বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রক্তচোষা- ১ম পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ahnaf Bin Alvi (০ পয়েন্ট)

X সাকিবের লাশ চোখের সামনেই ফ্লোরে পরে আছে। লাশের আশপাশ রক্তে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করেছে। মানুষ উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লাশের দিকে। লাশ দেখে সবার শরীর শিউরে উঠছে। পুরো শরীরে নখের আচড়ে চামড়া ছিঁলে রক্তাত হয়ে গেছে। ঘাড় থেকে মাথাটা পিছন দিকে ঘুরানো। সাকিব যেন শরীর না ঘুরিয়ে মাথা পিছনে নিয়ে তাকিয়ে আছে। ঘাড়ের রগে দুইটা দাত বসানোর চিহ্ন ফুটে উঠেছে। সাকিবের বাসার দোতলা ছাদের চিলেকোঠায় লাশ পরে ছিল। নিজেদের বাসায় ছেলের এহেন মৃত্যু সাকিবের মা মেনে নিতে পারছে না। আর্তনাদ করে বলছে, " আমি বাসায় থাকতেও কিভাবে আমার সাকিবের এমন হলো? "। সাকিবের আম্মুর এমন কথা শুনে আমি বেশ অবাক হলাম। এভাবে নির্মমভাবে বাসায় সাকিবের মৃত্যু হল অথচ চিৎকার, চেঁচামেচির আওয়াজ আন্টি শুনল না! সাকিব আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। শৈশব থেকে একই সাথে বেড়ে ওঠা আমাদের। হঠাৎ করেই সাকিবের এমন মৃত্যু আমরা কেউ-ই মেনে নিতে পারছি না। বন্ধুদের মধ্য সাকিব একটু বেশিই চঞ্চল টাইপের ছিল। কিন্তু, তার এই চঞ্চলতা এখন আর আমাদের কারো চোখেই পরবে না! একে একে আমাদের সব বন্ধু সাকিব কে দেখতে চলে আসল। হাসিব, সাঈম আগেই চলে এসেছে। শুভ, শাওন, সুপ্তি, তিথি মাত্রই এলো। সাত বন্ধুর মধ্যে সাকিব অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেল। ভাবতেই চোখের কোণে জল গড়িয়ে পরে। " কি বিভৎস দেখাচ্ছে সাকিবের লাশ! " সুপ্তি বলে পাশে থাকা চেয়ারে বসল। আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করল; " কে এমন ভাবে মারল? সাকিবের তো কোন শত্রু ছিল না! "। এই প্রশ্নের উত্তর তো আমার ও অজানা। তাই চুপ করেই রইলাম। থানার ওসি আরিফ সাহেব এসে সাকিবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। ক্লু সংগ্রহের জন্য চিলেকোঠার রুম ভালোভাবে দেখতে লাগল। পুরান কিছু আসবাবপত্র ছাড়া রুমেই আর কিছুই ছিল না। পুরো রুম খুঁজে আরিফ সাহেব ক্লু সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হল। আরিফ সাহেব সাকিবের আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলেন; " আপনার ছেলের কিংবা আপনাদের পরিবারের কোন শত্রু ছিল? "। সাকিবের আম্মু কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন; " আমাদের কোন শত্রু নেই! সাকিবের ও শত্রু থাকার কথা নয় "। ওসি এবার জিজ্ঞাস করলেন; " সাকিবের বন্ধুবান্ধব কারা? "। আন্টি আশেপাশে তাকিয়ে আমাদের ছয় জন কে একই সাথে দেখতে পেয়ে হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন। আরিফ সাহেব কাছে এসে জিজ্ঞাস করলেন; " তোমরা সাকিবের বন্ধু? "। আমি মাথা নাড়িয়ে 'হ্যা' সূচক জবাব দিতেই বলল; " তোমরা ছয় জন বিকেলে থানায় এসে আমার সাথে দেখা করবে!"। কথাটা বলে তিনি বের হয়ে গেলেন। বিকেল গড়াতেই ছয় জন থানায় উপস্থিত হলাম। সুপ্তি, তিথির চোখেমুখে ভয়ের ছাপ দেখতে পেয়ে অভয় দিয়ে বললাম; " ভয়ের কিছুই নেই! হয়তো কিছু জানার জন্য ডেকেছে "। আরিফ সাহেব সবাইকে ভিতরে যেতে বললেন। ভিতরে ডুকতেই মুচকি হেসে আরিফ সাহেব বললেন; " বাহ! বেশ তো। তোমরা এসে পরেছ। বস তোমরা! "। আরিফ সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলেন; " তোমার নাম? "। আমি বললাম; আমি আলভী। আরিফ সাহেব একে একে সবার পরিচয় জেনে নিলেন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞাসা করলেন; " সাকিবের সাথে কারো শত্রুতা ছিল? "। সুপ্তি বলল; " না স্যার, আমাদের জানা মতে সাকিবের সাথে কারো এমন কিছুই হয়নি যার জন্য শত্রুতা তৈরি হবে "। আরিফ সাহেব হাসিব কে জিজ্ঞাস করল; " সাকিবের সাথে কোন মেয়ের সম্পর্ক ছিল? "। হাসিব বলল; " আমরা যতদূর জানি, সাকিব কোন মেয়ের সাথেই সম্পর্কে জড়ায়নি! "। আরিফ সাহেব আমাদের ছয় জনের কন্ট্রাক্ট নাম্বার, বাসার