বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দাদুর সাথে উঠোনে ভুতের গল্প শোনা
.........
আমার বয়স তখন বার কি তেরো। সেই সময়ের কথা। গ্রামের বাড়ি থাকি।
সেই সময় ঘরের সাথে খাল বয়ে চলত। সন্ধ্যা রাতে ঘরের কোণে শিয়াল হুক্কা হুয়া রব তুলত। যারা শিয়ালের ডাক শুনেননি, তারা এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারবেন না।
তখনো গ্রামে বিদ্যুতের দেখা মেলেনি।
গরম কালে আমি আর দাদা বাইরে গাছের সাথে মশারি টাঙিয়ে শুইতাম।
সেদিনও শুয়েছিলাম। চাঁদের আলো গাছের পাতার ফাক দিয়ে এসে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
তখন আমার মনে কোন ভয় ডর কাজ করত না। শরীরে ও মনে সয়তানির রুপ ফুটে ওটত.।এখন ভার্সিটিতে গিয়ে হয়েছি রোবট।
"দাদা, ভুতের গল্প বল। "
দাদা হাসলেন, "ভয় পাবি না? "
" ধুর! আমিই ভুতকে বাঁশ দেই, বল! "
শোন্, এটা আমার মামার কাহিনী। আমার বড় মামার গল্প। মনোযোগ দিয়ে শুনবি।"
.
দিন টা ছিল শনিবার!
....
....
আমার মামা রাতে মাছ ধরত। ঐ দিন তিনি রাত বারোটায় বরশী নিয়ে বিলে মাছ ধরতে যায়। সাথে কেউ নেই, তবে অনেকে ধরে, এটাই ভরসা। আর
মামা খুবই শক্তিশালী ছিলেন।
তো, বিলের তীরে বসে মাছ ধরছেন। ভালোই মাছ পড়ছে। মাছ ধরে ধরে ডুলি ( মাছ রাখার পাত্র) ভরে ফেলেছেন।
এরপর আবার মাছ পড়ছে না। পাঁচ মিনিট পর একটা পড়ল। ওই টা ডুলি তে রাখতে গিয়ে দেখে, মাছ একটাও নেই.!
অবাক করার বিষয়। এক ডুলি মাছ কিভাবে গায়েব হবে?
তখন বাঘডাস, মেছোবাঘ সহ অনেক প্রাণী ই বাস করত এলাকায়। মামা মনে করল, ওদের ই কোন টা, হয়তো এ কাজ করেছে। এবার সতর্ক হলেন, পায়ের আওয়াজ হয় কিনা দেখলেন। কিন্তু, পরের মাছটা রাখতে গিয়েও এক দশা।
এবার ডুলি সামনে হাতের কাছে এনে নিলেন। আড়চোখে খেয়াল রাখলেন, কে চুরি করে। যা দেখলেন, তাঁর বুদ্ধি লোপ পাবার দশা। একটা বিশাল লোমশ হাত, ডুলির ভেতর ঢুকে মাছ নিয়ে গেল।
উনি বুঝলেন, কিসের খপ্পরে পড়েছেন।
সাথে আগুন আছে, মুহুর্তে চিন্তা করে নিলেন।
আর, হাতের মাছটা সহই রওয়ানা হলেন। " তেনাদের " কখনো মাছ দিতে হয়.না., তাহলে পিছু পিছু বাড়ি চলে আসবেই।
আর, নিয়ম মতোই, ওটা পথ আগলে ধরল।
প্রাণীটার দেহ ছয় ফুট লম্বা। সারা দেহ ঘন লোমে আবৃত।! আর, কী কালো!! কী কুৎসিত!!
দাঁতগুলো মুলোর মত বের হয়ে আছে।
মামাকে বলে, " খিঁদাঁ নাঁগছেঁ, মাঁছ দেঁ । "
মামা ম্যাচ প্রস্তুত রেখে বলল,, " নিজে গিয়ে ধর, আমি দিতে পারবো না। "
তুইঁ ই দিবিঁ, ওইঁ যেঁ, তঁর ডুলিঁ তে মাঁছ! "
" দিব না, কি করবি? ".
