বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ১৯ঃ
( মীনার ডায়েরী)
অনেকটা ফিসফিসিয়ে অদ্ভুত সুরে ডাকলেন ভ্যান
হেলসিং, "
জোনাথন, শুনতে পাচ্ছ আমার কথা?"
জোনাথন : হ্যাঁ, প্রফেসর।
ভ্যান হেলসিং : ভাল। আমি চাই শান্তভাবে তুমি ভাববে,
জোনাথন। ভয়
পেয়ো না, তুমি এখন নিরাপদ। কেউ কোনও ক্ষতি করতে
পারবে না তোমার। ভাবো, মীনার পাশে শুয়ে আছো
তুমি।
হঠাৎ অদ্ভুত এক ধারণা ভর করল তোমার ওপর। ভয়ানক ও
অশুভ এক
ধারণা....যেন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছ তুমি।
গুঙিয়ে উঠল জোনাথন।
" কি ঘটছে বলো আমায়", সাগ্রহে জানতে চাইলেন
প্রফেসর।
" বাদুড়.... " ফিসফিসিয়ে বলল জোনাথন, " বাদুড়ের ডানা
ঝাপটানোর
আওয়াজ পাচ্ছি আমি। দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাচ্ছি মানুষের,
কিন্তু
কেউ কোথাও নেই। কালো একটা কুয়াশা ঘুরপাক খাচ্ছে
আমার
চারদিকে...ঘিরে ফেলছে আমায়। চাইলেও নড়তে পারছি
না,
শরীর অবশ হয়ে গেছে। না-আ! দেরী হয়ে গেছে। ও
আমার শরীরের ভেতর ঢুকে পড়েছে! "
কেঁপে উঠলাম এই কথা শুনে। কিন্তু ভ্যান হেলসিং
নির্বিকার।
শান্তস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, " কে ঢুকেছে তোমার
ভেতরে?"
" ড্রাকুলা...কাউন্ট ড্রাকুলা", উত্তরে বলল জোনাথন।
নামটা শোনামাত্র প্রচণ্ড এক ঝাঁকি খেলাম আমি,
দুনিয়া দুলে উঠল
চোখের সামনে। কোনওমতে সামলালাম নিজেকে, এমন
কিছু
করলাম না যাতে কাজে ব্যাঘাত ঘটে ভ্যান
হেলসিংয়ের।
" কিভাবে বুঝলে ও কাউন্ট ড্রাকুলা?" শান্তভাবে পরের
প্রশ্ন
ছুঁড়লেন প্রফেসর।
" আমি জানি", জোর গলায় বলল জোনাথন, " আমি আর ও
এক হয়ে
গেছি। ওর ভাবনাই আমার ভাবনা, ওর অনুভূতিই আমার
অনুভূতি। ওর
চোখ দিয়ে আমার পাশে শুয়ে থাকা মীনাকে দেখছি
এখন।
জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকছে চাঁদের আলো....মীনার দিকে
ঝুঁকতে শুরু করেছি আমি। না, না, আমি ওকে থামাতে
চাই.....কিন্তু
পারছি না। আমার প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করছে
ও।"
" কিছু কি বলছে ?" জিজ্ঞেস করলেন ভ্যান হেলসিং।
বড় বড় শ্বাস ফেলল জোনাথন। চোখ বন্ধ, তারপরেও
চেহারায়
ফুটে উঠল বেদনার ছাপ। বলল, " না, স্রেফ আমাকে
নিয়ন্ত্রণ
করছে ও। নিঃশব্দে উপহাস করছে আমাকে। বোঝাতে
চাইছে,
ওকে হারাতে পারিনি আমরা। এখন আমারই দেহ ব্যবহার
করবে ও
আমার মীনা'কে পাবার জন্য"।
" শান্ত হও", জোনাথনের কপালে হাত বুলিয়ে দিলেন
প্রফেসর
হেলসিং, " ধরো, ওই পর্ব শেষ। এবার কি ঘটছে?"
