বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২৯ (ক)
হলঘর পেরিয়ে চওড়া একটা সিঁড়ির সামনে আমায় নিয়ে
এল ইলিনা।
সেটা ধরে ওপরে উঠতেই পৌঁছলাম একটা করিডোরে।
করিডোর ধরে কিছুটা এগোবার পর পেলাম আরেকটা
সিঁড়ি - এটা
অনেক সঙ্কীর্ণ এবং প্যাঁচানো। সেটা ধরে উঠে এলাম
ওপরতলায়। বাড়ির এই অংশটা খুবই প্রাচীন, পরিবেশটাও
গুমোট।
জানলাগুলোও ছোট ছোট, ঠিকমতো আলো বাতাসও ঢুকতে
পারে না। অস্বস্তি বোধ করলাম আমি - শুধু নিজের কথা
ভেবে
নয়, কুইন্সিকে এই পরিবেশে রাখা হয়েছে এই ভেবে।
একটা দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইলিনা। পাল্লাটা
নিরেট লোহার তৈরি,
পুরু। ঠিক যেন একটা কারা প্রকোষ্ঠের দরজা। ইলিনা
ভেতরে
ঢুকতে ঈশারা করলেও নড়লাম না। মনে হচ্ছিল, ভেতরে
ঢুকলেই আটকা পড়ে যাব।
" দাঁড়িয়ে থেকো না মীনা", মুচকি হেসে বলল ইলিনা, "
কুইন্সি
তোমার জন্য অপেক্ষা করছে"।
' ডাইনী কোথাকার! ' মনে মনে ওকে উদ্দেশ্য করে বলে
উঠলাম, পরিবেশ বদলানোর সাথে সাথে সম্বোধনও বদলে
ফেলেছে দেখছি, আপনি থেকে 'তুমি'তে নামিয়ে
এনেছে
আমাকে, নাম ধরে ডাকছে। গলার মধ্যেও উদ্ধত সুর। তবু
রাগারাগি
করার ইচ্ছা হলো না, পরাজিত ভঙ্গিতে ঢুকে পড়লাম
ভেতরে।
ওপাশে ছোট একটা প্রকোষ্ঠে - উল্টোদিকের দেয়ালে
দ্বিতীয় আরেকটা দরজা, সেটার চোখ বরাবর উচ্চতায়
রয়েছে
ছোট একটা ফোকর। আমায় উদ্দেশ্য করে ফোকরটার
দিকে
একবার ঈশারা করল ইলিনা। উঁকি দিলাম। দেখতে পেলাম
দরজার ওপাশের একটা ছোট কামরা।
একপাশে ফায়ারপ্লেসে জ্বলছে গনগনে আগুন, আর সেই
আগুনের সামনে কার্পেটের ওপর বসে আপনমনে খেলা
করছে আমার ছেলে।
বুকটা হু হু করে উঠল আমার। আকুল গলায় ডেকে উঠলাম, "
কুইন্সি! কুইন্সি!"
আমার ডাক শুনে দরজার দিকে ছুটে এল কুইন্সি। " মা! মা!"
বলে
ডাকল আমাকে। চেহারায় ফুটে উঠল আমাকে কাছে
পাবার আকুল
আকাঙ্ক্ষা।
হাতল ধরে চাপাচাপি করলাম কিন্তু খুলল না দরজা।
তালা মারা আছে। ঝট
করে ঘুরলাম ইলিনার দিকে। বললাম, " তালা খুলে দাও।
আমি
ভেতরে যাব"।
শয়তানি ফুটল ইলিনার সুন্দর চেহারায়। শান্ত অথচ
শয়তানি মাখা গলায়
বলল," দুঃখিত, সেটি হচ্ছে না। এখানে তোমায় এনেছি
স্রেফ
এটুকু দেখাতে যে কুইন্সি ভাল আছে। ওর কোনও ক্ষতি
করিনি
আমরা"।
ডাইনীটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছে হলো আমার,
কোনওমতে সামলালাম নিজেকে। কুইন্সি'র দিকে
তাকিয়ে
বললাম, " বাবা, তুমি খেলতে থাকো। আমি আসছি একটু
পরে"।
কুইন্সি কি বুঝল কে জানে, দরজার কাছ থেকে সরে গেল
আমার ছেলে। এবার ইলিনার দিকে ঘুরলাম আমি। চাপা
গলায় বললাম, " বিশ্বাসঘাতিনী! এভাবেই প্রতিদান
দিচ্ছ আমার বন্ধুত্ব আর
উপকারের?"
