বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ১৩ঃ ( মীনার ডায়েরী) জোনাথনকে ডাকতে গিয়েও ডাকলাম না, সাবধানে নেমে পড়লাম বিছানা থেকে। ড্রেসিংরুমে গিয়ে দরজা আটকালাম, তারপর জ্বাললাম একটা মোমবাতি। কামরা আলোকিত হয়ে উঠলে চারপাশে আর ওপর নীচে ভাল করে তাকালাম। কোথাও কিছু নেই, অথচ তখনো কানে আসছে ডানা ঝাপটানোর শব্দ। আয়নার সামনে ধপ করে বসে পড়লাম, মাথা চেপে ধরলাম দু'হাতে। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম অব্যক্ত এক বেদনার ছাপ ফুটে উঠেছে চেহারায়। হঠাৎ ঘুরে উঠল মাথা। মনে হলো অন্তহীন কোনও কুয়োয় পড়ে যাচ্ছি আমি। অদ্ভুত এক অনুভূতি। আর সেই অবস্থায়....আচমকা.... টের পেলাম, কেউ যেন আমার ভেতর ঢোকার চেষ্টা করছে। জানি, কথাটা প্রলাপের মতো শোনাচ্ছে.....কিন্তু আর কোনওভাবে সে অনুভূতি বর্ণনা দিতে পারব না আমি। প্রায় অচেতন দশা তখন আমার। মোমের আলোয় অতিপ্রাকৃত মনে হচ্ছে সবকিছু। চারপাশের সমস্ত দুনিয়া যেন ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কানে আসছে খুব কাছে দাঁড়িয়ে কে যেন ফিসফাস করে কিছু বলছে আমায়। সেই কন্ঠ শুনে আতঙ্কে হিম হয়ে গেল হাত - পা। তারপরেও অদ্ভুত এক আবেশ ভর করল দেহে। টের পেলাম, মাতালের মতো হাসতে শুরু করেছি। ড্রেসিংরুম'টা যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে চারপাশ থেকে, সেখানে এখন শুধু কৃষ্ণ শূন্যতা। আঁধারের মাঝে জ্বলজ্বল করছে স্রেফ দুটো লাল তারা। খানিক পরে উপলব্ধি করলাম, যে জিনিসটা এতক্ষণ ধরে আমার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল, সেটা ঢুকে পড়েছে। তার প্রভাবে অন্য এক মানুষ হয়ে উঠলাম। মনে হলো আমি এক চিরন্তন অশুভ শক্তি, ঈশ্বর যার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। প্রাণপণ চেষ্টা করলাম অশুভ সেই প্রভাব থেকে মুক্ত হতে, কিন্তু বিফলে গেল আমার সমস্ত প্রচেষ্টা। শেষে চোখ মুদে প্রার্থনা শুরু করলাম, সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁকি খেতে লাগল দেহ। আঁধার সরে গিয়ে উজ্জ্বল সোনালি আলো যেন স্নান করিয়ে দিল আমায়, মানসচোখে ভেসে উঠল পবিত্র ক্রুশ। শেষবারের মতো একটা ঝাঁকুনি দিয়ে আমার দেহ থেকে বেরিয়ে গেল সেই অশুভ আত্মা। বুকের ওপর থেকে যেন নেমে গেল একটা জগদ্দল পাথর। প্রশান্তিতে ছেয়ে গেল মন। একটু পরে চোখ খুললাম। ড্রেসিংরুমে আগের মতো বসে আছি আমি। সবকিছু স্বাভাবিক। বিরাজ করছে রাতের নীরবতা, কোথাও কোনও আওয়াজ নেই। পা কাঁপছিল, কোনোমতে উঠে দাঁড়ালাম। রান্নাঘরে গিয়ে সামান্য ব্রান্ডি ঢাললাম গলায়। শান্ত করলাম স্নায়ুকে। তারপর ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তার পর বুঝতে পারলাম, এতক্ষণ যা ঘটেছে, সবই দুঃস্বপ্ন... আর কিছুই নয়। কেন এমন একটা বিচ্ছিরি স্বপ্ন দেখলাম, কে জানে! হতে পারে অজানা কোনও কারণে অবচেতন মন অশান্ত হয়ে আছে, দুঃস্বপ্নটা তারই ফলশ্রুতি। জেগে থাকা অবস্থায় কি করে এরকম একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম, এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে....কিন্তু জেগে ছিলাম, তাই-ই বা বলি কি করে? আসলে হয়তো ঘুমের ঘোরে হাঁটছিলাম, চলে গিয়েছিলাম ড্রেসিংরুমে। চিন্তাটা মাথায় আসতেই দুর্ভাবনায় পড়লাম। অসুখ টসুখ দেখা দিচ্ছে না তো? মারা যাবার কিছুদিন আগে লুসি'ও এরকম ঘুমের ঘোরে হাঁটত। আমারও কি...... না, না.....এসব কি ভাবছি? সামান্য একটা দুঃস্বপ্ন নিয়ে এতটা উতলা হবার কোনও মানে হয় না। তাছাড়া, এ ধরনের স্বপ্নকে মোকাবিলা করার শক্তি আমার আছে। ইলিনা কোভাক্সের ডায়েরী ২৫ সেপ্টেম্বর।। বড় সুখের জীবন কাটাচ্ছি আমি হারকারদের বাড়িতে এসে। মাঝেমাঝে ভয় হয়, যে-রকম আতিথেয়তা দেখাচ্ছে ওরা, আমি হয়তো তার যোগ্য নই। বিশাল একটা রুম দেয়া হয়েছে আমায় থাকার জন্য....এক্কেবারে আমার....কখনো কেউ বিরক্ত করবে না। অনুমতি ছাড়া কেউ আমার ঘরের ভেতর ঢোকে না পর্যন্ত! আমার ব্যক্তিগত সব জিনিসপত্র নিশ্চিন্ত মনে এদিকওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতে পারে, কারোর হাত দেবার ভয় নেই। ভয় নেই আমার ডায়েরী কেউ খুলে পড়বে। এমন প্রাইভেসি আমি নিজের বাড়িতেও পাইনি কোনোদিন। হারকারদের ছেলেটা'কেও বেশ ভাল লাগে আমার। ওকে দেখলেই কিরকম যেন টান অনুভব করি। মনে হয়, জীবনের পূর্ণতা আমি অর্জন করে ফেলেছি। বিয়ে না করেও আমি যেন একটা ছেলে পেয়ে গিয়েছি। ইশশশ! ও যদি সত্যিই আমার ছেলে হতো! কি শান্ত! দুষ্টুমি করে না! অবশ্য দুষ্টুমি করার মতো শরীর স্বাস্থ্য'ও নেই ওর। ওর সঙ্গে আমি ঘরের মধ্যেই খেলি...রাতের বেলা ওর মাথার কাছে বসে ওকে শোনাই ঘুমপাড়ানি সব গল্প! ইশশ! ওর শরীরটা যদি একটু নাদুসনুদুস হতো! হারকারদের সঙ্গে এতটা মাখামাখি করা বোধহয় উচিত হচ্ছে না আমার। আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই অজানা সঙ্গীটির প্রবল শত্রু এরাই। এদের সঙ্গে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখলেই বোধহয় ভাল করতাম! কিন্তু ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও সেটা সম্ভব হচ্ছে না....এত ভালো এদের ব্যবহার! আর.... ওদিকে আমার ভেতরে, ট্রানসিলভ্যানিয়ার সেই পুরনো ক্যাসল থেকে বাস করা সেই অদৃশ্য সঙ্গীটি আমায় প্রতিনিয়ত তাড়া দিয়ে চলেছে - তার জন্য একটা নির্জন আশ্রয় খুঁজে দিতে। তেমন একটা জায়গা আমার চোখেও পড়েছে....গাঁয়ের ছোট গীর্জার পাশের গোরস্থান। জায়গাটার ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহ দেখাবার সাহস পাইনি সেদিন, পাছে মাদাম হারকার কিছু সন্দেহ প্রকাশ করে বসেন; গোমরটা ফাঁস হয়ে গেলে আমার অদৃশ্য সঙ্গীটি'ও বিপদে পড়বে...সেটা হতে দেওয়া যাবে না কিছুতেই। ওকে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। পরদিন রাতে, সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর, গোরস্থানে গিয়েছিলাম আমি একাকী। বুক ঢিবঢিব করছিল অজানা উত্তেজনায়, পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি থেকে। কাঁধে ঝুলছিল ছাইমাটি ভরা সেই বোঁচকাটা। অন্ধকার পথে অনেকক্ষণ ঘুরপাক খাওয়ার পর দেখতে পেয়েছিলাম গীর্জার অবয়ব, এরপর গোরস্থানের প্রবেশপথ খুঁজে পেতে দেরী হয়নি। সারি সারি কবরের মাঝ দিয়ে হেঁটেছি আমি, শেষে দেখতে পেয়েছি তিনটে সমাধি। সবকটাই অবহেলিত.... গায়ে বাসা বেঁধেছে আগাছা আর শ্যাওলার আস্তর। কিভাবে যেন বুঝতে পারলাম, এরই একটাতে স্থানান্তর করতে হবে আমার সঙ্গীকে। তিনটের মধ্যে যেটা সবচেয়ে বড়, পা বাড়ালাম সেদিকে; কিন্তু আমার অন্তর থেকে সঙ্গীটি ফিসফিস করে বলল, বড় নয়, ছোটটায় যেতে হবে আমায়। সমাধিটা একেবারেই সাধারণ। সাদা মার্বেলে তৈরি, কালচে দাগ পড়েছে পাথরের গায়ে। বড় বড় গাছের ছায়ায় প্রায় ঢাকা পড়ে আছে... এক অর্থে দৃষ্টিসীমার আড়ালেই বলা চলে; সহজে মনোযোগ আকর্ষণ করে না। আগাছার জঙ্গল ভেদ করে ওটার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। সিঁড়ির আটটা ধাপ ভেঙে পৌঁছলাম জং ধরা দরজার সামনে। ধাক্কা দিতেই খুলে গেল দরজা - কবজার সঙ্গে আটকানো তালা বহু আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। ভেতরে পা দিতেই নাকে ভেসে এল ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। বলা বাহুল্য, এ ধরনের গন্ধ পছন্দ হবার কথা নয়....কিন্তু কেন জানি না, ওটা খুব ভাল লাগল আমার। মনে হলো, আমার সঙ্গীর বাসস্থানে এমন গন্ধই থাকা দরকার। সঙ্গে একটা মোমবাতি নিয়েছিলাম, সেটা জ্বেলে সমাধির ভেতরটা দেখলাম। ছোট বড় কয়েকটা কবর দেখা যাচ্ছে, সবগুলো পাকা করা, উপরে কংক্রিটের ডালা। মেঝেতে মরা পচা পাতার কার্পেট, বাতাসে উড়ে এসে বছরের পর বছর ধরে জমা হয়েছে, কখনো পরিষ্কার করেনি কেউ। দেয়ালের কোনায় কোনায় ঝুলছে মাকড়শারজাল আর ঝুল। একেবারেই পরিত্যক্ত আর অবহেলিত ওই সমাধিটা। এখানে আমার সঙ্গীকে ঠাঁই দিতে ইচ্ছে হলো না। দামি পাথরে মোড়া, কারুকাজ করা একটা সমাধি ওর প্রাপ্য.....