বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে।ব্যস্ত
নগরীর মানুষ গুলো যে যার মত করে আপন মনে ছুটছে।
তাওহীদ খুশি মনে বাসায় ফিরছে।কারণ আজ চাঁদ উঠলেই
কাল থেকে রোযা রাখতে পারবে।সন্ধার পর সকলের মনে
খুশির আনন্দ বইছে।কারণ কাল থেকে রোযা।মুসলমানদের
সব চেয়ে শান্তির মাস, আমল করার মাস, গুনাহ মাফের
মাস।যত রকমের রহমত আছে আল্লাহ তায়ালা এই মাসে
দান করেছেন।আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের উপহার
প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিদেরকে নিজ হাতে দিবেন।এটা
আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা।
.
তাওহীদ বাসায় পৌছে কলিং বেল বাজাতেই মাওয়া
দরজা খুলে দেয়।বোনকে দেখে, সে একটু অবাক হয়।কারণ
প্রতিদিন ফারাহ দরজা খুলে।কিন্তু আজ খুলল না।ভিতরে
এসেই তাওহীদ বলে
- তোর ভাবি কই?
অগ্নিচোখে তাকিয়ে মাওয়া বলে
- বউ এর জন্য কত দরত! কষ্ট করে দরজা খুললাম আমি।কই
আমাকে ভাল-মন্দ কিছু বলবে, কিছু দিবে।না উনি বউ এর
খোঁজ করছেন, দরত দেখাচ্ছেন হুহ
- ও তাই তো! সারাদিন কি করলি! কয়টা সিরিয়াল দেখে
শেষ করলি? ভাবিকে কতটুকু জ্বালিয়ে মারলি?
- কিহ! আমি সিরিয়াল দেখি! ভাবিকে জ্বালিয়ে মারি!
আল্লাহ তুমি আমারে কোন ভায়ের সাথে থাকতে দিলা?
যাও তোমার সাথে কোন কথা নাই।
এক দমে কথাগুলো বলে, অভিমানে মুখটা অন্যদিকে
ফিরিয়ে নেই।
- ও বাবা আমার বোনটা দেখা যা অভিমানও করতে
পারে।
- হুহ(একটা ভেংচি দেয়)
ব্যাগ থেকে আইসক্রীম বক্স বের করে তাওহীদ বলে
- আচ্ছা এই আইসক্রীম বক্সটা প্রতিদিন কে যেন খায়?
রাগ-অভিমান ভুলে ভাইকে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খেয়ে
মাওয়া বলে
- একটা আইসক্রীমের পোকা খায়।
বক্সটা নিয়েই নিজের রুমে দৌড় দেয়।তাওহীদ আর কোন
প্রশ্ন করতে পারেনি।ফারাহকে এখনও সে দেখতে
পায়নি; অথচ প্রতিদিন কলিং বেল টিপ দিতে দেরী হয়
কিন্তু তার খুলতে দেরী হয় না।
•
ফারাহ দরজা বন্ধ করে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কাঁদতে ছিল।দরজায় টুকা পরতেই কান্নাটা একটু থামে।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে।তাওহীদ ওর দিকে বিস্ময় ভরা
চোখে তাকিয়ে থাকে।কারণ কান্না করতে করতে নাক-
মুখ-চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।ফারাহ অবুজ শিশুর মত
তাওহীদের দিকে একবার তাকায়।তারপর কোন কথা না
বলে আবার খাটে বসে কাঁদতে শুরু করে।তাওহীদ নীরব
দর্শকের মত দাঁড়িয়ে দেখেই চলেছে, কিছু বলতে পারছে
না।কারণ সে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।তাদের বিয়ের
আট-নয় মাস চলছে।কিন্তু ফারাহর এরুপ কখনও দেখেনি।
তাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।
.
আস্তে আস্তে ফারাহর পাশে গিয়ে বসে।তারপর দুই
হাতে ওর মুখটা তুলে তার দিকে ফিরায়।দুই হাতে চোখের
পানি মুছে দিতেই; তাওহীদকে জড়িয়ে ধরে আবার
কাঁদতে শুরু করে।কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়।তখন তাওহীদ
বলে
- কি হয়েছে?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফারাহ বলে
- আমি রোযা রাখতে পারি না।
এমন কথা শুনে, চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে
থাকে।
- তার জন্য কাঁদতে হবে?
