বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ২২ঃ
( ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরী) কিন্তু সমাধিগৃহে
পৌঁছবার আগেই কালো একটা ছায়ামূর্তি বেরিয়ে এল
আমার সামনে। আমার গোপন সঙ্গী! ধক করে উঠল
হৃদপিন্ডটা, আরেকটু হলেই চিৎকার করতে যাচ্ছিলাম, ও
আমার হাত ধরে ফেলল।আজ অনেকটা তরতাজা দেখাচ্ছে
ওকে। গোঁফের তলায় ঠোঁটজোড়া ফাঁক হলো ওর - দেখতে
পেলাম একজোড়া শ্বদন্ত। হাসছে....তবে তিক্ততার
সঙ্গে। বলতে লাগল, " চারশো বছর! চারশো বছরেরও বেশী
সময় হলো নিজের চেহারা দেখিনি আমি। আয়নায়
প্রতিবিম্ব পড়ে না আমার"।
এরপর আমাকে নিয়ে গিয়ে বড় একটা পাথরের ওপর বসাল
সে। নিজে বসল মুখোমুখি। তারপর বলতে লাগল, " তোমার
কাছ থেকে এখন আমি বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানব।
সাত বছরের জন্য আমায় বিদায় নিতে হয়েছিল এ পৃথিবী
থেকে, আটকা পড়েছিলাম চির অন্ধকারের এক জগতে। এর
মাঝে আরও নিশ্চয়ই অনেক বদলে গেছে দুনিয়া "। " আমি
আর তোমাকে কি জানাব, বন্ধু?" বললাম আমি, " তুমি তো
সবই জানো। তোমার কাছ থেকেই বরং অনেক কিছু
শেখার আছে আমার"।
" আমার জ্ঞানের অনেকখানিই হারিয়েছি আমি,
ইলিনা", বলল সে, " মৃত্যুর ওপার থেকে অক্ষত জ্ঞান আর
শক্তি নিয়ে ফিরে আসা যায় না। এমনকি কিভাবে তুমি
আবার আমায় ফিরিয়ে আনলে, সেটাও ঠিকমতো মনে
নেই আমার"।
কাজেই ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বললাম আমরা -বন্ধুর মতো।
নেকড়ের দেহে ভর করে কিভাবে ও আমায় ওর দূর্গে
নিয়ে গিয়েছিল, তারপর কিভাবে এখান পর্যন্ত
পৌঁছলাম...... সবকিছু খুলে বললাম ওকে। শুনে মাথা
ঝাঁকাল আমার সঙ্গী।
বলল, " হ্যাঁ, এবার মনে পড়েছে। ওরা ধ্বংস করে দিয়েছিল
আমার পুরনো দেহটাকে - হারকার, আর্থার গোড্যালমিং,
ডাঃ সিউয়ার্ড আর ভ্যান হেলসিং নামের ওই উপদ্রবটা।
কত বড় দুঃসাহস ওদের, যেন আমায় দূর করতে পারলেই
পুরো দুনিয়া উদ্ধার হয়ে যেত। ওই বেয়াদব -রা আমার
সমস্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে। নতুন
সাম্রাজ্যের খোঁজে বেরিয়েছিলাম আমি, সেটা তো
হলোই না, আমার সঙ্গী সাথীরাও ধ্বংস হয়েছে ওদের
কারণে। দুর্ভাগ্য, ওরা আর ফিরতে পারবে না আমার
মতো.... বড্ড ক্ষতি হয়ে গেছে আমার। তবে এর জন্য ওই
ভ্যান হেলসিং আর তার দলবলকে শাস্তি পেতে হবে।"
আমার সঙ্গীর কন্ঠের দৃঢ়তা স্পর্শ করল আমাকেও। ওকে
সাহায্য করার জন্য আরও দৃপ্ত প্রতিজ্ঞ হলাম। বললাম, "
ভ্যান হেলসিং আমার চাচার বন্ধু। এই মূহুর্তে লোকটা
হারকার'দের বাড়িতেই আছে।"