" তঁবেঁ রেঁ!"
জন্তু টা মামার ওপরে ঝাপিয়ে পড়তে গেল। মামা চট করে, একটা কাঠি ধরিয়ে ওটার গায়ে ঢিল দিলেন।
ওটা আর্তচিৎকার দিয়ে দুরে সরে গেল। আবার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে তার ওপরে ঝাপিয়ে পড়ল।
মামা তার আগুন থেরাপি চালিয়ে যাচ্ছিল, আর হিসাব করছিল, বাড়ি যেতে কত সময় লাগবে। উনি প্রায় দৌড়ে আসতে চাইছিলেন। বাড়ি প্রায় দুই কিলোমিটার দুর। আর, জন্তুটা ওনাকে তাড়িয়ে আনতে আনতে এক কিলোমিটারেই আগুন শেষ!
তখনো বিল তাদের পাশেই অবস্থান করছিল।
এবার, ওই প্রাণীটা ওনার ওপরে ঝাপিয়ে পড়ল।
মামা শক্তিশালী পুরুষ, সহজে ঘায়েল করতে পারবে না। তা লড়াইয়ে নেমেই বুঝল পিচাশ টা। তাই, মামাকে পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করল ওটা। এটি পেছন দিকে বিল রেখে লড়াইয়ের সুতো ঢিল দিল। মামা ওটাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে সামনে এগুতে থাকল।
পানিতে পড়ে মামা বুঝল, হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছে আজ।
সাথে সাথে উঠার চেষ্টা করলেন তিনি। কিন্তু, পিচাশ টা এবার পরিপূর্ণ শক্তিতেই ওনাকে ঘায়েলের চেষ্টা করল। এমনিতেই তাদের শরীর পিছল., তাই পানিতে হাজার চেষ্টায় ও তাদের ঘায়েল করা যাবে না।"
দাদা বিরতি দিলেন। আমি খুবই টেনশনে, পরে কি হয়, তা নিয়ে। ভয় অবশ্য কাজ করছিল না, করছিল কৌতুহল!
দাদা আবার শুরু করলেন, " তখনকার সময়ের চৌকিদার, রমজান আলী ও সেদিন মাছ ধরছিল। উনি প্রায় তিন কিলোমিটার দুর থেকেই পানিতে উথালপাথাল দেখছিলো। বর্ষীয়ান ব্যক্তি। বুঝেছিলেন, কি হচ্ছে।
উনি দৌড়ে রওয়ানা হলেন।
এসে দেখলেন, মামার মাথা ওই পিচাশ টা কাদামাটির তলায় পুতে রেখেছে। উনার সাথে মশাল ছিলো, তাই পিচাশ টা পালিয়ে যায়!
মামাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর দেখা গেল, দেহে জান আছে।
কিন্তু, তাকে বাঁচানো সম্ভব হল না।
তিন দিন তার দেহ থেকে পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ বের হল।
চতুর্থ দিন, উনি মারা যান। "
ওহহ্!! কি ভয়ঙ্কর গল্প। " দাদা, আপনার মামা কি আপনাদের অনেক আদর করত?"
" হ্যাঁ, আমি ওনার বড় ভাগ্নে ছিলাম। "
আমিও দাদার বড় নাতি।
ওহ্, তোমার মামার জন্য মন খারাপ লাগছে। ঘুম ও পাচ্ছে। আমি প্রস্রাব করে শুয়ে পড়ি। "
কেন যেন বাথরুমে না গিয়ে গেলাম বাঁশঝাড়ে! বসার আগে দাদা বললেন., " দাদা! বাঁশ গাছের নিচে প্রস্রাব করতে হয় না। "তেনাদের ওপর পড়বে, তেনারা বাঁশ ঝাড়ে ও থাকে। "
আগেই বলেছি, আমি ছিলাম শয়তানের গুরু ঠাকুর।
তাই, সাথে সাথে দাড়িয়ে, প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিলাম এক বাঁশ গাছের ওপরে!!
তারপরই................
.
.
.
.
.
হিমু প্রায়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now