বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ৩০ঃ জোনাথন হারকারের ডায়েরী ১৪ নভেম্বর, সকাল।। সুসংবাদ! অবশেষে আলোর রেখা দেখতে পেয়েছি আমরা। লন্ডন অভিমুখী রাস্তার ধারের এক আস্তাবল রক্ষক আমাদেরকে জানিয়েছে, ১২ তারিখের গভীর রাতে সে একটা ক্যারিজের ঘোড়া বদলে দিয়েছে। তার বর্ণনা শুনে নিঃসন্দেহ হয়েছি, ক্যারিজের চালক কাউন্ট ড্রাকুলা ছাড়া আর কেউ ছিল না। লন্ডনের দিকে গেছে ও......আর ওখানে ওর একটাই আস্তানা আছে - কারফ্যাক্স অ্যাবি। আমার মাধ্যমেই বাড়িটা কিনেছিল ও। ডাঃ সিউয়ার্ডের বাড়ি কারফ্যাক্স অ্যাবি-র পাশেই, ওখানে এখন মিসেস সিউয়ার্ড আছেন। তাঁকে টেলিগ্রাম করা হয়েছিল পুরনো বাড়িটায় কেউ উঠেছে কিনা খোঁজ নেবার জন্য। দু'ঘন্টা পরে এসেছে জবাব। মিসেস সিউয়ার্ড জানিয়েছেন, ১২ তারিখ ভোরে একটা ক্যারিজকে তিনি ঢুকতে দেখেছেন এই বাড়িতে। গেট বন্ধ, তবে বাড়ির চিমনী দিয়ে ধোঁয়া উড়ছে। তারমানে কেউ না কেউ আছে বাড়িটায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা রওনা হব ওখানকার উদ্দেশ্যে। ঈশ্বর, মীনা আর কুইন্সি যেন বেঁচে থাকে! শুধু একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না - আমরা চিনি, এমন একটা পরিচিত জায়গায় কাউন্ট আবার আশ্রয় নিতে গেল কেন? কোনও ফাঁদ পেতে রেখেছে নাকি আমাদের জন্য? আপাতত ফাঁদ বলেই ধরে নিচ্ছি আমরা। প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সও যাচ্ছেন আমাদের সঙ্গে। আমার কাছ থেকে ধার করা একটা কালো স্যুট পরেছেন তিনি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে চুল আঁচড়ে অনেকটাই এখন মানুষের মতোই লাগছে তাঁকে - শুধু তাঁর মুখের বাইরে বেরিয়ে থাকা শ্বদন্ত দুটো ছাড়া। এখনো তাঁকে নিয়ে একটা তীব্র অস্বস্তি ক্রিয়া করে চলেছে আমার মধ্যে। তবে ভদ্রলোক এখনো আমাদের প্রতি কোনও আগ্রাসী আচরণ করেন নি। কে জানে, কারফ্যাক্সে পৌঁছনোর পর তিনিই হয়তো কাউন্টের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্রে পরিণত হবেন - এই ভেবেও নিজেকে স্বান্তনা দিচ্ছি আমি। ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরী।। ১৩ নভেম্বর, রাত। কুইন্সিকে কোলে নিয়ে বসে আছি একটা জানলার পাশে। কামরার ভেতর কাঁপছে প্রদীপের শিখা আর ফায়ারপ্লেসের আগুন। বাইরে জমাট বাঁধা অন্ধকার। শোনা যাচ্ছে কুকুরের ডাক - ঠিক নেকড়ের মতো। কখনও চড়া হচ্ছে তাদের গলা, কখনও খাদে নেমে যাচ্ছে। পুরো দুনিয়া যেন ভরে যাচ্ছে তাদের অদ্ভুত সঙ্গীতে। কুইন্সি আমার বুকে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে, ভাবছে নিরাপদ আশ্রয়। কুকুরের ডাক শোনায় মগ্ন হয়ে আছি আমি, চেষ্টা করছি বাকি সবকিছু ভুলে যেতে। পারছি না। মীনার কাছে রয়েছে এখন আমার সঙ্গী - ঈর্ষায় বুক জ্বলে যাচ্ছে আমার.....চরম ঈর্ষা। কিন্তু উপায় নেই। আমার সঙ্গীর জগতে আমাদের সবার আলাদা আলাদা স্থান রয়েছে, তারপরেও কেন যেন..... মাঝেমাঝে কুইন্সি আমাকে এটা ওটা নানা প্রশ্ন করছে - মীনা'র কথা, বাড়ি ফেরার কথা.....