বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
♥"রং-রোড"♥ পর্ব-প্রথম
"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান =_= (০ পয়েন্ট)
X
★রং-রোড★
লেখাঃ- রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন।
উৎসর্গঃ- স্বপ্নকন্যা কবিতা।
♦কিছু কিছু ভালো লাগা, ভালোবাসার রূপ নেয়, কিছু কিছু ঘটণা মন ছুয়ে যায়, আর কিছু কিছু স্বপ্ন ধরা দেয় যা কল্পনার বাইরে ♦
আমি একদিন অফিসে যেতে লেট করে ফেলি । এমন সময়ে কোনো অটোও পাচ্ছিলাম না । তাই মেজাজটা গরম হয়ে গেল । দাড়িয়ে রইলাম কিন্তু অটোর দেখা পেলাম না । মনে হচ্ছিলো হেটেই চলে যায়।
অবশেষে একটা অটোর দেখা পেলাম । দাড় করিয়ে দেখি অটোতে ড্রাইভারের সাথে দুজন লোক । আর ভেতরে চারজন মেয়ে বসে আছে ।
অটোর ড্রাইভার আমাকে বলল,ভাই তারাতারি উঠেন!
আমি আর কিছু না ভেবে উঠে পড়লাম । আমার পাশে এক মেয়ে আর সামনে তিনজন । আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম । হঠাৎ মেয়ে গুলোর হাসির শব্দ পেলাম ।
তাকিয়ে দেখি আমার সামনে বসা মেয়েগুলো আমার পাশে বসা মেয়েটিকে কি যেনো ইশারা করছিলো... .
আমার গন্তব্য স্থানে পৌছার আগেই অটো থেমে গেলো । অটোর ড্রাইভার বলল,ভাই নেমে যান এই পর্যন্তই । মেজাজটা আবার খারাপ হয়ে গেলো । এখন আরও হাফ কিঃমিঃ হেটে যেতে হবে ।
মেজাজটা কার খারাপ হবে না বলুন । এখন আবার আরও হাফ কিঃমিঃ হেটে যেতে হবে ।
অটোর ড্রাইভার ভাইকে ভাড়াটা দিয়ে হাটা শুরু করলাম । হাটতে হাটতে ভাবলাম আজকের দিনটাই খারাপ ! ঘুম থেকে উঠেই যে কার মুখ দেখেছি ?
আমাদের অফিসটা রাস্তার ডান পাশে । তাই আমি রাস্তার ডানে হাটতে লাগলাম.....
হঠাৎ করেই এক রূপসী,অনন্যা,রূপবতী,মায়াবতী....পরীর মতো মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলাম ।
মেয়েটির উপর যেভাবে পড়লাম । মনে হয় মেয়েটি প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে । তাই আমি উঠে মেয়েটিকে হাত ধরে টেনে তুললাম । বইগুলো...তুলে দেওয়ার পরই ওয়াজ শুরু করে দিলো ।
মেয়েটিঃ- এই অসভ্য ছেলে! রাস্তা দেখে চলতে পারেন না?
আপনি চোখে দেখতে পাননা নাকি!
আমি চোখে দেখি বুঝলেন মিস ফুলি!
(বুঝতেই পারছেন এমনিতেই আমার অফিসের সময় পার হয়ে গেছে । তার মধ্যে এ কাহিনী । মেয়েটি যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে ।)
মেয়েটিঃ- কি! চোখে দেখেন? তাহলে আমার সাথে ধাক্কা খেলেন কেন?
আমিঃ- আচ্ছা,,,,মনে করেন আমি দেখতে পাইনি কোন কারণে । তাহলে আপনার তো পথ দেখে চলার কথা । তার মানে আপনিও ইচ্ছা করে ধাক্কা খেয়েছেন ।
মেয়েঃ-(রেগে গিয়ে) কি! ইতর,বদমাইস,দুষ্ট ছেলে কোথাকার ! রং-রোডে এসে একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে ধাক্কা খাই । নিজের রাস্তায় চলতে পারেন না ।
আমিঃ- (মেয়েটির কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলাম । কারণ সত্যিই দোষটা আমার । আমি রং-রোডেই হাটছিলাম । তাই আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম লোকজন আছে কি না? বাচা গেলো লোকজন নেই ।নয়তো মেয়েটি যেভাবে চেচাচ্ছিলো.....তাতে গণ-পেটানি খেতে হতো ।). সরি মিস ফুলি আমার ভূল হয়ে গেছে ।
মেয়েটিঃ-ইটস ওকে.....আর আমার নাম ফুলি না । আমার নাম কবিতা ।
আমিঃ- দারুণ!
মেয়েটিঃ- কি?
আমিঃ- আপনার নাম টা খুব সুন্দর!
মেয়েটিঃ ধন্যবাদ.....আপনার নামটা তো জানা হলো না মিঃ ।
আমিঃ- আমার নাম রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন ।
মেয়েটিঃ - আপনার নাম টাও সুন্দর!!
আমিঃ- হুম.. ধন্যবাদ.... । কিন্তু আপনি তো আমার সময়ের 12টা বাজিয়ে দিয়েছেন ।
মেয়েটিঃ- ও. ..তাই আপনি যে আমার 12টা বাজিয়ে দিয়েছেন??
