বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৮

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ১৮ঃ জোনাথন হারকারের ডায়েরী ২৭ অক্টোবর।। ভয়ঙ্কর কিছু একটার কবলে পড়েছি আমি - এতে কোনও সন্দেহ নেই। গত তিনরাত ধরে ঘটছে একই ঘটনা - পশুতে পরিণত হচ্ছি আমি। রাত গভীর হলেই বুকের ভেতর দামামা বাজতে শুরু করে, মাথার ভেতর বিস্ফারিত হয় আগ্নেয়গিরি, কানের পাশে শুনতে থাকি বাদুড়ের ডানা ঝাপটানির শব্দ। নিজের অজান্তেই ঝাঁপিয়ে পড়ি পাশে শুয়ে থাকা প্রেমময়ী স্ত্রী 'র ওপর। প্রথম দু'রাত ভয়ে সিঁটিয়ে ছিল মীনা, পালিয়ে গিয়েছিল কামরা ছেড়ে; কিন্তু গতকাল রাতে আত্মসমর্পণ করল ও, যেন এটাই ওর নিয়তি। তারপর কি করেছি ওর সাথে, আমি জানি না। তবে সকালে ঘুম ভাঙার পর ওর শরীরে দেখেছি নখের আঁচড়ের অসংখ্য চিহ্ন। লজ্জায়, ঘৃণায় সঙ্গে সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করেছে আমার। ভদ্রঘরের সন্তান আমি - ধার্মিক পরিবেশে বড় হয়েছি। জানি, বিছানায় - নিজের স্ত্রী 'র সঙ্গেও সংযম বজায় রাখতে হয়। উন্মত্ত পশুর মতো আচরণ মানুষের জন্য নয়। অথচ গত কয়েক রাত ধরে সেটাই করে চলেছি আমি। ঈশ্বর, এ কেমন অবস্থায় ফেললে আমায়? আমায় এমন শত্রু দাও, যাকে আমি দেখতে পারি, দু হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারি, ধ্বংস করতে পারি। কিন্তু এই যে অদৃশ্য রিপু - এর বিরুদ্ধে আমি লড়ব কি করে? একটা ব্যাপার পরিষ্কার। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দুজনের কখনওই এক বিছানায় শোয়া উচিত নয় মীনা'র ডায়েরী ২৯ অক্টোবর।। জোনাথনের অবস্থার বিবরণ দিয়ে আজ একটা চিঠি পাঠালাম প্রফেসর ভ্যান হেলসিংয়ের কাছে। জোনাথন এতে আপত্তি করেছিল কিন্তু সেটা কানে তুলিনি আমি। অবস্থা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে - এই অবস্থায় প্রফেসর হেলসিংয়ের মতো অভিজ্ঞ মানুষের সাহায্য না নেওয়াটা চরম বোকামি হবে। গত কয়েকটা দিন ভাল কাটেনি। নিয়মিত অফিসে গেছে জোনাথন, সবাইকে দেখাতে চেয়েছে ওর কোনও অসুবিধা নেই, কিন্তু বাড়ি ফেরামাত্র আবারও ওকে পেয়ে বসেছে বিমর্ষ ভাবটা। নিজেকে বন্দি করে রেখেছে স্টাডি'তে। রাতেও ঠিকমতো ঘুমোতে পারছে না, দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠছে বারবার। পাশে থেকে ওকে সাহায্য করতে চাই আমি, কিন্তু বেডরুম ছেড়ে স্টাডিরুমে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছে সে, আমার সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। খারাপ লাগছে আমার, নিঃসঙ্গ বোধ করছি। একবার ভেবেছিলাম, ইলিনাকে বলব আমার সঙ্গে রাতে শোবার জন্য; কিন্তু সাত পাঁচ ভেবে নিরস্ত করেছি নিজেকে। ইলিনাকে ডাকা মানেই আমার আর জোনাথনের সমস্যা ওর চোখের সামনে তুলে ধরা। সেটা করতে চাই না আমি। একটাই প্রার্থনা এখন আমার - দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক জোনাথন। ওকে ছাড়া আমি অসহায়। ৩০ অক্টোবর।। প্রফেসর ভ্যান হেলসিং কে পাঠানো চিঠির জবাবে ওঁর কাছ থেকে একটা টেলিগ্রাম পেলাম আজ। তিনদিন পর এখানে এসে পৌঁছবেন ভ্যান হেলসিং। খুব ভাল লাগছে খবরটা পেয়ে। আশা করি এবার অবসান ঘটবে সব সমস্যার। ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরী ৩০ অক্টোবর।। হারকার দম্পতির দুর্ভোগ দেখে মাঝেমাঝে খারাপ লাগে আমার। ওঁদের ধারণা, আমি ওঁদের সমস্যার কিছুই বুঝি না কিন্তু বাস্তবে তাঁদের মধ্যেকার চাপা অশান্তির খুঁটিনাটি সব বুঝতে পারছি আমি। এর রহস্যও আমার অজানা নয়। আমার গোপন সঙ্গী খেলছে ওঁদের নিয়ে - ঠিক যেভাবে শিকারের আগে ইঁদুরকে নিয়ে খেলা করে বেড়াল। মন থেকে ঠিক সায় পাই না এতে, কিন্তু এ-ও ভুলতে পারি না, এই দু'জন মানুষই নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন আমার সঙ্গীকে। এখন যা ঘটছে, তার জন্য দায়ী এঁরা নিজেরাই। খুব শীঘ্রি প্রতিশোধের তৃষ্ণা মেটাবে আমার সঙ্গী - ফিরে পাবে তার দৈহিক রূপ। সে নিজেও আমায় জানিয়েছে, প্রতিশোধের পালা চরমে পৌঁছতে চলেছে খুব শীঘ্রি। কথাটা ভাবলেই তুষ্ট হয়ে ওঠে হৃদয়। আর সমবেদনা অনুভব করি না আমার আশ্রয়দাতাদের প্রতি। হারকার'দের বাচ্চাটাকে প্রায় বশ করে ফেলেছি আমি। হ্যাঁ, ও-ই এখন আমাদের ইচ্ছানুসারে কাজ করবে। মীনা'র ডায়েরী ১ নভেম্বর।। গভীর আগ্রহ নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি ভ্যান হেলসিংয়ের জন্য। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে আমার আর জোনাথনের আঁধার জগৎটাকে আলোর একটা রেখার মতো রাঙিয়ে তুলেছে। এরই মাঝে একটা ছোট্ট দূর্ঘটনা ঘটে গেছে। আহত হয়েছি আমি। মুখটা এমন বিচ্ছিরি ভাবে আহত হয়েছে যে খাওয়া দাওয়াও করতে পারছি না। ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনকই বলতে হবে, কারণ দিনটা এমনিতে ছিল খুব চমৎকার। কুইন্সিকে নিয়ে একসঙ্গে লাঞ্চ সারলাম আমি আর ইলিনা। তারপর বারান্দায় বসেছিলাম রোদ পোহানোর জন্য। উপভোগ করছিলাম বাগানের শোভা - শরতের স্পর্শে রঙবেরঙের ফুল ফুটেছে বাগানে, পরিবেশকে করে তুলেছে মোহময়। কুইন্সি বারবার আমার কোল থেকে নেমে বাগানের বাইরে চড়ে বেড়ানো গরুগুলোকে ছোঁবার জন্য যেতে চাইছিল; কিছুতেই ওকে নিরস্ত করতে পারছিলাম না, কিন্তু ইলিনা যেন জাদু জানে। এটা সেটা বলে অল্প সময়ের মধ্যে মনোযোগ ঘুরিয়ে দিল আমার ছেলের। রূপকথার একটা গল্প পড়ে