বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিটার্ন অব ড্রাকুলা ( ৪০ পর্বের উপন্যাস)
কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন
অনুবাদক : ইসমাইল আরমান
-------------------------------------
পর্ব ০১ঃ
জোনাথন হার্কারের ডায়েরী
।। ২২ শে জুন।।
হঠাৎ ট্রানসিলভানিয়া যাবার প্রস্তাব দিলেন ভ্যান
হেলসিং। সেটা শোনামাত্র আমি এমন এক ধাক্কা
খেলাম যে সোজা স্টাডিরুমে চলে আসতে হল। দরজা
আটকে দিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা করলাম নিজেকে
সামলাতে। ডায়েরী খুলে বসলাম মনের অবস্থা লিখে
রাখতে।
প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেছে ভয়ঙ্কর সেই অভিজ্ঞতার
পর। কাউন্ট ড্রাকুলা নামের সেই অভিশাপকে ধ্বংস
করার পর সাত সাতটা বছর কোথা দিয়ে যেন কেটে
গেছে। কিন্তু এখনও সেই ভয়াবহ স্মৃতির হাত থেকে রক্ষা
পাইনি আমরা কেউ। অন্তত প্রফেসর ভ্যান হেলসিংয়ের
এমনটাই মত। সে কারণেই আমরা নাকি এখনও মানসিক
ভাবে সুস্থ হতে পারিনি। ফের ট্রানসিলভানিয়া গেলে
নাকি এই অস্থিরতা দূর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কারণ? তিনি মনে করেন এসব আমাদের মনের কারসাজি।
দুঃসহ স্মৃতিকে যতই চাপা দেয়া হোক না কেন, কখনো
কখনো তা আবার জেগে উঠতে পারে। ভয়ঙ্কর ওই পিশাচ
যে সত্যি সত্যিই ধ্বংস হয়ে গেছে তা এখনো কেন জানি
পুরোপুরি মেনে নিতে পারিনি আমি, সেজন্যই বোধহয় এত
বছর পরেও হঠাৎ ইদানীং আবার দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু
করেছি আমি। তাই এই সমস্যার এক সমাধান দিয়েছেন
প্রফেসর হেলসিং.....ফিরে যেতে হবে সেই দুঃস্বপ্নের
উৎপত্তিস্থলে....মানে ট্রানসিলভ্যানিয়া।
প্রফেসর হেলসিং এর মতে দুটো উপকার হবে
এতে....প্রথমত, আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে ড্রাকুলার
অভিশাপ থেকে সত্যি সত্যিই মুক্তি পেয়েছে পৃথিবী ;
দ্বিতীয়ত, ওখানে গিয়ে খ্রীষ্টধর্মানুসারে একটা
শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠান করা হবে, জায়গা পবিত্র
করতে। তাতে মনেও শান্তি আসবে।
স্টাডিরুমে একাকী বসে বাইরের দিকে তাকালাম আমি।
জানলার ঠিক ওপরে ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপের
সারি, যেন নীরবে সাক্ষী দিচ্ছে আমার আর মীনার সুখী
দাম্পত্য জীবনের। বাস্কেটারে ফিরে ঘর বেঁধেছি
আমরা, প্রয়াত মিঃ হকিন্সের বাড়িতে....তাঁরই শেষ
ইচ্ছানুসারে। ফুটফুটে এক পুত্র এসেছে আমাদের কোল
জুড়ে...তাকে নিয়ে জীবনটা নির্বিঘ্নে আনন্দের মধ্যেই
কাটাচ্ছি। তারপরও কেন জানি মন থেকে পুরোপুরি দূর
করতে পারছি না ড্রাকুলার অশুভ স্মৃতি। হ্যাঁ, সত্যি বলতে
কি, ড্রাকুলার ক্যাসলের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পর
পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি আমি কখনওই। হ্যাঁ,
সাত বছর আগেকার সেই অভিযান থেকে প্রাণ নিয়ে
ফিরেছিলাম আমরা পাঁচজন। মানে আমি, মীনা, আর্থার,
ডাঃ সিউয়ার্ড আর প্রফেসর হেলসিং নিজে। ড্রাকুলা
শেষ হবার পর সুখেই কাটছে জীবন....যুক্তির বিচারে
কঠিন সেই অতীতও ঢাকা পড়ে গেছে সময়ের অতলে।
কিন্তু ইদানীং গত কয়েক মাসে কি যেন হয়েছে আমার....
