বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-২০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ২০ঃ জোনাথন এত সহজে ঘাবড়াবার পাত্র নয়। কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে এসে পড়ল দরজার গায়ে, কাঁধ দিয়ে ঠেলতে লাগল দরজা। চাপের মুখে হার মানল ছিটকিনি, ভেঙে গেল। হাট হয়ে খুলে গেল দরজা। দেখা গেল ঘরের অভ্যন্তর। প্রফেসর হেলসিংকে দরজা থেকে কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম আমরা। পরণে সাদা গাউন, উদভ্রান্ত চেহারা। ঘরের বিছানাটা এলোমেলো হয়ে আছে, রিডিং টেবিলটা উল্টানো, ছড়িয়ে আছে বইপত্র এখানে সেখানে, দেয়ালে ঝোলানো আয়নাটা ভেঙে চৌচির হয়ে পড়ে আছে মেঝেতে। " প্রফেসর! " হতভম্ব গলায় বলল জোনাথন, ' এসব কি?" এগোতে যাচ্ছিল জোনাথন, সামনে দু হাত দেখিয়ে ওকে এগোতে নিষেধ করলেন হেলসিং। ভাঙা গলায় বললেন, " জোনাথন!...এগিয়ো না....আর এক পা....মীনাকেও সরিয়ে নিয়ে যাও এখান থেকে....দোহাই তোমার!" প্রফেসরের ডান হাতে একটা বড়সড় ছোরা দেখতে পেলাম আমি আর জোনাথন - দুজনেই। যদি ভুল না করে থাকি, ওটা একটা ' বাউয়ি' নাইফ....আমেরিকান ছুরি। আমাদের প্রয়াত বন্ধু কুইন্সি মরিস ওই ছোরাটা উপহার দিয়ে গিয়েছিল প্রফেসরকে। কয়েক মূহুর্ত নীরবতার পর প্রফেসর তাঁর ডান হাতে রাখা ছোরাটাকে নিজের বাঁ হাতের ওপর নিয়ে এলেন। ভাবভঙ্গি দেখে মনে হলো যেন বাঁ হাতের ওপর পোঁচ দিতে চলেছেন। " না!" কি করছেন আপনি!" চেঁচিয়ে উঠল জোনাথন। ছুটে গিয়ে ধরে ফেলল প্রফেসরকে। তারপর শুরু হল ওদের ধস্তাধস্তি। কয়েক মিনিট ধরে দুজনের মধ্যে প্রবলতর ধস্তাধস্তির পর শেষটায় এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিলেন প্রফেসর। ততক্ষণে বীভৎস হয়ে উঠেছে প্রফেসরের চেহারা। সৌম্যকান্তি মানুষটার চেহারা যে অমন ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। তাঁর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষেপে উঠেছেন তিনি। পরক্ষণেই ছোরা হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন জোনাথনের ওপর। আমি সভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু সে চিৎকার ওঁর কানেই গেল না। আত্মরক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালাল জোনাথন, সামনে হাত তুলে ঠেকাতে চাইল আক্রমণ। কিন্তু ছুরির ধারালো ফলার আঘাতে ওর নাইটশার্টের হাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল, কেটে গেল দু'হাতের মাংস, বইল রক্তের ধারা। " বোকার দল!" উন্মাদের মতো হেসে উঠে বললেন ভ্যান হেলসিং। অবাক হয়ে গেলাম তাঁর কণ্ঠস্বর শুনে। বিকৃত উচ্চারণে কথা বলছেন তিনি। " এবার বুঝবি তোরা, তোদের যে - কাউকে হাতের মুঠোয় নিতে পারি আমি....