" যা খুশী ভাবতে পারো", নির্বিকার গলায় বলল ইলিনা, "
তাতে আমার
কিছু যায় আসে না"।
নিরুপায় হয়ে সুর পাল্টালাম এবার। অনুনয় করে বললাম, "
প্লিজ ইলিনা,
বেরোতে দাও ওকে। এই পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়বে ও।
ওর অবস্থা তো তুমি জানো"।
" জ্ঞান দিতে এসো না", মুখ ঝামটা দিয়ে উঠল ইলিনা, "
কুইন্সি'র ভাল
মন্দ তোমার চেয়ে আমি কম ভাল জানি না"। এরপর আমায়
আর কিছু
বলার সুযোগ না দিয়ে উল্টো ঘুরল ও। লক্ষ্য করলাম - ওর
উন্মুক্ত ঘাড়ে পাশাপাশি দুটো সূক্ষ্ম ক্ষতচিহ্ন দেখা
যাচ্ছে।
ড্রাকুলার কামড়ের দাগ।
" চলে এসো ", আমায় লক্ষ্য করে বলল ইলিনা, " এখানে
দাঁড়িয়ে
আর সময় নষ্ট কোরো না। কাউন্টের কথামতো চললে খুব
শীঘ্রি ফিরে পাবে তোমার ছেলেকে"। কুইন্সির দিকে
তাকিয়ে দু'চোখ জলে ভরে এল আমার। কিন্তু
কিছু করার নেই। মাথা নিচু করে অনুসরণ করলাম ইলিনার।
প্যাঁচালো
সিঁড়িটা ঘুরে আরেকতলা ওপরে আমায় নিয়ে গেল
ইলিনা।
ওখানেই একটা কামরায় থাকতে দিল আমাকে। কামরাটা
বেশ বড় - একসঙ্গে চারজন শুতে পারে, এমন একটা
বিছানা
আছে। ফায়ারপ্লেসটাও ছোটখাটো একটা কুঠুরির মতো।
সেটার সামনে রয়েছে কয়েকটা চেয়ার, মেঝেতে
কার্পেট পাতা। লেখাপড়ার জন্য টেবিল চেয়ার রয়েছে -
সেখানে বসেই লিখছি এই জার্নাল। দেওয়ালে ঝুলছে
রঙজ্বলা
ট্যাপেস্ট্রি। সবকিছুই পুরনো, অযত্নের ছাপ লেগে আছে
সর্বত্র। একটামাত্র জানলা - তাও আবার খুবই ছোট, তার
ওপর আবার
গরাদ বসানো। ঠিকমতো আলো ঢোকে না।
ফায়ারপ্লেসের
আগুনও সম্পূর্ণ আলোকিত করতে পারছে না বিশাল ঘরটার
আনাচেকানাচে। এখানে ওখানে জমাট বেঁধে আছে
অন্ধকার।
বড়ই অশুভ পরিবেশ।
জানলা দিয়ে বাইরে উঁকি দিয়েছি আমি। সীমানা
প্রাচীর আর
নীচের বনজঙ্গল ছাড়া কিছুই দেখতে পাইনি। চকিতের
জন্য
প্রকাণ্ড কয়েকটা শিকারী কুকুরকে টহল দিতে দেখলাম
মনে
হলো - কি প্রকাণ্ড তাদের চেহারা। কুকুর না নেকড়ে কে
জানে!