কিন্তু হায়, তা তো সম্ভব নয়! কানের কাছে ফিসফিস শুনলাম, আপাতত এটাই ঢের। আমার সঙ্গীর ইশারা পেয়ে মাঝখানের কবরটার দিকে এগিয়ে গেলাম, ঠেলতে শুরু করলাম ওটার কংক্রিটের ডালা। জিনিসটা ভীষণ ভারী, হাঁপিয়ে উঠলাম খুব শীঘ্রি, অনেক চেষ্টার পর মাত্র কয়েক ইঞ্চি ফাঁক করতে পারলাম। ওখান দিয়েই ঢুকিয়ে দিলাম হাত। ভেতরের লাশটা এখন স্রেফ কঙ্কাল, জোড়া থেকে হাড়গুলো আলাদা করে ফেলতে খুব একটা কষ্ট হলো না। ফাঁক দিয়ে একে একে সব হাড় বের করে আনলাম, স্তুপ করে রাখলাম দেয়ালের পাশে। তারপর বোঁচকা থেকে ছাইমাটি ঢাললাম কবরের ভেতরে। হাত দিয়ে চেপে চেপে যতদূর সম্ভব সমান করে দিলাম। সবশেষে ডালাটা আবার আগের জায়গায় নিয়ে এলাম। কাজ শেষ হলে বসে পড়লাম মাটিতে....বিশ্রাম নেবার জন্য। খুশি হয়েছে আমার সঙ্গী, তার পুরস্কার হিসেবে একটা দৃশ্য দেখাল আমায়। একটা বেডরুম ভেসে উঠল চোখের সামনে, সেইসঙ্গে সাদা চাদরে মোড়া একটা বিছানা....চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে ঘর। জোনাথন হারকার ঘুমোচ্ছেন সেই বিছানায়, আর মাদাম মীনা হারকার....বসে আছেন হাঁটু গেড়ে, জড়িয়ে ধরে আছেন বিছানার পাশে দাঁড়ানো একটা দীর্ঘদেহী মূর্তিকে। সেই দীর্ঘদেহী মূর্তিই বর্তমানে আমার গোপন সঙ্গী! কালো পোশাক পরে আছে সে, মুখ ঢাকা পড়ে আছে ছায়ায়। মূর্তিটা মাদাম হারকারের র ঘাড়ের ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। মাদাম হারকার সম্ভবত ঘোরের মধ্যে আছেন। মূর্তিটা তার একটা হাত দিয়ে মাদাম হারকারের ঘাড়ের ওপর থেকে চুল সরিয়ে দিল, তারপর ঘাড়ের ওই উন্মুক্ত চামড়ায় নিজের মুখ ঠেসে ধরল। এতদূর দেখা মাত্রই অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেল আমার শরীরে। মনে হলো, মাদাম হারকার নয়, যেন আমার ঘাড়েই মুখ ঠেসে ধরেছে আমার সঙ্গী। বেশ অনেকটা সময় মাদাম হারকারের ওপর ঝুঁকে রইল আমার সঙ্গীটি। তারপর যখন সোজা হলো, দেখলাম তার মুখ লাল রক্তে রঞ্জিত। মাদাম হারকারের পরনের সাদা নাইটগাউনও লাল হয়ে গেছে, ঘাড় থেকে নেমে আসা রক্তধারায়। এবার মুখ খুলল আমার সঙ্গী। মাদাম হারকারের উদ্দেশ্যে বলল, " আমার বিরুদ্ধাচরণ করেছ তুমি, অন্যদের সাহায্য করেছ আমায় নিধন করতে। এর পরিণাম আবার টের পাবে তুমি....টের পাবে তোমরা সবাই। বড্ড ভুল করেছ তোমরা - লাগতে গেছো এমন একজনের সঙ্গে, যে শত শত বছর ধরে রাজত্ব করছে দুনিয়ায়, যার মৃত্যু নেই, যার শক্তির কোনও সীমা নেই। সাময়িক জয় পেয়েছিলে তোমরা, কিন্তু এবার তার মূল্য চোকাতে হবে কড়ায় গন্ডায়! শুরুটা তোমায় দিয়েই হচ্ছে - তোমাকে আমার দাসী বানানোর মধ্যে দিয়ে এর আরম্ভ হচ্ছে। তুমিই হতে চলেছ আমার সাহায্যকারিনী, আমার সহচরী। আমি তোমার রক্তপান করলাম....