বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২৩ঃ
জোনাথন হারকারের ডায়েরী : প্রফেসর ভ্যান
হেলসিংয়ের হস্তাক্ষরে লেখা
১০ নভেম্বর, রাত।
আমার ডান হাত প্রায় অচল হয়ে আছে, তাই বেশ কিছুদিন
থেকে ডায়েরি লিখতে পারছি না। কিন্তু আজ এমন এক
ঘটনা ঘটেছে, যার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখা খুবই
জরুরী। প্রফেসর ভ্যান হেলসিং নিজেই প্রস্তাব
দিয়েছেন আমার হয়ে কাজটা করে দেবার। তাই
স্টাডিরুমে বসে ডিকটেশন দিতে শুরু করেছি আমি,
প্রফেসর আমার হয়ে কথাগুলো লিখে রাখছেন
ডায়েরীতে। ডাঃ সিউয়ার্ড, আর্থার গোড্যালমিং আর
মীনাও রয়েছে আমাদের সঙ্গে - যত না সঙ্গ দেবার জন্য,
তারচেয়ে বেশী আতঙ্কের কারণে। একা থাকার সাহস
পাচ্ছি না আমরা কেউই। ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন।
কয়েকটা দিন বেশ শান্তিতে ছিলাম আমরা। তবে সেটা
ছিল ঝড় শুরু হবার আগের স্থিরতা - এখন তা বুঝতে পারছি
বেশ। ঘটনাটা খুলেই বলা যাক।
আজ সন্ধ্যায় ডিনার শেষে ড্রয়িংরুমে তাস খেলতে
বসেছিলাম আমরা সবাই - আমি, মীনা, ইলিনা, ভ্যান
হেলসিং, আর্থার এবং ডাঃ সিউয়ার্ড। বেশ জমে
উঠেছিল খেলা। হঠাৎ রাত দশটার দিকে ইলিনা বলল,
মাথা ধরেছে ওর, আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ও
ঘুমোতে চলে গেল। তারপরেই ঘটতে শুরু করল ঘটনা।
গল্প করছিলাম বাকি পাঁচজনে, হঠাৎ বদলাতে লাগল
ঘরের পরিবেশ। সূক্ষ্ম পরিবর্তন.... প্রথমে ধরতেই
পারিনি....পারলেও ভেবেছি হয়তো মনের ভুল। তাপমাত্রা
নামতে লাগল অতি ধীরেধীরে, শোনা গেল শনশন
শব্দ.....যেন বহু দূরে কোথাও ঝোড়ো বাতাস বইছে।
সচকিত হয়ে উঠলাম আমরা। শব্দটা কানে আসামাত্র
ভয়ার্ত চোখে পরস্পরের দিকে তাকালাম আমরা।
ওপরতলায় কোথাও একটা দরজা সশব্দে বাড়ি খেল
চৌকাঠের গায়ে.....ফায়ারপ্লেসের আগুন আচমকাই লাফ
দিয়ে বড় হয়ে উঠল, ছিটকে বেরোল ফুলকি। চাপা গরগর
শব্দ শুনে ঘাড় ফেরাতেই বেড়ালটাকে দেখতে
পেলাম....আমাদের পুসি....কিন্তু কি হিংস্র চেহারা
ওর....আগুনের পটভূমিতে হিংস্র ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে
আছে.....পিঠ বাঁকানো, খাড়া হয়ে আছে গায়ের লোম।
কখন যে ও কামরায় এসে ঢুকেছে, জানিও না আমরা।
বেড়ালটাকে এখনো সহ্য করতে পারি না আমি, এক
লাফে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম, যাতে ওকে বের
করে দিতে পারি।
কিন্তু দরজা খোলার সাথে সাথে চোখ পড়ল বাইরের
হলঘরে। থমকে গেলাম। মনে হলো, বাড়ির সমস্ত জানলা