আমাকে কামরায় পৌঁছে দিয়েই চলে গিয়েছিল ইলিনা।
যাবার সময়
বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়েছিল তালা। দরজা খোলার
কয়েক দফা
চেষ্টা বিফলে গেল, অগত্যা হাল ছেড়ে দিলাম। খানিক
পরেই
অবশ্য ও ফিরে এল - চা আর এক জগ পানি নিয়ে। যাতে
হাতমুখ
ধুয়ে তরতাজা হতে পারি আমি।
" তুমি আমার বন্ধু ছিলে, ইলিনা", ওকে লক্ষ্য করে বললাম
আমি, "
কিন্তু এখন তো দেখছি ফাইফরমাশ খাটিয়ে ড্রাকুলা
তোমায় আমার
চাকরানী বানাচ্ছে। খারাপ লাগছে না?" " কথার
মারপ্যাঁচ খাটিয়ে আমাকে ভড়কাবার চেষ্টা কোরো না,
মীনা", শীতল গলায় বলল ইলিনা, " আমি এখনও তোমার
বন্ধুই আছি
আর বন্ধু হিসেবেই সেবা করছি তোমার এবং কুইন্সির।
কারণ আমার
সেবা না পেলে যে মরতে হবে তোমাদের দুজনকে"। "
শয়তানের হাতের গোলাম হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল
নয়
কি?" বললাম আমি।
বাঁকা হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকাল ইলিনা। দৃষ্টিতে
বাসা বেঁধে
আছে ক্রোধ। কিন্তু আমার ওপর ওর রাগটা কোথায়, বুঝতে
পারছি না। আজ পর্যন্ত উপকার ছাড়া অপকার করিনি ওর,
তা হলে?
চলে গেল ইলিনা। আমিও মুখহাত ধুয়ে চা নিয়ে বসলাম।
চেষ্টা
করলাম নার্ভ ঠাণ্ডা রাখতে। খানিক পরে বিছানায় শুয়ে
ঘুমিয়েও
পড়লাম।
কয়েক ঘন্টা পর শিরশিরে একটা অনুভূতি নিয়ে ঘুমটা
ভেঙে
গেল। মনে হলো, আমি ছাড়া আরও যেন কেউ রয়েছে
কামরায়। ঝট করে উঠে বসলাম। দেখি, লেখার টেবিলটায়
বসে
রয়েছে কাউন্ট ড্রাকুলা। একমনে কতগুলো কাগজ পড়ছে।
আমাদের গতবারের অভিযানের বিবরণ! নিশ্চয়ই চুরি করে
এনেছে জোনাথনের স্টাডিরুম থেকে। আমাকে নড়তে
দেখে মুখ তুলে তাকাল। বিছানা থেকে নামলাম আমি।
অদ্ভুত এক তাড়না অনুভব করলাম মনের
ভেতর। ইচ্ছে হলো ছুটে যাই তার কাছে। বহু কষ্টে সংযত
করলাম নিজেকে। চোখ বন্ধ করে সাহায্য প্রার্থনা
করলাম
ঈশ্বরের।
" ঘুম ভাল হয়েছে?" বলে উঠল ড্রাকুলা, " ইলিনাকে
তাহলে কিছু
নাস্তার আয়োজন করতে বলি?" চোখ খুললাম। শান্ত স্বরে
বললাম, " খিদে নেই আমার"। " তেষ্টা আছে?" বলে একটু
হাসল কাউন্ট। পৈশাচিক হাসি। " অমন ঘৃণা
ভরা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন, বলো
তো?"
জিজ্ঞেস করল সে।
" তুমি আমায় বন্দি করে রেখেছ!", সক্রোধে বললাম আমি।
" ভুল! তুমি আমার বন্দি নও"
" আমাকে ঘরে বন্দি করে তাহলে তালা মেরে রেখেছ
কেন?"
" ঠিক আছে, ইলিনাকে বলে দিচ্ছি, আর যেন তালা না
মারে। তুমি
তো আর পালিয়ে যাবে না। এ বাড়িতে শুধু একজনই বন্দি -
তোমার ছেলে"।
মাথায় রক্ত চড়ে গেল আমার। ইচ্ছে হলো ওকে অভিশাপ
দিই।
কিন্তু তাতে লাভ কি? তাই সামলালাম নিজেকে। এ
পরিস্থিতিতে ভ্যান
হেলসিং বা জোনাথন যা করত, তাই করার সিদ্ধান্ত
নিলাম। শান্তভাবে
পিশাচটার মুখোমুখি হব।
" কেন ওকে বন্দি করেছ", জিজ্ঞেস করলাম আমি, "
আমার
ছেলে তো তোমার কোনও ক্ষতি করেনি, তাহলে ওকে
কেন শাস্তি দিচ্ছ?