" জানি ইলিনা", মাথা ঝাঁকাল সে, " তোমার চোখ
দিয়ে.... ওদের চোখ দিয়ে সব দেখেছি আমি। ওদের
দুঃস্বপ্ন দেখিয়ে বিষিয়ে দিয়েছি ওদের জীবন", বলতে
বলতে শয়তানি হাসি ফুটল তার মুখে। জিজ্ঞেস করল, "
আমায় নিয়ে আলোচনা করে ওরা?" বললাম, " আমার
সামনে কখনওই আলোচনা করে না। ওদের ধারণা, আমি খুব
লাজুক - তোমার কথা শুনলে ঘাবড়ে যাব। তাই আমাকে
অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করছে। তবে ভেতরে ভেতরে
ওদের আলোচনার একমাত্র বিষয়বস্তু যে তুমি, তাতে
কোনও সন্দেহ নেই। দু'দিন হলো, সিউয়ার্ড আর আর্থারকে
ডেকে এনেছে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শের
কাজটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। চেহারা -
সুরত বলে দিচ্ছে,ভয়ে একেবারে আধমরা হয়ে আছে
প্রত্যেকে।"
" শুনে বড়ই খুশি হলাম", খুশির হাসি ঝিলিক দিল সঙ্গীর
চোখে, " আমার ভয়ে আস্তে আস্তে পাগল হয়ে যাচ্ছে
ওরা - এটাই চাই। অবশ্য ভয় না পেয়েই বা করবে কি?
জোনাথনের শরীরে ঢুকে যথেষ্ট কান্ড ঘটিয়েছি আমি,
ভ্যান হেলসিংকেও প্রায় বশ করে ফেলেছিলাম। ঢুকতে
পারিনি শুধু মীনার শরীরে। তবে ও অন্যভাবে পরাস্ত
হচ্ছে। ওই মেয়েটা শক্তিশালী - ওর রক্ত চাই আমি"। "
কেন, আমার রক্ত কি যথেষ্ট নয়?" ঈর্ষান্বিত গলায়
জিজ্ঞেস করলাম।
আমার গালে হাত বোলাল ও। বলল, " তোমার রক্ত দুনিয়ার
সেরা পানীয়ের মতো সুস্বাদু, প্রিয়তমা! কিন্তু মীনার
রক্তের আলাদা গুরুত্ব আছে। সাত বছর আগে এক রাতে, ওর
রক্তপান করার পর আমার রক্ত পান করিয়েছিলাম ওকে -
সেই রক্ত এখনো বইছে ওর শিরায়। নিজের রক্ত ফেরত চাই
আমার। নইলে আমার সম্পূর্ণ শক্তি ফিরবে না"। অকাট্য
যুক্তি, তারপরেও ঈর্ষার দংশন থেকে মুক্তি পেলাম না।
চুপ করে রইলাম শুধু আমার সঙ্গীকে না রাগানোর জন্য।
সে ক্ষেপে গেলে কি কি কান্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে,
সেই ভয়ে শঙ্কিত আমি। ব্যাপারটা বোধহয় বুঝতে পারল
আমার সঙ্গী। সে আমার হাত দুটো ধরে বলল, " জীবন
ফিরে পেয়ে আমি ধন্য ইলিনা। আর এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব
তোমার। তোমার কারণেই আবার আমি এই পৃথিবীতে
ফিরে আসতে পেরেছি! " বলতে বলতে আমার পাশে এসে
বসল সে, মুখ নিয়ে এল ঘাড়ের কাছে। গরম নিশ্বাসের
স্পর্শে কেঁপে উঠলাম আমি।
সে বলতে লাগল, " দুনিয়ার কোনও স্বাদ......কোনও মাংস,
কোনও পানীয়'র সঙ্গে তুলনা চলে না মানুষের রক্তের।
কোনও অমৃত দিতে পারে না রক্তের মতো জীবনীশক্তি।
তুমি কাঁপছ কেন ইলিনা!"