" চলে যাচ্ছে ও", জোনাথন বলতে লাগল, " আমি আবার
নিজের
স্বত্তা ফিরে পেয়েছি। বুঝতে পারছি, ভয়ানক বিশ্রী
একটা কান্ড
করে ফেলেছি "। এই বলে চোখ খুলল জোনাথন, আঙুল
তুলল আমার দিকে। বলল, " ও....ও জানত! ও জানত ওটা
আমি ছিলাম না,
ছিল কাউন্ট। তারপরেও কিছু বলেনি"।
স্বামীর মুখে এই অভিযোগ শুনে রক্ত উঠে এল আমার
চেহারায়। লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমাকে
কিছু বলার
সুযোগ দিলেন না হেলসিং। দু হাতে জোনাথনের কাঁধ
চেপে
ধরে বললেন, " শান্ত হও! শান্ত হও তুমি! " আবার চোখ মুদল
জোনাথন। প্রফেসর বললেন, " উত্তেজিত হবে না। এবার
তুমি
ঘুম থেকে জাগবে। এক.....দুই.....তিন!"
তুড়ি বাজালেন হেলসিং। এবার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে
চোখ খুলল
জোনাথন। ফ্যালফ্যাল করে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল
কিছুক্ষণ। তারপরেই উঠে বসে মুখ ঢাকল দু'হাতে।
" হা ঈশ্বর! " কাতর ধ্বনি বেরিয়ে এল ওর মুখ দিয়ে।
" কি বলেছ এতক্ষণ, সব মনে আছে তোমার?" জিজ্ঞেস
করলেন হেলসিং।
" হ্যাঁ, সবকিছু ", নিচু গলায় বলল জোনাথন।
আমার দিকে ঘাড় ঘোরালেন হেলসিং। স্বাভাবিক গলায়
বললেন, "
মীনা, ব্রান্ডি খাওয়াতে পারবে? আমাদের সবারই একটু
ড্রিঙ্ক
দরকার"।
মাথা ঝাঁকিয়ে ড্রয়িংরুমের আলমারির দিকে এগোলাম।
গ্লাস আর
বোতল নিয়ে ব্রান্ডি পরিবেশন করলাম প্রফেসর আর
জোনাথন'কে। নিজেও নিলাম এক গ্লাস। আমাকে পাশে
বসালেন হেলসিং, তারপর তিনজনে চুপচাপ চুমুক দিলাম
ব্রান্ডিতে।
অস্বস্তিকর নীরবতায় কাটল কিছুক্ষণ। শেষে প্রফেসর
বললেন, " মীনা, অপ্রীতিকর একটা প্রশ্ন না করলেই নয়।
সত্যি
করে বলো....তুমি কি জানতে....বা সন্দেহ করেছিলে যে,
রাতের বেলা জোনাথনের ওপর ড্রাকুলার অশুভ আত্মা ভর
করে?"
" এর কোনও জবাব নেই আমার কাছে, প্রফেসর ", ইতস্তত
করে বললাম আমি, " কি বলব জানি না। আমরা দু'জনেই গত
কয়েকদিন
ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছি। জোনাথন যতই হিংস্রতা
দেখাক,
অজানা এক আকর্ষণ অনুভব করেছি আমি ওর প্রতি"।
গম্ভীর হয়ে গেলেন ভ্যান হেলসিং। বললেন, " অশুভ
কোনও শক্তি তোমার শরীর দখল করতে চাইছে, এমন
কোনও অভিজ্ঞতা হয়েছে? এ ধরনের কয়েকটা ইঙ্গিত
দেখেছি আমি তোমার ডায়েরীতে"।
" তা তো হয়েছেই", বললাম আমি, " কিন্তু যখনই এমন মনে
হয়েছে, মন শক্ত করেছি। ঈশ্বরকে ডেকেছি
কায়মনোবাক্যে। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেছে। তখন
ভেবেছি ব্যাপারটা আমার মনের ভুল"। এই পর্যন্ত বলে
একটু
থামলাম আমি। তারপর ভ্রু কুঁচকে ভ্যান হেলসিংকে
জিজ্ঞাসা করলাম,
" এসব প্রশ্ন কেন করছেন প্রফেসর? প্লিজ সত্যি করে বলুন
না...জোনাথন যা বলছে, তা কি ঠিক? সত্যিই কি ফিরে
এসেছে
ড্রাকুলা? নাকি মানসিক কোনও রোগ দেখা দিয়েছে
আমাদের?"
