বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রোবসেপিয়ান্সের ভালোবাসা
--- শান্তির দেবদূত
১.
তিন মাসে ঘটে যাওয়া তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, প্রথম
ঘটনাটা খবরের কাগজের প্রথম পাতায় আসে, তার
পরেরটা শেষের পাতার আর শেষের ঘটনাটা
কোন পত্রিকাতেই জায়গা পায়নি।
ঘটনা এক: মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ইংরেজি
সাহিত্যের মেধাবী ছাত্রী "পিয়েলা লিয়ান" এটমিক
ব্লাস্টার মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে।
ঘটনা দুই: প্রথম ঘটনার এক মাস পর শীর্ষস্থানীয়
রোবট প্রস্তুতকারী কোম্পানি "এ্যাথেনা
কপোট্রনস লিমিটেড" এর ল্যাব থেকে
সর্বাধুনিক কপোট্রন G9 সিরিজের TPT90
কপোট্রনটি চুরি হয়।
ঘটনা তিন: দ্বিতীয় ঘটনার এক মাস পর এ্যাথেনা
কপোট্রনস লিমিটেডের বর্ষ সেরা রোবো-
সাইন্টিস্ট "রিশান ক্লোষ্টা", যাকে বলা হয়
রোবোটিক্স যুগের নিকোলা টেসলা ব্যক্তিগত
কারণ দেখিয়ে কোম্পানির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা
দিয়েছেন।
২.
শহরের প্রাণকেন্দ্রের বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে
রিশান যখন লোকালয় থেকে বহুদূরের নির্জন
টেরাসা লেকের পাড়ে ছোট একটা বাংলো বাড়ি
কিনে তখন তার বন্ধুরা বলেছিলো, "তুই কি পাগল
হয়ে গেলি?"
উত্তরে রিশান শুধু বলেছিলো পিছনের
সবকিছুকে ভুলে যেতে চাই, একেবারে নতুন
করে সাজাতে চাই জীবনকে। আসলে রিশান
মিথ্যে কথা বলেছিলো বন্ধুদের; শুধু কি
বন্ধুদেরই মিথ্যে বলেছিল? না কি নিজের
সাথেও?, সে আসলে ফেলে আসা অতীতকে
নতুন করে আবিষ্কার করতে চায়, জয় করতে চায়
অতীতের সব না পাওয়াকে।
নতুন বাংলো ঠিকঠাক মত গুছিয়ে উঠতে এক
সপ্তাহের মত লেগে যায় রিশানের, এই একটা
সপ্তাহ পাগলের মত কাজ করতে হয়েছে তাকে
। একলা হাতে এত বড় বাড়ি গুছানো চাট্টিখানি কথা না,
সবচেয়ে বেশি সময় আর পরিশ্রম হয়েছে
ল্যাবরেটরিটা সেটআপ করতে । সারাদিন অমানুষিক
খাটুনির পর রাতের বেলায় লেকের পাড়ে চাঁদের
আলোয় বসে ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শুনতে শুনতে
জোনাকি পোকা গুনেছে আর কখনো কখনো
সেখানেই নরম ঘাসের উপর ঘুমিয়ে পড়েছে
অজান্তেই।
পরের এক সপ্তাহ কোন কাজ করেনি রিশান, শুধু
ব্যস্ত ছিলো খাওয়া, ঘুম আর লেকে মাছ ধরা
নিয়ে । তবে তার মস্তিষ্ক থেমে থাকেনি, পুরা
সপ্তাহ ধরে মনে মনে কর্ম পরিকল্পনা গুছিয়ে
নিয়েছে। ছোট বেলা থেকে এই একটা সমস্যা
রিশানের , কোন কাজ হুট করে শুরু করতে পারে
না পুরা ব্যাপারটা মনে মনে গুছিয়ে নিয়ে তারপর
কাজে নামতে হয় তাকে ।
মানুষের অনুভূতি প্রধানত দুই প্রকার, ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য
ও ইন্দ্রিয় অগ্রাহ্য। স্পর্শ, দৃষ্টি, ঘ্রাণ, শ্রবণ
এইগুলা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অনুভূতি মধ্যে পড়ে আর
ইন্দ্রিয় অগ্রাহ্য অনুভূতিগুলো হলো সুখ, দুঃখ,
আনন্দ, ঘৃণা, ভালোবাসা, অভিমান, ভয় ইত্যাদি। এই
ব্যাপারটা মাথায় রেখে রিশান তিনটা ভাগে ভাগ
করেছে তার প্রজেক্টটা, প্রথম পর্যায়ে সে
দৈহিক কাঠামোটা নিয়ে কাজ করবে, দ্বিতীয় ভাগে
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অনুভূতিগুলো একে একে সংযোগ
করবে ও উন্নত করবে তারপর ইন্দ্রিয় অগ্রাহ্য
অনুভূতিগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। শেষের
অংশটাই সবচেয়ে কঠিন এবং এর আগে আর কেউ
এটা নিয়ে কাজ করেনি, সফল হওয়ার সম্ভাবনাও খুব
কম, তবে রিশান দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাকে সফল
হতেই হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now