শাস্তি দিতে পারি অনন্তকাল "। জোনাথন তখন বিছানার ওপর চিত হয়ে পড়েছে, ওর ওপর মরণ আঘাত হানতে চলেছেন তিনি। চিৎকার করে ছুটে গেলাম আমি, ঝাঁপিয়ে পড়লাম আমি, নিজের শরীরকে বর্ম বানিয়ে বাঁচাতে চাইলাম আমার স্বামীকে। রক্তলাল চোখে আমার দিকে তাকালেন প্রফেসর, নিরস্ত করলেন নিজেকে। হাবভাবে মনে হলো নিজের সঙ্গেই যেন ভেতরে ভেতরে যুদ্ধ করছেন তিনি। বিড়বিড় করে কি যেন বলতে শুরু করলেন প্রফেসর - ডাচ ভাষায়। তাঁর মুখে তখন নানারকম অভিব্যক্তি খেলা করতে লাগল। চেহারা বদলে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। একবার যেন দেখছি চিরচেনা আমাদের প্রফেসর'কে, তারপরেই সেখানে উঁকি দিচ্ছে ভয়ানক এক পিশাচের চেহারা - হ্যাঁ, সেই পিশাচ আমাদের পরিচিত! হঠাৎ ছুরির মুখ ঘুরিয়ে ফেললেন তিনি। দুহাতে হাতল ধরে ছুরিটাকে নিয়ে যেতে লাগলেন নিজের বুক বরাবর। নিজেকেই নিজে ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হলেন। কিন্তু স্বেচ্ছায় নয়.... দাঁত মুখ খিঁচোন দেখে বোঝা যাচ্ছে, প্রাণপণ চেষ্টা করছেন অবশ্যম্ভাবীকে ঠেকাতে, কিন্তু তাঁর হাতদুটো যেন কোনও বাধাই মানছে না; হাতদুটো'র ওপর যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। আমার বিস্ফারিত চোখের সামনে প্রফেসরের পরনের গাউনের কাপড় ভেদ করে ঢুকে গেল ছুরির ফলা, গাঁথতে শুরু করল বুকের চামড়ায়। বেরিয়ে আসতে লাগল রক্ত। ভয়ার্ত এক চিৎকার করে জোনাথনকে জড়িয়ে ধরলাম আমি , বীভৎস এই দৃশ্য দেখতে চাইছি না আমি। আর তখুনি আর্তনাদ করে উঠলেন ভ্যান হেলসিং। হাত থেকে খসে পড়ল ছুরি। বিছানায়, আমাদের পাশে দড়াম করে আছড়ে পড়লেন তিনি - আহত, কিন্তু জীবিত অবস্থায়। অনেকক্ষণ পড়ে রইলাম আমরা ওভাবে। একসময় ককাতে ককাতে উঠে বসলেন প্রফেসর ভ্যান হেলসিং। আমরাও উঠে বসলাম - বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলাম তাঁর দিকে। ফোঁপাতে শুরু করলেন দুঃসাহসী মানুষটা। বললেন, " জোনাথন....মীনা, আ....আমি দুঃখিত। পরিস্থিতি খারাপ....খুব খারাপ। যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশী। তোমাদের কপালে যা ঘটেছে.....আমার কপালে যা ঘটল....কোনওটাই মনের ভুল নয়, মানসিক রোগও নয়। সে ফিরে এসেছে! তার দেহ ধ্বংস হয়ে গেছে....কিন্তু আত্মা হিসেবে ফিরে এসেছে সে.....ভয়ঙ্কর শক্তিসম্পন্ন এক দুষ্ট প্রেতাত্মায় পরিণত হয়েছে সে....প্রতিশোধ নিতে এসেছে....ঈশ্বর, আমি জানি না, কিভাবে ওর বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে!" যতটুকু পারি, স্বান্তনা দিলাম তাঁকে। ব্যান্ডেজ এনে বেঁধে দিলাম জোনাথন আর প্রফেসরের ক্ষতগুলোয়। এরপর তিনি আমাদের শোনালেন কিভাবে ঘটল এই ঘটনার সূচনা। " রাতের পোশাক পরে টেবিলে গিয়ে বসেছিলাম। ভেবেছিলাম, ঘুম না আসা পর্যন্ত একটু পড়াশোনা করে নিই। কিন্তু বই খুলে বসার সঙ্গে সঙ্গেই অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো। মনে হলো, ঘরের বাতির আলোর জোর কেমন যেন কমে আসছে, বইয়ের অক্ষরগুলোও আর ঠিকঠাক পড়া যাচ্ছে না। এরপরেই জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। দেখলাম, বিশাল এক অন্ধকার কামরার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি, দূর থেকে ভেসে আসছে অচেনা এক কণ্ঠস্বর। এরপর শুনলাম বাদুড়ের ডানা ঝাপটানির শব্দ। মস্তিষ্কের ভেতরের কোষে কোষে যেন ঢুকে যাচ্ছিল সেই আওয়াজ, হাজার চেষ্টা করেও তাড়াতে পারলাম না। হঠাৎ মনে হলো, আরও একজন কেউ ঢুকেছে কামরায়, অনুমান করলাম কে হতে পারে সেটা!" " ড্রাকুলা? " জিজ্ঞেস করলাম আমি। মাথা ঝাঁকালেন ভ্যান হেলসিং। " আপনি নিশ্চিত?" সন্দিহান গলায় প্রশ্ন করলাম। " অবশ্যই!" জোর গলায় বললেন প্রফেসর, " ও ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। এমন দুরাত্মা.... এমন শয়তান....