" মীনা!", আদর করে ডাকলেন প্রফেসর হেলসিং, " এখনই
কোনও সদুত্তর দিতে পারব না আমি। তুমি আর জোনাথন
একই
ধরনের দুঃস্বপ্ন দেখছ - এটা স্রেফ একসঙ্গে থাকার জন্য
একজনের মনের ভয় আর দুশ্চিন্তা অন্য কারোর মধ্যে
সঞ্চারিত হবার কারণেও হতে পারে। কিন্তু এই যুক্তিটা
আমার
নিজেরও মনে ধরছে না - একেবারেই না"।
" আর ব্যাপারটা যদি মনের সমস্যা না হয়?" হঠাৎ
জিজ্ঞেস করল
জোনাথন, " এখন আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে সব। ড্রাকুলার
উপহাস
আমি শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপলব্ধি করেছি।
ওটা যদি
সত্যি হয়? বলুন প্রফেসর, কি করব আমি? কি জবাব দেব
আমার
স্ত্রী -কে? আমারই মাধ্যমে শয়তানটা....."
" প্লিজ জোনাথন", বাধা দিলাম ওকে, " আমার কোনও
অভিযোগ
নেই তোমার বিরুদ্ধে"।
কথাটা যেন কানেই গেল না জোনাথনের। তাকালও না
আমার
দিকে।
বড় করে শ্বাস নিলেন ভ্যান হেলসিং। বললেন, " বেশ, তবে
ওই
ধারাতেই চিন্তা করা যাক। এমন কি হতে পারে, শয়তান
কাউন্ট ড্রাকুলার
অশুভ আত্মা এখনও টিকে আছে....? ওর শরীর ধ্বংস হয়েছে
তো কি, ওর আত্মা এখনও আছে? আর সে প্রতিশোধ নিতে
চাইছে? "
ভ্যান হেলসিংয়ের কথা শেষ হতে না হতেই ঘরের
আলোটা
দপদপ করে কেঁপে উঠল কয়েকবার। যেন হেলসিংয়ের
কথাকে সমর্থন করতেই। মেরুদণ্ড বেয়ে যেন বরফজল
নেমে গেল আমার।
প্রফেসর হেলসিং বলে চললেন, " কাউন্ট ড্রাকুলা
শয়তানের
উপাসনা করে অমরত্ব অর্জন করেছিল....কাজেই যদি ধরে
নিই,
দেহ ধ্বংস হলেও তার আত্মা ধ্বংস হয়নি, সেটা বোধহয়
খুব একটা
বাড়াবাড়ি হবে না। এটুকু মেনে নিলে সবকিছুই খুব সহজে
ব্যাখ্যা
করা যায়"।
" না, প্রফেসর ", প্রায় আর্তনাদ করে উঠলাম আমি, " ও -
কথা
বলবেন না।"
আমাকে স্বান্তনা দিতে আমার একটা হাত ধরলেন ভ্যান
হেলসিং।
নরম গলায় বললেন, " মীনা, তোমায় আমি ভয় দেখাতে
চাইছি
না....আসলে যদি বলতে পারতাম, সবটাই তোমাদের মনের
ভুল,
আমার চেয়ে খুশী আর কেউ হতো না। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া
অমন
কথা বলি কি করে? তুমি আর জোনাথন আমার সন্তানের
মতো,
তোমাদের ব্যাপারে আমি কোনও ঝুঁকি নিতে পারি না।
সবচেয়েখারাপটার জন্য প্রস্তুত থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ"।
" কি করা উচিত আমাদের?" জিজ্ঞেস করল জোনাথন।
" পিশাচকে ঠেকানোর কিছু কিছু কৌশল তো তোমাদের
জানাই
আছে", বললেন প্রফেসর হেলসিং, " আপাতত সেগুলো
দিয়েই শুরু করা যাক। বাড়ির প্রত্যেককে গলায় ক্রুশ
ঝোলাতে
হবে, রসুন এনে সিল করে দিতে হবে বাড়ির সমস্ত দরজা
জানলা।
বুনো গোলাপের ডাল এনে ঝোলাতে হবে দরজার গায়ে"।
" না", প্রতিবাদ করে বলল জোনাথন, " এ ব্যাপারে
নিশ্চিত না হওয়া
পর্যন্ত আমি ওইসব উপদ্রব বাড়িতে আনতে রাজি নই।
তাছাড়া,
ড্রাকুলার অশুভ প্রেতাত্মা আমাদের দেহ নয়, প্রভাব
বিস্তার
করছে আমাদের মনের ওপর। ক্রুশ, বুনো গোলাপ আর রসুন
যে মনের ওপর আক্রমণ ঠেকাতে পারবে - এমন নিশ্চয়তা
আছে? "
মিনমিন করে বললেন প্রফেসর হেলসিং, " তা অবশ্য ঠিক।
কিন্ত...."
