বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

" রোদেলার ভালবাসা "

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X গত বছর ২০১১ এর ১৪-ই ফেব্রুয়ারির আগের দিন রাতুল আমাকে ফোন দিয়ে বলল,কিরে কালকে বের হবি না ? আমি বললাম, আমার জ্বর আসছে , জ্বর কমলে বের হব । রাতে নাপা খেয়ে শুয়ে পড়লাম , সেই পুরনো অভ্যাস কানে হেড ফোন গুঁজে দিয়ে ঘুমালাম। সকাল ৯ টায় ঘুম থেকে উঠে দেখি বাহ জ্বর কমে গেছে আর হেড ফোনটা তখনও আমার কানে বাজছিল। লাল টকটকে একটা পাঞ্জাবি পরে বাসা থেকে বের হলাম । রাতুল , মামুন আর পিয়াস ছিল ধানমণ্ডি লেকের নেসক্যাফেতে । গিয়ে দেখলাম, নোয়াখাইল্লা রাতুল ডন এর মত ভাবনিয়ে সিগারেট টানছে , মামুন আর পিয়াস হাতে লাল গোলাপ নিয়ে বসে আছে। টিনের চালে কাক আর আমি তো পুরাই অবাক!! শালারা গার্ল ফ্রেন্ড বানাই ফেলছে একদিনের মধ্যে !! ওদের সামনে গিয়ে বললাম ,কিরে ভাবীরা কই ? আমার কথা শুনে মামুন আর পিয়াস মনে হল আকাশ থেকে পড়ল । পিয়াস বলল,ঐ শালা বউ পামু কই থেকে? মামুন বলল ,এই দুনিয়ায় যেই মেয়েরে জিগাই সেই মেয়েই এঙ্গেজ আর যেই পোলারে জিগাই সেই বলে আমি সিঙ্গেল ! কি করুম তোরাই বল ? এইবার ডন রাতুল মুখ খুলল,দোস্ত ব্যাচেলর লাইফ খারাপ না । আমি বললাম, তা তোরা গোলাপ পাইলি কই থেকে ? মামুন বলল,অনেকগুলো ছেলে- মেয়ে আজকে সবাইকে তাজা গোলাপ দিচ্ছে। যার ভাল লাগছে সে কিনছে ,আর শুনলাম ঐ ছেলে-মেয়েরা সেই ফুল বিক্রির টাকা গরীব মানুষদেরকে দিবে । তাই কিনলাম আমরা । কি আর করব শেষমেশ গোলাপ মেসে নিয়ে যামু , টাকা কি গাছে ধরে যে নষ্ট করুম !! আমি রাতুল কে বললাম, কিরে ডন তুই গোলাপ কেন কিনলি না তোর জাংলি বিল্লির জন্য ?? রাতুল হাসে আর আমাকে বলে, আমার তো জাংলি বিল্লি আছে আর তোর তো কেউ নাই। আর তুই ভুলেও গোলাপ কিনিস না আর কিন্না কি করবি ? যদিও তোর তো ফুল কিনতে ভাললাগে না। আমি বললাম – হারামি খোঁচা মারস কেন ? দোস্ত কোনদিন কারো জন্য ফুল কিনে নাই... স্পেশালী টকটকে লাল গোলাপ। সত্যি বলতে কারো জন্য কেনার সৌভাগ্য এখনও হয় নাই... তাই কিনতে পছন্দ করি না । এই কথা বলতে না বলতেই মামুন বলে ,দোস্ত দেখ গোলাপ আসতেছে তোর দিকে । ঘুরে তাকাতেই দেখি একটা লাল টি-শার্ট আর জিন্স পড়া অনেক সুইট একটা মেয়ে আমার দিকে একটা গোলাপ নিয়ে আসছে । কাছে এসে বলল,এক্স কিউজ মি ভাইয়া প্লিজ গোলাপটা নিন । আমি কেন যেন গোলাপটা হাতে নিলাম । মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা আজকে সবাইকে গোলাপদিচ্ছেন কেন ? মেয়েটা বলল – আমরা ভালবাসার এইদিনে শুধু নিজেদের ভালবাসা নিয়ে বিজি থাকি , নিজেদের জন্য অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করি কিন্তু গরীব মানুষদের কথা তো আমরা একবারও ভাবি না। শুধু নিজেদের মধ্যে ভালবাসা সীমাবদ্ধ না রেখে সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেবার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , বুয়েট আর ইডেনের কিছু ফ্রেন্ডসরা মিলে আমরা আজকে সবাইকে তাজা গোলাপ দিচ্ছি আর এখান থেকে যেই টাকা আমরা পাব তা অসহায় মানুষদের মাঝে দিয়ে দিব । আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ও অনেক সুন্দর করে আর ফিল দিয়ে কথাগুলো আমাকে বলছিল।আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তা ফুলের জন্য কত দিতে হবে ? -আপনার যা ইচ্ছা আমি তাকে গোলাপের জন্য ১০০ টাকা দিলাম, সে সুন্দর একটা হাসি দিল । - থানক্স , আপনার ভালোবাসার দিনটা ভালোবাসার মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কাটুক । ও কথাটা বলে চলে যাচ্ছিল... আমি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলাম-,আপনার নামটা জানতে পারি ? -রোদেলা । রোদেলা রাত্রি । থানক্স… ওরা সবাই চলে গেল । আমি গোলাপ হাতে তাকিয়ে ছিলাম । পিয়াস পিছন থেকে আমাকে বলল - শালা আমরা কইলে আমাগো তো কিছু খাওয়াও না আর মাইয়া একটা হাসি দিয়া গোলাপ দিল আর তুমি ১০০ টাকা দিয়াদিলা ,রোমিও সাজো তাই না রোমিও !!! আবার নাম জিগাও... “রোদেলা” [ তখনও কি জানতাম এই মেয়েটাই আমার জীবনের সব বৃষ্টি ভেজা পথগুলো তার রোদের আলোয় রোদেলা করে দিবে ...] কি আর করা হারামি দোস্তগুলারে সেদিন বাধ্য হয়ে ট্রিট দিলাম । এই ঘটনা ঘটে যাবার পর একদিন বৃষ্টির মধ্যে রিক্সায় করে আজিমপুরে যাচ্ছি ফুপুর বাসায়। ফুপাতো ভাইয়ের কাছ থেকে মুভি আনতে । আজিমপুর কলোনিতে থাকে মেঝফুপু । নিউমার্কেট এরিয়া ক্রস করে যেই ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে যাচ্ছি দেখি অনেকগুলো মেয়ে একসাথে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে গোলাপ কিনছে। ভাবলাম একটু ফাইজলামি করি। রিক্সাওয়ালা কে বললাম, ভাই ওদের কাছ দিয়ে আস্তে আস্তে যান , যা বলা তাই কাজ করল রিক্সাওয়ালা। যেই ওদের কাছে গিয়ে কিছু একটা বলতে যাব তখনই একটা মেয়ে বলে উঠলো, এই কেউ আমার ফুলে হাত দিবি না! এইটা অনেক বেশি সুন্দর ।এবারও আমি অবাক !! আরে এ দেখি রোদেলা ! রিক্সা থামিয়ে সাহস করে ওর নাম ধরে ডাক দিলাম। এবার ওর সব বান্ধবীরা অবাক হয়ে আমার রিক্সার দিকে তাকিয়ে ছিল । ও ভিড়েরমধ্যে থেকে মাথা বের করে বলল ,আরে আপনি !! আমি রিক্সা থেকে নেমে বললাম আমাকে চিনসেন? -হ্যাঁ, লাল গোলাপ লাল গোলাপ !!!! আমি লাল গোলাপ না ! আরিয়ান । আমার নাম অরণ্য আরিয়ান । -সরি ! আসলে নাম তো জানি না । ঐ যে ভ্যালেন্টাইন ডে-তে আপনি লাল গোলাপ কিনেছিলেন তাই বললাম , তা আপনি কেমন আছেন? জি ,ভাল । আপনি ? -এইতো এখন যেমন দেখছেন তেমনি সবসময় থাকি । অনেক প্রানবন্ত আর হাসি-খুশি তাই না ? আচ্ছা আপনি কি ইডেনে পড়েন? -হ্যাঁ, কোন সাবজেক্টে ? - রসায়ন । ভাল । আচ্ছা আপনি কোন ইয়ারে পড়েন ? -ফার্স্ট ইয়ার । তা আপনি এইখানে ,যাচ্ছেন কোথাও ? হ্যাঁ মেঝ ফুপুর বাসায় মুভি আনতে । -সারাদিন বুঝি মুভি দেখেন তাই না !! না । তবে