বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রূম্পা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। বই এর নেশা তো তার কমেইনি বরং দিন দিন বেড়েছে। এখানে এসে জানার আরও নতুন নতুন জায়গা তৈরি হয়েছে। রূম্পা অবাক হয় পৃথিবীতে এত কিছু জানার আছে! এত বই! সব পড়ে শেষ করা তো সম্ভব না! আহারে!
বই এর দোকানে গেলেই তার মাথা নষ্ট হয়ে যায়। মনে হয়, পুরো দোকান তুলে নিয়ে আসে। আর বইমেলা! সারা বছর ওই কয়েকটা দিনের জন্য চাতক পাখির মত অপেক্ষা! তারপর!
ঈদদদ!!! প্রায় প্রতিদিন মেলায় যাওয়া। নিজের পছন্দ মত বই কেনা আর বাকিগুলো ছুঁয়ে দেখা। অদ্ভুত এক অনুভূতি হয় তার... কেন যেন ওই বিচিত্র আলপনা আঁকা মলাটগুলোকে বড় আপন লাগে...
- ওই, এবার কয়টা বই কিনলি? ফাগুন রূম্পাকে জিজ্ঞেসা করে
- বিশটা!
কিইইই!!! আরে তুই বই খাস না পড়িস! চোখ কপালে তোলে ফাগুন
- তোর মাথা!
- আমি অবশ্য কিনছি কয়েকটা। দাঁড়া... এইবার তোর সাথে কম্পিটিশন দিব...
- যা... ফোট! এমনিতেই বহুত দূরে আসিস! রূম্পা দেঁতো হাসি দেয়
- সত্যি... দেখ আমি কি করি...জিতলে তোরে ফুচকা খাওয়াবো...
- তাহলে পকেট খালি করার জন্য রেডি থাক...
দুই বন্ধু প্রতিযোগিতায় নামে। একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! শেষমেশ ফুচকা রুম্পার পেটেই যায়। কারণ মেলার শেষদিন সে আরও পাঁচটা বই কিনে ত্রিশটা বই লিস্ট করে! আর ফাগুন ওইদিন জরুরী কাজে আটকা পড়ে নিজের পকেট ফাঁকা করার বন্দোবস্ত করে ফেলে।
*
ছোটবেলায় রূম্পার আব্বু একবার বলেছিল, বই এর মত বড় বন্ধু নাকি আর হয় না! সেই আব্বুর হাত ধরে রুপকথার সাদা পরী, নীল পরীর সাথে তার পরিচয় শুরু। তারপর কত নাম না জানা রাজ্যে ঘোরা! সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দেয়া। সময় পেরিয়ে কখনও শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে গুহায় লুকানো,
আবার কখনও বা সাগরের তলে ঘুরে বেড়ানো। এক বই সে একশ বার পড়েছে এমন নজিরও আছে! শান্তা পরিবারের সবাইকে যেমন চেনা মনে হয়, তেমনি যুদ্ধে প্রাণ হারানো ওই কিশোরটিকেও নিজের পরিবারের একজন লাগে। মাঝে মাঝে রোম্যান্টিক উপন্যাসের কোন নায়ককে দেখে ভাবে...
আহা! তার জীবনেও যদি এমন কেউ আসত! এ খুব অদ্ভুত এক জগত! যে জগতে সে নিশ্চিন্তে লাফ দেয়... সাঁতরে ফেরে... তুলে নিয়ে আসে নির্মল কিছু আনন্দ! কিছু বাস্তবতা!
রূম্পার যখন খুব মন খারাপ থাকে তখন সে তার সারি সারি করে রাখা বইগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন যেন তখন খুব ভাল লাগে। ওদের ছুঁয়ে দেখে... লাল, নীল, হলুদ... নানা রঙের আবরণগুলোর ওপর থেকে ধুলো সরায়...
পরম মমতায় আবার আগের জায়গায় তুলে রাখে। ওর খুব ইচ্ছে ওর একটা বিশাল লাইব্রেরি হবে... যেখানে হাজারও বই থাকবে...একসময় হয়ত সেখানে তার পা ফেলার জায়গা থাকবে না! মার্ক টোয়েন এর মত! রূম্পা আনমনেই হেসে ওঠে...
সে জানে না তার এই স্বপ্ন পূরণ হতে কতদিন লাগবে। বেশি দিন নিশ্চয়ই নয়। আর হ্যাঁ! ওর আম্মু কিন্তু এখন আর ওকে কিছুই বলে না। বরং আরও উৎসাহ দেয়! রূম্পা জানে, ভালবেসে মন থেকে কোন কিছু চাইলে তা একদিন অবশ্যই পূরণ হয়। রুম্পারও হবে...
হতেই হবে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now