বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ১৫ঃ
( আন্দ্রে কোভাক্সের ডায়েরী) " এত তাড়াতাড়ি তো
তুমি যেতে পারবে না, বন্ধু", মুচকি হেসে বলল বেহেরিট, "
এভাবে আমাদের দেখা হবার পেছনে একটাই কারণ
থাকতে পারে - আমরা পরস্পরকে সাহায্য করব। এখন
থেকে তুমি আমার কথামতো চলবে। এসো, তোমাকে এখন
এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাই, যেখানে আরেকটু
আরামে থাকতে পারবে তুমি"। হাত বাড়িয়ে আমাকে
উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করল বেহেরিট। উঠে দাঁড়াবার
সঙ্গে সঙ্গে চক্কোর দিয়ে উঠল মাথা। বুঝতে পারলাম,
লোকটার সঙ্গে লড়াই করার, বা তার কাছ থেকে
পালিয়ে যাবার মতো শক্তি নেই আমার শরীরে। তার
কথামতো চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আমাকে দাঁড়
করিয়ে রেখে মিকোলাসের কাছে গেল বেহেরিট।
একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তার প্রাণহীন মুখের দিকে তাকিয়ে
থেকে বলল, " না, এর আর জেগে ওঠার কোনও সম্ভাবনা
নেই। সবসময় এরা ওঠেও না। আমাদের কাতারে সাধারণ
মানুষকে নিয়ে আসতে হলে নির্ধারিত পরিমাণে রক্ত
খেতে হয় তিনবার করে - বেশীও না, কমও না। কিন্তু
চারশো বছর পর আজ জেগে উঠে এত খিদে লেগেছিল যে
তাগড়া ছোঁড়াটার শরীরে একবিন্দু রক্ত'ও আর অবশিষ্ট
নেই। অবশ্য সবাই যদি আমাদের কাতারে চলে আসে,
তাহলে মুশকিল আমাদেরই। কারণ তাতে তো জীবন্মৃতদের
ভিড়ে ভরে যাবে পৃথিবী। শিকারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে,
কমবে শিকারের সংখ্যা। আমাদের জন্য খাবারের সঙ্কট
দেখা দেবে। তাই সবসময় সবাইকে আমাদের দলে নিয়ে
আসা যায় না"।
কথা শেষ করে বেদির গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড় করানো
কুঠারটা তুলে নিল বেহেরিট। বাতাসে আধপাক ঘুরিয়ে
সজোরে নামিয়ে আনল মিকোলাসের গলায়। মৃদু
আওয়াজের সঙ্গে ধড় থেকে আলাদা হয়ে গেল মাথা।
গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। বীভৎস দৃশ্য! বমি এসে গেল
আমার। কোনমতে অন্যদিকে তাকিয়ে সামলে নিলাম
নিজেকে।
রক্তাক্ত কুঠার নামিয়ে রেখে আমার কাছে ফিরে এল
বেহেরিট। বাড়িয়ে দিল ব্রান্ডির গ্লাস। ফিসফিসিয়ে
জিজ্ঞেস করলাম, " কেন? কেন করলেন এ কাজ?" জবাব
দিল না সে। তার বদলে হাতে তুলে নিল একটা মোমবাতি,
তারপর আমার বাহু ধরে হাঁটতে শুরু করল। তার সঙ্গে চলতে
বাধ্য হলাম আমি। চেম্বারের একপ্রান্তে , দুটো
দেয়ালের সংযোগস্থলে আমায় নিয়ে গেল বেহেরিট।
বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলাম, নিচু একটা আর্চওয়ে উদয়
হয়েছে ওখানে- ওপাশে অন্ধকার একটা টানেল। যে পথে
