বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২৯ (খ)
রাগে চোখদুটো জ্বলে উঠল ইলিনার। বলল, " কে বলেছে
আমি ওর দাসী? ও আমার সহচর.... আর আমি ওর সহচরী। আর
কিছু
না। ওর কথায় চলছি আমি, কারণ ও-ই পারবে আমার
স্বপ্নকে সত্যি
করতে। দিতে পারবে সত্যিকার স্বাধীনতা। তখন কোনও
শৃঙ্খল
থাকবে না আমার; এমনকি বার্ধক্য'ও বেড়ি পরাতে
পারবে না আমার
পায়ে। অসীম ক্ষমতা, অনন্ত যৌবন আর অমরত্ব - অর্জন
করব
আমি, যা খুশি তাই করতে পারব"।
" ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ অমরত্ব দিতে পারে না, ইলিনা",
পালটা যুক্তি
দেখালাম আমি, " শয়তান যে অমরত্বের লোভ দেখায়,
সেটা
স্রেফ একটা ছলনা......একটা অভিশপ্ত জীবন যাপন করবে
তুমি"।
" ঈশ্বর কবে কাকে অমরত্ব দিয়েছেন, বলো তো?" পালটা
প্রশ্ন করল ইলিনা, " শয়তান যেটা দিচ্ছে, সেটা আর কিছু
না হোক,
আকর্ষণীয় তো বটেই। তুমি যে আদর্শ বহন করছ নিজের
মধ্যে, সেটাই বা কি এমন প্রশংসনীয়? হাজারটা
বিধিনিষেধ..... হাজারটা
নিয়মের বেড়াজাল কিছুই দিতে পারে না মানুষকে।
প্রতিনিয়ত
কাটাতে হয় ' ঈশ্বর ' নামক এক অদৃশ্য শক্তির আরাধনা
করে, তাঁকে
ভয় পেয়ে.....কি পাও তার বিনিময়ে? এই যে এত বড়
বিপদে
পড়েছ....কই, ঈশ্বর তো কিছুই করলেন না তোমার জন্য। অথচ
কাউন্টকে দেখো। ঈশ্বরের নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার
সাহস
দেখিয়েছে ও। তাঁকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজত্ব করছে
দুনিয়ার বুকে। ওর বিরুদ্ধে সবাই অসহায়। যদি সেই
ক্ষমতার খানিকটাও
পাবার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কেন আমি তাকে অনুসরণ
করব না?"
এতসব যুক্তি খণ্ডন করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। শুধু বললাম,
"পাগলামি ছাড়ো, ইলিনা। এখনও সময় আছে। ফিরে এসো
সঠিক
পথে। কুইন্সির ঘরের চাবি তো তোমার কাছেই আছে।
দিনের
বেলায় কাউন্ট বিশ্রাম নিতে গেলে খুলে দাও ওর ঘরের
দরজা।
এরপর আমরা চলে যাব এই অভিশপ্ত বাড়ি ছেড়ে।"
" না!" রুক্ষ গলায় বলল ইলিনা, " অসম্ভব প্রত্যাশা কোরো
না আমার
কাছে! তারচেয়ে..... " চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমায়
জড়িয়ে ধরল ও। বলল, " আমাদের সঙ্গে তুমি'ও যোগ দাও
মীনা। তোমায় আমরা ভালবাসি"।
তীব্র ঘৃণায় রি রি করে উঠল সর্বাঙ্গ। এক ধাক্কায়
সরিয়ে দিলাম
ওকে। বললাম, " কক্ষনো না!"
