বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ১৬ঃ "শয়তানের কথাই ধরো", হঠাৎ বলল বেহেরিট, " ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন তিনি....মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন সেইসব জ্ঞান, যা ঈশ্বর গোপন রাখতে চেয়েছিলেন.....ঈ শ্বর চেয়েছিলেন মানুষকে অজ্ঞ আর মূর্খ বানিয়ে রেখে চাকরের মতো ব্যবহার করতে। ঈশ্বরের সেই ইচ্ছায় বাদ সেধেছিলেন আমাদের মহান শয়তান। ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন - তুমিই বলো, কাজটা ঠিক করেছিলেন না ভুল?" জবাব দিলাম না। বেহেরিটের সঙ্গে পালটা তর্কে যাওয়া স্রেফ বাতুলতা। আমার নীরবতায় কোনও প্রভাব পড়ল না লোকটার মধ্যে। সে বলে চলল, " ধর্মীয় বইপত্রে লেখা আছে, ঈশ্বর নাকি পতিত দেবদূতদের প্রতিস্থাপন করার জন্য তৈরি করেছিলেন মানুষকে। ওখানে আরও বলা হয়েছে, মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসাকে নাকি ঈর্ষা করেন শয়তান....সেজন্যই নাকি প্রতিনিয়ত বিপথে চালাতে চান মানুষকে। কিন্তু ভেবে দ্যাখো বন্ধু, যদি শয়তান মানুষের সত্যিই ক্ষতি চাইতেন, তা হলে তো তিনি মানুষের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই করতে পারতেন, তা না করে কেন বিলিয়েছেন জ্ঞান? জানো নিশ্চয়ই, এককালে তোমাদের পবিত্র চার্চ, বিজ্ঞানীদের শয়তানের সহচর ভাবত....পুড়িয়ে মারা হতো তাদের। কেন? জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতি রুদ্ধ করার জন্য। কারা তা হলে বোকা...শয়তানের সহচরেরা না ঈশ্বরের অনুগতরা? সেই জ্ঞান প্রাচুর্য আর ক্ষমতার বিনিময়ে কি পেয়েছেন শয়তান? স্রেফ আত্মা, আর কিছুই না। মূল্য হিসেবে তা কি বড়ই সামান্য নয়?" চুপচাপ শুনে গেলাম বেহেরিটের কথা। তার কন্ঠে তখন খেলা করছিল অদ্ভুত এক দম্ভ। বুঝতে পারছিলাম, কোনও যুক্তি দিয়ে টলানো যাবে না তাকে। টানেল ধরে ধরে বড় একটা চেম্বারের মতো জায়গায় এসে পৌঁছলাম আমরা। উপাসনালয় ছাড়া আর কিছু বলা যায় না জায়গাটাকে। দৈর্ঘ প্রস্থে পঞ্চাশ ফুট, দশভূজ আকৃতির। মাঝখানে যখন বেহেরিট প্রদীপ নামিয়ে রাখল, দেখলাম, চেম্বারের দেয়াল, ছাত আর মেঝে.... সবখানে রঙবেরঙের তুলিতে ভয়াবহ সব দৃশ্য আঁকা। পিশাচ আর দানবদের হাতে মানুষের নিপীড়িত হবার দৃশ্য। ছবিগুলো এত জ্যান্ত যে মনে হচ্ছিল, নিপীড়িত মানুষগুলোর আর্তনাদ যেন শুনতে পাচ্ছি আমি। চেম্বারের একপ্রান্তের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে অতিকায় একটা ড্রাগনের মূর্তি - কালো পাথর কুঁদে কুঁদে গড়ে তোলা হয়েছে তার সুবিশাল দেহ; একেবারে নিখুঁত। গায়ের আঁশগুলো পর্যন্ত নিখুঁত। চোখের জায়গায় হলদেটে দুটো স্ফটিকপাথর বসানো, অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে ওগুলো। চোখের কারণে জ্যান্ত মনে হচ্ছে মূর্তিটাকে। দুই পায়ের ফাঁকে একটা দরজা দেখতে পেলাম - না, কাঠের নয়, সাদা কোয়ার্টজ পাথরে তৈরি। মনে হলো দরজার পাল্লা ভেদ করে বেরিয়ে আসছে লালচে একটা আভা, যেন আগুন জ্বলছে ওপাশে, ব্যাপারটা সত্যি হতে পারে, কারণ চেম্বারের বাতাস গরম হয়ে আছে, নাকে আসছে সালফারের গন্ধ। " এখানেই", বলল বেহেরিট, " এখানেই কালা যাদুর শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে নিবেদন করত শয়তানের কাছে। দশম ছাত্রটিকে নিজের কাছে রেখে দিতেন স্বয়ং শয়তান, কালা যাদুবিদ্যা শেখানোর ভেট হিসেবে, বাকি ন'জন ফিরে যেতে পারত বাইরের দুনিয়ায়...