ঢুকেছিলাম আমরা, সে পথ নয়। এটা আরেকটা রাস্তা।
জায়গাটার সামনে দিয়ে অন্তত বিশবার হেঁটেছি আমরা
অথচ দেখতে পাইনি টানেলটা।
" এটার খোঁজ আগে পাইনি কেন আমরা?" হতভম্ব হয়ে
জিজ্ঞেস করে বসলাম।
" কারণ তুমি স্কলোম্যান্সের সদস্য নও", গম্ভীর গলায় বলল
বেহেরিট, " তাই দেখতে পাওনি।" টানেল ধরে এগিয়ে
চললাম আমরা। মোমের আলোয় দেখলাম, ওটার দেয়াল
আর মেঝে গাঢ় আকাশী রঙে মোজাইক করা। ঠিক
মাঝখানটায় রয়েছে শ্বেতপাথরে বাঁধানো একটা
জলাশয়, চারদিকে নকশাদার খিলান আর ব্যালকনি,
সেগুলোর পেছনে রয়েছে কিছু বন্ধ কামরা। মাথার ওপরে
আকাশ নেই, বদলে রয়েছে অতিকায় এক গুহার ছাদ।
পুরোপুরি নিরেট নয়, ফাটল আছে; আর সেই ফাটল গলে
বাইরে থেকে ঢুকছে সূর্যের আলো। সেই আলো দেখতে
পেয়ে আনন্দে ভরে গেল হৃদয়। যেন কতযুগ পর বাইরের
আলো দেখছি। লক্ষ্য করলাম, এই কোর্টইয়ার্ডটার এখানে
সেখানে জন্মেছে কয়েক ধরনের গাছ আর নানা
প্রজাতির ফার্ন। বোঝাই যাচ্ছে, জায়গাটা পরিত্যক্ত --
বহুদিন ধরে কারোর পা পড়েনি এখানে। সবখানে ধুলোর
আস্তর, বাতাস গুমোট হয়ে আছে। " এককালে এখানেই
থাকতাম আমরা", বলল বেহেরিট। " কে বানিয়েছে এই
জায়গা?" জিজ্ঞেস করলাম আমি। " স্কলোম্যান্সের
সদস্যরা", উত্তরে বলল বেহেরিট, " জানো না, শয়তানকে
জ্যামিতির জনক বলা হয়? ঈশ্বর নন, শয়তানই এই জ্ঞান
বিলিয়েছেন মানুষের মাঝে। ঈশ্বরের মন বড্ড ছোট,
চাননি মানুষের জ্ঞানের বিকাশ হোক" - শেষের কথাটা
বলার সময় এক ধরনের অবজ্ঞা প্রকাশ পেল বেহেরিটের
কন্ঠে। লোকটাকে ভয় পাচ্ছি, কিন্তু ভয়ের চেয়েও বেশী
হচ্ছে অদ্ভুত এক কৌতূহল। যাই হোক, কোর্টইয়ার্ডে
কিছুটা সময় কাটাবার পর বড় একটা কামরায় আমায় নিয়ে
এসেছে সে। ওখানে বসেই লিখছি আমার জার্নাল।
আমায় বিশ্রাম নিতে বলে চলে গেছে বেহেরিট।
কোথায় কে জানে। ঘুমোনোর সাহস পাচ্ছি না। কেবলই
মনে হচ্ছে, ঘুমোলেই বিচ্ছিরি কিছু একটা ঘটে যাবে।
কিন্তু শরীরও যে আর বইছে না।
কয়েক ঘন্টা পরে।। নিরুপদ্রবে ঘুমিয়েছি আমি। এর মাঝে
বোধহয় ফিরে এসেছিল বেহেরিট, শয্যার পাশে খাবার
আর ব্রান্ডি দেখে বুঝেছি ; কিন্তু ওর আগমনে ঘুম
ভাঙেনি আমার। খাবারগুলো আমারই ন্যাপস্যাক থেকে
বের করে আনা- এ দিয়ে আগামী কয়েকদিন কষ্টেসৃষ্টে
চালিয়ে নেয়া যাবে; অবশ্য যদি আমাকে ততদিন বাঁচতে
দেওয়া হয় আর কি। শুধু একটাই চাওয়া আমার - মরবার
আগে যেন মনের সমস্ত জিজ্ঞাসার জবাব পাই। ঘুম যখনি
ভেঙেছিল তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু এখন ধীরেধীরে
ধূসর একটা আলো ঢুকছে দরজা দিয়ে। তারমানে আরেকটা
রাত পেরিয়েছে। কোর্টইয়ার্ডের চারপাশটা ঘুরে
দেখেছি আমি, তবে এখান থেকে বেরোবার কোনও