শোনালাম কুইন্সি'কে। গল্প শোনার পর আমাকে একটা গোলাপ উপহার দিতে চাইল ও। ইলিনা ওকে বাগানে নিয়ে গেল, ডাল সহ একটা বড় গোলাপ ছিঁড়ে দিল। কুইন্সি আবদার করল, গোলাপটা ও মুখে কামড়ে ধরে আমায় দেবে, আমাকেও সেটা একই ভঙ্গিতে নিতে হবে। এটা নাকি স্পেনীয় কায়দা। ছেলেকে খুশী করতে প্রস্তাবটায় রাজি হলাম, আর সেটাই কাল হলো আমার। ওর মুখ থেকে আলতো ভঙ্গিতে ফুলটা নেবার সঙ্গে সঙ্গে নড়ে উঠল কুইন্সি। কুইন্সি ভাবল, ফুলটা পড়ে যাচ্ছে আমার মুখ থেকে, আচমকা চেপে ধরল আমার থুতনি। গোলাপের ডালে বড় বড় কাঁটা ছিল, সেগুলো গেঁথে গেল আমার ঠোঁটের ভেতর দিকে। ব্যথায় ঝটকা দিয়ে উঠলাম, ঘাবড়ে গেল কুইন্সি। আমাকে রেহাই দেবার জন্য টান দিল ফুলটা ধরে, তাতে ঘটল হিতে - বিপরীত। মুখ বন্ধ অবস্থায় টান খেয়ে ঠোঁটের ভেতরটা ফালি ফালি করে দিল গোলাপের কাঁটা। অঝোর ধারায় বেরিয়ে এল রক্ত। ককিয়ে উঠলাম ব্যথায়। ভয় পেয়ে এক লাফে পিছিয়ে গেল কুইন্সি। ওর মুখ দেখেই বোঝা গেল, বেশ ঘাবড়ে গেছে বেচারা। এদিকে আমার মুখ দিয়ে তখন কলকল করে রক্ত বেরিয়ে আসছে....ঠোঁটের ধমনী টমনী ছিঁড়ে গেছে নিশ্চয়ই। ইলিনা এবার এগিয়ে এল আমার দিকে। হাতে ধরা একটা পাত্র, সেটা ধরল আমার মুখের নীচে। মনে হলো যাতে জামায় রক্ত না লাগে, সেই চেষ্টাই করছে ও। সব রক্ত গিয়ে জমা হতে থাকল বাটিতে। বিরক্ত হলাম, কি করছে মেয়েটা! রক্ত থামাবার চেষ্টা না করে রক্ত জমাচ্ছে কোন আক্কেলে? ওগুলো কি আবার আমার শরীরে ঢোকান যাবে? তবে এক মূহুর্ত পরেই সংযত করলাম নিজেকে। ভাবলাম, টেনশনে নিশ্চয়ই ওর মাথা কাজ করছে না। কথা বলার উপায় নেই, তাই ইলিনাকে কিছু বলতেও পারলাম না। খুব শীঘ্রি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুর্বল হয়ে পড়লাম আমি। দুনিয়া আঁধার হয়ে গেল আমার চোখের সামনে থেকে। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন আমি নিজের বিছানায়। মুখে পেল্লায় এক ব্যান্ডেজ বাঁধা। আমার ওপর ঝুঁকে আছে ইলিনা আর স্থানীয় চিকিৎসক - ডাঃ গাউ। কুইন্সিকে দেখলাম, আমাদের বাড়ির পরিচারিকা মেরীকে জড়িয়ে ধরে ঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। রক্তক্ষরণ ততক্ষণে বন্ধ হয়েছে, কিন্তু মুখের ভেতরে তখনো অসহ্য ব্যথা। ডাঃ গাউ একটা ইঞ্জেকশন দিলেন আমায়,রক্তপাতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছি বলে কয়েকটা দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেন। সেইসঙ্গে তরল কয়েকটা খাবার আর ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বিদায় নিলেন। দুর্ঘটনা ছাড়া আর কি বলব এটাকে? ক'দিন যে লাগবে সুস্থ হতে কে জানে? ৩ নভেম্বর।। এসে