বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ৩১ঃ জোনাথন হারকারের জার্নাল; ভ্যান হেলসিংয়ের হাতে লেখা ১৪ নভেম্বর, সন্ধ্যা।। আশা নিরাশা মিলিয়ে কেটেছে আজকের দিন। কারফ্যাক্স অ্যাবির ফটক বন্ধ অবস্থায় পেয়েছি আমরা, তবে ফটকের সামনের রাস্তায় পরিষ্কার ফুটে আছে ঘোড়ার গাড়ির তাজা ট্র্যাক। পুরনো বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল আমার। ভাবিনি আবার কোনওদিন এখানে আসতে হবে। গোধূলির আবছায়া পরিবেশে ভূতুড়ে দেখাচ্ছিল বাড়িটাকে। কোভাক্স বললেন, " গেট আমি পেরোতে পারব কিন্তু আমন্ত্রণ না পেলে বাড়ির ভেতর ঢুকতে পারব না। " একদমই পারবে না?" জিজ্ঞেস করলেন ভ্যান হেলসিং। " বড়জোর চ্যাপেল পর্যন্ত যেতে পারি", কোভাক্স বললেন। " তা হলে ওখানেই তোমার সঙ্গে মিলিত হব আমরা"। মাথা ঝাঁকিয়ে গেটের দিকে এগিয়ে গেলেন কোভাক্স। ওর দেহটা কুয়াশায় পরিণত হলো, গেটের দুই পাল্লার মাঝ দিয়ে ঢুকে গেল কুয়াশাটা। সঙ্গে দড়ি আর আঁকশি নিয়ে এসেছি আমরা, ওগুলোর সাহায্যে কিছুক্ষণ পর বাকিরাও দেওয়াল টপকালাম। গলায় রসুনের মালা পড়েছি আমরা, হাতে রয়েছে রূপোর তৈরি পবিত্র ক্রুশ আর ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে লড়বার জন্য অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। ওপাশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হিংস্র নেকড়ের ডাক শুনতে পেলাম। কয়েকটা। প্রথমে দূর থেকে ভেসে এল গর্জন, তারপর ধীরেধীরে জোরালো হতে থাকল। বুঝলাম, আমাদের লক্ষ্য করে ছুটে আসছে প্রাণীগুলো। ব্যাগ থেকে দুটো কাঠের গজাল বের করে আমার আর ডাঃ সিউয়ার্ডের হাতে তুলে দিলেন ভ্যান হেলসিং। নেকড়ের সঙ্গে লড়বার জন্য এরচেয়ে ভাল অস্ত্র আর নেই আমাদের সঙ্গে। ঝোপঝাড়ের দিকে ছুটলাম তিনজনে। চেষ্টা করলাম নেকড়েগুলোকে ফাঁকি দিতে। একটু পরেই দেখি গেল ওগুলোকে - বিশাল আকৃতির। আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করল কিন্তু ঘন ঝোপঝাড় মাড়িয়ে খুব একটা সুবিধে করতে পারল না। হঠাৎ শেষ হলো জঙ্গল, সামনের দিকে চ্যাপেলের দরজা দেখতে পেলাম আমরা - বাড়ির একপাশে, পরিত্যক্ত একটা অংশের দেয়ালের মাঝে মুখ ব্যাদান করে রেখেছে প্রবেশপথটা। দেখা গেল সিঁড়ির ধাপ-নেমে গেছে ভূ গর্ভে। সিঁড়ির মাথায় উদয় হলেন কোভাক্স, হাতছানি দিয়ে ডাকলেন আমাদেরকে। কিন্তু ওখানে পৌঁছবার আগেই ঝোপঝাড় ভেঙে খোলা জায়গায় বেরিয়ে এল নেকড়েগুলো। এবার পরিষ্কার দেখা গেল প্রাণীগুলোকে। কি বিশাল তাদের চেহারা! সংখ্যায় পাঁচ ছ'টা, হিংস্র দাঁত বের করে, জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো দৃষ্টি মেলে আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। একটা নেকড়ে ঝাঁপ দিল ডাঃ সিউয়ার্ডকে লক্ষ্য করে, বিশাল চোয়াল দিয়ে কামড়ে ধরল তাঁর একটা হাত। সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন ভ্যান হেলসিং, হাতের গজালটা তলোয়ারের মতো গেঁথে দিলেন নেকড়েটার শরীরে। আহত হয়ে আর্তনাদ করতে করতে, ডাঃ সিউয়ার্ডকে ছেড়ে দিয়ে ওটা লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। ততক্ষণে আরও দুটো নেকড়ে ছুটে এসেছে আমার দিকে। গজালটা মুগুরের মতো চালিয়ে হামলা ঠেকাবার চেষ্টা করলাম,লাভ হলো