" তা হলে কোনও কিন্তু নেই", বলল জোনাথন, " আমি রাজি
নই
আপনার এ প্রস্তাবে"। এটুকু বলে গলার স্বর সামান্য নরম
করল
জোনাথন, " প্লিজ প্রফেসর, ওসব এখনি শুরু করবেন না।
ভয়ানক
সেইসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয় এখনি আবার যেতে চাই না
আমি।
ওইসব ক্রুশ, রসুন ফুল আর বুনো গোলাপ - আমাদের সেই
আতঙ্ককে আরও গাঢ় করে তুলবে"।
" কিভাবে? " জিজ্ঞেস করলেন হেলসিং।
" ব্যাপারটাকে সত্য বলে মনে হবে তখন "।
পালটা কোনও যুক্তি খুঁজে পেলেন না প্রফেসর ভ্যান
হেলসিং।
বলার মতো কিছু খুঁজে না পেয়ে থম মেরে গেলেন। একটু
যেন মনঃক্ষুণ্ণই হলেন তিনি।
কয়েক মূহুর্ত নীরবতার পর আমি বললাম, " জোনাথন বোধহয়
ঠিকই বলছে প্রফেসর। নিশ্চিত না হয়ে এখনই ওসব
পদক্ষেপ
নেওয়া ঠিক হবে না। তাছাড়া, বাড়িতে ইলিনা আর
চাকর বাকররা'ও
রয়েছে। এখুনি ওদেরকে কিছু জানাতে চাই না আমি"।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন হেলসিং। বললেন, " ঠিক আছে,
মেনে
নিচ্ছি তোমাদের কথা। এখনও পরিস্থিতি অত গুরুতর
হয়নি। আপাতত
আমার পরামর্শ, তোমরা ডায়েরী লেখা চালিয়ে যাও।
যা-ই ঘটুক,
ছোট বা বড় হোক, সব লিখে রেখো। আমি নজর রাখব
তোমাদের ওপর। সেইসঙ্গে পড়াশোনাও করব। দেখি, বইয়ে
এ ব্যাপারে কি বলে। আমাদের জানতে হবে,
ভ্যাম্পায়ারের
প্রেতাত্মা বলে কিছু আছে কি না না কি স্রেফ মনের
কারসাজিতে
আক্রান্ত হয়েছ তোমরা।"
আমাদের আলোচনার সমাপ্তি ঘটল ওখানে।
কয়েক ঘণ্টা পরে।।
ঘুম আসছে না আমার। ঠোঁট এখনও টনটন করছে ব্যথায়।
কিছুক্ষণ
আগে জোনাথনের ঘরে গিয়েছিলাম। আমায় দেখেই
মড়ার
মতো ফ্যাকাসে হয়ে গেল ওর মুখ। ভয়ার্ত গলায় বলল, "
চলে
যাও, চলে যাও, যতক্ষণ না আমি ওই পিশাচের হাত থেকে
মুক্তি না
পাচ্ছি, আমার কাছে এসো না তুমি"।
স্বান্তনা দিতে গেলাম ওকে, কোনও কাজ হলো না।
উলটে
সন্দেহ প্রকাশ করে বসল। শীতল গলায় বলল, " তুমি কি
আমার
কাছেই এসেছ না কি আর কারোর খোঁজে এসেছ? এখানে
কাকে পাবে বলে তুমি এসেছ? আমায় না কি....ড্রাকুলাক
ে?"