পড়েছেন ভ্যান হেলসিং। স্ত্রী হারানোর শোকে কিছুটা যেন শুকিয়ে গেছেন। কিন্তু তারপরও প্রাণচাঞ্চল্যে ভাটা পড়েনি এতটুকুও, তাঁর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পুরো বাড়িতে যেন নবজীবনের সঞ্চার হলো। কুইন্সি তো খুব খুশী, ভ্যান হেলসিংয়ের অন্ধ ভক্ত সে। আমার মুখের অবস্থা দেখে বিচলিত হলেন ভ্যান হেলসিং। তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা হাল্কা করতে চাইলাম, ব্যাপারটা একটা নিছক দুর্ঘটনা বলে। চিন্তা যদি করতে হয়, জোনাথনকে নিয়ে করা উচিত। ও-ই আসল রোগী। ডিনারের সময় খুব স্বাভাবিক দেখাল জোনাথনকে। কথাবার্তা আর হাসিঠাট্টা করল স্বভাবজাত ভঙ্গিমায়। দেখে বোঝার উপায়ই নেই, কোনও সমস্যা আছে ওর মধ্যে। তবে এতে বিভ্রান্ত হলেন না ভ্যান হেলসিং, ডিনার শেষে কুইন্সিকে নিয়ে ইলিনা শুতে চলে গেলে আমাদের নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসলেন তিনি। ভূমিকা টূমিকা না করে সরাসরি গম্ভীর গলায় বললেন, " হ্যাঁ, এবার শোনাও তোমাদের কথা। সঙ্কোচ কোরো না। নিশ্চয়ই গুরুতর কিছু ঘটেছে, নইলে এভাবে আমায় খবর পাঠাতে না। কি হয়েছে বলো তো?" মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম আমি আর জোনাথন। এরপর একটু ইতস্তত করে ও বলল, " ইয়ে....কোত্থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না। আসলে...ভয় পাবার মতো আলাদা কোনও ঘটনা ঘটেনি। আসলে বেশ কিছুদিন ধরে আমি দুঃস্বপ্ন দেখছি, চোখে ভুলভাল সব দেখছি। ধ্যাত, এমন ছোটখাটো ব্যাপারে আপনাকে টেনে আনাই বোধহয় উচিত হয়নি।" স্থির চোখে জোনাথনের মুখভাব যাচাই করলেন ভ্যান হেলসিং। বললেন , " ঠিক তার উলটো বন্ধু। ঘটনা যতই ছোট হোক, তা যদি তোমায় বিচলিত করে তোলে, ওটাকে অগ্রাহ্য করা ঠিক নয়। আর আমার কথা বলছ? বন্ধু যদি বন্ধুকে সাহায্য না করে, তাহলে করবেটা কে? সাহায্যের প্রয়োজন যদি না-ও হয়, এখানে বেড়াতে তো পারছি। সেটাও কি কম আনন্দের? বাদ দাও ওসব, কি ধরনের স্বপ্ন দেখছ, সেটাই বলো আমায়"। " বীভৎস.... কষ্টদায়ক ", বলল জোনাথন। " বাজে স্বপ্ন আমিও দেখেছি ", এবার আমি বলে উঠলাম। ঠোঁটের ব্যথাও ভুলে গেলাম কথা বলার আগ্রহে। বললাম, " হয়তো জোনাথনের মতো ভয়াবহ নয়, তারপরেও আমায় অস্বস্তিতে ফেলার জন্য যথেষ্ট। কিছু মনে করবেন না, প্রফেসর, দ্বিতীয়বার ট্রানসিলভ্যানিয়া যাওয়াটা বোধহয় উচিত হয়নি আমাদের। পুরনো স্মৃতিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আমাদের ভেতর "। " কিন্তু সেসব স্মৃতি তো সাত বছর আগে আরও তাজা ছিল", যুক্তি দেখালেন ভ্যান হেলসিং, " তখন দুঃস্বপ্ন দেখোনি, তাহলে এখন কেন দেখছ?" " সবকিছু গুছিয়ে বলতে পারব