" তোমায় আমার ভয় করছে", বললাম আমি। সে বলল, "
তোমার কোনও ভয় নেই, ইলিনা। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার
অনুগত থাকবে তুমি, ততক্ষণ আমার থেকে তোমার কোনও
ভয় নেই।ভেবেচিন্তে বলো, এই সাহস....এই স্পৃহা কি
তোমার বজায় থাকবে? আমার জন্য তুমি কিন্তু একটা
ঝুঁকি, কারণ আমার আশ্রয়স্থলের একমাত্র খোঁজ জানো
তুমি। বলা যায় না....যদি কাউকে বলে দাও?" " না!"
প্রতিবাদ করলাম, " মরে গেলেও কাউকে বলব না আমি"।
সে বলল, " তুমি নিজের খেয়াল খুশীতে চলো। আমায়
সাহায্য করেছ নিজের মর্জিতে, কিন্তু সেই মর্জি বদলে
যেতে কতক্ষণ? "
" আমায় তুমি অপমান করছ!" অদ্ভুত গলায় বলে উঠলাম, "
এতকিছুর পরও আমার ওপর তোমার সন্দেহ পোষণ করা
উচিত হচ্ছে না। আর যাই করি, তোমার সঙ্গে
বিশ্বাসঘাতকতা করব না কিছুতেই"। " করলে তোমারই
ক্ষতি", শীতল গলায় বলল সে, " জেনে রাখো, আজ থেকে
আমার কথামতো চলতে হবে তোমায়। সব আদেশ মেনে
নিতে হবে তোমায় বিনা প্রশ্নে। এরজন্য কল্পনাতীত
পুরস্কার পাবে তুমি"। হাঁটু গেড়ে বসে ওর বশ্যতা স্বীকার
করে নিলাম আমি। খুশি হয়ে আবার আমায় আলিঙ্গনে
টেনে নিল, দাঁত বসালো ঘাড়ে। ফের অনুভব করলাম সেই
ব্যথা আর নেশাতুর আনন্দ। ভুলে গেলাম সবকিছু। আনন্দের
আবেশে কেঁপে উঠলাম বারবার।
একসময় ইতি ঘটল এর, মুক্তি দিল আমায় সে। বলল, " এবার
তুমি যেতে পারো"।
" না গেলে হয় না?" আদুরে গলায় বললাম আমি, " আমি যে
তোমার সঙ্গেই থাকতে চাই।"
" সম্ভব নয়", বলল সে, " অনেক কাজ আছে আমার -
টাকাপয়সা, পোশাকআশাক, ঘোড়া.....এসব যোগাড় করতে
হবে আমায়। এরপর থেকে তোমায় আর ঝুঁকি নিয়ে আসতে
হবে না এখানে। আমিই যাব তোমার কাছে। যথেষ্ট শক্তি
ফিরে পেয়েছি আমি"।
" গোরস্থান থেকে বেরোবার মতো? " " হ্যাঁ....এবং
প্রতিশোধ নেবার মতো "। ওখানেই শেষ হলো আমাদের
অভিসার। বাড়িতে কিভাবে ফিরেছি, মনে নেই। সকাল
আটটায় আমাকে বহু কষ্টে জাগাল মেরী - হারকার'দের
পরিচারিকা। তখনই টের পেলাম, খুব দুর্বল হয়ে পড়েছি
আমি অনেকটা রক্ত হারিয়ে। একটানা বিশ্রাম না নিলে
বিপদ হবে। সামান্য নড়াচড়া করতেই দম বেরিয়ে যাচ্ছে।
তবে শারীরিক কষ্টকে পাত্তা দিচ্ছি না আমি। ওটা বাদ
দিলে ফুরফুরে মেজাজেই আছি আমি। আমার সঙ্গীর
কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। আমার প্রতি ও কৃতজ্ঞ,
আমারই জন্য ও ফিরে আসতে পেরেছে এই পৃথিবীর বুকে।
মানসিকভাবে অসুস্থ নই আমি....ওর জাদুতেও আটকা
পড়িনি....যা করছি সবই নিজের ইচ্ছায়....সজ্ঞানে।
হারকারদের ও শাস্তি দিতে চায়। ওদের প্রতি কোনও
ক্ষোভ না থাকলেও আমি শুধু একটাই কারণে আমার
সঙ্গীকে সাহায্য করছি। কারণটা হলো, ওরা আমার এই
সঙ্গীটিকে একবার নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। সেই
সঙ্গী - যার কারণে আমি আজ আমার পিতার শৃঙ্খল
থেকে মুক্তি পেয়েছি - মুক্তি পেয়েছি সমাজ নামক এক
কারাগার থেকে। তাই নিঃসঙ্কোচে ওকে সাহায্য করব
আমি, যাতে আরও বড় একটা পুরস্কার জোটে আমার
ভাগ্যে - অনন্ত জীবন।
মীনা হারকারের ডায়েরী
৮ নভেম্বর, সকাল।। নিস্তরঙ্গ সময় কাটছে গত দু'দিন ধরে,
নতুন কিছু ঘটেনি। বাড়ির পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক
হয়ে উঠেছে। জানি না, আমাদের প্রার্থনার জোরে
পিশাচ ড্রাকুলা পালিয়ে গেছে কি না, তবে এই
নিস্তরঙ্গ সময়টা উপভোগ করছি আমরা সবাই। হতে পারে
দুঃস্বপ্নের ইতি ঘটেছে - ভাবতে তো দোষ নেই!
