বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টুং টুং টুং
এই সকালবেলা মোবাইলটা খুব প্যারা দিচ্ছে আনিম কে।
মোবাইলটা বেজেই চলছে।
.
.
-হ্যালো,,,(আনিম)
-দোস্ত কই তুই?(সিয়াম)
-আমি চান্দে ফুটবল খেলি।তুই খেলবি??
-রাগ করছ ক্যান দোস্ত।তারাতারি আমার বাসায় আয়?
-এত সকালে।আমি পারমু না।ফোন রাখ।আমারে ঘুমাইতে
দে...
-দোস্ত প্লিজ আয়।তুই না আমার দোস্ত।প্লিজ আয়।
-কি হইছে সেইটাতো বল?
-আয় তারাতারি বাসায়।তারপর সব বলব।৫ মিনিটের মধ্যে
বাসায় আসবি
-ওকে দোস্ত।৫ মিনিট ওয়েট কর দশ মিনিটের মধ্যে
আসতেছি।
-আসার সময় অভি আর অনিক কেও নিয়া আসিস।
-এই সকালবেলা ওদের কই পাব?
-ওরা হলে আছে।ওখান থেকে ওদের পিক আপ করে নিয়ে
আয়।
-তুই না একটা পেইন।সারাদিন শুধু প্যারা দাও।
-আয় না দোস্ত।প্লিজ।।।
-হুম।ঠিক আছে।ফোন রাখ।
,
এতক্ষণ যাদের কথা হচ্ছিল,এরা হল সিয়াম আর আনিম।
এরা হচ্ছে বন্ধু।শুধু বন্ধু বললে ভুল হবে,এরা জানে জিগার
বন্ধু।এদের বন্ধুমহলে আরও দুজন আছে।তারা হল অনিক আর
অভি।কেউ কাউকে ছাড়া একমুহুর্ত থাকতে পারে না।
কারো কোন সমস্যা হলে সবার আগে ওরাই জানে।সবাই
একই কলেজে পরে।এই বন্ধুমহল কলেজের সেরা।
.
.
তবে এদের চারজনের ক্যারেক্টার পুরাই আলাদা।
,
#আনিম,কলেজের সবচাইতে ভদ্র ছেলে।সবসময় সবার
সাহায্য করে।বন্ধুদের বিপদে সবার আগে তাকেই দেখা
যায়।বন্ধুমহলে সবাই তার কখা মেনে চলে।পড়াশুনায়
ভাল।কলেজের সব মেয়েরাই ওর উপর ক্রাশ খায়।কিন্তু ও
কাউকে পাত্তা দেয় না।ও গ্রাম থেকে এসেছে।ওর বিষয়
টা কিছুটা রহস্যজনক।ওর আগের কোন ঘটনাই বাকিরা
জানেনা।কারো সাথে তার লাইফের এর কোন ঘটনা
শেয়ার করে নাই।এমনকি জানে জিগার বন্ধুরাও জানে
না।তারা শুধু জানে ও কোন গ্রাম থেকে এসেছে।
,
#অনিক ,খুব সাহসি একটা ছেলে।শহরের নামি ব্যবসায়ি
ওর বাবা।বন্ধুদের খুব ভালবাসে।কলেজে ওর বন্ধুদের কেউ
কিছু বললে তার খবর আছে।আনিমের বাসা শহরেই।তবুও
বন্ধুদের জন্য কলেজ হোস্টেলে থাকে।
,
#অভি,খুব বুদ্ধিমান ছেলে।ওর কাছ থেকে বুদ্ধি নিয়া
বাশ খায় নাই এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবে না।
তবে,বন্ধুদের কখনও খারাপ বুদ্ধি দেয় না।এর বুদ্ধি কখনও
বন্ধুরা নেয় নাই।এর গার্লফেন্ড এর অভাব নাই।
,
#সিয়াম , সারাদিন মোবাইল নিয়া পইরা থাকে।সারাদিন
শুধু ফেসবুকিং।তার উপরে ককোথাকার এক মেয়ের সাথে
এফ বি তে প্রেম করে।এর গফ এর সাথে ২৪ ঘন্টার ১৬
ঘন্টাই চ্যাটিং করে।
,
আনিম তাড়াতাড়ি উঠে,ফ্রেশ হয়ে অভি ও অনিক কে
নিয়ে সিয়াম এর বাসায় যায়।
,
-কিরে সিয়াম এত জরুরি তলব?(আনিম)
-তোরা সবাই বস।তারপর বলতেছি।(সিয়াম)
-তোর চোখ লাল কেন।সারারাত ঘুমাস নাই?(অনিক)
-দোস্ত।আমার সব শেষ।আমি আর বাচমু না,,,,,(কান্না
করতে করতে সিয়াম বলল)
-আরে ব্যাটা কান্দস ক্যান।আমরা কি মইরা গেছি।কি
হইছে সেইটা বল??(আনিম)
-আনিহার বিয়ে হইয়া যাইতেছে।আমি ওরে ছাড়া বাচমু
নারে দোস্ত,,,,(সিয়াম)
,
ঠাসসসসসসস।অনিক একটা কষিয়ে মারল সিয়ামের গালে
-কোন আনিহা?(আনিম)
-আরে আমার গফ আনিহা।(সিয়াম)
-ওওও।এফ বি তে যার সাথে পরিচয়।(আনিম)
-হুৃমমম।(সিয়াম)
-হারামি।আমরা কি মইরা গেছি।আনিহার বাসা কই?