অগ্নিদৃষ্টি হানল ও আমার দিকে। তারপর বাসনকোসন ট্রে
তে
তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল কামরা থেকে।
গা কাঁপছিল আমার। টেবিলের ড্রয়ার খুলে হাতাহাতি
করে কয়েক
টুকরো কাগজ আর একটা কলম পেয়ে গেলাম। সেগুলো
নিয়ে বসলাম এই জার্নাল লিখতে। নিজেকে শান্ত
রাখবার এই
একটাই উপায়।
১৩ নভেম্বর।।
গত রাতে আবার আমার ঘরে এসেছিল কাউন্ট ড্রাকুলা।
আমার খাবার নিয়ে এসেছিল ও, আমিও আপত্তি করিনি।
শক্তি আর
মনোবল ধরে রাখার জন্য খাওয়াদাওয়া চালিয়ে যাচ্ছি
আমি। চুপচাপ
বসে আমায় খেতে দেখল ও, কোনও বিরক্ত করেনি। মনে
মনে ভয় পেলেও চেহারায় তার প্রকাশ হতে দিইনি আমি,
নির্বিকার
থেকেছি।
খাওয়া শেষ হলে ও বলল, " চলো, একটু কথা বলা যাক"।
ফায়ারপ্লেসের সামনে রাখা চেয়ারগুলোর দিকে
এগিয়ে
গেলাম আমরা। ম্যান্টেলপিসের সামনে রাখা আয়নাটার
দিকে
চোখ পড়তেই দেখলাম, ওতে কেবল আমায় দেখা যাচ্ছে,
কাউন্টকে নয়। মনে পড়ে গেল, আয়নায় ভ্যাম্পায়ারদের
কোনও প্রতিবিম্ব পড়ে না। জোনাথনের মুখেই
শুনেছিলাম এ-
কথা।
আমার মনের চিন্তাটা সম্ভবত অনুধাবন করতে পারল
কাউন্ট।
জিজ্ঞেস করল, " আমার প্রতিবিম্ব নেই কেন, বলতে
পারো?"
" কারণ তোমার কোনও আত্মা নেই", কাঠখোট্টা গলায়
জবাব
দিলাম আমি।
" কিন্তু আমি তো সব অনুভব করতে পারি", বলল সে, "
ভালবাসা,রাগ,
ক্ষোভ, ঘৃণা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা.... সবই আমার আছে। আত্মা
না থাকলে
এসব থাকে কি করে? " বলতে বলতে আয়নার দিকে এগিয়ে
গেল সে। কাঁচের ওপর আঙুল রেখে বলল, " আয়না আসলে
মিথ্যেবাদী, বুঝলে? ভ্রম ছাড়া আর কিছু সৃষ্টি করে না
এটা"।
আয়নার ওপর তার আঙুলের চাপ বাড়তে দেখলাম। এক
মূহুর্ত
পরেই মৃদু শব্দ করে চৌচির হয়ে গেল আয়নাটা। থমকে
গেলাম
আমি। আমার দিকে তাকিয়ে হাসল কাউন্ট। তারপর ' যেন
কিছুই হয়নি'
এমন ভঙ্গিতে চেয়ার দেখিয়ে দিল বসার জন্য। বসলাম।
আমার
গলায় ঝোলানো ক্রুশটার দিকে তাকাল সে। ভাবলাম
এবার
বোধহয় ক্রুশটা খুলে ফেলতে বলবে; কিন্তু বলল না।
" তুমি আমাকে ঘৃণা করো, তাই না মীনা?" হাসিমুখে
জিজ্ঞেস
করল কাউন্ট।
" না", মাথা নাড়লাম আমি, ইলিনাকে দেওয়া উত্তরটার
পুনরাবৃত্তি করলাম,
" তোমায় দেখলে আমার করুণা হয়। করুণা হয় এইজন্য যে,
তোমার জন্য নরকের দরজাও বন্ধ। তাই আবার ফিরে
এসেছ"।
" তাহলে সেই একটু করুণাই করো", একটু হাসল ড্রাকুলা।
ফায়ারপ্লেসের আগুনের আভায় ঝলমল করে উঠল তার
ধারালো
শ্বদন্ত। বলল," তবে ব্যাপার কি জানো, শালীন ভাষায় এর
চেয়ে
অপমানকর মন্তব্য আর হয় না। তোমায় যতটা ভদ্র
ভেবেছিলাম, তা
দেখছি নও"।
" তোমার সঙ্গে এর বেশী ভদ্রতা দেখানো সম্ভব নয়
আমার
পক্ষে", বললাম আমি।
" হুম, তোমার সাহস আছে বটে। এইজন্যই তোমায় আমার
বেশী পছন্দ। চাই তোমায় নিয়ে যেতে, আমার অন্ধকার
জগতে। যাদের শক্তি বা সাহস নেই, তারা আমার কোনও
কাজেই
আসে না"।
" তোমার কাজে না আসা মানেই কি তারা মূল্যহীন? "
" এতে অবাক হবার কি আছে, মীনা?" কপট অবাক হবার
ভান করে
বলল কাউন্ট, " আমার কাছ থেকে কি অন্য কিছু আশা
করেছিলে?