- উহুম এর জন্য না।
- তাহলে রোযার সাথে কান্নার কি সম্পর্ক?
- কয়েকদিন ধরে মাওয়া রোযা নিয়ে কথা বলছে।এবং সে
নাকি দুই বছর ধরে সব রোযা রাখে! কিন্তু আমি!
- কিন্তু তুমি কি?
- আমি তো এখন পর্যন্ত একটা রোযাও রাখেনি।আমি না
রোযা রাখতে পারিনা।
এই কথা শুনার পর তাওহীদের জ্ঞান হারানোর মত
অবস্থা।
- কি বললে?
- হ্যাঁ সত্যিই। তাই তো কাঁদতেছি।আপনারা রোযা
রাখবেন।আর আমি রোযা না রেখে কিভাবে থাকব? ওর
কথা শুনে আমার কি যে সরম করতেছিল।
তাওহীদ মুচকি হাসল।
- মাওয়া কি আরও কিছু বলেছিল?
- হুম।তখন মনে মনে বলছিলাম সে যেন আমাকে রোযা
নিয়ে কোন প্রশ্ন না করে।হঠাৎ সে বলে, আচ্ছা ভাবি
তুমি কত বছর থেকে রোযা রাখ।এই প্রশ্ন শুনে আমি তো
শেষ!
- পরে তাকে কি বলেছ?
- আমি বলেছি, সাত বছর থেকে রোযা রাখি।ওর কাছে
সত্যটা বলতে লজ্জা লাগছিল।তাই মিথ্যা বলেছি; এখন
নিজের প্রতি রাগে অভিমানে নিজেই কাঁদতেছি।
- ও আচ্ছা
- বলেন না কি করব!
শয়তানি হাসি দিয়ে তাওহীদ বলে
- একটা কথা বলি
- বলেন
- মাওয়ার আড়ালে খেয়ে নিবে, তাহলে সে দেখবে না।
এবং তোমারও কষ্ট হবে না।
- আমাকে নিয়ে মজা করছেন।
- মজা করব কেন?
কেঁদে কেঁদে বলে
- আমি ছোট বাবু না, আমি রোযা রাখতে পারি না বলে
কথাটা শেষ করতে পারেনি; তার আগেই তাওহীদ কপালে
চুমু বসিয়ে দেয়।
•
এহেম এহেম করে মাওয়া কয়েকটা কাঁশি দিয়ে বলে
- এত আদর-ভালোবাসা কিন্তু ভালো না।
কথাটা শুনে, ফারাহ অনেক লজ্জা পায়।তারপর সে বলে
- দরজায় নক না করে কারো রুমে ডোকাও কিন্তু ভালো
না।
অভিমান করে মাওয়া বলে
- ঠিক আছে, ঠিক আছে।কারো রুমে না ডুকলে আমার
কোন আসবেও না, যাবেও না।
রাগ করে মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয়।
- ওরে বাবা! আমার ননদীনির এত অভিমান কোথা থেকে
এলো?
- হুহ(ভেংচি দিয়ে) আমার অভিমান নেই।
মাওয়াকে জড়িয়ে ধরে গাল টেনে চুমু খেয়ে সে বলে
- অভিমান কমেছে?
ফারাহ ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেই; তার রাগটা
কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
মুখে হাসি নিয়ে মাওয়া বলে
- আইসক্রীম খাবে?
- কিহ! আইসক্রীম?
- হুম ভাইয়া এনেছে।হা কর
ফারাহ হা করতেই সে খাইয়ে দিতে থাকে।তারপর সেও
মাওয়াকে খাইয়ে দিতে থাকে।
এতক্ষণ তাওহীদ তাদের খুনসুটি ভালোবাসা দেখছিল।
মনে মনে বলে, যেমন বউ চেয়েছিলাম আল্লাহ ঠিক তেমন
বউ দিয়েছে।এ-সব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখের কোণে
পানি ঝমেছে, বুঝতেই পারেনি।ফারাহর হাতের স্পর্শে
কল্পনা থেকে ফিরে আসে।তারপর তিন জনে মিলে
আনন্দ করে আইসক্রীম শেষ করে।
•
নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া করে রুমে আসে।তাওহীদেই
ফারাহকে নামাজ পড়া শিখায়।ফারাহ একটু আধুনিক
টাইপের মেয়ে ছিল।কিন্তু ওর সংস্পর্শে এসে সে একদম
পাল্টে যায়।ফারাহর মনে ভয়টা রয়েই গেল, কিভাবে সে
রোযা রাখবে।জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রাতের গাড়ি
গুলোর চলাফেরা দেখতে থাকে।হঠাৎ তাওহীদের হাতের
ছোঁয়া পায়।তাওহীদ বলে
- কি চিন্তা করছ?