না", বলল জোনাথন, " আমার ডায়েরীটা পড়লে হয়তো বা বুঝতে পারবেন। এনে দেব?" " আমার ডায়েরীটাও এনে দেখাও প্রফেসরকে", বলে উঠলাম আমি। ভ্যান হেলসিং সম্মতি দিলে ডায়েরীদুটো নিয়ে এলাম আমরা, তুলে দিলাম তাঁর হাতে। একটু লজ্জাও করঁছিল আমাদের, ডায়েরীতে আমাদের গোপন কথা আছে, কিন্তু নির্বিকার রইলেন ভ্যান হেলসিং। এমন কিছু বললেন না বা করলেন না যাতে বিব্রত হতে হয় আমাদেরকে। " হুম", ডায়েরীদুটো পড়া শেষ হলে গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন তিনি। " কিছু বুঝতে পারলেন?" সাগ্রহে জানতে চাইল জোনাথন। " এখনি উদ্বিগ্ন হবার মতো কিছু নেই", বললেন ভ্যান হেলসিং, " তবে কয়েক জায়গায় যে খটকা লেগেছে, অস্বীকার করব না। তোমাদের কি মনে হয়? কেন ঘটছে এসব? " কাঁধ ঝাঁকাল জোনাথন। আমি বললাম, " মানসিক অস্থিরতার কারণে এসব ঘটতে পারে। আবহাওয়া আর পরিবেশেরও হয়তো প্রভাব আছে...." " মীনা", মৃদু হেসে বললেন ভ্যান হেলসিং, " আর কেউ জানুক বা না জানুক, আমরা তো জানি, দুনিয়ায় অতিপ্রাকৃত শক্তির অস্তিত্ব আছে! তারপরেও যুক্তি দিয়েই ব্যাখ্যা খোঁজো কেন সবকিছুর? অযৌক্তিক কোনও ধারণা থাকলে বলেই ফেলো না!" " আ....আমি জানি না প্রফেসর ", বললাম আমি। " আমিও না", যোগ করল জোনাথন, " যদি জানতাম, তা হলে তো আর খবর দিতাম না আপনাকে। প্লিজ প্রফেসর, কিছু একটা করুন। এভাবে চলতে থাকলে নির্ঘাত পাগল হয়ে যাব আমি। বলা যায় না, মীনা বা ক্যুইন্সি'র কোনও ক্ষতিও করে ফেলতে পারি"। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ভ্যান হেলসিং। " সমাধান করবার আগে সমস্যাটা তো জানতে হবে আমায়। ডায়েরীতে বলতে গেলে কিছুই লেখোনি তোমরা। আরও তথ্য চাই আমার। সেটার জন্য একটাই উপায় আছে জোনাথন, আমি তোমাকে সম্মোহন করতে চাই"। ইতস্তত করল জোনাথন, দ্বিধায় ভুগল কয়েক মিনিট। তারপর হাল ছেড়ে দেবার ভঙ্গিতে বলল, " বেশ আপনি যা ভাল বোঝেন, তাই করুন "। এর আগে আমাকে কয়েক দফা সম্মোহন করেছিলেন ভ্যান হেলসিং....সাত বছর আগে, আমি যখন ড্রাকুলার মায়াজালে আটকা পড়েছিলাম।আমার মাধ্যমে তিনি বের করে নিয়েছিলেন ড্রাকুলার হদিশ। সেইসঙ্গে সম্মোহনের স্মৃতি খুব একটা মনে নেই আমার।আজ প্রথমবার দেখব, কিভাবে সম্মোহন করা হয়। জোনাথনকে ড্রয়িংরুমের বড় সোফাটায় শুইয়ে দিলেন ভ্যান হেলসিং।তারপর ওর চোখে চোখ রেখে অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। দু'হাতের তালু মাথার দুপাশ থেকে এদিকওদিক করে কোমর পর্যন্ত ঘুরিয়ে আনলেন বেশ কয়েকবার। ধীরেধীরে আধবোজা হয়ে এল জোনাথনের চোখের পাতা, ভারী হয়ে উঠল শ্বাস প্রশ্বাস। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now