অন্যমনস্কভাবে উত্তর দিয়ে দিয়ে ওর মনটাকে ঠিক রাখছি কিন্তু মন পড়ে আছে আমার সঙ্গীর কাছে। কিছুতেই দমাতে পারছি না ঈর্ষা। মীনার জায়গায় আমার থাকা উচিত। কবে আসবে সেই দিন, যেদিন আমি মৃত্যুর ওপরও কর্তৃত্ব করব? প্রফেসর ভ্যান হেলসিংয়ের কথা মনে পড়ল। বুদ্ধিমান মানুষ.... এখনও কি আমাদের খোঁজ পাননি তাঁরা? কঠিন কিছু ব্যাপার তো নয়। আসুক ওরা, কিচ্ছু যায় আসে না। কাউন্টকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। খুব শীঘ্রি ওর পাশে ঠাঁই নেব আমি। তখন আমিই শেষ করব মীনাকে। কবে আমাকে সম্পূর্ণ গ্রহণ করবে আমার সঙ্গী? যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছি আমি, আর সম্ভব হচ্ছে না। ইদানীং চোখে ঘোলা দেখি, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আয়নার নিজের প্রতিবিম্ব দেখলেও ভয় করে। সাদাটে পেত্নীর মতো চেহারা হয়েছে আমার, যেন দাঁড়িয়ে আছি আলো আর আঁধারের সন্ধিরেখায়। আলো এখন সহ্য হয় না আমার, ছায়া আর অন্ধকারেই খুঁজে পাই শান্তি। এভাবে আর কতদিন বাঁচব? ১৪ নভেম্বর।। সকালে মীনার জন্য ব্রেকফাস্ট নিয়ে গিয়ে দেখলাম, অনেক আগেই জেগে গেছে ও, হাত মুখ ধুয়ে পোশাক পালটে নিয়েছে। আমি যখন কামরায় ঢুকলাম, তখন টেবিলে বসে একমনে কি লিখছিল। বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল ওর, খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল ওকে। এক রাতেই অনেকটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে ও রক্ত হারিয়ে, ঠোঁটদুটো সাদা হয়ে আছে রক্তশূন্যতায়, গর্তে বসে গেছে চোখদুটো। আমার পায়ের শব্দে যখন আমার দিকে চাইল, দেখি ঘষা কাঁচের মতো হয়ে গেছে ওর চোখের মণিদুটো। শ্বাসও নিচ্ছে কষ্টেসৃষ্টে। এসব উপসর্গ ভালই জানা আছে আমার। ব্রেকফাস্টের ট্রে নামিয়ে রেখে বললাম, " এই নাও তোমার নাস্তা, মীনা। খাও....শক্তি ফিরে পেতে হবে তোমাকে"। কিচ্ছু বলল না ও। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। দৃষ্টিতে বাসা বাঁধল বেদনা আর আতঙ্ক। এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। কি লিখছিল কাগজগুলোতে, তা পড়ার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। শর্টহ্যান্ডে লিখছে মীনা, সঙ্কেতগুলোর অর্থ জানা নেই আমার। কলমের আঁচড় দেখে বুঝতে পারলাম, প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে ওর লিখতে। আজব ব্যাপার, তা হলে কষ্ট করে লিখছে কেন? হাত বুলিয়ে দিলাম ওর মাথায়। ফিসফিসিয়ে বললাম, " সাহস রাখো মীনা। খুব শীঘ্রি আমরা সবাই এক হয়ে যাব। পরিবারের মতো "। মাথা নাড়ল মীনা। ভাঙা গলায় বলল, " কুইন্সিকে একটু আমার কাছে নিয়ে আসবে, ইলিনা। ওকে দেখতে চাই আমি"। " তা হলে নাস্তা সেরে নাও", বলে ছেড়ে দিলাম ওকে, " তারপর আনব"। মীনা হারকারের জার্নাল।। ১৪ নভেম্বর, দুপুর।। পিছলে যাবার মতো একটা অনুভূতি হচ্ছে আমার। মনে হচ্ছে যেন আলোকিত দুনিয়া থেকে পিছলে নেমে যাচ্ছি অন্ধকার কোনও গহ্বরে। হারাতে বসেছি নিজের পরিচয়। বড্ড ক্লান্তি অনুভব করছি নিজের শরীরে। জোরে জোরে শ্বাস টানছি সারাক্ষণ, যেন ঘরে বাতাসের