(অনিক)
-রুপপুর।(কাদতে কাদতে সিয়াম বলল)
-কি!!রুপপুর!!!(আনিম)
-আবার কান্দে।থাপ্পর আরেকটা দিমু।(অনিক)
-বিয়া কবে?(অভি)
-পরশু দিন।(সিয়াম)
-কি করা যায় বলতো?(অভি)
-কি আবার করব।রুপপুর গিয়া আনিহারে তুইলা নিয়া আসব।
(অনিক)
-কি?রুপপুর চিন?রুপপুরে মানুষ দিনে দুপুরে খুন হয়।
ওখানকার মানুষ খুব বিপদজনক।ঐখান থেকে মেয়ে তুলে
আনা অসম্ভব।(সিয়াম)
-ঐ রুপপুর আমারে চিনাস।রুপপুরে আমার খালার বাসা।
আমার খালু ওখানকার একজন প্রভাবশালী।তার কথায়
রুপপুরের মানুষ উঠে আর বসে।আর আমার খালাত ভাই
আছে।তাকে বললে সেই কাজটা করে দিবেএখন টাকা দে
পাচ হাজার?(অনিক সিয়ামকে বলল)
-এত টাকা দিয়া কি করবি?(সিয়াম)
-ফুর্তি করব।হারামি,আমরা রুপপুর যাব,আমাদের খরচ আছে
না।মাইয়া তুইল্লা আনবা খরচ করবা না।তাতো হইব না।
টাকা দে?(অনিক)
-এই নে।আমার কাছে চার হাজার আছে।(সিয়াম)
-এইখানেও কিপ্টামি করবি।সালা ফকিন্নি(অনিক)
-তাহলে তো অর্ধেক সমস্যা সমাধান।চল তাহলে আজই
রুপপুর।এই ফাকে রুপপুর ঘুরেও দেখা যাবে(অভি)
-হুমমম।আমিও এখনও রুপপুর যাই নাই।এই ফাকে আমিও ঘুরে
আসব।(অনিক)
-কি?তুই এখনও রুপপুর যাস নাই?(সিয়াম)
-আরে ব্যাটা।ঐখানে আমার খালার বাসা।আমি ঐখানে
কখনও যাই নাই।দেখবি কত খাতির যত্ন করে।আর আমার
খালাত ভাইতো আছেই।
-তাহলে তো কোন সমস্যাই নাই(অভি)
-ওকে গাইছ।সবাই সন্ধা ৭ টার মধ্যে বাস স্টান্ডে চলে
আসবি।এখন যে যার বাসায় যা।(অনিম)
-সরি দোস্ত আমি তোদের সাথে রুপপুর যাইতে পারব না।
(আনিম)
-কেন?কি সমস্যা তোর??(অনিক)
-বন্ধুদের সমস্যায় যাকে সবার আগে দেখা যায় সে আজ
পিছু হটতেছে।কি সমস্যা কি তোর?(অভি)
-আমি যাইতে পারব না।আমার সমস্যা আছে।তোরা যা।
তাছারা অনিক তে আছেই।কোন সমস্যা হবে না।(আনিম)
-তোকে যেতেই হবে।তুই না গেলে আমরা কেউ যাব না।
(অনিক)
-প্লিজ।আমাকে জোর করিস না।(আনিম)
-তুই যাচ্ছিস এটাই ফাইনাল।তোরাও বাসায় যা।(অনিক)
,
সবাই বাসায় গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে,রেস্ট নিয়ে
সন্ধায় বাস স্টান্ডে গেল।
-কিরে আনিম আসছে?(অনিক)
-না।এখনও আসে নাই(অভি)
-ফোন দিছিলি??(অনিক)
-হুমম।ফোন ধরে নাই।(আনিম)
-দারা আমি ট্রাই করি।(সিয়াম)
,
-হ্যালো আনিম।কই দোস্ত?(সিয়াম)
-দোস্ত আমি দুঃখিত।আমি রুপপুর যাইতে পারব না(আনিম)
[অনিক সিয়ামের কাছ থেকে মোবাইল টা নিয়ে বলল]
-আচ্ছা তোর সমস্যা কি?(অনিক)
-কিছুনা।শরির টা খারাপ লাগতেছে।তোরা যা।আর তোর
তো খালু আছেই ঐখানে,কোন সমস্যা হবে না।ভাল
থাকিস।বাই(আনিম)
আনিম ফোন কেটে দিয়ে অফ করে দেয়।
অনিক সহ বাকিরা ভেবে পায় না আনিমের কি সমস্যা।
সকালেতো আনিম ঠিক ই ছিল।কিন্তু এখন।
,
-দাড়া,আমার খালাত ভাইয়ারে ফোন করে জানাইয়া
দেই।(অনিক)
,
মোবাইল বের করে অনিক রুপপুরে তার কাজিনকে ফোন
দিল।
-হ্যালো,ভাইয়া।কেমন আছেন?(অনিক)
-এইতো ভালো।তুমি কেমন আছ?(অনিকের কাজিন রিমন)
-এইতো ভালো।ভাইয়া আমি আর দুই বন্ধু কুমিল্লা
আসতেছি।(অনিক)
-আরে আস।তুমু ততো রুপপুরে আসলাই না।কখন রওনা
দিতাছো?(রিমন)
-এখনি রওনা দিতাছি।(অনিক)
-ওকে।আমি সকালে বাস স্টান্ডে তোমাদের জন্য
অপেক্ষা করব।(রিমন)
-ওকে ভাইয়া।(অনিক)
.
বাস ছাড়ল ৭ টায়।অনিক ভাবতেছে কি এমন সমস্যা যে
কারনে আনিম রুপপুর যেতে চাইছে না ।কোনতো রহস্য
নিশ্চই আছে।।না কিছু ভাবতে পারতেছে না অনিক।
সেই রহস্যটা জানতে হলে,
[২য় পার্ট এর জন্য অপেক্ষা করুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now