বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দিশা উঠে বসলো বিছানায়। চিৎকার করে উঠলো,”মা…!মা…!”
ইপ্সিতা এসে বললো,” ডাক্তার তোমায় ওষুধ দিয়েছেন, তুমি ঘুমাও, মা এসে যাবে।”
এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল ইপ্সিতাকে দিশা। তারপর আগুন চোখে তাকালো ওর দিকে। ইপ্সিতা ভয়ে দু-পা পিছিয়ে গেল। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, বিছানা থেকে নামলো দিশা, ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো,”মা কোথায়?”
দুপুর থেকে থেকে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেও ভাঙা যায়নি দরজাটা। দিশা গিয়ে দাঁড়ালো দরজার সামনে। খুলে গেল দরজা। সুব্রত বাবু আর ইপ্সিতা যেন পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। দিশা ঢুকলো ঘরে। বন্ধ হয়ে গেল দরজা।
অনন্যা মেঝেতে অচৈতন্য। দিশা অনন্যার মাথায় হাত রাখতেই একটা তীব্র আর্তনাদে চমকে গেল দিশা, জ্ঞান ফিরলো অনন্যার. “দিশা কেন এলি তুই!”
“তুমি কোথায় ছিলে মা।”
“এই তো মা!”
আবার ঘরটা প্রচন্ড ঠান্ডা হতে লাগলো, দিশা মুখ গুজলো অনন্যার কোলে। ওই ছায়ামূর্তি এসে টানতে থাকলো দিশাকে। ওই কাঁচির আওয়াজটা বাড়তে থাকলো, সাথে একটি পুরুষ ছায়ামূর্তি। অনন্যা বুঝতে পারলো অরণ্য আর অনীশা দুজনেই চায় দিশাকে। অনন্যা প্রাণপনে চেপে ধরে রাখতে চেষ্টা করলো দিশাকে। দিশার শরীর ক্রমশ শীতল হচ্ছে। ছায়া দুটো ক্রমশ বড়ো হচ্ছে। গোঙানির শব্দ আরও তীব্র হচ্ছে। হঠাৎই বাইরে থেকে মন্ত্রচ্চারণের শব্দ এলো,”ক্রিং ক্রিং ক্রিং হিং ক্রিং দক্ষিণে কালিকে ক্রিং ক্রিং ক্রিং হিং হিং হুং সহা।”
সাথে সাথেই পিছিয়ে গেল ওই দুই মূর্তি কিন্তু কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই আবার এগিয়ে এলো। দিশার শ্বাস প্রশ্বাসের গতি কমে এলো, বাইরে মন্ত্রপাঠ সত্ত্বেও বিভৎস অট্টহাসিতে ভরে উঠলো ঘর। অনন্যা পাথরের মতো বসে আছে, হঠাৎই দরজা খুললো, ঘরে ঢুকলো দিশার বাবা শৌর্য, জড়িয়ে ধরলো দিশাকে। ওই দুই মূর্তি আবারও ঝাঁপিয়ে পড়লো শৌর্যর ওপর। শৌর্য চিৎকার করে বলে উঠলো,”আমার প্রাণ থাকতে আমি আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হতে দেবো না। কখনও না।”
শৌর্যর এই কথায় পুরুষ মূর্তিটা পিছিয়ে গেল। তারপর প্রবল বেগে ধাক্কা মারল শৌর্যকে। ছিটকে পড়লো শৌর্য। অনীশার ছায়া এগিয়ে এলো দিশার দিকে। শৌর্য আবারও আগলে ধরলো ওই দুজনকে।
অনন্যা দিশাকে আগলে বললো,”আমরা থাকতে তোমরা দিশাকে কখনো নিতে পারবে না, কখনও না।” বাইরের মন্ত্রচ্চারণ আরো প্রবল হলো। অনীশার ছায়ার সেই বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা যেন কেউ প্রবলভাবে আটকে দিল কেউ। দিশাকে জড়িয়ে ধরলো শৌর্য আর অনন্যা। দরজাটা খুলে গেল ধীরে ধীরে, ভোরের আলো ফুটছে আকাশে। ঘর থেকে বেরোলো ওরা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now