কালা যাদুর চর্চা করতে।" " দশম ছাত্রটির কপালে কি জুটর?" প্রশ্ন করলাম আমি। ....." শয়তানের দাস হিসেবে তাকে কাটাতে হতো আজীবন। ক্রীতদাসের জীবন যাপন করতে হতো। আত্মপরিচয় বলতে কিছুই থাকত না। প্রভুর ইচ্ছেতেই বাঁচতে মরতে হতো তাকে।" ....." কাউন্ট ড্রাকুলা কি....." " হ্যাঁ, দশম শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে বাছাই করেছিলেন শয়তান", হিসহিস করে বলতে লাগল বেহেরিট, " অমরত্বের সাধনা করছিল সে, পেয়েও গেল; কিন্তু শিক্ষা শেষে তাকেই নিজের ভেট হিসেবে চেয়ে বসলেন শয়তান, রাজি হলো না কাউন্ট। স্বয়ং শয়তানকে অমান্য করল সে। বলল, মরে গেলেও কারোর দাসত্ব করবে না সে।" হেসে উঠলাম এবার বেহেরিটের কথা শুনে। ভ্রু কুঁচকে গেল বেহেরিটের। জিজ্ঞেস করল, " তুমি হাসছ?" হাসতে হাসতেই বললাম, " না হেসে উপায় কি? ঠিক শয়তান যেমন করে ঈশ্বরকে অমান্য করেছিল, ঠিক সেভাবেই তাকে'ও অমান্য করল কাউন্ট। কথায় আছে না, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে? উচিত শিক্ষা হয়েছে শয়তানের"। দীর্ঘশ্বাস ফেলল বেহেরিট। " হয়তো ঠিকই বলেছ। কিন্তু তারপরেও....শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ যে সে ব্যাপার নয়, অথচ সেটাই করে বসেছিল কাউন্ট। কাজটা আতঙ্কিত করে তোলে আমাদেরকে....কারণ ও দাসত্ব মেনে না নিলে অন্য কাউকে সে জায়গা নিতে হবে। সবাই মিলে হামলা করলাম ওর ওপরে। চেষ্টা করলাম ওকে পরাস্ত করে শয়তানের পায়ে নিবেদন করতে। লাভ হলো না। লড়াইয়ে সবাইকে খুন করল কাউন্ট, বাঁচতে পারলাম কেবল আমি, তারপর ও পালিয়ে গেল স্কলোম্যান্স থেকে। শয়তান সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও তাকে ঠেকাতে পারেননি। তারপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এই স্কলোম্যান্স"। " এখানেই ঘটেছিল সেই ঘটনা?" ফিসফিসিয়ে উঠলাম আমি, " এখানেই সহপাঠীদের খুন করেছিল কাউন্ট?" উদাস দৃষ্টিতে ছাদের দিকে তাকাল বেহেরিট। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, " হ্যাঁ। এখানেই সহপাঠীদের খুন করেছিল ড্রাকুলা "। জিজ্ঞেস করলাম, " আ...আপনি শয়তানকে স্বচক্ষে দেখেছেন? আচ্ছা, কেমন দেখতে তাঁকে?" কাঁধ ঝাঁকাল বেহেরিট। বলল, " অনেক চেহারা আছে তাঁর। জ্বলন্ত দেবদূতের মতো.... শিংওয়ালা ড্রাগনের মতো... তোমার আমার মতো!" ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম, " আপনিই শয়তান ন'ন তো?" হাসল বেহেরিট। " হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন? তোমার কি তাই-ই মনে হয়?" ....." না, মানে..." " বাজে চিন্তায় সময় নষ্ট করবে না। জরুরী দরকার আছে আমার। তুমি আমায় সাহায্য করবে।" ...... " কিভাবে? " " আমি অমর, বন্ধু", বেহেরিট বলতে লাগল, " কিন্তু খাদ্য হিসেবে রক্ত না পেলে আমার অবস্থা হয় শুকনো, প্রাণহীন পাটকাঠির মতো। চারশো বছরের অভুক্তি আমার সে দশাই করেছিল। জ্বলন্ত আগুনের মতো সেই খিদের প্রথম ধাক্কাটা গেছে তোমার ওই সঙ্গীটির ওপর দিয়ে। ওর শরীরের একবিন্দু রক্ত অবশিষ্ট রাখিনি। মারা গেছে ও। তবে তোমার বেলায় এরকম কিছু ঘটবে না। আত্মনিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি আমি, তোমার রক্ত আমায় ফিরিয়ে দিয়েছে