কুইন্সি'র জন্য একজন নার্স রাখা দরকার। ইলিনা যথেষ্ট
করছে না - এমনটা বলছি না, কিন্তু ও তো এ বাড়ির
অতিথি। অতিথির ওপর একটা অসুস্থ বাচ্চার দায়িত্ব আর
কতদিন দিয়ে রাখা যায়? তাছাড়া কুইন্সির সেবা করতে
করতে ও নিজেও বোধহয় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন
ধরেই দেখছি, ভীষণ ক্লান্ত ইলিনা। অল্পেই হাঁফিয়ে
উঠছে। জোর করে ওকে বিশ্রামে পাঠাচ্ছি আমি।
জোনাথনের হাতের ক্ষতটার তেমন একটা উন্নতি হয়নি।
ডাঃ সিউয়ার্ডকে মনে হলো, খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে
পড়েছেন ব্যাপারটা নিয়ে। বেচারা ভ্যান হেলসিং তো
মরমে মরে যাচ্ছেন, ঘটনাটার জন্য নিজেকে দায়ী
ভেবে। হাজার স্বান্তনা দিয়েও তাঁকে বোঝানো যাচ্ছে
না। এর মাঝে আরও একবার জোনাথনকে বেডরুমে ফিরে
আসতে অনুরোধ করেছিলাম আমি, এবারও অনুরোধটা
ফিরিয়ে দিয়েছে সে।
রাত।
বিচ্ছিরি একটা স্বপ্ন দেখে জেগে উঠেছি। শুরুতে
বুঝতেই পারিনি, এটা স্বপ্ন। দেখলাম রাতের বেলা হঠাৎ
ঘুম ভেঙে গেছে আমার, ঘরের ভেতর পাক খাচ্ছে মিহি
কুয়াশার একটা মেঘ। সেই মেঘের ভেতর দুটো চোখ
জ্বলজ্বল করছে। আমারই দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
তারপরই কুয়াশা সরে গিয়ে নিরেট আকার নিল চোখদুটোর
মালিক। দীর্ঘদেহী এক মূর্তি। কাউন্ট ড্রাকুলা! ভয়ে
চিৎকার দিয়ে উঠতে চাইলাম, কিন্তু গলা দিয়ে এক
ফোঁটা আওয়াজ বেরোল না। কেউ যেন সজোরে চেপে
ধরেছে আমার কণ্ঠনালী। বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল
পিশাচটা, কিন্তু স্পর্শ করল না আমায়। কথা বলতে লাগল
সেই পরিচিত ভাঙা, কর্কশ গলায় - " কি জন্য এসেছি তা
আশা করি বুঝতে পারছ?" বলল সে, " তোমার রক্ত চাই
আমার। আর এবার সেটা তুমি স্বেচ্ছায় দেবে"।
" ক্ক....কেন?" বহুকষ্টে এই একটাই শব্দ উচ্চারণ করতে
পারলাম আমি।
" কারণ ঈশ্বর তোমাদের ভাল - মন্দ বিচার করার শক্তি
দিয়েছেন। যতক্ষণ না স্বেচ্ছায় তুমি কোনও খারাপ কাজ
না কর, ততক্ষণ সেটা ' পাপ' বলে গণ্য হবে না। জোর করে
যদি আমি তোমার রক্ত নিই, তাহলে তো তুমি নিষ্কলঙ্ক-ই
রয়ে যাবে। কিন্তু আমি চাই, তুমি স্বেচ্ছায় আমায় রক্ত
দেবে"।
তারপর ঠোঁট বেঁকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে সে