তুমি তো জানো, আমি কি, আমি কে, তুমি তো জানো"।
" কিন্তু একসময় তো তুমি নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ ছিলে",
গলার স্বর
নরম করে বললাম আমি, " আমাদের মতো, আর দশজন
মানুষের
মতোই সাধারণ মানুষ ছিলে তুমি"। কথাটা বলে পরখ করতে
চাইলাম
ওকে। ওর মধ্যে যদি এখনো মনুষ্যত্বের কণা কোথাও
থেকে থাকে, তার নাগাল পেতে চাইলাম।
" কখনওই আমি সাধারণ ছিলাম না, মীনা", উত্তরে গমগম
করে বলল
কাউন্ট। কন্ঠে ফুটল উত্তাপ, " আমি ছিলাম
ট্রানসিলভ্যানিয়ার
রাজা....ছিলাম শাসক.... প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করেছি
ট্রানসিলভ্যানিয়
ায়.....দয়ামায়া বা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি নিয়ে শাসক হওয়া
যায় না....শাসন
করতে হয় হিংস্রতা - নৃশংসতার সাথে। আকাশ, পাতাল,
অন্তরীক্ষের
কোনও শক্তির কাছে মাথা নত করব না - এই ছিল আমার
জীবনের
আদর্শ "।
" তারপরেও তুমি একজন মানুষ ছিলে....রক্তমাংসে গড়া
একটা মানুষ....
মরণশীল ছিলে তুমি তখন "
" সে ছিল অন্য এক মানুষ", বলতে লাগল কাউন্ট, "
সেইসময়কার
কথা আমার মনেও নেই। এখন আমি অন্ধকারের
রাজা....এখন আমার
লক্ষ্য আর আদর্শ-ই ভিন্ন। আমার মৃত্যু নেই। আমার চাই
এখন
পরিপূর্ণ ক্ষমতা। সমগ্র সৃষ্টির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে
চাই আমি।
আমি মানুষ তো দূর, ঈশ্বরের কাছেও মাথা নত করিনি
কখনো।
শয়তানের উপাসনা করে অমরত্ব পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু
সেই
শয়তানের কাছেও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করিনি। আমি
সম্পূর্ণ
স্বাধীন একটা স্বত্তা। সম্পূর্ণ নিজের মর্জিতে চলি, যা
কিছু করি
নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য। এখন সমগ্র সৃষ্টির ওপর
ক্ষমতা
অর্জনের মতো আমার এমন কাউকে দরকার, যে স্বেচ্ছায়
আমাকে সহায়তা করবে। আমি চাই, তুমি আমায় এ কাজে
সাহায্য
করবে।"
" কিরকম সহায়তা?" জিজ্ঞেস করলাম আমি।
কাউন্ট বলতে লাগল, " আমার রক্তের একটা অংশ তোমার
শরীরে ছিল আর সেইজন্যেই আমি আবার ফিরে আসতে
পেরেছি। তুমি সেই রক্ত আমায় স্বেচ্ছায় দেবে।"
" তা আমার পক্ষে কোনওদিনই সম্ভব নয়", জোর গলায়
বললাম
আমি।
" সম্ভব নয়?" তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হেসে বলল কাউন্ট, "
নিজের
সঙ্গে প্রতারণা কোরো না, মীনা। কুইন্সিকে যদি ফিরে
পেতে চাও, তাহলে সেটা যত বড় অপরাধই হোক, করতে
পারবে না তুমি?"
