বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ৩৫ঃ ২০ নভেম্বর। গত রাতে ডায়েরী লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঝিমুনি ধরার আগে একটা ঘটনার কথাই কেবল মনে আছে - চোখ খুলেছিল ইলিনা। পোশাকের ভেতর থেকে একতাড়া কাগজ বের করে জড়ানো গলায় আমাকে বলেছিল, " এগুলো নিন মিঃ হারকার - আমার ডায়েরীর শেষ অংশ....এখানে আসার পর লিখেছি। কারফ্যাক্স অ্যাবির সব ঘটনা জানতে পারবেন এটা পড়লে। আসল ডায়েরীটা ফেলে এসেছি এক্সেটারে - আপনাদের বাসায়। ওটা - সহ পড়লে আমার পুরো কাহিনীই আপনার জানা হয়ে যাবে। দয়া করে পড়বেন "। " পড়ব", কথা দিয়েছিলাম ওকে, " তুমি এখন ঘুমাও"। এরপর নিজেও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মিসেস সিউয়ার্ডের ডাকে যখন জাগলাম, তখন সকাল হয়ে গেছে। জানলার পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকছে দিনের প্রথম আলো। মিসেস সিউয়ার্ডের চেহারার বিষাদ লক্ষ্য করে বিছানার দিকে দৃষ্টি ফেরালাম -- সঙ্গে সঙ্গে টের পেলাম, মারা গেছে ইলিনা। আধখোলা চোখদুটোর দৃষ্টি ঘোলা হয়ে গেছে, হাঁ হয়ে আছে মুখটা, হাতের আঙুলগুলো কুঁকড়ে আছে যন্ত্রণায়। মনটা খারাপ হয়ে গেল। চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলাম না মেয়েটাকে। মিসেস সিউয়ার্ড এগিয়ে এসে মেয়েটার দু'চোখের পাতা বন্ধ করে দিলেন। তারপর বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন তার দেহটা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, " দুর্ভাগা মেয়ে! ওর জন্য কিছুই করার ছিল না আমাদের! আসুন জোনাথন, নাস্তা করবেন"। " আ....আমার খিদে নেই", কোনওরকমে জড়ানো গলায় বললাম। " তাহলে চা খাবেন আসুন। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই কোনও"। বিড়বিড় করে বাইবেলের কয়েকটা শ্লোক আওড়ালাম ইলিনার জন্য। তারপর বেরিয়ে এলাম কামরা থেকে। কেন যেন মনে হতে লাগল, ইলিনাকে গত রাতে রক্ত দেওয়াটা ঠিক হয়নি। চিকিৎসা করতে গিয়ে ওর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে দিয়েছি আমরা। আজগুবি চিন্তা এটা, কিন্তু কিছুতেই মাথা থেকে তাড়াতে পারলাম না চিন্তাটাকে। ভুল করছি আমি? কে জানে! পরে।। দিনটা যেন কাটতেই চাইছে না। ব্যথা বেদনায় কাতর হয়ে আছি আমি....শরীরের ব্যথা....মনের ব্যথা। এখনও পর্যন্ত ভ্যান হেলসিংয়ের তরফ থেকে কোনও খবর পাইনি আমি। কি করছেন, কোথায় আছেন - কিছুই বুঝতে পারছি না। ওদিকে ওপরতলার একটা আলাদা ঘরে এখনো পড়ে আছে ইলিনার শবদেহ। অন্ত্যেষ্টির অপেক্ষায়। সন্ধ্যা নামলে সন্তর্পণে দেখতে গেলাম ওর মৃতদেহটাকে। চাদর সরিয়ে মুখটার দিকে তাকাতেই ধাক্কা খেলাম একটা। কোথায় সেই হতশ্রী চেহারা? কোথায় মৃত্যুর ছাপ? জীবিতাবস্থায় যেরকম ছিল, তার চেয়েও যেন অনেক বেশী জ্যান্ত মনে হচ্ছে ইলিনাকে। মনে হচ্ছে যেন পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। ফিরে পেয়েছে আগের সেই টাটকা সতেজ চেহারা। আগের চেয়েও আরও বেশি সুন্দরী মনে হচ্ছে ওকে। কে বলবে, ও মারা গেছে ; মনে হচ্ছে যেন এখুনি তাকাবে। আশ্চর্যরকম লাল টুকটুকে হয়ে গেছে ওর ঠোঁটদুটো, যেন কাঁচা রক্ত লেপে দেয়া হয়েছে ওখানে। অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠলাম আমি। এসব লক্ষণ আমি বুঝি। ইলিনার শবে যেসব লক্ষণ ফুটে উঠেছে, তার অর্থ আমি বুঝতে পারছি। অজানা আশঙ্কায় আমার বুক কেঁপে উঠল। তাড়াতাড়ি নিজের কামরায় ছুটে গিয়ে কাঠের গজাল আর হাতুড়ি বের করে আনলাম। ওগুলো নিয়ে ফিরে এলাম ইলিনার কাছে। মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে গজালের ছুঁচালো দিকটা ঠেসে ধরলাম ওর হৃদপিন্ড বরাবর। হাতুড়ি- টা উঁচু করে যে-ই না বাড়ি দিতে গেছি, অমনি ঝড়ের বেগে কামরায় ঢুকলেন মিসেস সিউয়ার্ড। খপ করে চেপে ধরলেন আমার হাত। " জোনাথন! কি করছেন আপনি!" বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন তিনি। ভদ্রমহিলার হাতে এত শক্তি, আগে বুঝতে পারিনি। মোচড়ামুচড়ি করেও নিজের হাত ছাড়াতে পারলাম না ওনার হাত থেকে। খ্যাপাটে গলায় বললাম, " হাত ছাড়ুন মিসেস সিউয়ার্ড। ইলিনার বুকে কাঠের গজাল গেঁথে ওর হৃদপিন্ড এঁফোড় ওঁফোড় করতে হবে এখুনি। নইলে আজ রাতেই ইলিনা জীবন্মৃত হয়ে জেগে উঠবে।" " না! থামুন", জোর গলায় বললেন মিসেস সিউয়ার্ড, " এটা স্রেফ একটা হতভাগ্য মেয়ের লাশ। ভ্যাম্পায়ার হয়নি ও, স্রেফ মারা গেছে। ঈশ্বরের দোহাই জোনাথন। অযথা বেচারির লাশটাকে বিকৃত করবেন না"। টান মেরে আমার হাত থেকে হাতুড়ি আর গজাল কেড়ে নিলেন মিসেস সিউয়ার্ড। ওগুলো নিয়ে বেরিয়ে গেলেন কামরা থেকে। লুকিয়ে রাখবেন। হতাশায় ভেঙে পড়ে দু হাতে মুখ ঢেকে চেয়ারে বসে পড়লাম আমি। যা করতে যাচ্ছিলাম, তা ভুল না ঠিক - বলতে পারব না। তবে এটুকু বুঝতে পারছি - মাথা খাটাইনি, উত্তেজনার বশে কান্ডটা করতে যাচ্ছিলাম। হয়তো ঠিকই করেছেন মিসেস সিউয়ার্ড, আমাকে বাধা দিয়ে। ইলিনার দিকে আবার নজর ঘোরালাম আমি। কই, আগের মতো তো আর তরতাজা সুন্দরী লাগছে না ওকে। নিশ্চয়ই তাহলে তখন আমি ভুল দেখেছিলাম। মনের আশঙ্কাকে চোখের সামনে ফুটিয়ে তুলেছিল আমার মস্তিষ্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে ওর - স্বান্তনা দিলাম নিজেকে। লাশের মুখটা ফের চাদরে ঢেকে দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে। ২১ নভেম্বর।। না, ভুল আমি করিনি - আজ সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে। ঘটনাটা বিস্তারিত তুলে রাখছি। রাতে ঘুমের মধ্যে তীব্র অশান্তি অনুভব করছিলাম। হঠাৎ যেন শুনতে পেলাম একটা কিন্নর কন্ঠের ডাক, " জোনাথন! জোনাথন!" চোখ মেলতে দেখলাম একটা নারীমূর্তি - সর্বাঙ্গ সাদা চাদরে ঢাকা। বাতাসে ভেসে এগিয়ে এল সে