বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-০৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ০৬ ৯ আগস্ট বিশাল ওই নেকড়ে ছাড়া আর কিছুই এখন আমি ভাবতে পারছি না আজকাল। এমনকি যখন বাবাকে ছবি আঁকার কাজে সাহায্য করি, তখনও চাতকের মতো অপেক্ষায় থাকি রাত নামার। কাজকর্মে মন নেই, ভুলভাল করছি সারাক্ষণ... বাবা গালাগাল করছে কিন্তু সেসব কানে ঢোকে না আমার। গত রাতে জঙ্গলের ভেতর আমায় নিয়ে গিয়েছিল ও, চেটেপুটে খেয়েছে আমার দেয়া সব খাবার। পরিষ্কার পানি দিয়ে ওর ঘাড়ের ক্ষতটা যদ্দূর পরিষ্কার করে দিয়েছি আমি। কিন্তু ক্ষতটা বড্ড বেশী গভীর, যেভাবে শুকিয়ে আসা দরকার, সেভাবে শুকোচ্ছে না। কি সমস্যা বুঝতে পারছি না। অথচ মরণোন্মুখ বলে মনে হয় না ওকে, ওর শরীরে সবসময় আমি অমিতশক্তি র আভাস দেখি।গত রাতে ও যখন জিভ দিয়ে আমার হাত চাটল, শিউরে উঠেছিলাম আমি। জিভটা বরফের মতো ঠাণ্ডা! বিদায় নেবার সময়েও আবার আগুনের মতো জ্বলে উঠেছিল ওর চোখদুটো। না, জ্বলে ওঠার কথাটা স্রেফ ভাষার অলঙ্কার নয়, সত্যি সত্যিই আভা ছড়াচ্ছিল ওর চোখদুটো। আতঙ্ক ভর করল সেই চোখের দিকে তাকিয়ে। মনে হলো অজ্ঞান হয়ে যাব। পরে যখন বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়লাম, ঘুমের মাঝে ভয়ঙ্কর, জান্তব সব দুঃস্বপ্ন দেখলাম আমি, যেগুলোর ল্যাজামুড়ো কিছু বুঝতে পারছিলাম না আমি। প্রতি রাতেই দুঃস্বপ্ন দেখতাম। কখনো দেখতাম, আমি একটা মাটি ভর্তি লম্বা কাঠের বাক্সে শুয়ে আছি। দেখতে অনেকটা কফিনের মতো। কফিনের ভেতর শুয়ে শুয়েই বুঝতে পারছিলাম দিনের আলো নেভেনি এখনো। কিছু করার ক্ষমতাই যেন নেই আমার। তারপরেই লাল আলো ছড়িয়ে সূর্য ডুবতে দেখলাম, আর তখুনি আনন্দে ছেয়ে গেল হৃদয়। মনে হলো এবার নড়তে পারব আমি। শুধু তাই-ই নয়, ভয়ঙ্কর কিছু ঘটিয়ে ফেলারও ক্ষমতা অর্জন করেছি আমি। হঠাৎ দেখলাম কফিনের ঢাকনাটা খুলে গেল। দুজন মানুষের মুখ দেখতে পেলাম - ফ্যাকাসে, বিবর্ণ। তাদের হাতে ছুঁচালো কি যেন শোভা পাচ্ছে, নেমে আসছে আমার হৃদপিন্ড বরাবর! চিৎকার করে উঠলাম আমি, ভীষণভাবে ঝাঁকি খেল আমার দেহ। এরপর আমি নিমজ্জিত হলাম চরম অন্ধকারে - প্রশান্তির এক অন্ধকার আর নিঃসীম শূন্যতা। কোনো ভাবনা নেই, কোনও অনুভূতি নেই.....আছে শুধু চেতনা। বুঝলাম মারা গিয়েছি আমি; কিন্তু স্বর্গ না নরক - কোনওটাতেই পৌঁছতে পারিনি আমি। ঠাঁই পেয়েছি এক নিঃসীম অন্ধকারে যেখানে কোনওকিছুর অস্তিত্ব নেই। .....স্বপ্নটা যখন ভাঙল, নিজেকে আবিষ্কার করলাম বিছানায়। শরীরের অর্ধেকটা ঝুলছে বিছানার বাইরে। বাঁকা হয়ে আছে পিঠ, শিরদাঁড়ায় কেমন তীব্র একটা ব্যথা। চাদর আর বালিশের অবস্থা দেখে বুঝলাম, ঘুমের মধ্যে রীতিমতো তড়পাচ্ছিলাম আমি...