বেশ ক'বার দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠছি রাতে। শরীর
ভিজে গেছে ঘামে, কেঁপেছি হিস্টিরিয়াগ্রস্তের
মতো। চোখ বুজলেই দেখছি বীভৎস সব দৃশ্য।
স্বীকার করতে দোষ নেই, ফের সেখানে যেতে চাইছি না
আমি। যাবার কথা ভাবলেই আতঙ্কে হিম হয়ে আসছে হাত
- পা। কিন্তু ভ্যান হেলসিংয়ের যুক্তি বেশ প্রভাব
ফেলেছে মীনার ওপর। রাজি হয়ে গেছে ও। যদিও তাতে
আমাদের ছেলে ক্যুয়েন্সি বেশ কিছুদিনের জন্য একা
হয়ে যাবে। মীনা যদি ব্যাপারটা এত গুরুত্ব দেয় তা হলে
আমারও আপত্তি করা চলে না।
কিন্তু কি আর করা, ইচ্ছের বিরুদ্ধে মেনে নিতে হচ্ছে
সিদ্ধান্ত। যাব আমরা, মুখোমুখি হব নিজের আতঙ্কের।
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, যেন শক্ত রাখতে পারি
নিজেকে।১৪ ই জুলাই, বুদাপেস্ট থেকে মীনা তার পুত্র কুইন্সি'কে লেখা
একটা চিঠি ছাড়ল।
প্রিয় কুইন্সি,
আমার গতকালের চিঠিটা কি পেয়েছ? ভিয়েনায় ট্রেনে চড়বার
আগে লিখেছিলাম চিঠিটা। এখন আমরা বুদাপেস্টে পৌঁছেছি। বড়ই
সুন্দর এক শহর, মাঝখান দিয়ে বইছে দানিয়ুব নদী। মানচিত্রে
দেখিয়েছিলাম ওটা তোমায়, মনে পড়ে? তোমার বাবা আর আমি
আজ বিকেলে ঘুরতে বেড়িয়েছিলাম, চমৎকার সব বাড়িঘর আর
নানারকম ফোয়ারা দেখেছি। এসব পড়ে মন খারাপ কোরো না,
যখন বড় হবে, তখন তোমায় নিয়েও আমরা বেড়াতে আসব
এখানে। কথা দিলাম। ট্রানসিলভানিয়ার পাহাড়ি এলাকায় যাবার আগে দু'দিন
এখানে থাকব আমরা। ওদিককার কাজ শেষ হয়ে গেলেই আমরা
ফিরে আসব বাড়িতে। কিচ্ছু ভেবো না। তোমাকে দেখার জন্য
মন আনচান করছে। আশা করি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করছ। ঘরে
আবদ্ধ হয়ে থেকো না। বাইরে অবশ্যই খেলতে যাবে।
আগামীকাল আবার চিঠি লিখব। ভালবাসা নিও। ইতি,
তোমার মা।
।। মীনা'র ডায়েরি।।
১৮ ই জুলাই
খুব অদ্ভুত লাগছে সাত বছরের সেই পুরনো পদচিহ্ন অনুসরণ
করতে। বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে সেসব স্মৃতি, যেন এই
সেদিন ঘটেছে ঘটনাগুলো। এই অনুভূতি ভাগাভাগি করেছি আমরা
সবাই মিলে - প্রফেসর আব্রাহাম ভ্যান হেলসিং, ডাঃ সিউয়ার্ড, আর্থার,
জোনাথন আর আমি। নেই শুধু আমাদের আরেক সঙ্গী সেই
সাহসী ক্যুইন্সি মরিস, অভিযান চলাকালীনই এক বেদের
ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়। তার স্মৃতির প্রতি সন্মান জানিয়েই আমি আর
জোনাথন ছেলের নাম রেখেছি ক্যুইন্সি। যা হোক, এবার আমরা
ঘুরে বেড়াবার সুযোগ পাচ্ছি। সুন্দর শহর বুদাপেস্ট..... গোথিক,
বারোক এবং ক্লাসিকাল নির্মাণশৈলীর মিশেল। যেদিকেই
তাকাই....ফোয়ারা, ঝর্না এবং উষ্ণ প্রস্রবণের প্রবাহ। দু'রাত থাকব
এখানে, থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ভ্যান হেলসিংয়ের পুরনো