রাস্তা পাইনি। এখানে এই একটাই কোর্টইয়ার্ড নয়, আরও
বেশ কয়েকটা আছে। সবগুলোতেই রয়েছে শ্বেতপাথরে
বাঁধানো জলাশয়। পার্থক্য বলতে - জলাশয়গুলোর পাশে
শোভা পাচ্ছে পাথর কুঁদে বানানো অসংখ্য নারী পুরুষের
মূর্তি। ঘোরাফেরা করতে করতে পথ হারিয়ে
ফেলেছিলাম, আমার কামরায় ফিরতে বেশ কষ্টই হয়েছে।
একটা ব্যাপার আমার কাছে পরিষ্কার, আমি এখানে
বন্দি। তবে চেম্বারের সেই বদ্ধ পরিবেশের বদলে
মোটামুটি গ্রহণযোগ্য একটা জায়গায় ঠাঁই পেয়েছি -
এটুকুই স্বান্তনা। এখানে শোবার জায়গা আছে, বাথরুমের
ব্যবস্থা আছে, ইচ্ছেমত হাঁটাচলাও করতে পারছি। আমার
বিশ্বাস, ভালমতো খোঁজাখুঁজি করলে মুক্তির একটা পথও
পেয়ে যাব নির্ঘাত।
সমস্যা একটাই - এখনো খুব দুর্বল আমি। একটু হাঁটাচলা
করলেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। যেন আমার শরীর
আর্ধেক রক্ত শুষে নেয়া হয়েছে ; তবু মৃত্যু নিয়ে এখনো
মাথা ঘামাচ্ছি না। তাছাড়া মরবার আগে এমন একটা
আবিষ্কার করতে পেরেছি, এটাই তো আমার সাত জনমের
ভাগ্য। দুঃখ শুধু একটাই - এই আবিষ্কারের খবর আমি
দুনিয়াকে জানিয়ে যেতে পারছি না। আরও কয়েক ঘন্টা
পরে।।
আজ আরও এক চমকপ্রদ জায়গা খুঁজে পেয়েছি। একটা
লাইব্রেরী। এমন লাইব্রেরীর জন্য একজন গবেষক তার
আত্মা পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারে। কি রকম উত্তেজনা
অনুভব করছি, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ। শরীর এত কাঁপছে যে
কলম ধরে রাখাই দায়। মিকোলাসের জন্য খারাপ লাগছে,
এমন একটা আবিষ্কারে যদি ও-ও অংশীদার হতে পারত।
অনেকটা সময় কাটিয়েছি আমি ওই লাইব্রেরীতে, এখন
এত ক্লান্ত লাগছে যে কোথাও আর যাবার শক্তি নেই,
ইচ্ছেও নেই। এখনও পর্যন্ত তিনটে রুম পেয়েছি,
প্রতিটিতে রয়েছে একটা করে ভল্ট- সাধারণ
ডিজাইন....বিশ ফুট উঁচু একেকটা গ্যালারি গড়ে উঠেছে
মোটা মোটা থাম আর পুরু দেয়ালের সাহায্যে। মেঝে
থেকে ছাদ পর্যন্ত সবকটা দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে শেলফ,
তাতে নানা ধরনের বই, পাণ্ডুলিপি আর দলিল দস্তাবেজ।
বিভিন্ন ভাষায় লেখা বইপত্রের সমাহার এখানে।
ল্যাটিন, গ্রিক আর হিব্রু ভাষার লেখা চিনতে পারছি;
তবে আরও কিছু বর্ণমালা দেখেছি, যেগুলো একেবারেই
অচেনা। বোধহয় বিলুপ্ত কোনো প্রাচীন ভাষা ওগুলো।
বইপত্রগুলো অতি প্রাচীন হলেও বিস্ময়কর ভাবে
সংরক্ষিত। এমন সব বইও দেখছি, যেগুলো বহুকাল আগে
ধ্বংস হয়ে গেছে বলেই জানে সবাই। প্রাচীনকালের
ইতিহাস, দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্র..... এমনকি বাইবেলের
হারানো ও বিতর্কিত অংশগুলো পর্যন্ত সযত্নে রাখা
হয়েছে এখানে! আরও হয়ত কত কি পাওয়া যাবে এখানে!
