বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রক্ত দাও জিবণ বাচাও

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X >> দোস্ত আমার আম্মুকে বাঁচা। >> কি হয়েছে আন্টির? >> আম্মুর অপারেশন করাতে হবে। ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। ১ ব্যাগ মেনেজ করতে পেরেছি। আরো ২ ব্যাগ লাগবে। >> রক্তের গ্রুপ কি? >> ও নেগেটিভ রক্ত। >> দোস্ত চিন্তা করিস না। মেনেজ হয়ে যাবে। . ইসরাতের সাথে ফোনে কথা হয় নাদিমের। তারা দুইজন খুব ভাল বন্ধু। বন্ধু বললেও ভুল হবে। একে অপরের ভাই বোনের মতো। তাঁদের বন্ধুত্বটা ১০-১২ বছরের নয়। তবুও একে অপরের সব দুঃখ, আনন্দ শেয়ার করে। আসলে বন্ধুত্বের কোনো বয়স হয়না। এক দিনেও একে অপরের খুব ভাল বন্ধুত্ব হতে পারে। . ও নেগেটিভ রক্তটা সহজে পাওয়া যায় না। বলা যেতে পারে এই রক্তটা নেই। কিছু কিছু মানুষের থাকে এই গ্রুপের রক্তটা। বিশেষ করে নেগেটিভ রক্ত গুলোই পাওয়া যায়না। . আবার যাদের আছে তারাও অনেকে দিতে চায় না। অনেকে ভয়ে দিতে চায়না। আবার অনেকে ইচ্ছে করেই দিতে চায়না। তারা এটা বুঝেনা যে, তার রক্তের বিনিময়ে হয়তো কোনো এক মানুষের জীবন বেঁচে যাচ্ছে। এমনও তো হতে পারে আপনার ও একদিন রক্তের জন্য জীবন বাঁচাতে দরকার হবে। তখন যদি কেউ না দেয় তখন কি করবেন? . আপনি আজ কারো জীবন বাঁচাতে নিজের রক্ত দিচ্ছেন। অন্য একদিন আপনার জীবন বাঁচাতেও অন্য কেউ রক্ত দেবে। রক্তের বিনিময়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়া খুব আনন্দের। আর সাহায্য কারীদের সৃষ্টিকর্তা খুব পছন্দ করেন। . নাদিম সাথে সাথে তার কিছু বন্ধুদের খবরটা জানায়। অনেকে তার কথায় গুরুত্ব দেয় আবার অনেকে ভয় পেয়ে যেতে রাজি হলো না। নাদিম তখন পর্যন্ত তার রক্তের গ্রুপ জানতো না। নাদিম খুব ভীতু একটা ছেলে ছিলো। কিন্তু সেইদিন খুব সাহস করে এগিয়ে যায় রক্ত দেয়ার জন্য। . নাদিমের মনে একটাই প্রশ্ন বার বার গুড়পাক খাচ্ছিলো যে, ইসরাতের আম্মুর জায়গায় তো আমার আম্মুও থাকতে পারতো। তখন কি আমি ভয় পেতাম? মোটেই না। ঠিক তেমনই রক্ত না পাওয়ার ফলে অনেকে মানুষই মারা যাচ্ছেন। তারাও তো কারো না কারো মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী আত্বীয়জন। . ইসরাতের কাছ থেকে হাসপাতালের ঠিকানা যেনে ঐ গিয়ে পৌঁছে। এবং নাদিম সহ তার বন্ধুদের রক্ত পরিক্ষা করে। কিন্তু কারো রক্তই মিলছে না শুধু মাত্র নাদিমের রক্ত মিলছে। আর দেরী না করে সাথে সাথে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে দেয়। . আরো দরকার এক ব্যাগ রক্ত। কিন্তু কারোটাই হচ্ছে না। পেসেন্টের অবস্থাও খুব সিরিয়াস। রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে আরো এক ব্যাগ রক্ত দেয় নাদিম। . যে ছেলে সামান্য ইঞ্জেকসন নিতে ভয় পেতো, যে ছেলের হাত কেটে রক্ত বের হলেই কান্না করতো। সেই ছেলেই কারো মা কে বাঁচানোর জন্য নিজের শরীরের দুই ব্যাগ রক্ত দিয়ে দিলো। একটুও নিজের কথা চিন্তা করনি শুধু তার মনে বিশ্বাস তাকে বাঁচাতে হবে। . হ্যাঁ ভাই ভাল মনের মানুষ না হলে নাদিম কখনো রক্ত দিতো না। আজ বেঁচে আছি কাল নাও থাকতে পারি। কিন্তু কারো উপকার করলে সে মনে রাখবে। মারা গিয়েও অমর হয়ে রবে সে কিছু মানুষের কাছে। এর চেয়ে ভাল কিছু আর কি হতে পারে। . আমরা সবাই পারি রক্তের বিনিময়ে কারো জীবন বাঁচাতে। তার জন্য অবশ্যই মন মানষিকতা ভাল থাকতে হবে। আল্লাহ্‌র রহমতে ইসরাতের আম্মু এখন ভাল আছেন। ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক পৃথিবীর মানুষ গুলো। . . রক্ত দিন জীবন বাঁচান


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রক্ত দাও জিবণ বাচাও

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now