আমার জবাবের অপেক্ষা না করেই মিলিয়ে গেল
বাতাসে। আর তখনিই ঘুমটা ভেঙে গেল। ঠিক নিশ্চিত নই,
তবে মনে হলো, জানলা দিয়ে ধোঁয়ার একটা সরু রেখা
বেরিয়ে যেতে দেখলাম। কল্পনা না বাস্তব.... কে
জানে? ও নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় ছিল না। ঠান্ডায়
কাঁপছিলাম ঠকঠক করে। বুক ধড়ফড় করছিল। পাশে
জোনাথনের অভাব তীব্র হয়ে উঠল, ওকে ডাকব কিনা
ভাবছি, এমন সময় দরজায় মৃদু টোকা পড়ল। বিছানা থেকে
নেমে গিয়ে দরজা খুলে দেখি, হাতে একটা মোমবাতি
নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইলিনা। পরনের সাদা রাতপোশাক
আর ফ্যাকাসে চেহারা -মিলে ওকে দেখাচ্ছে যেন
শ্বেতপাথরের দেবী মূর্তির মতো। জিজ্ঞেস করলাম, "
কি ব্যাপার, ইলিনা? এত রাতে?" ইলিনা বলল, " একা ঘুম
আসছে না আমার, মাদাম হারকার। যদি কিছু মনে না
করেন, আজ রাতটা আপনার সঙ্গে শুতে পারি?"
" নিশ্চয়ই, ভেতরে এসো ", ডাকলাম ওকে। একজন সঙ্গীর
প্রয়োজন আমার এখন সবচেয়ে বেশী। দুজনে উঠে বসলাম
বিছানায়। বললাম, " ঠিক ঘুমোতে পারছিলাম না। তুমিও
কোনও দুঃস্বপ্ন দেখেছ?"
" ঠিক দুঃস্বপ্ন নয়", কম্বলের তলায় গুটিসুটি হয়ে বলল
ইলিনা, " অদ্ভুত স্বপ্ন!"
" আমিও!"
ওকে পাশে পেয়ে যে কি ভাল লাগল, তা বলার নয়।
একেবারে আমার গায়ের সঙ্গে সেঁটে এল ও, চুলগুলো
এসে পড়ল আমার মুখের ওপর। সোঁদা একটা গন্ধ ভেসে এল
নাকে।
" মীনা, আপনাকে আমার খুবই আপন লাগে", বলল ইলিনা, "
এই ক'দিনে এত কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছেন.....আমার এমন
বন্ধু কোনওদিন ছিল না!" এবারে ও যেটা করল, সেটার
জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে
জড়িয়ে ধরল ও, চুমু খেতে শুরু করল গলায় - গালে - ঠোঁটে।
এসব কি করছে ইলিনা? ধাক্কা দিতে চাইলাম ওকে,
পারলাম না। আলগাভাবে ছাড়িয়ে নিলাম নিজেকে।
কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল ইলিনা।
আর আমার চোখ থেকে ঘুম একেবারে উবে গিয়ে, ওর
দিকে পরম আশ্চর্য নিয়ে তাকিয়ে রইলাম আমি।
১০ নভেম্বর।।
আমাদের জীবন থেকে সুখ শান্তি শেষ হয়ে গেছে
একেবারেই। জোনাথনের ডায়েরীতে বিস্তারিত লেখা
আছে সব। আমি আর নতুন কিছু লিখতে পারছি না।
ক্রমশ
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now