দরজা খুলে গেছে, আর খোলা সেইসব জানলা দরজা
দিয়ে উদ্দাম স্রোতের মতো ঢুকছে কালো কালো ধোঁয়া।
নির্ঘাত দৃষ্টিভ্রম, কারণ হলঘরের দরজা জানলা নিজে
হাতে বন্ধ করেছিলাম আমি। তারপরেও ব্যাপারটা এত
বাস্তব দেখাল যে বিহ্বল হয়ে পড়লাম।
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, আমার স্টাডির দরজাটা ফাঁক হয়ে
আছে। কেন যেন এগোতে শুরু করলাম ওদিকে। আমার
চারপাশে হলঘরের বাতিগুলো কয়েক দফা জ্বলল - নিভল।
বোটকা একটা গন্ধ পেলাম বাতাসে। যত এগোলাম, ততই
তীব্র হলো গন্ধটা। দরজার সামনে গিয়ে ঠেলা দিয়ে
সরিয়ে দিলাম পাল্লা। ভেতরের দৃশ্যটা দোরগোড়াতেই
জমিয়ে ফেলল আমাকে।
ডেস্কের ওপাশে....আগাগোড়া কালো পোশাকে মোড়া
যে মানুষটি স্টাডিরুমের রিভলভিং চেয়ারে রাজকীয়
ভঙ্গিতে বসে আছে, তাকে আমি খুব ভাল করেই চিনি।
দুনিয়ার ভয়ঙ্করতম ভ্যাম্পায়ার....জলজ্যান্ত
পিশাচ....আমাদের প্রাণের শত্রু....কাউন্ট ড্রাকুলা! সেই
চেনা চেহারা ঘুরিয়ে, সেই শয়তানি হাসি হেসে আমার
দিকে চাইল সে।
দুনিয়া দুলে উঠল আমার চোখের সামনে। বোধহয় চিৎকার
করে উঠেছিলাম, কারণ কয়েক মূহুর্ত পরেই ছোটাছুটি
করে হাজির হলো মীনা আর অতিথিরা।
ডেস্কের ওপর মেলে রাখা একটা মোটা ফাইল পড়ছিল
কাউন্ট - আমার সংগ্রহ করা সাত বছর আগের সেই
ড্রাকুলা নিধন অভিযানের বিবরণ, চিঠিপত্র আর বিভিন্ন
রকম দলিল দস্তাবেজ। সিন্দুকের ডালা ভেঙে বের করে
এনেছে। তার আগে তছনছ করেছে পুরো ঘর,
বুকশেলফের
সমস্ত বই মেঝের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে, ডেস্ক
আর আলমারির পাল্লাগুলোও আর অক্ষত নেই - ভেতর
থেকে বেরিয়ে এসেছে সমস্ত কাগজপত্র। মেঝের
কার্পেটও তুলে ফেলা হয়েছে একদিকে। যখন এতকিছু
করা হলো, তখন কোনও শব্দই কেন পেলাম না আমরা!
একমাত্র ঈশ্বরই জানেন!
আমাদেরকে উপস্থিত হতে দেখে সশব্দে ফাইলটা বন্ধ
করল ড্রাকুলা। উঠে দাঁড়াল চেয়ার ছেড়ে। কালো রঙের
একটা কোট পরে আছে সে, গলা পর্যন্ত বোতাম
আটকানো। মাথার চুল আগের মতো ধূসর নয়... বরং কুচকুচে
কালো। ভ্রু আর গোঁফ'ও তাই। চোখদুটো জ্বলছে না, বরং
শান্ত দৃষ্টি। ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা দুটো
শ্বদন্ত বাদ দিলে চেহারায় কোনও হিংস্রতা নেই।
একেবারে নওজোয়ানের মতো চেহারা - লুসির রক্তপান
করার পর ওকে ঠিক এইরকম চেহারায় আসতে
দেখেছিলাম - সাত বছর আগে।
ডেস্কের পেছন থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সামনে