অভাব রয়েছে। এত দুর্বল লাগছে শরীর, যেন মনে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে থাকি; কিন্তু তা না করে টেবিলে এসে বসেছি, হাতে তুলে নিয়েছি কলম। যত খারাপই লাগুক, সব লিখে রাখতে হবে আমায়। এই জার্নালই আমাকে এখন পাগল হওয়া থেকে রক্ষা করছে। গত রাতের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে এসেছে আমার। যদ্দুর মনে পড়ে, ঘাড়ের কাছে শ্বদন্ত ফুটিয়ে আমার রক্তপান করার পরেও আমাকে ছেড়ে দেয়নি কাউন্ট। ধারালো নখ দিয়ে নিজের বুকের শিরা কেটে আমাকে পান করিয়েছিল তার বিষাক্ত রক্ত, বাধা দিইনি, বাধা দেবার শক্তিও ছিল না। বিনা প্রতিবাদে খেয়েছি সেই রক্ত। এইভাবে কলুষিত করেছি নিজের আত্মাকে। সে কথা ভাবতেই হেঁট হয়ে আসছে মাথা। কুইন্সিকে নিয়ে এসেছে ইলিনা, এখন ও আগুনের সামনে বসে আপনমনে ছবি আঁকছে। ওকে চোখের সামনে ছবি আঁকতে দেখে ভালই লাগছে। কিন্তু ও এখন বন্দি, কথাটা মনে হতেই বিচলিত লাগছে। সন্ধ্যা। ঘড়ি নেই আমার সাথে। ক'টা বাজে বলতে পারছি না। বাইরে নেমে এসেছে সাঁঝের আঁধার। কুইন্সিকেও নিয়ে গেছে ইলিনা, ওকে আমার সঙ্গে রাতে থাকতে দেবে না। শরীরে শক্তি সামান্য ফিরেছে আমার; কিন্তু মনের ভয় কাটেনি। এখন আমি বসে বসে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছি। ঢিবঢিব করছে বুক; কিন্তু একইসঙ্গে অনুভব করছি কিসের যেন একটা অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা। আজ রাতে আবার আসবে ড্রাকুলা। চাইছি, আসুক ও। স্পর্শ করুক আমায়। কামড় বসাক ঘাড়ে। সে এক অন্যরকম ব্যথা....অন্যরকম আনন্দ। এসেছিল ও, আবার চলেও গেছে ; কিন্তু বিদায়টা স্বাভাবিক হয়নি। নিঃশব্দে কামরায় ঢুকেছিল ও। পেছন থেকে এসে হাত রেখেছিল আমার কাঁধে, থামিয়ে দিয়েছিল আমার কলম। ঘাড় ফেরাতেই দেখেছি, আরও যেন যুবক হয়ে উঠেছে ও। প্রাণপ্রাচুর্যে যেন ঝলমল করছে চেহারা। সুদর্শন মুখটায় খেলা করছিল এক নিষ্ঠুর হাসি। " সারাক্ষণ কি এত লেখো, বলো তো?" বলেছে সে, " ইলিনাকেও দেখলাম তোমার এই রোগটা পেয়ে বসেছে। আমি বলব, এটা ইংরেজদের মানসিক একটা সমস্যা। সবকিছু খাতায় কলমে টুকে না রাখলে যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে"। " তুমি মানা করলে লিখব না", বলেছি আমি, " না লিখলেও সব মনে থাকবে। আমার স্মরণশক্তি খুবই ভাল"। " মরার পরেও মনে থাকবে সব?" হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল ও। জবাব দিলাম না কোনও। কলমটা শুধু শক্ত করে ধরে রইলাম। " যা খুশি লেখো ", তাচ্ছিল্যের সুরে বলল কাউন্ট, " তোমার লেখায় কিছু যায় আসে না"। " সত্যি বলছ?" বলে উঠলাম আমি, " কিন্তু এই লেখাগুলোই যে তোমাকে গতবার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল"। " জানি", বিরক্ত গলায় বলল কাউন্ট, " বিভিন্ন জনের ডায়েরী আর জার্নাল যোগাড় করেছিলে তোমরা। সেগুলো পড়ে আমার গতিবিধির খবর পেয়েছিলে। ভ্যান হেলসিং লোকটা পারেও বটে"। পিছিয়ে গিয়ে পায়চারী শুরু করল সে। অদ্ভুত এক টান অনুভব করলাম আমি। চাইলাম ওর কাছে ছুটে যেতে। শয়তানী আকর্ষণ, আর কিছু না - এই বলে নিজেকে প্রবোধ দিলাম আমি। শান্ত কন্ঠে বললাম, " কাল রাতেই তোমার - আমার লেনদেন শেষ হয়ে গেছে, কাউন্ট। তুমি বরং আমায় আর কুইন্সিকে যেতে দাও"। পায়চারী থামিয়ে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। বলল, " কি বলতে চাও তুমি?" আমি বললাম, " তোমার জন্য সঙ্গিনীর অভাব হবে না কাউন্ট...