দেখি, অনেক মুভি দেখি । -ও সরি সরি !! আপনি কোথায় পড়েন তা তো জানা হল না ...! আমি ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকে CSE তে পড়ি । -তা মশাই কোন সেমিস্টার ?? (একটা হাসি দিয়ে আর একটু দুষ্টু ভাবে ) জি 4th সেমিস্টার । এতোগুলো কথা আমারা দুইজন অজানা মানুষ বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই বলছিলাম। হঠাৎ কি যেন মনে হল আর ওকে বললাম , আমরা কি বৃষ্টিতে ভিজেই কথা বলব ? সবাই মিলে কোথাও বসে চা অথবা কফি খাই ...? -না । আজকে না । আরেকদিন। ওর বান্ধবীগুলো এইবার আর অবাক না হয়ে বলল হ্যাঁ ভাইয়া চলেন সবাই মিলে গরম গরম কফি খাওয়া যাক । একটা রেস্তোরাতে গিয়ে সবাই বসলাম। কফি খাওয়ারপর যখন ওরা চলে যাবে তখন আর একবার সাহস করে বললাম, রোদেলা , আপনার ফেসবুক আইডিটা দেয়া যাবে ?? আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা তার আইডিটা দিল আর বলল,আপনাকে আমার আইডিটা আসলে দিতাম না কিন্তু আপনার রোদেলা বলে ডাকার ধরণ টা আমার খুব ভাল লাগসে তাই দিলাম। রাতে বাসায় আসার পর যখন ফেবুতে বসলাম তখন রোদেলাকে ফ্রেন্ড রিকু পাঠালাম আর একটা মেসেজ দিলাম... “ লাল গোলাপ...... ARiyan” পরদিন দেখি ও রিকুয়েস্ট এক্সসেপ্ত করেছে আর সাথে একটা মেসেজ দিয়েছে “ কেমন আছেন ?” তারপর তাকে রিপ্লাই দিলাম ।এভাবে আমাদের মাঝে কথা চলছিল। প্রায় কথা হত আমাদের । ও রাত ১০ টায় আসতো ফেবুতে । ওর বাবা নাকি ওকে বকা দিত রাতে কম্পিউটারের সামনে বসলে ।তাই যখন আঙ্কেল ঘুমিয়ে পরত তখন ও আসতো। আমরা অনেক্ষন কথা বলতাম প্রায় রাত ২-৩ টা পর্যন্ত । অনেক দিন ধরে কথা বলছিলাম আমরা । একসময় আপনি থেকে তুমি । তারপর আরও একবার দেখা করলাম আমরা সেই ইডেনের সামনে । ও অনেক লাল গোলাপ পছন্দ করত আর আমি অতটা পছন্দ করতাম না । রোদেলা একসময় বুঝে গেল এই ব্যাপারটা । আমাকে ও প্রায় বলত, তুমি দেখতে অনেক বাচ্চা বাচ্চা , কিউট বাচ্চা । দাঁড়ি রাখ তাহলে ভাল আর একটু বয়স্ক বয়স্ক লাগবে । ওর আর আমারমাঝে অনেক মিল খুঁজে পেলাম । তারপর ভাল লাগা । কিন্তু ও আমার সাথে দেখা করতে চাইত না , ও কেন জানি বারবার বলত, “আমি জীবনে কোন ভুল করতে চাই না !” একটা মজার বিষয় কি এতো কিছু ঘটে গেল তাও কিন্তু আমি ওর মোবাইল নাম্বারটা জানতাম না । অনেকবার চেয়েছি কিন্তু সে দিতে চাইত না। পরে আর আমিও জোর করতাম না । একসময় বুঝতে পারলাম ,আমি ওকে ভালবাসতে শুরু করেছি । এবার আর সাহস পাচ্ছি না এই কথাটা বলার -“আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি” যদি সে না করে দেয় এই ভয়ে । মাঝে আমি হঠাৎ অনেক অসুস্থ হয়ে পরলাম । আমার অনেক জ্বর আর ঠাণ্ডাতে নিউমোনিয়া হয়ে গেল। হসপিটালে ভর্তি ছিলাম তাই কম্পিউটারের সামনে অনেকদিন বসতে পারছিলাম না আর ফেবুতেও ওর সাথে কামিউনিকেট করতে পারছিলাম না । রোদেলার সাথে কথা বলতে না পেরে আমা রঅনেক খারাপ লাগছিল । কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন রাতে একটা আননোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বারে কল আসলো । হ্যালো -তোমার কি হইছে , আর তোমার সমস্যা কি ফেসবুকে আসো না কেন ?