একটু ভাবলাম আমি। বললাম, " আমি যদি তোমার
প্রস্তাবে রাজি হই,
তুমি কি আমাকে আর কুইন্সিকে মুক্তি দেবে? কথা দাও,
আর
কোনওদিন আমাদের আর বিরক্ত করবে না?"
" না", মাথা নাড়ল ড্রাকুলা, " এমন প্রতিশ্রুতি আমি দেব
না। হ্যাঁ, তুমি
স্বেচ্ছায় আমায় রক্ত দিলে তোমার ছেলেকে ফিরে
পাবে
তুমি। কিন্তু যদি ছেলের মুক্তি চেয়ে থাকো, তার জন্য
আমি
আরও বড় কিছু চাইব। সেক্ষেত্রে শুধু রক্ত নয়, তোমার
আত্মাকে নিয়ে চলে যাব আমি আমার চির অন্ধকারের
রাজ্যে....সেখানে আমার সহচরী হয়ে থাকবে তুমি
অনন্তকাল
ধরে"।
" এ তো অন্যায় আবদার!" প্রায় চেঁচিয়ে উঠলাম।
" আপাতত এটুকুই আমার প্রস্তাব।"
" তা হলে আর বলাবলির দরকার কি?", রাগী গলায় বললাম
আমি, "
জোর করেই আমার রক্ত নাও না! আগেও তো ওভাবেই
নিয়েছ"।
" আমি কখনও তোমার ওপর জোর খাটাইনি, মীনা। তুমি
আমায় বাধা
দিতে ব্যর্থ হয়েছিলে সেবার, মেনে নিয়েছিলে
পরাজয়।
আমার হাতে সমর্পণ করেছিলে নিজেকে। তুমি ভাল
করেই
জানো, শিকার যদি মন থেকে না চায়, আমাদের পক্ষে
তার ওপর
প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব নয়"।
" সে জন্যেই এত পীড়াপীড়ি করছ? আমি স্বেচ্ছায় রক্ত
না
দিলে সেটা তোমার কোনও কাজেই আসবে না?"
" ঠিক ধরেছ। কেউ স্বেচ্ছায় রক্ত না দিলে আমি তার
আত্মাকে
সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারব না, আমার অন্ধকার
জগতে"।
" সবকিছু জেনেশুনে কিভাবে আমি তোমার প্রস্তাবে
সম্মত
হতে পারি? আমি পাগল নই যে তোমার এই প্রস্তাব মেনে
নেব"।
" মানতে তুমি বাধ্য মীনা, কারণ তোমার ছেলে এখন
আমার
হাতে বন্দি। আমাকে তুমি ঠেকাতে পারবে না। ছলে বলে
কৌশলে যেভাবেই হোক, তোমায় আমি রাজি করাবোই।
তার
জন্য যদি তোমার ছেলের ওপর অত্যাচার চালাতে হয়,
তাও করব"।
" না--আ!" আর্তনাদ করে উঠলাম আমি, " প্লিজ ওকে কিছু
কোরো না"।
বড় করে শ্বাস নিলাম, বুঝতে পারছি, পিশাচটার হাত
থেকে কিছুতেই
আমার নিস্তার নেই। ওর চোখে চোখ রেখে বললাম, "
আগে আমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দাও। তারপর
আমি
নিজের সিদ্ধান্ত জানাব"।
" ছেলেকে দেখতে দিলেই যে তুমি রাজি হয়ে যাবে, তার
নিশ্চয়তা কোথায়?" সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করল
কাউন্ট।
" তা নেই", আমি বললাম, " কিন্তু তোমার দিক থেকে কি
তুমি
পরিষ্কার থাকবে না? আমি তো পরে কোনও অভিযোগ
করতে
পারব না"।