না। একযোগে গজালের মাথা কামড়ে ধরল নেকড়েদুটো, শুরু হলো ধ্বস্তাধস্তি। বুঝলাম, ওদের শক্তির কাছে হেরে যাচ্ছি আমি। গজাল ফেলে দিয়ে চ্যাপেলের দিকে দৌড় দেব কিনা ভাবলাম, তবে আশার আলো দেখলাম না। সিঁড়ির কাছে পৌঁছবার আগেই আমাকে পেড়ে ফেলবে জানোয়ারদুটো। ভ্যান হেলসিং আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছিলেন কিন্তু একটা নেকড়ে এবার তাঁকে লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিল। কামড়ে ধরল তাঁর উরু। ব্যথায় ককিয়ে উঠলেন তিনি। গজাল দিয়ে নেকড়েটাকে আঘাত করবার আগেই ওটা'র ভারী শরীরের ধাক্কায় চিৎপাত হয়ে পড়ে গেলেন মাটিতে। চরম সর্বনাশটা ঘটেই যাচ্ছিল, হঠাৎ শোনা গেল একটা জলদগম্ভীর গলা। " থামো!" সঙ্গে সঙ্গে স্থির হয়ে গেল নেকড়েগুলো। স্থির হয়ে গেলাম আমরা। আস্তে আস্তে ঘাড় ফেরাতে দেখলাম কাউন্ট ড্রাকুলার সেই পরিচিত অবয়ব -যেন মাটি ফুঁড়ে উদয় হয়েছে সে। হাতের ইশারা করতেই নেকড়েগুলো আমাদেরকে ছেড়ে পিছিয়ে গেল, গুটিসুটি হয়ে বসে পড়ল কাউন্টের পায়ের কাছে, পোষা কুকুরের মতো। স্বীকার করতে দোষ নেই, নেকড়েগুলোর হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আমরা যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। চকিতে চ্যাপেলের প্রবেশপথে নজর বোলালাম। দেখি, প্রফেসর কোভাক্স কোথায় উধাও হয়ে গেছেন। " স্বাগতম, প্রফেসর ভ্যান হেলসিং, ডাঃ সিউয়ার্ড এবং মিঃ হারকার!" সম্ভাষনের সুরে বলল কাউন্ট, " আমার প্রহরীদের দুর্ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইছি। তবে এর জন্য তোমরাই দায়ী। গেট দিয়ে ঢোকোনি কেন? তা হলে তো আগেভাগেই দেখতে পেতে ওদেরকে। অযথা বিপদে পড়তে না। যাক গে, তোমরা কেউ গুরুতর আহত হওনি তো?" " সিরিয়াস কিছু না", উরু চেপে ধরে বললেন ভ্যান হেলসিং। কন্ঠস্বরে কপট ভদ্রতা ফুটিয়ে বললেন, " জিজ্ঞেস করেছ বলে ধন্যবাদ "। কথার মারপ্যাঁচে গেলাম না আমি। জেদি গলায় বললাম, " মীনা আর কুইন্সিকে নিয়ে যেতে এসেছি আমরা। ভালয় ভালয় ওদেরকে তুলে দাও আমাদের হাতে"। " কি করে দিই, বলো"? হাসল কাউন্ট, " মীনার প্রয়োজন এখন ফুরোয়নি আমার কাছে। শুধু রক্তই নয়, পরস্পরের সাহচর্যেরও ভক্ত হয়ে উঠেছি আমরা। ও এখন থেকে আমার, হারকার!" মাথায় রক্ত চড়ে গেল আমার। ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে এগোতে গেলাম ওর দিকে কিন্তু পেছন থেকে ডাঃ সিউয়ার্ড ধরে ফেললেন আমাকে। ড্রাকুলার মুখের হাসি এবার উপহাসে পরিণত হলো। বলল, " পিছু নেবার পরিণতি কি হতে পারে, সে ব্যাপারে সাবধান করেছিলাম তোমাকে। কথাটা দেখছি কানে তোলোনি। যাক গে, আপাতত যুদ্ধবিরতি করা যাক। আমার কথা যেহেতু বিশ্বাস করছ না, মীনার মুখ থেকেই শোনো, ওর কি ইচ্ছে। খবরদার, কেউ কোনও চালাকি করতে যেও না! যদি ভেবে থাকো, তোমাদের গলার ওই বিচ্ছিরি মালাগুলো তোমাদের রক্ষা করবে, তাহলে মস্ত ভুল করবে। রসুন আমি সহ্য করতে পারি না ঠিকই, কিন্তু এরা......" পায়ের কাছে বসে থাকা নেকড়েগুলোর দিকে ইশারা করল কাউন্ট,.... " এরা রসুন টসুনের পরোয়া করে না। আমার হুকুম পেলেই এরা তোমাদের ছিঁড়ে কুটিকুটি করে ফেলবে"। " তুমি চালাকি না করলে আমরাও চালাকি করব না", বললেন ভ্যান হেলসিং। " উত্তম সিদ্ধান্ত। আর হ্যাঁ, তোমাদের