" বেশী কথা বলার দরকার নেই, মীনা", হাত তুলে আমায়
থামিয়ে
দিল কাউন্ট, " তোমার ছেলের কোনও ক্ষতি করার ইচ্ছে
নেই
আমার। ওকে স্রেফ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি -
যাতে তুমি
স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে আসতে বাধ্য হও"।
" আমি স্বেচ্ছায় আসিনি"।
" তাই বলে জোরও খাটাইনি আমি", বলল কাউন্ট, " কারণ
যা-ই হোক,
নিজের ইচ্ছাতেই তুমি আমার সঙ্গী হয়েছ"।
" আর কিই-ই বা করতে পারতাম আমি?"
" আমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে পারতে। সে সুযোগ তো
ছিল",
চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল কাউন্ট, " এখন যদি চাও
তোমার
ছেলে মুক্ত হোক, তাহলে স্বেচ্ছায় তোমার রক্ত আমায়
দিতে হবে"।
" না!" ধপ করে বসে পড়লাম বিছানায়। মুখ ঢাকলাম দু-
হাতে।
" গোঁয়ার্তুমি কোরো না", নরম গলায় বলল সে, " তোমার
ছেলেকে যদি ফিরে পেতে চাও, তোমার রক্ত আমায়
দিতে
হবে, স্বেচ্ছায়। এতে আমার শক্তি আরও বাড়বে। আমি
যে
অন্ধকার জগতে বিচরণ করি, তোমাকেও সেই অন্ধকার
জগতে
বিচরণ করতে হবে। আমার সাথে"।
" না! কক্ষনো না!" বলে উঠলাম আমি।
ধৈর্য হারাল কাউন্ট। টেবিলের ওপর থেকে তুলে নিল
কাগজগুলো। ছুঁড়ে দিল ফায়ারপ্লেসে। বলল, " মিথ্যে
বিজয়ের
এইসব বিবরণ আমি ধ্বংস করে দিলাম। সেইসঙ্গে ধ্বংস
করে দিলাম
তোমার আশা। ভ্যান হেলসিং আর তার সঙ্গীরা এই
বিবরণ থেকে
কোনও শিক্ষা নিতে পারবে না। ঘটতে পারবে না
গতবারের
ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
" ওগুলোর আরও কপি আছে আমাদের কাছে", শান্তগলায়
বললাম
তাকে।
রাগে দাঁত কিড়মিড় করল কাউন্ট। মনে হলো এখনি কিছু
একটা
ঘটিয়ে ফেলবে। কিন্তু শেষ মূহুর্তে নিজেকে সংবরণ করল
সে। শীতল গলায় বলল, " আমার সামনে তোমায়
নতিস্বীকার
করতেই হবে। স্রেফ সময়ের ব্যাপার"।
" দেখা যাক", তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বললাম আমি।
ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল কাউন্ট। খানিকক্ষণ
অপেক্ষা করে দরজার কাছে গেলাম আমি। হাতল
ঘোরাতেই
আবিষ্কার করলাম, রেগে গেলেও নিজের কথা রেখেছে
ড্রাকুলা, তালা দেয়নি দরজায়। কামরা থেকে বেরিয়ে
নীচতলায়
চলে গেলাম আমি, কুইন্সির কাছে। বাইরের দরজাটা
খোলা, তবে
ভেতরেরটা বন্ধ অবস্থায় পেলাম। ফোকর দিয়ে উঁকি
দিয়ে
দেখি, বিছানায় পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে আমার ছেলে।
হতাশা অনুভব করলাম। তালা যদি খুলতেও পারি, কোথায়
যাব কুইন্সিকে
নিয়ে? পালানো সম্ভবও নয়। গেট পেরোতে গেলেই
তো ধরা পড়ব, কিংবা শিকার হব হিংস্র ওই কুকুর বা
নেকড়েগুলোর।
কুইন্সির ঘুম আর ভাঙালাম না। তিক্ত মন নিয়ে ফিরে
এলাম নিজের
কামরায়।
একটু পরে ট্রে তে খাবার নিয়ে এল ইলিনা - ঠাণ্ডা
মাংস, পনির আর
স্যালাড। সঙ্গে আছে পাঁউরুটি আর মদ। খিদে মাথাচাড়া
দিয়ে উঠল
আমার, অযথা নিজেকে অভুক্ত রাখার কোনও যুক্তি খুঁজে
পেলাম না। বলা যায় না, পালাবার কোনও একটা সুযোগ
পেয়েও
যেতে পারি, তখন দুর্বল হয়ে পড়লে কাজ করতে পারব না।
তাই
অনিচ্ছাস্বত্তেও খেতে বসলাম। ইলিনাও বসল আমার
সঙ্গে।
নিঃশব্দে খেলাম আমরা। ইলিনা কোনও কথা বলল না
আমার সঙ্গে,
তবে টের পেলাম মাঝেমাঝে আমার দিকে কুটিল চোখে
দেখছে।
খাওয়া শেষ হলে নীরবতা ভাঙল ও। বলল, " তুমি আমায়
ঘৃণা করো,
তাই না মীনা?"