সব লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে। জামাকাপড় ঘামে ভিজে একাকার.... যেন জ্বর থেকে উঠেছি। উঠে বসে বিড়বিড় করে ঈশ্বরকে ডাকলাম। প্রার্থনা করলাম এমন ভয়াবহ স্বপ্ন যেন আর না দেখি কোনওদিন। কিন্তু প্রার্থনায় কাজ হয়নি। পরের রাতেও সেই একই রকম দুঃস্বপ্ন, কিন্তু আগের বারের চেয়ে আরেকটু বেশীক্ষণ। অস্থিরভাবে ঘুমের মধ্যে এপাশ ওপাশ করতে করতে চোখ মেলে দেখি, পূবাকাশ ফর্সা হয়েছে। মোরগ ডাকছে বাইরে। শান্তভাবে বিশ্লেষণ করলাম স্বপ্নটা। আর কিছু না হোক, এটুকু বুঝতে পারছি, স্বপ্নের মাঝে অন্য কারোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হই আমি। তার চিন্তা চেতনার সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই। কিন্তু কে সে? নাকি পুরোটাই আমার কল্পনা? বলতে পারব না। তবে আজ কেন জানি আর অত ভয় লাগছে না। ১৩ আগস্ট।। প্রতি রাতে সেই নেকড়েটার সঙ্গে যতটা সম্ভব সময় কাটাচ্ছি আমি। ওর প্রতি আকর্ষণ ই শুধু নয়, আসলে যতদূর সম্ভব না ঘুমোবার চেষ্টা করি। ঘুমোলেই তো বিচ্ছিরি ওইসব স্বপ্ন দেখব! কিন্তু দেরী করে হলেও ঠিকই ঘরে ফিরতে হয় আমায়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করি, চেষ্টা করি জোর করে নিজেকে জাগিয়ে রাখতে। এর কুফলও দেখা দিয়েছে। বাবা বলছে, আমি দিনদিন নাকি ফ্যাকাসে আর দূর্বল হয়ে যাচ্ছি। সেটার দায়ও আমার ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়ে আমায় বকাঝকা করছেন বাবা। কথাবার্তায় যা বুঝলাম, মিকোলাসের সাথে আমার বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন বাবা। মনটা খারাপ হয়ে যেত। আমি অপেক্ষা করতাম, কখন রাত নামবে। রাতের প্রতীক্ষায় অস্থির হয়ে আছি আমি। রাত নামলেই তো আসবে সে, ডাকবে আমায়। নেকড়েটার ঘাড়ের ক্ষতটা একইরকম রয়েছে। স্বাস্থ্যটাও না আগের চেয়ে ভাল হচ্ছে, না খারাপ... যেন চলতে ফিরতে থাকা একটা লাশ! না, না, এসব কি লিখছি আমি? লাশ হবে কেন আমার বন্ধু? আসলে এখানকার পরিবেশের বিশ্রী প্রভাব পড়েছে আমার মনে। ছোট্ট কামরা, আলো কম....সবমিলিয়ে হতাশায় ভরা এক পরিবেশ। এজন্যই বোধহয়...... ।। ১৫ আগস্ট।। গত রাতে একটা অদ্ভুত কান্ড ঘটল। ভয় লাগছে খুব। গত রাতে নেকড়েটা আমার দিকে তাকিয়ে চোখের ভাষায় কি যেন বলবার চেষ্টা করছিল। আগুনের মতো জ্বলছিল ওর মণিদুটো, সেই আভা সহ্য করাও মুশকিল। নিজের অজান্তেই ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে খেপে গেল ও। দাঁতমুখ খিঁচিয়ে চাপা হুঙ্কার ছাড়ল ও। অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে এল আমার মুখ দিয়ে। এক লাফে উঠে দাঁড়ালাম, উলটো ঘুরে ছুটতে শুরু করলাম নিজের ঘরের দিকে। পাগলের মতো। পেছন পেছন ধাওয়া করে এল ও-ও। চাইলে ও আমায় অনায়াসে ধরে ফেলতে পারত....কেন ধরল না, জানি না। তবে রুমে ঢুকে জানলা বন্ধ করতেই পাল্লার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ওটা, আঁচর কাটল জানলার কাঁচে। পুরো জানলাটাই যেন কেঁপে উঠল ওর ধাক্কায়। সভয়ে পিছিয়ে গেলাম আমি। মনে হলো জানলা ভেঙে এইবুঝি ও ঢুকে পড়ে কামরায়। তবে তেমন কিছু ঘটল না। জানলার বাইরে থেকে বেশ কিছুক্ষণ অগ্নিদৃষ্টি হানার পর জানলার চৌকাঠ থেকে পা নামিয়ে ফেলল ও। উলটো ঘুরে হারিয়ে গেল অন্ধকারে। জানি না ওর হঠাৎ কেন মতিভ্রম হলো? বিছানায় এসে শুলাম, কিন্তু ভোর পর্যন্ত ঘুম এল