বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৪ ক

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ৩৪ (ক) ১৬ নভেম্বর, সন্ধ্যা।। জোনাথন হারকারের ডায়েরী তিক্ততায় ভরে আছে আমাদের মন। কারফ্যাক্স অ্যাবির ওপর নজরদারির জন্য দু'জন লোক লাগিয়ে রেখেছিলেন ডাঃ সিউয়ার্ড। ওরা আমাদের জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কেউ নাকি ওখানে ঢোকেনি বা বেরোয়নি। ওদের চোখে ধুলো দেওয়া হয়েছে নাকি ঠিকমতো নজরই রাখেনি ব্যাটারা.....একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। আসল কথা হলো, ড্রাকুলা ঘোল খাইয়েছে আমাদের। আজ দুপুরে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালিয়েছিলাম আমরা কারফ্যাক্স অ্যাবিতে। সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্রের অভাব ছিল না আমাদের। নেকড়েগুলোকে ঠেকাবার জন্য মাংস, মুগুর আর গুলিভর্তি রাইফেল নিয়েছিলাম। সেগুলো ভালই কাজ দিয়েছে। দুটো নেকড়ে মারা পড়েছে গুলি খেয়ে, বাকিগুলো মাংসের লোভে ছুটে চলে গিয়েছিল অন্যদিকে। ফলে সহজেই চ্যাপেলের প্রবেশপথে পৌঁছতে পেরেছিলাম আমরা। দিনের বেলা অভিযান চালিয়েছিলাম একটামাত্র কারণে - ওই সময় কাউন্ট ড্রাকুলা ঘুমিয়ে থাকে তার শবাধারে, আমাদেরকে বাধা দিতে পারবে না। কিন্তু চ্যাপেলে ঢোকার পরে বোকা বনতে হয়েছে। ওখানকার সবগুলো কফিন আর সমাধিতে তল্লাশি চালিয়েছি আমরা, ড্রাকুলাকে পাইনি। পেয়েছি শুধু প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সকে। চ্যাপেলের এক প্রান্তে - একটা খোলা কফিনের ভেতর পড়ে ছিলেন তিনি। ঘুমন্ত। তবে অক্ষত নয়। চেহারা সুরতের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তাঁর ওপর যথেচ্ছ তাণ্ডব চালানো হয়েছে। " আন্দ্রে!" কোভাক্সকে দেখে ফিসফিসিয়ে উঠলেন ভ্যান হেলসিং। " এই-ই সুযোগ, প্রফেসর! " বলে ব্যাগ থেকে কাঠের গজাল আর হাতুড়ি বের করলেন ডাঃ সিউয়ার্ড, " এবার ওঁর আত্মাকে মুক্তি দিতে পারব আমরা"। " দাঁড়াও!" হাত তুলে বাধা দিলেন ভ্যান হেলসিং। বললেন, " ও আমার বন্ধু। কাজেই ওকে মুক্তি দেবার দায়িত্ব আমার"। হাতুড়ি আর গজাল নিয়ে কফিনের পাশে গেলেন হেলসিং। কয়েক মূহুর্ত তাকিয়ে রইলেন বন্ধুর ঘুমন্ত মুখের দিকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে গজালের ডগাটা ঠেকালেন কোভাক্সের বুকে। আর তখুনি নিজের ভবিতব্য বুঝতে পেরেই বোধহয় চোখ মেলে চাইলেন কোভাক্স। তাকালেন ভ্যান হেলসিংয়ের দিকে। চোখদুটো জ্বলে উঠল তাঁর। " তাড়াতাড়ি প্রফেসর! " চেঁচিয়ে উঠলেন ডাঃ সিউয়ার্ড, " দেরী করবেন না!" কিন্তু দেরী ততক্ষণে করেই ফেলেছেন ভ্যান হেলসিং। অসময়ে কোভাক্সকে জেগে উঠতে দেখে থমকে গেছেন মূহুর্তের জন্য। একটা ভ্যাম্পায়ারের জন্য ওইটুকুনি সময়ই যথেষ্ট। বিদ্যুৎবেগে উঠে বসলেন কোভাক্স, হাতের প্রচণ্ড থাবড়ায় ভ্যান হেলসিংয়ের হাত থেকে ফেলে দিলেন হাতুড়ি আর গজাল। তারপরই উন্মত্তের মতো জাপটে ধরলেন হেলসিংকে। এক হাতে ধরে কাত করলেন হেলসিংয়ের মাথাটা, হাঁ করে কামড় দিতে গেলেন প্রফেসরের উন্মুক্ত ঘাড়ে। ডাঃ সিউয়ার্ডও কম যান না। পকেট থেকে ক্রুশ বের করে ছুটে গেলেন ওঁদের কাছে, কোভাক্সের হাঁ করা মুখের ভেতর গুঁজে দিলেন ক্রুশটা। ভয়ঙ্কর এক গর্জন করে ভ্যান হেলসিংকে ছেড়ে দিলেন কোভাক্স, কফিন থেকে লাফ দিয়ে পড়লেন মাটিতে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় শুরু করলেন গড়াগড়ি। মাংস পোড়া বিশ্রী গন্ধে ভরে গেল চ্যাপেলের অভ্যন্তর। " জোনাথন, ধরুন ওঁকে!" চেঁচালেন ডাঃ সিউয়ার্ড। বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লাম। একে আহত, তার ওপর অসময় জেগে উঠেছেন.....কোভাক্সকে চিত করে মাটির ওপর ঠেসে ধরতে কোনও অসুবিধা হল না। হাতুড়ি আর গজাল কুড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে এলেন ডাঃ সিউয়ার্ড। " না! থামো!" মুখ থেকে থুঃ করে ক্রুশটা ফেলে দিয়ে আর্তনাদ করে উঠলেন কোভাক্স। " কথা শোনো আমার!" " দুঃখিত, প্রফেসর ", বললাম আমি, " যা করছি, আপনার ভালর জন্যই করছি। আপনি কি চান না আপনার আত্মা মুক্তি পাক?" " চাই", বললেন কোভাক্স, " কিন্তু দোহাই তোমাদের, একটু শোনো আমার কথা"। " আপনাকে আর বিশ্বাস করা যায় না, প্রফেসর ", শীতল গলায় বললাম, " নিজের সত্যিকার রূপ এইমাত্র দেখিয়ে দিয়েছেন আপনি"। " ওটা স্রেফ প্রবৃত্তির বশে করে ফেলেছিলাম", কোভাক্স বললেন, " কিন্তু আমি তোমাদের ক্ষতি চাই না। প্লিজ হেলসিং, থামতে বলো ওদেরকে"। " ওসব ছেঁদো কথা অন্য কোথাও গিয়ে শোনান", গজালের সূঁচালো ডগা কোভাক্সের বুকে ঠেকিয়ে হাতুড়ি তুললেন ডাঃ সিউয়ার্ড, " আমাদের সঙ্গে সুবিধে করতে পারবেন না"। " না! দাঁড়াও!" এবার বলে উঠলেন ভ্যান হেলসিং। পড়ে গিয়েছিলেন তিনি, গলা ডলতে ডলতে উঠে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, " ওকে বাগে পেয়েছ তোমরা। কি বলতে চায়, শোনাই যাক না। তারপর না হয় ওর বুকে গজাল ঢুকিয়ে দিয়ো "। " যদি ও কাজ করো, ড্রাকুলার ইচ্ছেটাই শুধু পূর্ণ হবে, আব্রাহাম ", ভ্যান হেলসিংকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন কোভাক্স, " বুঝতে পারছ না, কেন এভাবে আমায় রেখে গেছে শয়তানটা? ও খুব ভাল করেই জানত,তোমরা আবার আসবে। আমায় এ অবস্থায় পেলে নির্ঘাত আমায় শেষ করে ফেলবে"। " রেখে গেছে বলতে কি বোঝাতে চাইছেন"? ভ্রু কোঁচকালাম। " ও আর এ বাড়িতে নেই, জোনাথন", বললেন কোভাক্স, " ওরা কেউই নেই। সবাই চলে গেছে"। দুনিয়া দুলে উঠল আমার চোখের সামনে। জিজ্ঞেস করলাম, " কোথায় গেছে?" " কোথায় আবার? স্কলোম্যান্সে!", বললেন কোভাক্স, " শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছি আমি, স্কলোম্যান্সে যাওয়া থেকে ঠেকাতে পারিনি ওকে। আব্রাহাম, ওখানে এমন এক শক্তি লুকিয়ে আছে, যেটা পেলে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পিশাচে পরিণত হবে ও। কেউ আর কখনো ঠেকাতে পারবে না ওকে। কেউ না। ইলিনা, মীনা আর কুইন্সিকে সাথে নিয়ে গেছে ও জিম্মি হিসেবে.....যাতে যাত্রাপথে ওর ওপর হামলা চালাবার সাহস না পাও তোমরা"। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৪ খ
→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৪ ক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now