দুনিয়া য় আর কেউ হতে পারে না। আমাকে বশ করেছিল ও, ঢুকে পড়েছিল আমার ভেতরে। পরিষ্কার টের পাচ্ছিলাম ওর অস্তিত্ব "। " আমারও ঠিক একই অনুভূতি হয়", বলে উঠল জোনাথন। কাঁধ ঝাঁকালেন ভ্যান হেলসিং। বললেন, " যাই হোক, ওর উপস্থিতি টের পেয়েই লড়াই জুড়ে দিই আমি। চেষ্টা করি ওকে আমার ভেতর থেকে বের করে দিতে। তা দেখে ও হাসতে থাকে। আমায় বলল, ' এবার তুমি বুঝবে আমার ক্ষমতার দৌড়। শুধু দুঃস্বপ্ন দেখানোই নয়, চাইলে তোমায় নিয়ন্ত্রণও করতে পারি আমি। আমার ইচ্ছেয় সব করবে তুমি। তা হলেই বোঝো, তোমার মতো দৃঢ় মনোবলের লোককে যদি বশ করতে পারি, তাহলে তোমার আশপাশের দুর্বলদের কব্জা করা আরও কত সহজ আমার পক্ষে। কোথাও নিরাপদ থাকবে না তুমি, কারণ তুমি বুঝতেই পারবে না, কার ভেতর লুকিয়ে আছি আমি....কোনদিক থেকে আঘাত হানব, কিচ্ছু বুঝতে পারবে না তুমি!" এটুকু বলে দম নেবার জন্য একটু থামলেন ভ্যান হেলসিং। খানিক পরে ফের কথার খেই ধরে বলতে লাগলেন, " ওকে তাড়াবার জন্য কি না করছিলাম...এইসব ভাঙচুর.... হৈ চৈ....সবই ছিল আমার লড়াইয়ের অংশ। কিন্তু কিছুতেই যখন কিছু হলো না তখন সুটকেস থেকে ছুরিটা বের করে নিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল, যদি আত্মহত্যা করি, ব্যর্থতার জ্বালা নিয়ে পালাবে শয়তানটা। তাই-ই করতে যাচ্ছিলাম, তখনই তোমরা এলে। ড্রাকুলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার বুঝতে পারছিলাম, ও... ও জোনাথনকে খুন করতে চাইছিল। সেজন্যেই মানা করেছিলাম কামরায় ঢুকতে। তুমি তো কথা শুনলে না, ড্রাকুলাও তোমায় খুন করার চেষ্টা চালাল। মীনা মাঝখানে এসে না পড়লে নির্ঘাত মারা যেতে আজ। ওকে দেখে থমকে গিয়েছিল শয়তানটা। আমিও সেই সুযোগে নিজের বুকে ছুরি বসাতে চাইলাম। কিন্তু চামড়া কেটে রক্ত বেরোবার সাথে সাথে আমার দেহ ছেড়ে বেরিয়ে গেল শয়তানটা, বোধহয় হাল ছেড়ে দিয়েই। আমিও তাই ক্ষান্ত দিলাম আত্মহত্যার চেষ্টায়"। " ভাল করেছেন", বললাম আমি, " মরলেই সমস্যার সমাধান হতো না।" " এমনিতেও হবে না", হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন হেলসিং, " এই দুষ্ট প্রেতাত্মাকে রোখার কোনও কায়দা আমার জানা নেই"। ভ্যান হেলসিংয়ের এই হতোদ্যম চেহারা এই প্রথমবার দেখছি। এর প্রভাব আমার ওপরেও পড়ল। তারপরেও চেষ্টা করলাম তাকে সাহস যোগাতে। কিন্তু লাভ হয়নি। জোনাথনের হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে দেখা গেল। কেটে গেছে রক্তের ধমনী বা পেশী। হাতটা আর নাড়াতেই পারছে না। " পুরোপুরি ঠিক হয়ত কোনদিনই হবে না", বললেন প্রফেসর। অনুশোচনায়, সহানুভূতিতে তাঁর চোখে পানি এসে গেল। কিন্তু জোনাথন বলল, " এর জন্য আপনি দায়ী নন প্রফেসর। দায়ী আমাদের চিরশত্রু - কাউন্ট ড্রাকুলা "। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, অথচ তার কিছুই টের পেল না ইলিনা! মড়ার মতো ঘুমোচ্ছে নিজের ঘরের দরজা আটকে! ভালই হয়েছে অবশ্য তাতে। ৬ নভেম্বর।। জোনাথন আর ভ্যান হেলসিং বিশ্রাম নিচ্ছেন। প্রফেসরের শরীরের ক্ষতগুলো শার্টের নিচে ঢেকে রাখা যাচ্ছে কিন্তু জোনাথনের ক্ষতগুলো ঢাকা যাচ্ছে না। তাই সবাইকে বলতে হচ্ছে, কিচেনে পড়ে গিয়ে ছুরিতে হাত কেটে গেছে ওর। এ নিয়ে আর কেউ উচ্চবাচ্য করেনি। থমথমে এক পরিবেশ বিরাজ করছে আমাদের বাড়িতে। সন্দেহের চোখে সবার দিকে তাকাচ্ছি আমরা তিনজন, বোঝার চেষ্টা করছি....কি বলা যায় একে.....একে বশীভূত করে রাখেনি তো সেই শয়তানটা? বড়ই তিক্ত এক অনুভূতি হচ্ছে আমাদের। কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। নিজেও বিশ্বাস হারাচ্ছি অন্য দুজনের। গতবার যখন ড্রাকুলার মোকাবিলা করেছি, তখন অন্তত এককাট্টা থাকতে পেরেছি আমরা.....আস্থা রাখতে পেরেছি একে অন্যের ওপর। পিশাচটার মায়াজালে স্বল্প সময়ের জন্য আটকা পড়েছিলাম আমি, তারপরেও এতটা খারাপ পরিস্থিতি দেখা দেয় নি। কিন্তু এবার.... না, এসব নিয়ে আর লিখব না। যত লিখব, ততই খারাপ লাগবে। আপাতত ইলিনা আর কুইন্সির সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি আমি। খেয়াল রাখছি, আমাদের মনের আতঙ্ক যেন ওদের মধ্যে সংক্রামিত না হয়। আমাদের বাড়িতে এখন ইলিনাই একমাত্র স্বাভাবিক। ইদানীং ও বেশ উচ্ছল হয়ে উঠেছে, গোলাপি হয়ে উঠেছে ওর গালদুটো। ওকে দেখেই সাহস পাচ্ছি আমি, পাচ্ছি প্রাণের সাড়া। শুধু বুঝতে পারছি না, ওর হঠাৎ এত উচ্ছলতার কারণ কি! নতুন প্রেমে পড়লে জানি এমনটা হয়; কিন্তু ইলিনার তো এরকম কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই। সারাদিন তো বাড়িতেই থাকে, কোনও ছেলের সঙ্গে দেখা হবার সুযোগই নেই। তাহলে? বলে রাখা ভাল, ভ্যান হেলসিংয়ের প্রস্তাবে শেষমেশ রাজি হয়েছি আমরা। খবর পাঠিয়েছি ডাঃ সিউয়ার্ড আর লর্ড আর্থার গোড্যালমিংকে। আমাদের ড্রাকুলা নিধন অভিযানের সেই ছোট্ট দলটা আবার সংগঠিত হতে চলেছে। কিছুটা ভাল লাগছে এতে। একাকী আর পিশাচের মুখোমুখি হতে হবে না, পুরনো সহযোদ্ধারা পাশে থাকবে। দেখা যাক কি হয়। ৭ নভেম্বর।। ডাঃ সিউয়ার্ড আর আর্থার গোড্যালমিং এসে পড়েছেন। বিপদজনক কাজে এসেছেন বলে কেউই স্ত্রী -কে সঙ্গে আনেন নি। ডিনারের পর ডাইনিং টেবিলে গোল হয়ে বসলাম আমরা। যা যা ঘটেছে সব খুলে বলা হলো ওঁদেরকে। শুনে একটু গম্ভীর হয়ে গেলেও অবিচল রইলেন ডাঃ সিউয়ার্ড। হাবভাবে মনে হলো, এমন কিছু ঘটতে পারে, সেটা আগেই আঁচ করেছিলেন তিনি। তবে আর্থারকে উদ্বিগ্ন দেখাল..... স্ত্রী -সন্তানকে ফেলে এসেছেন বলেই হয়তো....বোধহয় ভাবছেন ওদের কোনও অমঙ্গল হতে পারে। যা হোক, ভাগাভাগি করে আমি, জোনাথন আর হেলসিং - পুরো ঘটনা ওঁদের জানাবার পর আমাদের মধ্যে একটা সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলো। এরপর চেয়ার থেকে উঠে পরস্পরের হাত ধরলাম আমরা, চক্রাকারে দাঁড়ালাম। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম আমরা - অশুভের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব আমরা, পিশাচকে নির্মূলভাবে ধ্বংস করে দেবার জন্য জীবনও দেব আমরা। ক্রমশ মিজানুর


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-২০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now