যৌবন.... তাই প্রতিদানে আমিও একটা উপহার দিতে চাই তোমায়। অমরত্ব! " " আপনি আমায় ভ্যাম্পায়ার বানাতে চান?" চরম ঘৃণায় কেঁপে উঠলাম আমি। " কক্ষনো না"। বেহেরিট বলল, " রাজি না হলে তুমি মারা যাবে। মানুষ হিসেবে আমার খিদে মেটানো সম্ভব নয় তোমার পক্ষে"। " তা হলে মরব", বললাম আমি। " মরলে যে লাইব্রেরীটা মিস করবে", বেহেরিটের কন্ঠে ফুটে উঠল প্রচ্ছন্ন কৌতুক। এখানকার লাইব্রেরীটার প্রতি আমার মোহের ব্যাপারটা ধরে ফেলেছে সে। " কেন এমন করতে চাইছেন, আপনি?" অসহায়ের মতো চেঁচিয়ে বললাম আমি, " আমাকে মেরে ফেলে মুক্তি দিচ্ছেন না কেন? মূল্যহীন এক মানুষ আমি"। " ঠিক তার উলটো", বলল বেহেরিট, " আমার কাছে তুমি এক অমূল্য সম্পদ। আমার হয়ে একটা কাজ করবে তুমি। তবে নশ্বর মানুষ হিসেবে সে কাজ করা সম্ভব নয়"। " কি কাজ?" " ওই কাউন্ট ড্রাকুলাকে খুঁজে বের করতে হবে তোমায়"। " আমি তো আপনাকে আগেই জানিয়েছি, সে ধ্বংস হয়ে গেছে। " আমার কথাকে পাত্তা না দিয়ে বেহেরিট বলল, " আর আমিও বলছি সেটা সম্ভব নয়"। দু হাতে আমার কাঁধ চেপে ধরল সে, " ওর মৃত্যু নেই। যাই করে থাকুক তোমার বন্ধুরা, সে আবারও ফিরে আসবে.....আসতেই হবে তাকে। আমি চাই না, স্কলোম্যান্সে ফের পা রাখুক সে"। ...." ক....কিন্তু আমি তাকে খুঁজে পাবো কি করে?" " তোমার বন্ধুদের আশপাশে। ওখানেই যাবে ও। প্রতিশোধের নেশায়"। সচকিত হয়ে উঠলাম কথাটা শুনে। আমার প্রিয় বন্ধুর সামনে ঘোর বিপদ! অনুনয়ের সুরে বললাম, প্লিজ....আমায় যেতে দিন। আ...আমার বন্ধুকে সতর্ক করে দিতে হবে। ও...ও...." " আমি তো তোমাকে পাঠাতেই চাইছি", বেহেরিট বলল। " না...না, ভ্যাম্পায়ার হিসেবে নয়। কেন এত বড় শাস্তি দিচ্ছেন আমায়? কাউন্ট ড্রাকুলা'র ভয়ে? ও কেন এত বছর পর এখানে পা রাখতে আসবে?" " কারণ গতবার মানে ওর জীবদ্দশায় ও তাড়াহুড়ো করে এখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে গা ঢাকা দিয়েছিল ট্রানসিলভ্যানিয়ার এক গোপন দুর্গে। কিন্তু ও বুঝতে পারেনি - পিশাচ হিসেবে তখনো ওর সর্বোচ্চ ক্ষমতা আয়ত্ব হয়নি। কিন্তু তোমার বন্ধুদের হাতে পরাস্ত হবার পর..... কায়াহীন অবস্থায় ভেসে বেড়াবার সময়...ওর মধ্যে সেই উপলব্ধি আসে। ও এখন পূর্ণ ক্ষমতা চাইছে....যে ক্ষমতা পেলে ওকে আর দিনের বেলায় কফিনে শুয়ে থাকতে হবে না, ঘুরে বেড়াতে পারবে সূর্যের আলোতেও! আর কোনও দূর্বলতা থাকবে না, হয়ে উঠবে শয়তানের সমকক্ষ! আর সেই ক্ষমতার গোমর লুকিয়ে আছে এখানে.....এই স্কলোম্যান্সে"। " কোথায়?" জিজ্ঞেস না করে পারলাম না। নিঃশব্দে ড্রাগনের পায়ের তলার দরজাটার দিকে এগিয়ে গেল বেহেরিট। হাত নাড়তেই খুলে গেল পাল্লা। ভয়ানক কিছু একটা দেখব ভেবে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে স্রেফ একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গ ছাড়া আর কিছুই দৃষ্টিগোচর হলো না। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ভেসে এলো একটা গরম হাওয়া, তাতে সালফারের উৎকট দুর্গন্ধ। আচমকা আমার ঘাড়ের সবকটি চুল দাঁড়িয়ে গেল আতঙ্কে। মনে হলো যেন অশুভ কোনও কিছুর পরশ বয়ে গেল গায়ের ওপর দিয়ে। চক্কোর দিয়ে উঠল মাথা, ইচ্ছের বিরুদ্ধে বসে পড়লাম হাঁটু গেড়ে। সঙ্গে সঙ্গে দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল দরজাটা। ঠোঁটের কোণায় এক টুকরো হাসি ঝুলিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এল বেহেরিট। বলল, " ওখানে....