মাথা ঝাঁকিয়ে রাজি হলো কাউন্ট। আমাকে নিয়ে গেল
কুইন্সির
কামরায়। দরজা খুলে বেরোতে ঢুকতে দিল। মন ভরে আদর
করলাম ছেলেটাকে। গত দু'দিনে শুকিয়েও গেছে বেশ।
করুণ
গলায় আমায় জিজ্ঞেস করল, " আমরা কবে বাড়ি যাব,
মা? বাবা'কে
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
" খুব শীঘ্রি সোনা", আশ্বস্ত করেছি ওকে, " খুব শীঘ্রি
বাড়ি
ফিরবে তুমি"। ইচ্ছে করেই বাড়ি ফেরার সাথে নিজেকে
যোগ
করলাম না।
১৪ নভেম্বর, সকাল।। শর্টহ্যান্ডে লিখছি আমি। বানান
করে লেখার মতো শক্তি আমার
শরীরে নেই। লিখতে লিখতে নিজেই শিউরে উঠছি। ঈশ্বর
যে কঠিন পরীক্ষায় আমায় ফেলেছিলেন, আমি তাতে
শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। ছেলেকে বাঁচাবার জন্য
শয়তানের হাতে নিজেকে সঁপে দেব? নাকি ওকে মরতে
দেব ঈশ্বরের নামে? আমার কাছে কোনও উত্তর ছিল না
এর।
সন্ধেবেলা ইলিনা এসে আমার গলা থেকে ক্রুশটা খুলে
দিয়ে
গেছে। তারপরই দেখতে পেলাম কাউন্টকে। চোখদুটো যেন
জ্বলন্ত অঙ্গার, একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
জলদগম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করল, " স্বেচ্ছায় তাহলে
তুমি
নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ করছ?" শীর্ণ একটা হাত
বাড়িয়ে
দিল আমার দিকে।
কিছু বললাম না। যা খুশি ভাবুক ও। " জবাব দাও, মীনা!"
অধৈর্য হয়ে বলল কাউন্ট, " নিজেকে স্বেচ্ছায় সমর্পণ
করবে নাকি ছেলের মৃত্যু স্বচক্ষে দেখতে চাও?"
মুখ ফিরিয়ে নিলাম ঘৃণায়। বললাম, " যা খুশী করো"। গলা
ভেঙে
গেল কথাটা বলতে গিয়ে।
মুখে হাসি ফুটল কাউন্টের। ধীরেধীরে আমার ঘাড়টাকে
ধরে কাত করল সে। সরিয়ে দিল ঘাড়ের কাছে জড়ো হয়ে
থাকা
চুল। আস্তে আস্তে তার মুখ নেমে এল আমার ঘাড়ের
কাছে,
গরম নিশ্বাস যেন পুড়িয়ে দিল চামড়া। তারপরেই অনুভব
করলাম হুল
ফোটার মতো তীক্ষ্ণ ব্যথা! দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেল
আমার
চোখের সামনে। দেখতে পেলাম লাল নীল হাজারো
রঙের খেলা।
ঈশ্বর আমাকে ক্ষমা করুন। এ কি করলাম আমি? জেনেশুনে
আবারও পিশাচের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম? এ কি
নিজের
সন্তানকে বাঁচানোর জন্য? নাকি অশুভ কোনও প্রলোভনে?
ইলিনার মতো অনন্ত জীবন লাভের অশুভ বাসনা থেকে এই
আত্মসমর্পণ? জানি না আমি। শুধু জানি, এর শাস্তি পেতে হবে আমাকে।
ক্রমশ
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now