চমকে উঠেছি ওর অভিযোগ শুনে। বললাম, " তাই-ই যদি
তুমি
ভাবো, তাহলে আমার পক্ষে আর এক মূহুর্তও থাকা সম্ভব
নয়
এখানে। অন্তত যতক্ষণ না তুমি সন্দেহমুক্ত হচ্ছ।"
চোখে জল নিয়ে উলটো ঘুরেছি আমি। জোনাথন বোধহয়
আঁচ করতে পারেনি আমার মনের অবস্থা। পেছন থেকে
ডাকল,
" আমি দুঃখিত মীনা....প্লিজ, একটু দাঁড়াও"।
ওর কথা কানে না নিয়ে বেরিয়ে এসেছি ওর ঘর থেকে।
এত
খারাপ লাগছিল যে মনটা ভাল করার জন্য ইলিনার
কামরায় গেলাম। ও
জেগে থাকলে সুখ দুঃখের দুটো কথা বলব ওর সাথে।
কিন্তু অবাক ব্যাপার, রুমে নেই ইলিনা। রান্নাঘরে
নেই....নেই
ড্রয়িংরুমেও। কুইন্সির ঘরে আছে কি? কিন্তু কুইন্সির ঘরে
আলো জ্বলছে না। আলো জ্বালিয়ে কুইন্সির ঘুম
ভাঙানোর
ইচ্ছা হলো না আমার। ফিরে এলাম নিজের ঘরে। ডায়েরী
খুলে বসলাম।
অবশেষে ঘুম ঘুম লাগছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। লেখা থামাই।
জোনাথন হারকারের ডায়েরী
৪ নভেম্বর।।
মীনা আর আমার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
অবিশ্বাস্য
ব্যাপার...গত সাত বছরে কখনো আমাদের মধ্যে
মনোমালিন্য
হয়নি। অথচ আজ....
আমি কিছুতেই আর ওকে সহ্য করতে পারছি না। মুখে ও
যতই
অস্বীকার করুক, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ও এখনো ড্রাকুলার
প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি.....ও নিজেও বুঝতে পারে, রাতে
আমার ওপর পিশাচ ভর করে....কিন্তু জেনেশুনেও ও.....
না, নিজের ওপরই ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে, নিজের প্রিয়তমা
স্ত্রী 'র
ব্যাপারে এসব ভাবতে গিয়ে, কিন্তু চেষ্টা করেও
এড়াতে পারছি
না চিন্তাগুলোকে। ওর দিকে তাকালেই মনে পড়ে যায়,
ওই
পিশাচটার মায়াজালে একদিন বন্দি হয়েছিল ও....ওর
নোংরা স্পর্শ
পড়েছিল ওর গায়ে।
বারান্দায় বসে বসে লিখছি এই ডায়েরী। ইলিনা এসে
বসেছে
আমার কাছে। বড্ড শান্ত সমাহিত দেখাচ্ছে ওকে। মুখে
কিছু
বলছে না, তারপরেও ওর উপস্থিতি আমাকে এক অদ্ভুত
স্বস্তি
দিচ্ছে। কেন এমন লাগছে, এর কোনও জবাব নেই আমার
কাছে।
মীনা'র ডায়েরী
৪ নভেম্বর।।
সকালটা কুইন্সি আর ইলিনার সঙ্গে কাটিয়ে বেশ ভাল
লাগছে।
আমার আর জোনাথনের অশান্ত দুনিয়ায় এরাই এখন
শান্তি আর
সুখের নোঙর। পঙ্কিলতার স্পর্শ পায়নি এরা।
ডাঃ সিউয়ার্ড আর আর্থার-কে খবর পাঠাতে চাইছেন
ভ্যান হেলসিং,
কিন্তু আমি আর জোনাথন রাজি হইনি। সসমস্যা কোথায়,