অতুল জ্ঞানের যেন ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে এখানে,
গুপ্তধন বললেও অত্যুক্তি হবে না। রাতের বেলা।।
লাইব্রেরীর একটা চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,
হঠাৎ জেগে উঠলাম চোখে আলো এসে পড়ায়। তাকিয়ে
দেখলাম, হাতে একটা প্রদীপ নিয়ে আমার সামনে এসে
দাঁড়িয়েছে বেহেরিট। তরুণ থেকে আবার বুড়োটে হয়ে
গেছে তার চেহারা,চামড়ায় দেখা যাচ্ছে হাজারো
ভাঁজ। ঠোঁটের কোণে ঝুলছে একটা হিংস্র, ক্ষুধার্ত
হাসি।
" তোমাকে অনেকক্ষণ থেকে খুঁজছি আমি, বন্ধু", বলল সে, "
অবশ্য....আগেই অনুমান করা উচিত ছিল আমার, তোমার
মতো একজন গবেষক, বিদ্যোৎসাহী এই লাইব্রেরীতে
আস্তানা গাড়বে। যাক সেকথা, এখন কি করতে যাচ্ছি,
বুঝতে পারছ নিশ্চয়ই। অতএব নোড়ো না। এখন খাবার চাই
আমার, খাবার - পানীয় দুটোই"।
বলতে বলতে আমার গায়ের ওপর ঝুঁকে এল সে। ভয়ে
আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার দশা হলো আমার, কিন্তু
নড়তে পারলাম না। আমার নাকে মুখে এসে লাগছে ওর
গরম নিশ্বাস। দেখতে পেলাম ওর মুখের ভেতরে সাদা
ঝকঝকে তীক্ষ্ণ দু'সারি দাঁত। শিউরে উঠলাম। নেকড়ের
মতো জ্বলছে ওর চোখদুটো। অশুভ, লোভী দৃষ্টি সে
চোখদুটোয়। আস্তে আস্তে বিস্ফারিত হলো ওর
চোখজোড়া। তাতে বন্য চাহনি। আপ্রাণ চেষ্টা করলাম
ওদিকে তাকাব না। আপ্রাণ চেষ্টা করলাম ওদিকে
তাকাব না। কিন্তু নিজের ওপর থেকে যেন নিয়ন্ত্রণ
হারিয়ে ফেলেছি আমি। চোখ সরাতে পারলাম না
কিছুতেই। আমার গলার ওপর ঝুঁকল সে। গরম নিশ্বাসে
আমার গলার চামড়া যেন পুড়ে গেল। ভাবলাম, অজ্ঞান
হলে বেঁচে যাই তাহলে আর এসব দৃশ্য দেখতে হবে না।
কিন্তু আমার প্রার্থনা পূর্ণ হলো না। ওর ভারী, খসখসে,
শুকনো ঠোঁট এসে পড়ল আমার চামড়ায়.....তার পরপরই
তীক্ষ্ণ, তীব্র দংশন! অতি সূক্ষ্ম, সূঁচ ফোটানোর
মতো.....বুঝলাম, ঘাড়ের কাছের রক্তনালী ফুটো হয়ে
গেছে। সেখানে মুখ ঠেকিয়ে বুভুক্ষু হিংস্র জন্তুর মতো
রক্ত চুষতে লাগল বেহেরিট। কতক্ষণ এভাবে রক্ত চুষল
জানি না, কারণ একসময় আমি চেতনা হারিয়ে ফেললাম।
জ্ঞান যখন ফিরল.....আনুমানিক এক ঘন্টা পরে.....তখনও
বেহেরিট দাঁড়িয়ে আছে সামনে। তবে এবার অভূতপূর্ব
পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম তার মধ্যে। আগের চেয়েও আরোও
তরতাজা যুবক হয়ে গেছে সে। একেবারে তারুণ্যে,
প্রাণপ্রাচুর্যে যেন ঝলমল করছে তার চেহারা।
আমায় জেগে উঠতে দেখে নীল রঙের একটা পানীয় ভরা
গ্লাস এগিয়ে দিল আমার দিকে। জিনিসটা কি জানি
না, তবু তৃষ্ণার্তের মতো ওটাই পান করলাম। তারপর
আমারই ন্যাপস্যাক থেকে বের করে আনা কিছু খাবার
দিল আমায়, খেতে। একইসঙ্গে ফের চলতে লাগল
আলাপচারিতা। না, আলাপ নয়....জেরা বললেই মানানসই
হবে।
বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে
করতে হঠাৎ বেহেরিট জিজ্ঞেস করল, " কাউন্ট ড্রাকুলা
সম্পর্কে কি ভাবো তুমি?"