ওখানেই লুকিয়ে আছে সেই গোমর। নরকের সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস! " বলতে বলতে ঠোঁটদুটো ফাঁক হয়ে গেল তার। বেরিয়ে এল দুটো শ্বদন্ত। " না, প্লিজ", শেষবারের মতো চেঁচালাম আমি, " যেতে দিন আমায়। নয়তো মেরে ফেলুন একেবারে। কিন্তু জীবন্মৃত করে বাঁচিয়ে রাখবেন না প্লিজ"। " আর কোনও বিকল্প নেই",আমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল বেহেরিট, " আমার ক্ষুধা তৃষ্ণা মেটাতে হবে তোমায়...যেতে হবে কাউন্টে'র খোঁজেও। ভ্যাম্পায়ার না হলে দুটোর কোনওটাই করা সম্ভব নয় তোমার পক্ষে। আর বাধা দিয়ো না। যদি স্বেচ্ছায় নিজেকে সমর্পণ করো", কানের কাছে মুখ এনে সে ফিসফিস করে বলতে লাগল, " তাহলে লাইব্রেরীতে অবাধ প্রবেশাধিকার দেব তোমায়। অনন্তকাল ধরে ওই বইগুলো পড়তে পারবে তুমি", এই বলে বিকটভাবে হেসে উঠল বেহেরিট। অবশ হয়ে এল হাত পা। আর কিছু বলবার বা করবার শক্তি রইল না আমার দেহে। অসহায়ের মতো শুধু টের পেলাম, আমার ঘাড়ের কাছে মুখ নেমে এল বেহেরিটের। আবারও অনুভব করলাম তার দংশন। তৃতীয় বারের মতো আমার রক্ত চুষতে লাগল সে। আমার চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে এল। সে অবস্থায় দেখলাম, বাতাসে পাক খাচ্ছে অশুভ আত্মার দল, ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের ঘিরে। মুখে তাদের অশুভ হাসি। আমার রক্ত খাওয়া শেষ হলে সোজা হয়ে দাঁড়াল বেহেরিট। নিজের পরনের আলখাল্লার বোতাম খুলে ফেলল, তারপর নিজের ধারালো নখ দিয়ে চিরে ফেলল নিজের বুকের একটা শিরা। জোর করে ওর রক্ত খেতে বাধ্য করল আমায়। জ্ঞান হারাবার আগে শুনতে পেলাম ওর কথা, " এবার আমাদের আত্মা এক হয়ে গেল। তোমার চিন্তা, তোমার ভাবনা....সব এখন থেকে বুঝতে পারব আমি। চাইলেও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবে না তুমি"। পরে। মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি আমি। মরার আগে শেষ শক্তিটুকু ব্যয় করে জার্নালের শেষ অংশটুকু লিখে যাচ্ছি। যদিও আগের মতো ঠিকমতো ব্যাখ্যা করে নয়, অসম্পূর্ণভাবেই লিখে যাচ্ছি; আমি তার জন্য দুঃখিত বন্ধু হেলসিং। খানিক আগে আমার ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে আমায় উপদেশ দিয়ে গিয়েছে পিশাচ বেহেরিট। বলেছে, " কাউন্ট ড্রাকুলার সঙ্গে দেখা হবার পর কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে যেয়ো না। সাদামাঠা ভাবে শুধু ওকে জানিয়ে দিও, ও যেন এই স্কলোম্যান্সে দ্বিতীয় বার পা না রাখে। খবরদার, জোর খাটাতে যেও না।। মনে রেখো, যদি ওর সাথে লড়াইয়ে যাও, ও তোমায় নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করে দেবে।" " আপনি নিজেই তাহলে কেন যাচ্ছেন না?" জিজ্ঞেস করেছিলাম বেহেরিটকে দুর্বল গলায়। " কারণ, এখান থেকে যাবার কোনও উপায় নেই আমার", উত্তরে বলেছে বেহেরিট, " যা-ই ঘটুক, স্কলোম্যান্সেই আমায় থাকতে হবে অনন্তকাল "। আর লিখতে পারছি না। আব্রাহাম ভ্যান হেলসিং, এমিল, ইলিনা .....চিরবিদায়! ( প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের জার্নাল এখানেই শেষ) এরপর আন্দ্রে কোভাক্স'কে দেখা যাবে ভ্যাম্পায়ার হিসেবে। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now