বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
***
দুটি ছালা দিয়ে বানানো বিছানা। একটি চাদর এবং কাঁথার
কাজ করে, আরেকটি বালিশের। রুমির রাজকীয়
বিছানা। অনেক সময় পেটের তাগিদে নানান জায়গায়
চলে যায়। হয়ত সেখানেই রাস্তার একধারে, অথবা
পাইপের ভেতর পা গুটিয়ে শুয়ে পড়ে। তখন তাঁর
বিছানা-পত্র হাশেম মিয়ার টং দোকানে গচ্ছিত থাকে।
লোকটি মন্দ না। মাঝেমাঝে রুমিকে বন রুটি আর
আধ কাপ চা খেতে দেয়। বেচারা হাশেম মিয়া,
নিজেরই পেট চালানো দ্বায়, সেখানে রুমিকে
খাবার দেবে কী? তবুও রুমির গড়া ভালমানুষের
তালিকায় হাশেম মিয়া আছে।
রুমির তৈরি একটি কৃপণ মানুষের তালিকাও আছে। সেই
তালিকায় সবচেয়ে উপরের কাতারে আছে জয়নাল
সরকার। মাটির ভাস্কর্য’র দোকানী। কত্ত রকম
কারুকার্য করা জিনিস পত্রে যে বোঝাই এই
ব্যাক্তির দোকান। একদিন কথায় কথায় ছোট্ট
পরী’র মূর্তি হাতে নিয়ে বলেছিল রুমি,
“আমারে এইটা দিবেন?”
জয়নাল সরকার চোখ গরম করে তাকিয়ে মুখ খিঁচে
শুধু বলেছিল,
“যাহ্! ভাগ এখান থেকে!”
সেদিনই রুমি প্রতিজ্ঞা করেছিল। হলদে রঙা মাটির
পরী সে নেবেই। যেভাবেই হোক! নিয়ে
কী করবে ভাবেনি। বিক্রি করে দিতে পারে।
একবেলা খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়ে গেল।
এখন অবশ্য উদ্দেশ্য পাল্টে গেছে। পরীটি
নিতে পারলে, পারুল আপাকে দিবে। সবখানে
ব্যার্থ হয়ে যখন ঘাড় নুইয়ে পরাজিত সৈনিকের মতন
পারুল আপাদের উঠোনের কোণে যেয়ে
দাঁড়ায়, ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে পারুল আপা বলে
উঠে,
“রুমি এসেছিস? আয়, ভাত খাবি আয়।”
এই জগৎ এ এখনও এমন মানুষ আছে?! বিশ্বাস
করতে কষ্ট হয় রুমির। একটি অনাথ, রাস্তার
ছেলের জন্য কত মমতা এক অপরিচিতা নারীর
মনে!
প্রায়ই রুমি নিজে নিজের কান মলে দেয়। কিভাবে
পারুল আপার শাড়ি চুরি করার দুঃসাহস দেখাল সে! এটা
ভেবে ভীষণ রাগ হয় নিজের উপর। আবার
শান্তনাও পায়, সেদিন যদি শাড়ি চুরি করতে না যেত,
নিশ্চয় পারুল আপার সাথে দেখা হত না। পৃথিবীর
প্রতিটি ঘটে যাওয়া ঘটনার পেছনে কারণ থাকে।
সেটি যত ক্ষুদ্র কারণই হোক না কেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now