আমি তোমাকে কতগুলো মেসেজ দিছি সেগুলোর রিপ্লাই দিলা না কেন? সরি আসলে আমি চিনতে পারছি না । কে আপনি ? -আমি কে মানে ? আমি তোমার রোদেলা । [ এইবার আবারো টিনের চালে সত্যি সত্যি কাক আমি পুরাই অবাক] আমার রোদেলা মানে ??!! তুমি আমার নাম্বার কোথা থেকে পেয়েছ ? -তোমার ফেবু আইডি থেকে নিয়েছি । তোমার কোন খোঁজ নাই তাই বাধ্য হয়ে আমি কল দিলাম । আমি অনেক অসুস্থ ছিলাম তাই ফেবুতে যেতে পারি নাই । আর তাই দেখিও নাই যে তুমি আমাকে মেসেজ দিছো আর তুমি খুব ভাল করে জানো আমি মোবাইল দিয়ে ফেবু ইউজ করি না। আমি তোমার কাছে কতবার তোমার নাম্বার চাইছি । তুমি একবারও আমাকে দেও নাই । আর এখন বলছ ,আমি কোথায় ছিলাম...... , মেসেজের রিপ্লাই দাও নাই কেন ?? ইত্যাদি ! -সরি । আমার ভুল হইছে । তোমার কি তোমার এখন কি অবস্থা ? আগের থেকে অনেক ভাল । -যাক সুস্থ হইস । আল্লাহ রহমত করছে। ঔষধ ঠিক মত খাবা । ভাল কথা শোন, তুমি আমার সাথে ২৩ তারিখ দেখা করবা... বুজচ্ছো!! পারব না ।আমি যখন বলি তোমাকে আসতে তখন তো তুমি আসো না। আমাকে তোমার কি দরকার ? তুমি তোমার গোলাপ নিয়ে থাকো আর ২৩ তারিখ কি যে আমাকে দেখা করতে হবে? -কি আমি গোলাপ নিয়ে থাকি ?!! যাও আসতে হবে না। আর আমাকে ভুলেও কল দিবা না...বুঝচ্ছ ?? বুঝেছি । কিন্তু ২৩ তারিখ দেখা করবা কেন ? -আগে আসো তারপর বলব ।যেহেতু শরীর খারাপ তাই ইডেনের সামনে আসতে বলব না । নেসক্যাফেতে আসবা। আসার আগে আমাকে কল দিবা , ওকে ? আচ্ছা বাবা । আমি জানতাম ২৩ তারিখ তোমার জন্মদিন , তাই তুমি আমাকে আসতে বলেছ। ২৩ তারিখ তুমি যখন নেসক্যাফেতে আসলে তখন তুমি একটা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে আসলে । হাতে লাল কাঁচের চুড়ি আর কপালে একটা লাল টিপ । অসাধারণ লাগছিল তোমায় । আমি মনে মনে ভাবছিলাম ,এই মানুষটা যদি আমার পাশে সারা জীবন থাকতো !! যখন তোমার সামনে গেলাম বরাবরের মত আমার হার্ট বিট বেড়ে গেল , জানি না কেন এমন হয় ?? - আজকে কেন আসতে বলেছ ? একটা হাসি দিয়ে রোদেলা বলল... - কিউট বাচ্চাটাকে অনেকদিন দেখি না। তাই তোমাকে দেখার জন্য আসতে বলছি । আমাদের সামনে দিয়ে তখন একটা ছোট্ট মেয়ে অনেকগুলো লাল গোলাপ নিয়ে যাচ্ছিল। আমি জানি তুমি মনে মনে চাচ্ছিলে আমি তোমাকে ফুল কিনে দেই। আমার চোখের দিকে একবার তুমি তাকালে আর একবার ছোট্ট মেয়েটার ফুলের দিকে । আমি হাসলাম ।