" না, ইলিনা", গম্ভীরগলায় বললাম আমি, " ঘৃণা নয়, আমি
তোমার প্রতি
করুণা অনুভব করছি"।
থতমত খেয়ে গেল ইলিনা। জিজ্ঞেস করল, " করুণা কেন?"
" কারণ তুমি একটা পিশাচের মায়াজালে আটকা পড়েছ"।
মুখ কালো হয়ে গেল ইলিনার। বলল, " তুমি একে মায়াজাল
ভাবছ?
" মায়াজাল না তো কি?" বললাম আমি, " তুমি যার হয়ে
কাজ করছ, কি
আশা নিয়ে করছ? তুমি কি ভাবছ, ও তোমায় বাঁচিয়ে
রাখবে? ওর কাছ
থেকে মৃত্যু ছাড়া কিছুই পাবে না তুমি"।
" সেই মৃত্যু সুখের মৃত্যু, মীনা", বলল ইলিনা, " মৃত্যুর পর আমি
অনন্ত জীবন পাবো, অনন্তকাল বেঁচে থাকব আমি,
জীবিতদের রক্ত পান করে। দিনের আলো তখন আমার শত্রু
হবে ঠিকই কিন্তু রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করব প্রাণ
ভরে। রাত
নামলেই আমি বেরিয়ে আসব কবর থেকে, রাতচরা পাখির
মতো
ডানা মেলে উড়তে পারব শূন্যে, স্বাধীনভাবে যা খুশি
তাই
করতে পারব আমি। শুধু আমার তখন দরকার হবে জীবিত
প্রাণীর
শরীরের তাজা গরম রক্তের। কই, আমার কাছে তো এই
ব্যাপারটা মোটেও খারাপ মনে হচ্ছে না"।
" জ্যান্ত একটা লাশ হবে তখন তুমি, ইলিনা", ঘৃণায় মুখ
বিকৃত করে
বললাম আমি, " পৈশাচিক প্রবৃত্তির দ্বারা চালিত হবে
তখন তুমি। যে
রাতের সৌন্দর্যের কথা বলছ, সেই সৌন্দর্য উপভোগ করার
মতো
আত্মা বলে কিছু থাকবে না তোমার। হারাবে স্বর্গে
প্রবেশের অধিকার "।
"হাহ! স্বর্গ", তাচ্ছিল্যভরে বলল ইলিনা, " স্বর্গকে আমার
সবসময়েই নীরস মনে হয়েছে। কি আছে স্বর্গে!"
বুঝলাম, মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে ওর। কিভাবে ওর বিভ্রম
কাটাব,
বুঝতে পারলাম না। শেষ চেষ্টা হিসেবে বললাম, "
তোমাকে
দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, ইলিনা। প্রথম যখন
তোমায়
বুদাপেস্টের বাড়িতে দেখেছিলাম, তখন তুমি
স্বাধীনতার কথা
বলতে.....ভয় পেতে বিয়ে নামক একটা সামাজিক শৃঙ্খলে
আটকা
পড়তে। অথচ আজ সেই তুমি-ই এক নরকের পিশাচের
দাসীতে
পরিণত হয়েছ। তার কথায় উঠছ বসছ। কোথায় গেল তোমার
সেই স্বাধীন ভাবে থাকার স্পৃহা? কোথায় গেল তোমার
আদর্শ? "
ক্রমশ
অশুভ আত্না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now