এক বন্ধুর বাড়িতে। আন্দ্রে কোভাক্স তাঁর নাম, স্থানীয় একটি
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাঁর বাড়িতে থাকতে মন্দ লাগছে না;
যাত্রাবিরতির প্রয়োজন আছে নিঃসন্দেহে। তবু কেন জানি মনে
হচ্ছে, সরাসরি ট্রানসিলভানিয়া চলে গেলে ভাল হতো।
সেক্ষেত্রে এই অভিযান দ্রুত শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারতাম
তাড়াতাড়ি।
আন্দ্রে কোভাক্সের বাড়ির একটা চমৎকার কামরায় বসে আছি
এখন আমি, জানলা দিয়ে চোখে পড়ছে দানিয়ুব নদীর অপূর্ব
দৃশ্য। বাড়ির মালিক আন্দ্রে কোভাক্স চিরকুমার, বিয়ে শাদী
করেননি। বেশ লম্বা এবং প্রাণচঞ্চল, অত্যন্ত বুদ্ধিমান। স্বভাবেও
খুব নরম এবং বিনয়ী। তিনি ছাড়াও আরও দু'জন থাকে এই বাড়িতে।
প্রফেসরের বিপত্নীক ভাই এমিল এবং এমিলের মেয়ে ইলিনা।
এমিলকে কেন জানি ভাল লাগেনি আমার। আন্দ্রে কোভাক্সের
ভাই হলেও চেহারায় বিরক্তির ছাপ সুস্পষ্ট। যদিও আমাদের সঙ্গে
ওপর ওপর ভদ্রতা বজায় রেখে চলছে। শুনেছি সে একজন
আর্টিস্ট। আর্টিস্টরা একটু অন্য টাইপের মানুষ হয়, এটাও বোধহয়
তেমন কোনও ব্যাপার। তবে ইলিনা চমৎকার মেয়ে। আঠারো
বছর বয়স মেয়েটার....শান্তশিষ্ট, নিজেকে নিয়ে থাকে। আমরা
ছাড়াও আরও একজন অতিথি এসে উঠেছে বাড়িতে...মিকলোস,
প্রফেসর কোভাক্সের ছাত্র। ইলিনার ব্যাপারে খুব উৎসাহী,
বোধহয় ওর প্রেমে ট্রেমে পড়েছে, বিয়ে করতে চায়।
প্রফেসর কোভাক্স'ও ওকে বেশ স্নেহ করেন।
কি কারণে ট্রানসিলভ্যানিয়া চলেছি আমরা, তা জানানো হয়নি কাউকে।
ভ্যান হেলসিং সবাইকে বলেছেন, বেড়াতে যাচ্ছি আমরা। সত্য
গোপন রাখা পছন্দ নয় আমার তাই চাইছি এখানে বেশী সময় না
কাটিয়ে তাড়াতাড়ি রওনা হয়ে যেতে।সেদিন রাতে ডিনারের সময় হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের
সঙ্গে ট্রানসিলভ্যানিয়া যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করল এমিল। ওর ইচ্ছে,
ওখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর ছবি আঁকবে। ওর মেয়ে ইলিনাও
নাকি সঙ্গে যেতে আগ্রহী। কথাটা শুনে ঠাট্টা করলেন
প্রফেসর কোভাক্স। বললেন, " দুনিয়া দেখি উলটোপথে
চলছে। ট্রানসিলভ্যানিয়ার চাষাভুষো মানুষগুলো বুদাপেস্টে
আসছে কাজের খোঁজে....আর এখানকার লোক ওখানে
যাচ্ছে ছবি আঁকতে"।
হাসলেন ভ্যান হেলসিং। বললেন, " ভালই তো। জনসংখ্যার ভারসাম্য
রক্ষা হবে এতে"। এমিল জানাল, ওখানকার যেকেলি গোত্রের
এক কৃষক পরিবারকে চেনে সে। ছবি আঁকতে গিয়ে আগেও
দুটো গ্রীষ্ম কাটিয়েছে ওদের খামারে। খামারটা নাকি বিসত্রিস
আর বোরগো গিরিপথের কাছে। ভ্যান হেলসিং উচ্ছ্বসিত গলায়
বললেন, " আরে! আমরা তো ওখানেই যাচ্ছি! বোরগো গিরিপথ
পেরিয়ে কার্পেথিয়ান পর্বতমালার ভেতরটা দেখবার ইচ্ছে
আমাদের!"