আর বললাম, - গোলাপ কিনে দেই ... তুমি বললে ,আমি জানি তুমি ফুল কেনা পছন্দ করো না, তাও কেন লোক দেখানো কথা বলতেস ?? আমি আবারও হাসলাম... তুমি ছিলে সামনে ভাবছিলাম তোমায় একবার ছুঁয়ে দেখব কিনা , কিন্তু ভয় হয় যদি কোন ভুল করি … তখন একটা গান বার বার মনে পরছিল... “Abhai tue saamne Tujhe chhoo loon zaraa Mar jaaoon yajee loon zaraa Khushiyaan choom loon Yaa roloo'n zaraa Mar jaaoon yajee loon zaraa আমার একটা হাত যে পিছনে ছিল সেটা তুমি অনেকবার দেখছো । কিন্তু কোন কিছুই ইচ্ছে করে বলো নাই । আমি কোন কথা বলছিলাম না দেখে তুমি রাগ করে রাস্তার ওপাড়ে চলে গেলে। আমি তোমার নাম ধরে ডাকলাম "রোদেলা" তুমি একবারও পিছনে ফিরে তাকালে না । এইবার আর ভুল করলাম না অনেক সাহস নিয়ে বললাম “রোদেলা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি, অনেক । ” আমার মনে হয় তুমি এই কথাটার জন্যই অপেক্ষা করছিলে । দৌড়ে এসে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলে তুমি আমার বুকে। আমি তখনও কিংকর্তব্য-বিমুঢ় । কি করব, কি বলব কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। তুমি তখনও পাগলের মত আমার বুকে মুখ ঘষে যাচ্ছিলে। তারপর মনে হল শার্ট ভিজে যাচ্ছিল... তোমার মুখটি কোন মতে দু হাতে তুলে আমি দেখলাম তুমি অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছে। ছোট্ট একটু হাসি হেসে তোমার কাছে জানতে চাইলাম, কি, এখন লজ্জা পাচ্ছো না, দুনিয়ার সবাই তো হা করে তাকিয়ে দেখছে। -দেখলে দেখুক,... লক্ষ্মীটি কান্না থামাও। কি হয়েছে, খুলে বলবে তো ? -কিচ্ছু হয় নি। তো ওভাবে দৌড়ে এলে যে, যদি গাড়ি চলে আসতো ?? -আসলে আসতো! আমায় ভালোবাসো -হুম। কতটুকু ?? জবাব না দিয়ে তুমি আবার আমার বুকে মুখ লুকালে । তুমি তোমার ভালোবাসার সীমা ও পৃথিবীর কাউকে জানতে দিতে রাজি নও, কাউকে না। আমার পিছনের হাতের টেডি বিয়ারটা কোথায় ছিটকে পড়েছিল কে জানে! যেখানেই পরুক বিয়ারটা জানে ঐ মুহূর্তে ওর মত সারপ্রাইজ এর কোন দরকার ছিল না ,যদিও বা ওর জন্য কিনেছিলাম... Ever since we met তোমার হাত ছিল আমার হাতে my heart has been crazy তখনি বুঝেছি ভালবাসা কাকে বলে In your eyes I have found paradise দখিনা হাওয়ায় তোমার খোলা চুলে U have just changed my life ...... >>> “ রোদেলা রাত্রি “... সরি মেঘলা, গতকাল তোমার জন্মদিন ছিল । ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ হিসেবে ডাকপিয়নে আমার লেখা প্রথম গল্পটা পোস্ট করে তোমাকে একটু অবাক করে দেব । সারাদিন বাসায় ছিলাম না , তাই অনেক লেট হল, সরি!! আমি জানি তুমি আমার উপরে অনেক রেগে আছ । স্বাভাবিক । আমি আসলে বেশিদিন কারও পাশে থাকতে পারি না । তবে তোমার কাছে আমার অনেক ঋণ । তুমি হলে সেই মানুষটা যে আমাকে আবার গল্প লেখার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছিল । তোমার কাছে সারা জীবন কি বলে যে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব তা হয়তো জানা নেই ! যাইহোক, জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল কিউট বাচ্চার রোদেলা heart emoticon ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ " রোদেলার ভালবাসা "

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now