সঙ্গে দেখা করানোর মতো আরও একজন মানুষ আছে। কার কথা বলছি, আশা করি বুঝতে পারছ? এসো "। অস্বস্তি নিয়ে কাউন্টকে অনুসরণ করলাম আমরা। নেকড়েগুলো প্রহরীর মতো রইল দু'পাশে, সতর্ক। প্রবেশপথ পেরিয়ে চ্যাপেলের সিঁড়ি ধরে নামতে শুরু করলাম আমরা। পরিচিত জায়গা, এতটুকু বদলায়নি। এখানেই সাত বছর আগে ড্রাকুলাকে খুঁজতে এসেছিলাম ভ্যান হেলসিংয়ের সঙ্গে। নীচে পৌঁছতেই বাতাসে মিলিয়ে গেল কাউন্ট। রয়ে গেল শুধু নেকড়েগুলো, আমাদেরকে ঘিরে রাখল। খানিক পরে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। ঘাড় ফেরাতেই দেখি, চ্যাপেলের দ্বিতীয় সিঁড়িটা বেয়ে নেমে আসছে মীনা - ওর কোলে ঘুমন্ত কুইন্সি। পাশে পাশে নামছে ইলিনা। আর ওদের পেছনে রয়েছে কাউন্ট স্বয়ং। ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত নয়, তারপরেও চমকে উঠলাম মীনা আর ইলিনার চেহারা দেখে। প্রাণহীন, রক্তশূন্য - ভ্যাম্পায়ারের শিকার হবার পরিষ্কার চিহ্ন। অব্যক্ত ক্রোধে বুকটা গুমরে উঠল আমার। আমাকে দেখতে পেয়ে চোখদুটো বড় বড় হয়ে গেল মীনার। ডেকে উঠল, " জোনাথন!" ক্রুশ হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরলাম। বললাম, " মীনা, চলে এসো আমাদের কাছে। তুমি যদি চাও, কাউন্টের সাধ্য নেই আমাদেরকে ঠেকায়!" ওর দিকে এগোতে গেলাম কিন্তু গর্জে উঠল নেকড়েগুলো। মনে হলো ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার ওপর। ডাঃ সিউয়ার্ড আমায় পেছনে টেনে নিলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলল মীনা। বলল, " না, জোনাথন, তা সম্ভব নয়। তোমাদের সবাইকেই বলছি, প্লিজ ফিরে যাও তোমরা। আর কখনো এসো না এখানে"। " কি বলছ এসব তুমি মীনা?" প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন ভ্যান হেলসিং। " আমার ছেলের কথা ভেবে বলছি",বলতে লাগল মীনা। কুইন্সিকে চেপে ধরল নিজের বুকে, " আপনারা এখানে এসে ওর বিপদ বাড়াচ্ছেন "। " ওটাই একমাত্র কারণ", এবার সরোষে বলে উঠলাম আমি, " ড্রাকুলা বলছে, তুমি নাকি ওর সঙ্গেই থাকতে চাও। কথাটা কি মিথ্যে? " চেহারায় এবার বেদনা ফুটে উঠল মীনার। দেখে বুকটা হুহু করে উঠল আমার। ব্যথাতুর গলায় বলল, " এমন প্রশ্ন তুমি করতে পারলে, জোনাথন? এত বছর একসঙ্গে কাটাবার পরেও তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পারো না? " মাথা নাড়ল মীনা। বলল, " দুঃখিত, জোনাথন, যা-ই ভাবো, আমি তোমাদের সঙ্গে যেতে পারব না। তোমাদেরকেও অনুরোধ করছি, এখান থেকে চলে যেতে - নিজেরা খুন হয়ে যাবার আগে"। মীনার আর ইলিনার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে কাউন্ট, বিজয়ীর ভঙ্গিতে। তীব্র ঘৃণা নিয়ে তাকালাম তার দিকে। কিন্তু এ কথাও ঠিক, বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি আমরা। কিছুই করবার নেই। হতাশায় ছেয়ে গেল অন্তর। আর ঠিক তখুনি যেন কোথা থেকে উদয় হলেন আন্দ্রে কোভাক্স। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন কাউন্টের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন আন্দ্রে কোভাক্স। পরমূহুর্তেই ঘটতে লাগল ঘটনাগুলো -। ক্রমশ লাইক কমেন্ট করতে থাকুন পরবর্তী পর্ব কিছুক্ষণ পরই পাবেন! অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now