এসে দাঁড়াল সে। তালু মেলে দু'হাত সামনে প্রসারিত
করল - অভ্যর্থনা জানাবার ভঙ্গি। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল
আমার। হয়তো পড়েই যাচ্ছিলাম, মীনা ধরে ফেলল আমায়
পেছন থেকে।
" স্বাগতম, ভেতরে এসো! ", শান্তগলায় বলল কাউন্ট
ড্রাকুলা, " মীনা, তোমার স্বামীকে বসতে দাও। ওর
বোধহয় শরীরটা ভাল নেই"।
সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোকের মতো আচরণ --- ঠিক যেমনটা
দেখেছিলাম সাত বছর আগে ড্রাকুলার ক্যাসলে প্রথম
পদার্পণের সময়। কিন্তু এবার আর ধোঁকা খাবার প্রশ্নই
ওঠে না। সতর্ক ভঙ্গিতে পায়ে পায়ে ঢুকলাম স্টাডিরুমে।
একটা চেয়ারে আমাকে বসালো মীনা, নিজেও বসল
একটা হাতলওয়ালা চেয়ারে। আমাদের দু'পাশে প্রহরীর
মতো দাঁড়ালেন ভ্যান হেলসিং, আর্থার আর ডাঃ
সিউয়ার্ড।
বাঁকা সুরে ড্রাকুলা বলল, " তোমরা আমার দিকে অমন ভয়
পাওয়া চোখে তাকাচ্ছ কেন? আমায় তো ধ্বংসই করে
দিয়েছিলে তোমরা, মনে নেই? আমায় ঠেকাবার মতো সব
অস্ত্রই আছে তোমার কাছে, তাই না ভ্যান হেলসিং? তা
হলে ভয়টা কিসের?"
" আমরা তোমাকে ঘৃণা করি", বললেন প্রফেসর, " ভয় পাই
না"।
" পাওয়া উচিতও নয়", বলল ড্রাকুলা, " কারণ একের বিরুদ্ধে
তোমরা চারজন"।
" পাঁচ", শুধরে দিয়ে বলল মীনা।
অদ্ভুত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ড্রাকুলা। কাঁধ ঝাঁকিয়ে
বলল, " বেশ, পাঁচজন। ও হ্যাঁ, তোমাদের আরেক বন্ধু কুইন্সি
মরিস কোথায়? তাকে তো দেখছি না?"
" উনি....মারা গেছেন", বললেন প্রফেসর হেলসিং।
" হুম....বেঁচে গেছে তা হলে", তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলল
কাউন্ট, " যাক গে....বসো না তোমরা! দাঁড়িয়ে কেন? বসে
বসেই কথা হোক"।
" আমরা দাঁড়িয়ে থাকতেই বেশী স্বচ্ছন্দ বোধ করছি",
বললেন আর্থার গোড্যালমিং।
" বীর সাজতে চাইছ?" হাসল কাউন্ট, " যা তোমাদের
মর্জি। তারপরেও....আমি তোমাদের মেহমান, তাই
মেহমান সুলভ যথাযোগ্য সন্মান দেখাতে চাই"।
এই বলে সে মাথা নিচু করে একে একে আমাদের সবাইকে
' বাউ' করল। ওর চোখে চোখ পড়ল মীনার, সঙ্গে সঙ্গে
কুঁকড়ে গেল বেচারি। তাড়াতাড়ি ওর মাথা টেনে এনে
রাখলাম আমার কাঁধে। দৃশ্যটা দেখে নিঃশব্দে হাসল
ড্রাকুলা। মাথায় আগুন জ্বলে উঠল আমার। কাছেই
পড়েছিল আগুন খোঁচানোর পোকারটা, ওটা তুলে নিয়ে
পিশাচটার হৃদপিন্ড বরাবর ঢুকিয়ে দেওয়া যায় কিনা
ভাবলাম। কিন্তু কোনও শক্তি পেলাম না মন থেকে -
সেটা কি নিজের দুর্বলতা না কি ড্রাকুলার জাদু....কে
জানে!