আমার বিছানার কাছে, আমার গায়ের ওপর ঝুঁকল। তার এলোকেশ ছড়িয়ে পড়ল সামনে, আমার মুখের ওপর হালকা পরশ বুলিয়ে দিল। গোছা গোছা চুলের ভেতর থেকে জ্বলজ্বল করছে অঙ্গারের মতো তার দুটো চোখ। তারপর দেখতে পেলাম তার মুখ - ইলিনা। সাদা ত্বকে হালকা গোলাপি আভা, টুকটুকে লাল দুটো ঠোঁট। পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মতো বিছানায় পড়ে রইলাম আমি। চমকে উঠতেও যেন ভুলে গেছি। বরং মনে হলো, জানতাম এমন কিছু ঘটবে। এমন কিছুর জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলাম। অদ্ভুত এক কামনা জেগে উঠল শরীরে। চাইলাম ইলিনার রক্তরাঙা ওই দুটো ঠোঁট স্পর্শ করুক আমার ঠোঁট। ওর ধারাল দাঁত বসে যাক আমার ঘাড়ে। আমার অন্তরাত্মা যেন আর্তনাদ করে বলল, " মীনা, আমায় ক্ষমা করো!" বিছানার চাদর সরিয়ে আমার পাশে শুয়ে পড়ল ইলিনা। শরীরটা মৃতদেহের মতো শীতল নয়, বরং আগুনের মতো তাতানো। কাত হয়ে ডান হাতটা দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ওকে, ক্ষুধার্তের মতো নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম ওর ঠোঁটে। আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল ও। ওর আলিঙ্গনে দম আটকে এল আমার, একইসঙ্গে অনুভব করলাম একটা অভূতপূর্ব আনন্দ। ওর দাঁতের খোঁচায় আমার ঠোঁট কেটে রক্ত বেরোতে লাগল, পৈশাচিক আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠল ইলিনার চোখদুটো, চাটতে লাগল সেই রক্ত। রক্তের স্বাদ পেয়ে সাপের মতো হিসহিস করে উঠল ইলিনা। ঠোঁট থেকে ধীরেধীরে আমার গলার কাছে নেমে এল ওর মুখ। তপ্ত নিশ্বাসে যেন পুড়ে গেল চামড়া। টের পেলাম, আমার গলা আর ঘাড় চাটতে শুরু করেছে ইলিনা। বাধা দিতে পারলাম না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম, " ইলিনা.....কিভাবে..... " প্রশ্নটা শেষ না করতে পারলেও বুঝে নিল ইলিনা। বুঝতে পারল, কিভাবে ভ্যাম্পায়ার হলো ও, সেটাই জানতে চাইছি। একটু হাসল সে, বলল," তোমায় বলা হয়নি, জোনাথন, কারফ্যাক্স অ্যাবি থেকে চলে যাওয়ার আগে শেষবার আমার রক্তপান করেছিল কাউন্ট। সেজন্যেই আমি মরতে বসেছিলাম......" আরও কিছু বলল ও....বোধহয় বর্ণনা দিল সেই ঘটনাটার। কিন্তু সেসব শোনার মতো অবস্থায় আর ছিলাম না আমি তখন। প্রায় চেঁচিয়ে বললাম, " আর কিছু শুনতে চাই না ইলিনা....আমায় গ্রহণ করো"। খিলখিলে হাসির সঙ্গে আমার ঘাড়ের কাছে স্থির হলো ওর মুখ। চোখ বন্ধ করে ফেললাম, তারপরই টের পেলাম ঘাড়ে সূঁচ ফোটানোর মতো ব্যথা। চেঁচিয়ে উঠলাম। ব্যথায় নয়, চরম সুখের আবেশে। কে জানত, ব্যথার মাঝেও এত আনন্দ লুকিয়ে থাকতে পারে! টের পেলাম, বালিশ বিছানা ভিজে যাচ্ছে রক্তে। ক্ষতস্থানে মুখ রাখল ইলিনা। চুকচুক করে পান করতে লাগল আমার রক্ত। ক্রমশ পরবর্তী পর্ব একটু পরে পাবেন। অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now