সঙ্গে সঙ্গে এমিল বলল, " তাহলে তো আমরাও আপনাদের
সঙ্গে যেতে পারি! মানে....যদি আপনাদের আপত্তি না থাকে আর
কি। আমাদেরকে সঙ্গে নিলে আপনাদেরও সুবিধা হবে। খামারে
আপনাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব আমি। হোটেল বা সরাইখানার
চেয়ে খরচ অনেক কম পড়বে।"
" চমৎকার প্রস্তাব! " বললেন ভ্যান হেলসিং, " আমি আপত্তির কিছু
দেখছি না।"
" এতজন একসঙ্গে থাকলে ওই কৃষকের আবার অসুবিধা হবে না
তো?"জিজ্ঞেস করলাম আমি।
" না, না, সমস্যা কিসের?" বলল এমিল, " বেশী মানুষ মানে বেশী
আয়। তাছাড়া অতিথিপরায়ণতার জন্য সুনাম আছে ট্রানসিলভ্যানিয়ার
অধিবাসীদের। আমাদের পেলে খুশীই হবে"।
" তাহলে আমার আপত্তি নেই", ওর কথা শুনে বললাম আমি, "
এমনিতেও অবশ্য বেশীদিন থাকব না আমরা। বড়জোর দু- তিন
রাত"।
ওই কথাই রইল। আমাদের সঙ্গে যাবে এমিল আর ইলিনা। ফেরার
সময় অবশ্য একা ফিরতে হবে আমাদের। দু তিনদিনে কাজ শেষ
করতে পারবে না এমিল, কাজেই মেয়েকে নিয়ে রয়ে যাবে
সে। বাড়ি ফেরার প্রসঙ্গ ওঠায় কুইন্সির কথা মনে পড়ে গেল।
খুব মিস করছি ওকে। ডায়েরী লেখা থামাই, ঘুমোতে যাবার
আগে কুইন্সি'কে চিঠি লিখতে হবে। জোনাথন ডাকছে আমায়।
ভ্যান হেলসিংকে প্রফেসর আন্দ্রে কোভাক্সের সঙ্গে
লাইব্রেরীতে যেতে দেখেছি, বোধহয় রাত জেগে
গল্প করবেন। দুজনেই জ্ঞানী, আলাপচারীতার জন্য বিষয়ের
অভাব হবে না, গল্প শুরু করলে ঘন্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেবেন
অনায়াসে। তার ওপর প্রফেসর কোভাক্স একজন ইতিহাসবিদ এবং
লোককাহিনী বিশেষজ্ঞ। ভ্যান হেলসিং'ও পেটে কোনও কথা
চেপে রাখতে পারেন না....কাউন্ট ড্রাকুলাকে নিয়ে আমাদের
অভিজ্ঞতার কথা যদি প্রফেসর কোভাক্সকে বলে দেন, অবাক
হব না।
ক্রমশ.....
Post: অশুভ আত্মা ♥
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now