সত্যি বলতে কি....শয়তানটাকে দেখামাত্র যেন
পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মতো হয়ে গিয়েছি আমরা সবাই।
কিছু করতে পারছি না, কিছু ভাবতে পারছি না। মীনা তো
আতঙ্কে আধমরা হয়ে আছে, ভ্যান হেলসিংয়ের মতো
শক্ত লোককেও দেখছি একেবারে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে।
পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ড্রাকুলার নিয়ন্ত্রণে।
" আমি তোমাদের ক্ষতি করতে আসিনি", হঠাৎ নীরবতা
ভঙ্গ করে বলল কাউন্ট, " যদিও প্রতিশোধ নেবার পুরো হক
আছে আমার"।
" তা হলে কেন এসেছ?" জিজ্ঞেস করলেন ভ্যান
হেলসিং।
" শুধু এটুকুই জানাতে যে তোমরা আমায় ধ্বংস করতে
পারোনি। কোনওদিন পারবেও না। আমার প্রাণশক্তি এতই
প্রবল যে কেউ কোনওদিন ওটা ধ্বংস করতে পারবে না। "
" বিশ্বাস করি না", এবার বলে উঠলাম আমি, " তারচেয়ে
যদি বলো, তোমার মতো শয়তানকে নরকেও ঢুকতে দেয়া
হয়নি, লাথি মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে সেখান
থেকেও, সেটাই বেশী গ্রহণযোগ্য হবে"।
এমনভাবে হেসে উঠল কাউন্ট যেন আমি ওর সঙ্গে মস্ত
কৌতুক করে ফেলেছি। তার এই হাসি গায়ে জ্বালা
ধরিয়ে দিল আমাদের।
ভ্যান হেলসিং বললেন, " কিভাবে মৃত্যুকে ফাঁকি দিলে
তুমি, জানতে পারি কি? কোথায় ভুল করেছিলাম আমরা?"
আরেকবার হাসল ড্রাকুলা। বলল, " তোমার মতো মহা
পন্ডিতের জন্য ওটা মস্ত একটা ধাঁধা, তাই না, ভ্যান
হেলসিং? " ডেস্কের ওপর থেকে মোটা ফাইলটা তুলে
নিল সে। বলল, " জবাবটা হয়তো এখানেই আছে - এই
জঞ্জালগুলোর ভেতরে"।
" নামিয়ে রাখো ওটা!" তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল মীনা, "
ওটা তোমার জন্য নয়"।
মুখ বাঁকাল ড্রাকুলা। তীব্র হিসহিসে গলায় বলল, "
দুনিয়ায় এমন কোনও কিছু......বা এমন কোনও মানুষ
নেই....যা আমার জন্য নিষিদ্ধ " কথাটার ভেতর প্রচ্ছন্ন
বিদ্রুপ চাপা রইল না।
মুখ আরক্ত হলো মীনার, মাথা নিচু করে ফেলল। অদম্য এক
ক্রোধে কেঁপে উঠলাম আমি। চেয়ার ছেড়ে উঠে
দাঁড়াতে যাচ্ছিলাম, কাঁধে হাত রেখে আমায় চেপে ধরে
শান্ত করলেন প্রফেসর হেলসিং।
কাউন্ট বলে চলল, " আমার ক্ষমতার প্রমাণ তো তোমরা
পেয়েছ। দেখতেই পেয়েছ, কিভাবে আমি তোমাদের
মনের ভেতর ঢুকতে পারি। জোনাথন, প্রফেসর.... এর
সাক্ষী। এমনকি তোমাদের ওই পোষা বেড়ালটাও।
তাহলে তোমাদের কে আমার কাছ থেকে নিরাপদ?
তোমাদের ছেলে?"
চেহারা থেকে রক্ত সরে গেল মীনার। সিধে হয়ে উঠল ও।
বোধহয় ঝাঁপিয়েই পড়ত পিশাচটার ওপর, নেহাত ডাঃ
সিউয়ার্ড বাধা দেয়ায় পারল না।
" আমায় ঠেকাবার কোনও অস্ত্র নেই তোমাদের কাছে",
আবার গমগম করে উঠল কাউন্টের কণ্ঠস্বর, " জানতেই
পারবে না, কখন কোথা দিয়ে আক্রমণ করে বসব
তোমাদের! আমার প্রতিহিংসার হাত থেকে রেহাই নেই
তোমাদের! যতদিন বেঁচে থাকবে, তোমাদের এভাবেই
তাড়া করে ফিরব আমি"।
" তোমার হাতেও কি যথেষ্ট ভোগান্তি হয়নি আমাদের?"