সেটাই যখন
বের হয়নি, ওঁরা এসে কি-ই বা করতে পারবেন? ভ্যান
হেলসিং
ব্যাপারটা এত সিরিয়াসলি নিয়েছেন যে, ভয়ই লাগছে
আমার। স্বাভাবিক
জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ কুইন্সি
আর
ইলিনার সামনে স্বাভাবিক থাকা খুবই জরুরী। যদ্দুর
পারি, চেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছি আমি, সবাইকে হাসিখুশী রাখছি,
সংসারের দায়িত্ব পালন
করছি....আর সময় পেলেই প্রার্থনা করছি সর্বশক্তিমানের
উদ্দেশ্যে। ঈশ্বর আমাদের সহায়তা করুন।
৫ নভেম্বর।।
ঝড় শেষে বাড়ি এখন শান্ত। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে
পড়ছে
আমার, তারপরেও কলম তুলে নিয়েছি। কষ্ট হলেও ঘটনাটা
লিখে
রাখা দরকার।
বরাবরের মতো কাল রাতেও বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ
করছিলাম,
ঘুম আসছিল না। ঘন্টাখানেক কেটে যাবার পর হঠাৎ শুনতে
পেলাম
গোলমালের আওয়াজ--পুরুষকন্ঠ....চড়া স্বরে কে যেন কার
সঙ্গে তর্কাতর্কি করছে। জোনাথন না ভ্যান হেলসিং,
ঠিক বোঝা
গেল না। গলার আওয়াজের পাশাপাশি শোনা গেল ঘরের
আসবাবপত্রের ধুমধাম - যেন চেয়ার টেবিল ছুঁড়ে ফেলা
হচ্ছে এদিকওদিক। তাড়াতাড়ি গায়ে একটা ড্রেসিং
গাউন চাপিয়ে
বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে।
করিডোরে পৌঁছে বুঝলাম, শব্দ আসছে ভ্যান
হেলসিংয়ের
গেস্টরুম থেকে। জোনাথনও ওদিকে ওর ঘর থেকে
বেরিয়ে এসেছে শব্দ শুনে।
দুজনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে একবার পরস্পরের দিকে
তাকিয়ে
হেলসিংয়ের গেস্টরুমের দরজায় এসে টোকা দিলাম
দরজায়।
জবাব পাওয়া গেল না। তার বদলে ঘরের ভেতর থেকে
ভেসে
এল গোঙানি, আর সেইসঙ্গে মেঝেতে মানুষের দেহ
আছড়ে পড়ার শব্দ। আর দেরী না করে উদ্বিগ্ন জোনাথন
হাতল ঘোরাল ঘরের দরজার, কিন্তু খুলল না দরজা। ভেতর
থেকে ছিটকিনি আঁটা।
জোনাথন ডাকল, " কি হয়েছে প্রফেসর, আপনার? দরজা
খুলুন।
ঢুকতে দিন আমাদের"।
সঙ্গে সঙ্গে ধড়াম আওয়াজে কেঁপে উঠল দরজা,মনে
হলো দরজার পাল্লার ওপর এসে আছড়ে পড়লেন ভ্যান
হেলসিং।
কর্কশ গলায় কাতরধ্বনি ভেসে এল ভেতর থেকে, " না!
ভেতরে এসো না কিছুতেই। তোমাদের ভালোর জন্য
বলছি"।
ভ্যান হেলসিংয়েরই গলা। কিন্তু হঠাৎ এ কি হলো ওনার?
কার সঙ্গে
ধ্বস্তাধস্তি হচ্ছে ভেতরে?
ভয়ে কেঁপে উঠলাম আমি।
ক্রমশ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now