এখন তুমি পান করবে আমার শরীরের যুগসঞ্চিত ঠাণ্ডা রক্ত। ব্যস, তাহলেই আমার প্রভাব গিয়ে পড়বে তোমার ওপর। এখন থেকে আমার কথাতেই উঠবে বসবে তুমি। দেশ - কালের বাধা পেরিয়ে আমার আদেশ পালন করতে হবে তোমায়।" কথা শেষ করে নিজের পরনের আলখাল্লাটা দু-ফাঁক করল আমার সঙ্গী। লম্বা নখ দিয়ে নিজের বুক চিরে একটা শিরা ছিঁড়ে ফেলল। গলগল করে বেরোতে লাগল তাজা রক্ত। মাদাম হারকারের মাথাটা ধরে এগিয়ে নিয়ে এসে ঠেসে ধরল নিজের বুকের ক্ষতস্থানটায়। বাধ্য করল রক্ত খেতে। বাধা দেবার কোনও চেষ্টাই করলেন না মাদাম হারকার, বা পারলেন না। রক্তের ধারা ঢুকতে লাগল তাঁর মুখে....গলায়।" হঠাৎ দড়াম করে খুলে গেল ঘরের দরজা। দু'জন পুরুষ ঢুকে পড়ল ঘরে। তাদের দু'জনের হাতেই ক্রুশ। মাদাম হারকারকে ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেল আমার সঙ্গী। ক্রুশ'টার দিকে চেয়ে অস্ফুট আর্তনাদ করে লাটিমের মতো ঘুরল, পরক্ষণে কুয়াশায় পরিণত হলো তার দেহ। মিলিয়ে গেল বাতাসে। ......দৃশ্যটার সমাপ্তি ঘটল ওখানে। একটু পরে উঠে দাঁড়ালাম আমি, জামা থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে বেরিয়ে এলাম সমাধি থেকে। বাড়ির পথ ধরলাম। জানি না স্বপ্নের মতো এই দৃশ্যের অর্থ কি। শুধু এটুকু জানি, দৃশ্যটা আমার ভেতর জাগিয়ে তুলেছে দুঃখ, বেদনা, ঈর্ষা আর কামনা। এতকিছু করছি আমার সঙ্গীর জন্য, আর ও কিনা...... কি অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতে, কে জানে। মীনা হারকারের ডায়েরী ৩০ সেপ্টেম্বর।। আবার অসুখে পড়েছে কুইন্সি। নিউমোনিয়া। গত কয়েকদিন ধরে খুব ব্যস্ত ছিলাম ওকে নিয়ে, ডায়েরী লেখারও সময় পাইনি। এখনও বিপদ অবশ্য পুরোপুরি কাটেনি। ইলিনা পাশে না থাকলে কি যে হতো, বলা মুশকিল। ১ লা অক্টোবর।। কুইন্সির অবস্থা আজ একটু ভাল। খাওয়া দাওয়া শুরু করেছে। বিছানায় বসে খেলনা নিয়ে খেলতেও পারছে। আশা করি শীঘ্রি সুস্থ হয়ে উঠবে। আরেকটা ব্যাপার লিখে রাখা দরকার বলে মনে করছি। এখনো পর্যন্ত প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি। অভিযান সেরে আজ অবধি ফিরে আসেন নি। যত দিন যাচ্ছে, ততই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছি আমি আর জোনাথন। বিপদআপদ হলো কিনা কে জানে। ভদ্রলোককে খুব পছন্দ করি আমরা; তাঁর কিছু হয়ে গেলে প্রচণ্ড আঘাত পাবে ইলিনা আর জোনাথন। প্রার্থনা করি যাতে সুস্থ থাকেন তিনি। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-১৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now