এবার একটু আবেগ ফুটে উঠল ভ্যান হেলসিংয়ের গলায়, "
আমরা যা করছিলাম, তাতে তো ভালই হতে যাচ্ছিল
তোমার। চেষ্টা করেছিলাম তোমার আত্মাকে মুক্তি
দিতে। অভিশপ্ত এক জীবন কাটাচ্ছিলে তুমি....শয়তানও
তো শেষ বিচারের দিনে কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করে"।
" ভাল!" এবার গলার স্বর চড়ে গেল কাউন্টের, " আমার
সাথীদের খুন করেছ তোমরা.....ওটা ভাল কাজ?"
ভ্যান হেলসিং : প্রাসাদ দূর্গের ওই তিন ডাইনীর কথা
বলছ?
ড্রাকুলা : তোমাদের চোখে ওরা ডাইনী হতে
পারে....কিন্তু ওরা ছিল আমার সহচরী। ওদেরকে শেষ করে
তুমি আমার থেকে ওদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছ। আমার
ভালবাসা'কে ধ্বংস করেছ তুমি।
" ওটা ভালবাসা হতে পারে না", শান্ত গলায় বললেন
প্রফেসর হেলসিং, " ভালবাসার মতো পবিত্র অনুভূতি
কোনও পিশাচের ভেতর থাকতে পারে না। যেদিন থেকে
তুমি জীবন্মৃত হয়েছ, সেদিন থেকেই প্রেম ভালবাসার
অধিকার হারিয়েছ তুমি"।
রাগে জ্বলে উঠল কাউন্টের দু'চোখ। জিজ্ঞেস করল, "
জীবনকে ভালবাসো তুমি, ভ্যান হেলসিং?"
" নিশ্চয়ই, জীবন তো ঈশ্বরের দান", বললেন ভ্যান
হেলসিং।
" হাহ! তুমি বুড়ো হয়ে গেছ প্রফেসর ", কাউন্ট বলতে লাগল,
" জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছ। মনে মনে
কামনা করছ মৃত্যুকে। জীবনের প্রতি ভালবাসার তুমি কি
বুঝবে? এই ভালবাসা পৃথিবীর যে কোনও ভালবাসার
চেয়ে শক্তিশালী। সেই ভালবাসার টানেই মৃত্যুকে
এড়াতে পেরেছি আমি...এই ভালবাসাই আমায় ধ্বংস হয়ে
যেতে দেয়নি। এই আবেগের কিছুই জানা নেই
তোমাদের,তাই বোকার মতো বিচার করছ আমাকে।
আমার ওই তিন সহচরী আর কোনওদিন ফিরে আসতে
পারবে না। আমাকে ধ্বংস করার নেশায় মস্ত বড় ভুল
করেছ তোমরা....ভেঙেছ নিজেদেরই আইন। কি সেই ভুল,
তা নিয়ে মাথা ঘামাতে থাকো। সময় আছে তোমাদের
হাতে। সপ্তাহ, মাস, বছর..... যতদিন না আবার ফিরে
আসছি আমি। একে একে সবাই শাস্তি পাবে।আর তার
আগ পর্যন্ত আতঙ্কে অস্থির হয়ে বাঁচতে হবে
তোমাদেরকে, জীবন হয়ে উঠবে নরকের মতো
যন্ত্রণাদায়ক। আমি তা দেখে আনন্দ পাব। হা হা হা!"