- চিন্তা করছি রোযা কিভাবে রাখব
- খাটি নিয়ত কর, আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস রাখ।
তাহলে দেখবে, তুমি সব গুলো রোযা রাখতে পারছ।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফারাহ বলে
- আমি কি পারব?
- মন শক্ত কর, নিজের উপর ভরসা রাখ।
- সত্যি বলছেন তো
- সত্যিই বলছি।
- ফারাহ এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়েই থাকে।
তারপর সে তাওহীদের বুকে মাথা রেখে রাতের
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।তাওহীদের কথাতে, সে
মনে এক ধরনের শক্তি পেয়েছে।এক ধরনের সাহস
পেয়েছে।
.
সেহেরীর সময় উঠে, খাবার খেয়ে নামাজ কালাম পড়ে
একটু সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে।সকাল থেকে নানান কাজ
করে কখন যে সময় চলে গেল বুঝতেই পারেনি।তবে তার
একটু কষ্ট হয়েছে।ইফতারের সময় সকলে মিলে ইফতারি
করে।রাতে শুয়ে থেকে ফারাহ বলে
- জানেন! আজ রোযা রেখে কতটুকু ভাল যে লাগছে তা
বলে বোঝাতে পারব না।কখনও এমন শান্তি লাগেনি;
ভালো লাগেনি।
কখন যে ফারাহর চোখ থেকে পানি পড়ে যায় বুঝতেই
পারেনি।তাওহীদ চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে
- আমি শুধু তোমাকে দুনিয়াতে নয় জান্নাতেও চাই।
ফারাহ কি বলবে! তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।
এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে, তার মনের মাঝে
একটা শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
•
এভাবে দেখতে দেখতে ৩০ টা রোযা চলে যায়।ফারাহর
প্রথম কয়েকদিন একটু কষ্ট হয়েছে।তারপর স্বাভাবিক হয়ে
যায়, কষ্ট অনুভব করেনি।কিভাবে দিন গুলি চলে গেল
বুঝতেই পারেনি।মনে মনে বলে, কেন যে ছোট থেকে
রোযা রাখলাম না।যদি রাখতাম তাহলে আরও কত নেকী
পাইতাম! নিজে নিজে বলে আর কাঁদে।
.
আজ আবার চাঁদ উঠেছে।ছোট-বড় সবার মনে আনন্দের
বন্যা বইছে।কারণ ঈদের চাঁদ উঠেছে।ফারাহ ও মাওয়া
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের চাঁদ দেখছে।মাওয়া বলে
- ভাবি চল মেহেদী লাগিয়ে দিবে
- নিয়ে আসো।
ফারাহ মনের আনন্দে মেহেদী লাগাচ্ছে।তার মনে এমন
আনন্দ আগে কখনও অনুভব করেনি।যেটা সে আজ অনুভব
করছে।
•
আজ ঈদ, আজনের দিনটা তার জীবনের শ্রেষ্ট দিন মনে
হচ্ছে।মনে এক অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করছে।তাওহীদ
নামাজ পড়তে মাঠে চলে যায়। মাওয়া ঈদের সালামী
নিয়ে নিজের রুমে যায়।ফারাহ নীল আকাশের দিকে এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আর সাথে মুখে মুচকি হাসি
লেগে থাকে।
.
বিঃদ্রঃ এই গল্পটা নিয়ে অনেকে হাসি-ঠাট্টা করবেন,
আবার অনেকে মজা করবেন।তাদেরকে বলছি- এমন অনেক
ছেলে-মেয়ে আছে, যারা রোযা রাখে না।ছোট থেকে
রোযা রেখে অভ্যাস করে না।আমি নিজে এমন অনেককে
দেখেছি।তারা ছোট থেকে রোযা রাখেনি।এবং বড়
হয়েও রোযা রাখেনি; বরং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে
রোযা ভেংগেছে।তারপর তারা লজ্জায় পরে রোযা
রাখা আরম্ভ করেছে।অনেকেই আছে পরে অনেক কারণে
রোযা রাখতে শুরু করে।
•
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now