তোমার ক্ষমতা বিস্তারের জন্য যে কাউকে তুমি ব্যবহার করতে পারো; কিন্তু আমায় আর কুইন্সিকে তুমি ছেড়ে দাও"। " সম্ভব নয়", বলল সে, " আমি তো জানি, তুমি আমায় ভালবাসো"। " কি?" বিস্ময়ে চেঁচিয়ে বললাম আমি। " হ্যাঁ....সামান্য হলেও তুমি আমায় ভালবাসো। তাই তো তোমায় অনন্তকাল আমার পাশে....." হাসব না কাঁদব ভেবে পেলাম না আমি। তীব্র ক্রোধে চেষ্টা করলাম নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে, কিন্তু সে আমার হাত বজ্রমুষ্টিতে চেপে ধরল। ধীরেধীরে উঠে দাঁড়াল সে, আমাকেও দাঁড় করালো। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রতিরোধের শক্তি হারালাম। নিজেকে সমর্পণ করলাম ওর হাতে। ওর ধারালো দাঁতদুটো আবারও আমার ঘাড়ের চামড়ায় ঢুকে গেল। অন্ধকার হয়ে গেল দুনিয়া। কাঁপতে লাগলাম আমি হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মতো। ঠিক এইসময় বাইরে থেকে ভেসে এল গোলমালের আওয়াজ। মানুষের কন্ঠ আর কুকুরের হিংস্র গর্জন, পরিষ্কার চিনতে পারলাম আমি। বুঝতে পারলাম, কারা এসেছে। ঝট করে সোজা হয়ে দাঁড়াল কাউন্ট। আমার ওপর থেকে সমস্ত মনোযোগ হারাল, রক্তমাখা মুখ ঘোরাল জানলার দিকে। বুঝতে চেষ্টা করল কোত্থেকে আওয়াজ আসছে। হাতের উলটো পিঠ দিয়ে মুখ মুছল। তারপর পা বাড়াল বেরিয়ে যাবার জন্য। " না!" চেঁচিয়ে উঠলাম আমি, " আমার স্বামী আর বন্ধুরা এসেছে..... ওদের কোনও ক্ষতি কোরো না তুমি! নইলে আমার কাছ থেকে আর কিছুই পাবে না কোনওদিন। কোনওদিন না!" এক মূহুর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল কাউন্ট। ঘাড় ফিরিয়ে হিংস্র চোখে তাকাল আমার দিকে। তারপরেই হাসল সে। সাদা কুয়াশায় পরিণত হলো তার শরীর। কুয়াশার মেঘ ছুটে গেল জানলার দিকে - পাল্লা আর চৌকাঠের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেল বাইরে। আমিও ছুটলাম ওদিকে। জানলা খুলে নিচে তাকাতেই দম আটকে এল আমার। টিকটিকির মতো কাউন্টকে খাড়া দেওয়াল বেয়ে নেমে যেতে দেখলাম দ্রুতগতিতে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হারিয়ে গেল দৃষ্টির আড়ালে। কুকুরের গর্জন বেড়ে উঠল। সেইসঙ্গে বাড়ল মানুষের চিৎকার। কামরার দরজায় ছুটে গেলাম কিন্তু বেরোতে পারলাম না। বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগানো। চরম হতাশা নিয়ে ফিরে এলাম জানলার কাছে। কি ঘটছে নীচে বলতে পারছি না। কাউন্ট তো দূরের কথা, ইলিনাকেও দেখা যাচ্ছে না। গলা চড়িয়ে কয়েকবার ডেকেছি ওকে, কোনও জবাব পাইনি। জোনাথনের জন্য ভয় হচ্ছে আমার, ভীষণ ভয়। ওই তো, বাইরে কার যেন পায়ের আওয়াজ পাচ্ছি। আমায় নিতে এল বোধহয় ওরা। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now