গলা ছেড়ে হেসে উঠল সে।
তখুনি যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল আর্থারের শরীরে। আমার
মতো একই কথা ভাবছিলেন তিনিও, ছোঁ মেরে
ফায়ারপ্লেসের সামনে থেকে তুলে নিলেন পোকারটা।
ওটা নিয়ে ঝাঁপ দিলেন ড্রাকুলাকে লক্ষ্য করে,
এফোঁড়ওফোঁড় করে দেবেন হৃদপিন্ড।
অনায়াসে তাঁকে ঠেকাল কাউন্ট। খপ করে ধরে ফেলল
লোহার পোকার সুদ্ধ তাঁর হাতটা। সঙ্গে সঙ্গে আর্তনাদ
করে উঠলেন আর্থার, অস্ত্রটা ছেড়ে দিয়ে হাঁটু গেড়ে
বসে পড়লেন। পোকারটা কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে
দিল কাউন্ট, মাটিতে পড়েই হিসহিস করে উঠল ওটা।
বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলাম, পোকারের স্পর্শে পুড়তে শুরু
করেছে কার্পেট। অথচ ওটা এতক্ষণ আগুনের স্পর্শ
পায়নি.....গরম হবার তো প্রশ্নই ওঠে না।
হাতের ফাইলটা ওপর দিকে ছুঁড়ল কাউন্ট, বাঁধন ছিঁড়ে
গিয়ে ভেতরের কাগজপত্র বৃষ্টির মতো পড়তে লাগল
আমাদের গায়ে। তার মাঝে লাটিমের মতো একটা পাক
দিল সে, পরক্ষনে ঘন কুয়াশায় ছেয়ে গেল কামরার
অভ্যন্তর। যখন সেই কুয়াশা সরে গেল, ড্রাকুলাকে দেখা
গেল না কোথাও।
যে হাতে পোকার ধরেছিলেন আর্থার, সেটা বগলের
তলায় চেপে ধরে রেখেছেন আর্থার। আমি আর মীনা তাঁর
দিকে এগোলাম। ড্রাকুলা চলে যেতেই শীত শীত ভাবটা
কেটে গেছে, আবারও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে
পারছি আমরা।
" বোকার মতো একটা কাজ করে বসলে, আর্থার", বিরক্ত
গলায় বললেন প্রফেসর, " ওভাবে শয়তানটার ওপর
ঝাঁপিয়ে পড়তে যাওয়া উচিত হয়নি তোমার। মারাও
যেতে পারতে"।
" সেটা কি আমি জানি না ভেবেছেন?" ককিয়ে উঠে
বললেন আর্থার।
" আপনার হাত কি পুড়ে গেছে?" উদ্বেগের স্বরে জানতে
চাইল মীনা।
" সামান্যই। চিন্তার কিছু নেই। পোকারটা কিন্তু ঠান্ডাই
ছিল, শয়তানটার স্পর্শ পাওয়ামাত্র আগুনের মতো তেতে
উঠল।"
" এসব যে ঘটছে, তা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না আমার", বলল
মীনা, " জলদি উঠুন। কুইন্সিকে দেখতে যেতে হবে আমায়।
ওর যদি কিছু হয়ে যায়......"
সিঁড়ি ধরে দোতলায় ছুটলাম আমরা। উপরে ওঠার পর আমি
বললাম, " আজকের ঘটনার পর অন্তত একটা ভাল দিক আছে
- শত্রুর দেখা পেলাম। বিদেহী কোনও আত্মা নয়, এবার
আমরা চলতে ফিরতে থাকা পিশাচের বিরুদ্ধে লড়াই
করতে পারব। মনের মধ্যে যত খটকা ছিল.....মনের ভুল বলে
যে মিথ্যে স্বান্তনা দিচ্ছিলাম নিজেদেরকে, সব দূর
হয়ে গেল"।
" কিন্তু ও এ বাড়িতে ঢুকল কি করে"? চিন্তিত গলায়
বললেন ভ্যান হেলসিং।
" হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?" বিস্মিত হলাম।
" যে কোনও বাড়িতে ঢুকতে হলে ভ্যাম্পায়ারকে সে
বাড়ির কোনও না কোনও বাসিন্দার কাছ থেকে আমন্ত্রণ
পেতে হয়। আমার প্রশ্ন হলো, এ বাড়িতে ঢোকার
আমন্ত্রণ ও কার কাছ থেকে পেল?"
ক্রমশ
বিদ্যুৎ বিভ্রান্তির কারনে ২ পর্ব ১ সাথে পোস্ট করলাম। লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকুন।
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now