, একটি ঘোড়া কিনলেন এবং আল্লাহর রাসূলেরচোখ এড়ানোর জন্যে নিজের মুখমণ্ডল একটি কাপড়েঢেকে নিলেন। কারণ তিনি জানতেন, যদি আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখেফেলেন তাহলে তিনি তাঁকে বাড়ি ফেরত পাঠাবেনকারণ তিনি মাত্রই বিয়ে করেছেন , তিনি সদ্য বিবাহিত।সাহাবীরা বলাবলি শুরু করলেন, “কে এই লোক, মুখ ঢেকেঘোড়া ছুটিয়ে জিহাদের জন্য আসছে”? আলিরাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব করলেন, “ ছাড় তাকে, সেজিহাদের জন্যে আসছে”। সা’দ সাহসিকতার সাথেবীরদর্পে ঘোড়া ছুটিয়ে ময়দানে মিশে গেলেন, এবং একপর্যায়ে তাঁর ঘোড়া আহত হয়ে পড়ে গেল, তিনি মাটিতেপড়ে গেলেন, এবারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গাঢ় চামড়ার রং দেখে তাঁকে চিনেফেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্নকরলেন, “হে সা’দ, এটা কি তুমি?” সাদ বলেন, “হেআল্লাহর রাসূল, আমার পিতা মাতার জান আপনার জন্যকুরবান হোক, এটা সাদ”।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হে সাদ,তোমার জন্যে জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরষ্কার নেই”একথা শুনে সাদ লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠলেন এবং দৌড়েযুদ্ধের ময়দানে হারিয়ে গেলেন। একটু পর শোনা গেল,লোকেরা বলছে সাদ আহত হয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম দৌড়ে গেলেন সাদকে দেখারজন্যে। তিনি খুঁজতে লাগলেন, তিনি যুদ্ধাহত সাদেরমাথা নিজের কোলে রাখলেন, প্রিয় নবীজীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চোখের অশ্রুসাদের মুখমণ্ডলে পড়তে লাগল, নবীজী কাঁদতে শুরুকরলেন। একটু পর তিনি হাসতে শুরু করলেন, এরপর তিনিতাকালেন।❒ এ অবাক করা ঘটনার সময়ে সেখানে একজন সাহাবাছিলেন, যার নাম ছিল আবু লুবাবা, তিনি বলেন, “ইয়ারাসুলুল্লাহ! আমি আজ আপনাকে এমন এক অবস্থায়দেখলাম যা আমি আগে কখনো দেখিনি, প্রথমে আপনিকাঁদলেন, এরপর হাসলেন এরপর আপনি দৃষ্টি ফিরিয়েনিলেন”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবলেন, “আমি কাঁদলাম কারণ আমার প্রিয় একজন সাহাবীমৃত্যু বরণ করল, আমি দেখলাম সে আমার জন্যে কতটুকুভালোবাসা সঞ্চিত করে রেখেছিল, আমি দেখলাম তাঁরত্যাগ। কিন্তু যখন আমি দেখলাম আল্লাহর নিকট হতে তাঁরজন্যে কি অপেক্ষা করছে, সে হ’দ এ পৌঁছে গেছে”। আবুলুবাবা বলেন, “হ’দ কি?” ।“এটা জান্নাতের এমন একটিঝর্ণা যেখান থেকে কেউ পান করলে আর কখনো তৃষ্ণার্তহবে না”, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউত্তর করলেন, “এটা মধুর চেয়েও মিষ্টি আর দুধের চেয়েওসাদা, আর আমি যখন দেখলাম আল্লাহর নিকট তাঁরমর্যাদা কিরূপ, আমি হাসতে শুরু করলাম। এরপর আমি আরওদেখলাম জান্নাতে তাঁর জন্যে অপেক্ষমাণ স্ত্রীগণসাগ্রহে দৌড়ে ছুটে আসছে, যখন তাঁদের পায়েরগোঁড়ালি আমার নজরে আসল, তখন আমি দৃষ্টি ফিরিয়েনিলাম”।এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসাহাবাদের নিকট আসলেন এবং সাদের তরবারী এবংঘোড়া নিয়ে আসতে আদেশ করলেন। তিনি এগুলো সাদেরস্ত্রীকে উপহার দিলেন এবং জানিয়ে দিলেন এগুলোতোমার উত্তরাধিকার। এবং আরও জানালেন, আল্লাহজান্নাতে সাদকে যে স্ত্রীদের সাহচর্য দান করেছেনতাঁরা আরও অনেক বেশি সুন্দরী।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সা’দ আল আসওয়াদ আল সুলুমি ( রাঃ) এর ত্যাগস্বীকারের ঘটনা--------------

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now