ঠিকানা লিখে রাখলেন। সবার উদ্দেশ্যে বললেন; " কথা বলে বুঝতে পারলাম সাকিব তোমাদের খুব ভাল বন্ধু ছিল। তার মৃত্যুতে তোমরা ভেঙে পরেছ তা তোমাদের দেখলেই বোঝা যায়। কেসের জন্য যে কোন সময় তোমাদের হ্যাল্পের প্রয়োজন হতে পারে! আশাকরি, তোমাদের বন্ধুর খুনিকে ধরার জন্য তোমরা আমাকে সাহায্য করবে! "। এখন তোমরা আসতে পার। থানা থেকে বের হয়ে আমরা চলে আসলাম। আসার সময় শাওন বলল; " আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে সাকিব কে মার্ডার করা হয়নি "। সাগর জিজ্ঞাস করল; " মার্ডার নয় কেন? "। কারণ, সাকিবের শরীরে নখের আঁচড়ের দাগগুলো অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে"। সুপ্তি বলে উঠল; " শাওন ঠিক বলেছে, আঁচড় একটু বেশিই ডিপ হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা অনেক বড় নখের আঁচড়"। আমি বললাম; ঘাড় মচকানো আমার কাছে বেশ অদ্ভুত মনে হয়েছে। মাথাটা কিভাবে মচকিয়ে উলটো কর হয়েছে!"। সাকিবের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো বড্ড বেশিই মনে পরছে। স্কুল, কলেজ, পার করে ভার্সিটিতে একই সাথে ভর্তি হয়েছিলাম। কতোই না সুন্দর ছিল আমাদের বন্ধুত্ব! আজ তা সবই স্মৃতি! মোবাইলের রিংটোনে ভাবনায় ছেদ পরল। মোবাইলের স্কিনে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি কল দিয়েছে। কল রিসিভ করে করতেই সুপ্তি বলল; -- আলভী তুই কোথায়? -- কেনো? বাসায় আমি। -- না এমনিই। ভালো লাগছে না। সাকিবের লাশ চোখে ভেসে উঠছে! -- তুই তো লাশ দেখছিস। আর আমার চোখে তো স্মৃতি ভাসছে! -- আলভী, কেনো জানি সাকিবের মৃত্যুটা আমার কাছে অদ্ভুত টাইপের মনে হচ্ছে। -- কেমন অদ্ভুত? -- না মানে। এটা মানুষের খুন হতে পারে না। আমার কাছে ব্যাপারটা ভৌতিক মনে হচ্ছে। -- কি যাতা বলছিস! ভূত-প্রেত বিশ্বাস করিস নাকি? -- আগে তো করতাম না। কিন্তু, সাকিবের লাশ দেখার পর থেকে কেমন যেন ভয় লাগছে। -- আরে বাদ দে তো ওসব চিন্তা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে। -- হ্যা, তার জন্যই তো অপেক্ষা করছি। -- তুই একদম ই এসব ভূত-প্রেত নিয়ে ভাবিস না। তাহলে রাতে উলটা পালটা কিছু ঘটতেও পারে। -- তুই একদম ই মজা করবি না। ভাল্লাগেনা এসব। ফোন রাখলাম! সুপ্তি কল কেটে দিল। আমার ও ভাবনায় সাকিবের মৃত্যুর রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে। মৃত্যুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। যারা সাকিবের লাশ দেখতে এসেছিল সবার কাছেই মৃত্যুটা অস্বাভাবিক লেগেছে। কেউ কেউ তো বলছে এটা কিছুতেই মানুষের কাজ হতে পারে না! লাশ দেখে এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক কিছুই না। মৃত্যু যেভাবেই হোক। কারণ তো একটা আছেই। কি হতে পারে সেই কারণ? রাত বারোটা বেজে গেছে অথচ আমার চোখে ঘুম নেই! সাকিবের মৃত্যুর পর থেকে কেমন যেন এক অস্থিরতা কাজ করছে। কোন ভাবেই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না! হঠাৎ মোবালেই রিং বেজে উঠল। কল রিসিভ করতেই ওপর পাশ থেকে বলল; - হ্যালো আলভী? - জ্বী, কে বলছেন। -- আমি ওসি আরিফ। -- ও আচ্ছা, স্যার বলুন! -- কাল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসবে। সাকিবের মৃত্যু আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। কিভাবে সাকিব মরেছে তা কাল-ই জানতে পারব। -- তাহলে তো ভালই হবে। সব প্রশ্নের উত্তর কাল রিপোর্ট দেখলেই পাওয়া যাবে। -- হ্যা সেটাই আশা করছি। রিপোর্ট হাতে আসলে আমি তোমায় ফোন দিব। তুমি একবার থানায় এসো। -- অবশ্যই স্যার! -- আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে কাল দেখা হচ্ছে..... আরিফ সাহেব কল কেটে দিলেন। এখন একটু হলেও অস্থিরতা কম মনে হচ্ছে। সাকিবের অদ্ভুত মৃত্যুর কিভাবে হয়েছে তা কাল জানতে পারব। সবাই হয়তো মুখিয়ে থাকবে রিপোর্টের আশায়! _________চলবে " রক্তচোষা " (১ম পর্ব) ® Ahnaf Bin Alvi


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রক্তচোষা- ১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now