আমিঃ- আপনার 12টা বাজিয়েছি মানে?
মেয়েটিঃ- মানে বুঝেন না? হাতির টা ওজন নিয়ে আমার উপর যেভাবে পরছেন আমার তো ব্যথা করছে প্রচন্ড ।(রেগে)
আমিঃ- আমার সত্যিই ভূল হয়ে গেছে..... আই এম রিয়েলি সরি!!
মেয়েটিঃ- থাক আর সরি বলে লাভ নেই । আর আমি যে আপনাকে রাগের মাথায় গালি দিয়েছি তার জন্য সরি ।
আমিঃ- ইটস ওকে ।
(আমি আমার অফিসে চলে এলাম । আর মেয়েটি একটা অটোতে উঠে চলে গেলো । আমি অফিসে সেই রকম ঝারি খেলাম । আর আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো । জরুরী কাজ শেষ করলাম । দুপুরে অফিস ফাঁকা হয়ে গেলো । আর তখন বারবার ঐ মেয়েটির কথা মনে পড়ছিলো ।মানে কবিতার কথা মনে পড়ছিলো ।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রেস্ট করছি । এমন সময় হঠাৎ কবিতা আমার সামনে এসে হাজির ।
আমি তো অবাক!
*মনে মনে ভয় পাচ্ছি । তার কারণ আমি ভাবলাম মেয়েটি বোধহয় অফিসে বিচার দিতে এসেছে । আর বিচার দিলেই আমার 14টা বাজবে ।
তাই অস্থির লাগছিলো ।*
মেয়েটিঃ- হ্যালো, চিনতে পারছেন?
আমিঃ- হুম.... এখানে?
মেয়েটিঃ- জ্বি...আপনার কাছেই এসেছি ।
আমিঃ- আমার কাছে...কেন?
মেয়েটিঃ- সকালের ঘটণা মনে আছে?
(এই কথা শুনে ভয়টা বেড়ে গেলো)
আমিঃ- হুম... ।
মেয়েটিঃ- ওখানে আপনার আইডি কার্ড পড়েছিলো । তাই ওটা দিতেই আসলাম । এই নিন!
আমিঃ- ধন্যবাদ.... (কার্ড নেওয়ার পর)
মেয়েটিঃ- ওয়েলকাম.... আচ্ছা আজকে আসি?
আমিঃ- দাড়ান এককাপ কফি খেয়ে যান প্লীজ!!!
(দুজনের জন্য কফি অর্ডার করলাম । এরপর একসাথে কফি খেতে লাগলাম । খেতে খেতে আমি কবিতাকে আরও কাছে থেকে দেখে নিলাম । খুব সুন্দর
দেখতে!!!!)
কফি খাওয়ার সময় মেয়েটি আমার চোখের দিকে তাকালো আর আমি চোখটা সরিয়ে নিলাম....
কেমন যেনো লজ্জা লাগছিলো!
কবিতাঃ--- আপনি কি ভয় পেয়েছিলেন?
আমিঃ- আ আ আ মি...
ভয় কেন পাবো?
কবিতাঃ--- হা! হা! হা!
(কবিতা অন্যরকম একটা হাসি হাসছিলো, খুব সুন্দর তার হাসিটা!
আর হাসলে তার গালে টোল পড়ে!
টোল পড়া হাসি আমার খুবই ভালো লাগে হোক সে ছেলে বা মেয়ে!
তার হাসি আমি চোখ ভরে মন ভরে দেখছি! আমাকে আবার বলল কি ব্যাপার কি দেখছেন ওভাবে?)
আমিঃ- আমি আপনাকে প্রথমে অফিসে আসতে দেখে সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম!
আর আপনার হাসিটা খুবই চমৎকার!
তাই অপলকে দেখছিলাম!
( কবিতা একটু লজ্জা পেলো)
কবিতাঃ- যান বাড়িয়ে বলবেন না!
আমিঃ- সত্যিই হাসিটা চমৎকার!
কবিতাঃ- ধন্যবাদ!৷
আচ্ছা আমি এবার উঠি!
আমিঃ- আচ্ছা সাবধানে যাবেন!
কবিতাঃ- হু..অবশ্যই! নয়তো আবার ধাক্কা লেগে যাবে! বারবার ব্যাথা দরকার নেই!
***দুজনেই হাসলাম****
মেয়েট চলে গেলো..
আমি অফিসের কাজ করছি! কিন্তু কিছুতেই ঘোর কাটছেনা!
আমি মনে হচ্ছে আমি কোনো ঘোরে আছি!
মেয়েটি বারবার চোখের সামনে ভেসে আসছে!
উফফ্ আজকে কাজে মন বসছেই না!
তাই বসকে বললাম যে শরীরটা খারাপ লাগছে!
বস আমাকে বলল, আচ্ছা বাড়িতে যান তাহলে!
আমি বাড়িতে ফিরলাম!
রেস্ট নিলাম আর স্বাভাবিক হলাম!
কয়েকটা দিন ভালোই কাটলো আমার!
কিন্তু ৪দিন পর.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now