না। শেষ পর্যন্ত যখন চোখ মুদলাম, দেখলাম এক নতুন ধরনের দুঃস্বপ্ন। আগের চেয়েও খারাপ। উঁচু এক পাহাড় দেখলাম আমি, ঢালটা ঘন অরন্যে ছাওয়া। পাহাড়ের মাথায় সগর্বে মাথা তুলে আছে এক পুরনো দূর্গ। স্বপ্নের মাঝে মনে হলো, আমায় অনন্ত ঘুম থেকে যেন কেউ জাগিয়ে তুলল। সে কে, আমি জানি না। তারপরও আশায় বুক বেঁধে পর্বতচূড়াগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে চললাম সেই দূর্গের দিকে। হঠাৎ দেখলাম একটা বিশাল নেকড়ে, গুলি খেয়ে আহত অবস্থায় পড়ে আছে একটা বুড়ো ওক গাছের তলায়। অপেক্ষা করছে শেষ নিশ্বাস ফেলার। আশাবাদী হয়ে উঠলাম। একটা আধার পাওয়া গেল আমার নিরাকার আত্মার জন্য। ওই নেকড়ের দেহ আশ্রয় করেই এই পৃথিবীর বুকে আবার পা রাখতে পারব আমি। নেকড়ের প্রাণবায়ু বেরোবার সাথে সাথে সুড়সুড় করে ঢুকে পড়লাম ওটা'র শরীরে। আর লিখতে পারছি না। স্বপ্নের বাকিটুকু মনে নেই, শরীরে শক্তি পাচ্ছি না। তাছাড়া..... লিখতে লিখতে টের পেলাম, কি একটা ছন্নছাড়া স্বপ্ন ছিল ওটা। খামোখা ওটার বিবরণ লিখে পাতা নষ্ট করছি আমি। ভাবছি, আজ রাতেও যদি ও আসে, রান্নাঘর থেকে বড়সড় একটা মাংসের টুকরো এনে চেষ্টা করব ওকে খুশি করার। আজকাল আমার খাবারের বেশিরভাগটাই ওর পেটে যাচ্ছে, নিজে বলতে গেলে কিছুই খাচ্ছি না। কেউই বুঝতে পারছে না, আমার দিনদিন শুকিয়ে যাবার কারণ কি! ।। ১৬ আগস্ট।। ফিরে এসেছে ও। আমার হাত থেকে শান্তভাবে মাংসও খেল, আগ্রহ নিয়ে। তারপর যথারীতি আমার হাত চেটে দিয়েছে। বিছানায় গিয়ে শোবার পর কাল রাতেও একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নটা বড্ড বাস্তব মনে হলো আমার কাছে। দেখেছি একজন লম্বা বিবর্ণ লোককে - আমার বিছানার ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের আলোটা তার পেছনদিকে জ্বলছিল বলে ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল তার মুখ, দেখা যাচ্ছিল না ভাল করে। ফিসফিস করে কি যেন বলছিল আমায়। বলার ভঙ্গিতে মনে হলো খুব জরুরী কিছু বলছে। এখন অবশ্য কিছুই মনে নেই আমার। একসময় সে আমার একটা হাত তুলে নিল নিজের হাতে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, লোকটার হাতদুটো কি লোমশ.... ঠিক যেন কোনও পশুর থাবা। আমার ওপর আরেকটু ঝুঁকল সে। যেন চুমো খেতে চলেছে এইভাবে.... কিন্তু চুমো না খেয়ে আমার ঘাড়ের কাছে নেমে এল তার মুখ....চাটতে শুরু করল ঘাড়ের জায়গাটা। অনুভব করলাম, লোকটার জিভটা কি কর্কশ! গা রি রি করে উঠল বিতৃষ্ণায়, কিন্তু তারপরেও বাধা দিতে পারলাম না তাকে। বরং মনের ভেতর জেগে উঠল একটা কামনা..... সে যেন না থামে! লেখা থামিয়ে একটু প্রার্থনা করে নিলাম। এসব আমি ডায়েরীতে কি লিখছি? পাগলের প্রলাপ! এটুকু বুঝতে পারছি, রোজ রাতে যে স্বপ্নগুলো দেখছি, তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এসব কি কোনও অমঙ্গলের সঙ্কেত? বুঝতে পারছি না। ক্রমশ... Post:অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-০৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now