চমকে উঠলাম এই প্রশ্নে। জবাব খুঁজে না পেয়ে বোকার
মতো বললাম, " কিছুই না"।
অসন্তোষ ফুটল তার চেহারায়। " মিথ্যে বোলো না!" গমগম
করে উঠল তার গলা। আমার জার্নালটা হাতে নিয়ে বলল,
" এই খাতার পুরোটাই পড়েছি আমি। কাউন্ট ড্রাকুলা-র
কথা আছে এতে। কিছু জানো না বলে পার পাবে না"।
কি আর করা, বন্ধু ভ্যান হেলসিং, তোমার মুখে শোনা
পুরো কাহিনীটা বলতে বাধ্য হলাম আমি। চুপচাপ সব শুনল
সে। কিন্তু কাহিনীর শেষে....ড্রাকুলাকে ধ্বংস করার
ঘটনা শোনামাত্র উত্তেজিত হয়ে উঠল বেহেরিট। প্রায়
চেঁচিয়ে উঠে বলল, ' কি বলছ এসব? ড্রাকুলা মরতে পারে
না, কিছুতেই না"।
আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে উঠে দাঁড়াল
বেহেরিট। পায়চারি করল কিছুক্ষণ, প্রতি পদক্ষেপে তার
চেহারায় ক্রোধ ফুটতে দেখলাম। শেষে পায়চারী
থামিয়ে আমার কাছে এসে আমার গলা চেপে ধরে বলল, "
মিথ্যা বলছ তুমি"।
খাবি খেতে খেতে বললাম, " একবর্ণ মিথ্যে নয়। আমার
বন্ধু আমায় যা যা বলেছে, তাই-ই বলেছি আপনাকে।
ড্রাকুলার সঙ্গে লড়াই করেছে ওরা, তাকে হত্যা করেছে
ড্রাকুলার ক্যাসলের পাদদেশে"।
দপ করে দু'চোখ জ্বলে উঠল বেহেরিটের।টের পেলাম,
গলার ওপর তার হাতের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। মনে
হলো, এবার মরতে চলেছি। শরীর শক্ত করে ফেললাম তাই।
কিন্তু আচমকা যেন রাগ পানি হয়ে গেল তার। আমার গলা
ছেড়ে দিয়ে নরম গলায় বলল, " না, তোমার কোনও দোষ
নেই। যা সত্যি ভাবছ, তাই-ই বলছ আমাকে। কিন্তু জেনে
রাখো, ড্রাকুলার মরণ নেই। জীবদ্দশায় সে
স্কলোম্যান্সের সেরা ছাত্র ছিল.....শয়তানী বিদ্যা,
কালো জাদু'র ওপর গভীরভাবে আয়ত্ব করে সে সত্যিকার
অমরত্ব অর্জন করেছিল। হয়তো ওর দেহটাকে ধ্বংস
করেছে তোমার বন্ধুরা...কিন্তু তাই বলে মৃত্যু? না, মৃত্যু
হয়নি ওর। আত্মা হিসেবে হলেও বেঁচে আছে ও"।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। তবু কৌতূহল বশত
জিজ্ঞেস করলাম, " আপনি তাহলে ড্রাকুলাকে চেনেন?
এখানেই পরিচয় হয়েছিল?"
" তবে আর কোথায়? "
" তা হলে প্লিজ সেই কাহিনী আমাকে শোনান"।
" যথাসময় জানবে", মুচকি হেসে বলল বেহেরিট, " এখন
এসো, তোমায় অনেক কিছু দেখানো বাকি"।
দাঁড়াবার শক্তি ছিল না শরীরে। আমায় উঠতে সাহায্য
করল সে। নিজের গায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করালো। বুঝলাম,
ইচ্ছে না থাকলেও যেতে হবে। আমাকে একটা
বুকশেলফের কাছে নিয়ে গেল বেহেরিট, অল্প ধাক্কা
দিতেই শেলফটা সরে গেল দরজার পাল্লার মতো।
ওপাশে দেখা গেল নিচু এক করিডোর, কোনোমতে একজন
মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে। হাতে প্রদীপ নিয়ে
সেটায় ঢুকে পড়ল বেহেরিট। দেয়াল ধরে ধরে আমিও তার
পিছু নিলাম।
করিডোরটা আমাদেরকে, যেন পর্বতের গভীরে নিয়ে
চলল। সমান্তরাল নয়, কখনো ঢালু হয়ে, আবার কখনো
ওপরদিকে উঠে গেছে। দেয়াল আর ছাদের মোজাইকে
নানা ধরনের দৃশ্য দেখতে পেলাম - দানব, পিশাচ, রাক্ষস,
ইত্যাদি..... গাঢ় রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের
হিংস্র কর্মকাণ্ড..... দেখলেই বিবমিষার সৃষ্টি হয়। যত
এগোতে লাগলাম, ততই বাড়তে লাগল দৃশ্যগুলোর
হিংস্রতা। বুকের মধ্যে শুরু হয়ে গেল রীতিমতো
ধুকপুকানি।
মূল করিডোর থেকে বেরিয়ে যাওয়া শাখাপ্রশাখার
দেখা পেলাম এক পর্যায়ে। সেগুলো ছোট বড় নানা
আকারের গুহায় গিয়ে মিশেছে। গুহাগুলোর পাশ দিয়ে
যাবার সময় দেখতে পেয়েছি আরও ভয়ানক সব দৃশ্য। বড় বড়
কাঁচের পাত্রে শোভা পাচ্ছে মানুষের কাটা বিভিন্ন
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ!
চরম আতঙ্ক নিয়ে এগোলাম আমি। কি অপেক্ষা করছে
পথের শেষে, সেই আশঙ্কায় আমার পাগল হবার দশা।
ক্রমশ....
অশুভ আত্মা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now